ডিসেম্বর ৫, ২০২১

The Bangla Kagoj

বিশ্বের সব দেশে, সব ভাষায়, সব সময় । বাংলা কাগজ । আপনার কাগজ । banglakagoj.net (আমাদের কোনও জাতীয় পত্রিকা নেই)।

আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী বরেণ্য সঙ্গীত পরিচালক আলাউদ্দীন আলী আর নেই

সুরসম্রাট আলাউদ্দীন আলী- ফাইল ফটো, বাংলা কাগজ।

আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী সুর সম্রাট এবং দেশবরেণ্য সঙ্গীত পরিচালক আলাউদ্দীন আলী আর নেই। রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী সুর সম্রাট এবং দেশবরেণ্য সঙ্গীত পরিচালক আলাউদ্দীন আলী আর নেই। রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিষয়টি বাংলা কাগজকে নিশ্চিত করেছেন আলাউদ্দীন আলীর মেয়ে আলিফ আলাউদ্দীন।

এর আগে শনিবার (৮ আগস্ট) ভোরে আলাউদ্দীনন আলীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর তাঁর শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমতে থাকে ও দেখা দেয় তীব্র শ্বাসকষ্ট। তখন তাঁকে লাইফসাপোর্টে নেওয়া হয়।

আলাউদ্দীন আলী একাধারে একজন সঙ্গীত পরিচালক, সুরকার, বেহালাবাদক ও গীতিকার।

১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর পুরোনো ঢাকায় তাঁর জন্ম। আলাউদ্দীন আলীর বাবা ওস্তাদ জাদব আলী। আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী সংগীত পরিচালক আলাউদ্দীন আলী দীর্ঘ মিউজিক ক্যারিয়ারে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের গানে সুর দিয়েছেন।

দীর্ঘদিন নানা জটিলতায় ভুগেছেন বরেণ্য এ সঙ্গীত পরিচালক।

এরই অংশ হিসেবে ২০১৫ সালে আলাউদ্দীন আলীকে চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক নেওয়া হলে তাঁর ফুসফুসে টিউমার ধরা পড়ে। পরে তাঁর অন্যান্য শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি ক্যান্সারের চিকিৎসাও চলে।

গত বছর ২২ জানুয়ারিও অসুস্থ আলাউদ্দীন আলীকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেন তিনি। পরে একই বছরের এপ্রিলে শ্বাসনালী ও পাজরের বাঁ পাশে নিস্তেজসহ নানা রোগে আক্রান্ত অবস্থায় সাভারের সিআরপি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় গুণী এই সংগীত পরিচালকে। সেখানে দীর্ঘ তিন মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর অনেকটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

১৯৬৮ সালে আলাউদ্দীন আলী যন্ত্রশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে আসেন এবং আলতাফ মাহমুদের সহযোগী হিসেবে যোগ দেন। এরপর তিনি প্রখ্যাত সুরকার আনোয়ার পারভেজসহ বিভিন্ন সুরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৫ সালে সঙ্গীত পরিচালনা করে বেশ প্রশংসিত হন।
‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’ ও ‘যোগাযোগ’ চলচ্চিত্রের জন্য ১৯৮৮ সালে শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে।

অসংখ্য কালজয়ী গানের সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন আলাউদ্দীন আলী।

এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য- একবার যদি কেউ ভালোবাসতো; যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়; প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ; ভালোবাসা যতো বড়, জীবন ততো বড় নয়; আছেন আমার মোক্তার, আছেন আমার ব্যারিস্টার; সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি; বন্ধু তিন দিন তোর বাড়ি গেলাম; যেটুকু সময় তুমি থাকো কাছে; এমনও তো প্রেম হয়; কেউ কোনও দিন আমারে তো কথা দিল না; জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো- ইত্যাদি।

তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সঙ্গীত ও চলচ্চিত্রসহ দেশের শোবিজ অঙ্গনে।

Facebook Comments Box

Contact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share