হ্যাঁ, আপনাকেই বলছি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী (ডা. দীপু মনি, এমপি, এমবিবিএস (ডিএমসি), এলএলবি (এনইউ), এলএলএম (লন্ডন), এমপিএইচ (জন্স হপকিনস)))))

সম্পাদকীয় মত, বাংলা কাগজ : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘ কিংবা অন্য কোনও এগিয়ে যাওয়া দেশ। কাকে অবহেলা করবেন আপনি? কাকে দেবেন বাদ?

নাকি ‘উগরে’ দেবেন নতুন কোনও ‘অজুহাত’? নাকি বলবেন, ‘দেখা যাক কী হয়?’

হ্যাঁ, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আপনাকেই বলছি। বলছি ডা. দীপু মনি আপনার উদ্দেশেই।

আর কামনাও করছি- আপনার ‌‘মহামান্য সুমতি’।

দেখুন- আমরা কিন্তু এখনও জানি না, কবে নাগাদ শেষ হবে করোনাকাল। কিংবা আদৌ শেষ হবে কি-না।

নাকি এটিই মানব সভ্যতার শেষ উপসর্গ। জানেন কি আপনি? নাকি জানে আপনার (মন্ত্রণালয়) কোনও আমলা?

তবুও আপনি ওতোটা সুনিশ্চিত কীভাবে? কীভাবে বসে আছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দিয়ে। সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলার পরও আপনার কি একটুও বোধোদয় হয় নি? না কি এসব ভাবনা অবান্তর?

মাননীয় মন্ত্রী- মনে করবেন না কিছুই, কিছুই মনে করবেন না আপনি। কারণ দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণেই হচ্ছে কথাগুলো। যদিও আপনারও ইচ্ছে তাই। অর্থাৎ আপনিও চান, দেশের সেবা করতে; আর আমিও। তবে আমি কিন্তু বিনা বেতনে (দেশ কিংবা দেশের মানুষের কল্যাণে বিশেষ কোনও কাজ করার জন্য আমাদের মতো সাংবাদিকদের কখনোই আলাদা কোনও স্বীকৃতি দেওয়া হয় না; দেওয়া হয় না কোনও পারিশ্রমিকও। কিংবা আমরা পাই না কোনও প্রটোকলও। তবুও আমাদের ভাবতে হয় দেশ নিয়ে। ভাবায় পৃথিবীও। অথবা মহাবিশ্বও আমাদের ভাবনার খোরাক। আমাদের ভাবতে হয়- কোনটি আমাদের ক্ষতি কিংবা কি আমাদের লাভ। আর এ বিষয়ে দায়িত্বও নিতে হয় আমাদেরকে। অপরদিকে যদি পাই কোনও ভালো খবর- সেটাতো আমাদের জন্য বয়ে আনে এক আকাশছোঁয়া আনন্দ। যা সব রকম পরিশ্রমসাপেক্ষে তুলে আনি আমরাই। আর জানিয়ে দিই আপনাদের। জানাই সাধারণ মানুষকেও।)

তাইতো নিজেকে এক রকম ‘কলুর বলদ’ উপাধি প্রদান করে অন্যতম আপনাকেই বলছি।

আচ্ছা, আপনি তো ডাক্তার- তাহলে তো আপনার আগেই জানার কথা- মহামারি এ করোনাভাইরাস কোথায় নিয়ে যাচ্ছে আমাদের? যাচ্ছি কোথায় আমরা?

তবে যদি ওমন পাল্টা প্রশ্ন করেন- তবে কিন্তু (অন্তত) আমি (কিছুটা) নিরুত্তর।

মাননীয় চিকিৎসকমন্ত্রী (ডাক্তার পদবিধারী শিক্ষামন্ত্রী)- সাধারণ মানুষের কথা ভাবুন আবার; ভাবুন একাকিত্বে। আর অপ্রতিরোধ্যদের কথা? সেটা না হয়- ভাবুন কিছুৃ পর।

বলুন তো?- শিক্ষার্থীদের কি আমরা বছর শেষ হলেও (ছুটি) ফিরিয়ে দিতে পারব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান? নাকি প্রয়োজন দু’বছর?

না-কি বিষয়টি আপনার আদৌ জানা নেই?

বিজ্ঞাপন

‘তাহলে কেন এতো কাজ না করার ফন্দি?’- এই অর্থে- যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকে; হয় ক্লাস ও পরীক্ষা- তবে কি আপনাদের ব্যস্ততা থাকবে হররোজ? আবার বাড়বেও? আর কর্মকর্তাদেরও থাকতে হবে মগ্ন কাজে? নাকি এ বিষয়টি আপনাদের কখনোই ভাবায় না। ভাবায় না- সাধারণ মানুষ ও তাঁদের সন্তানদের নিয়ে। নাকি আপনারা কখনোই ভাবেন না জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুকন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও। ভাবেন না- তাঁর কাজের পরিধি নিয়ে। না-কি তাঁর কর্মদক্ষতা ও বিচক্ষণতাও ভাবায় না আপনাদের কখনোই (মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আপনি ও আপনার সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন আমলাদের)।

ওহে মান্যবর শিক্ষামন্ত্রী, করোনাভাইরাসের এ মহামারিকালে আপনিই বলুন- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিনের পর দিন বন্ধ থাকলে ক’জন স্বল্প বয়সী বালিকাকে রক্ষা করতে পারবেন আপনি বাল্য বিয়ে থেকে? না-কি তাঁদের পর্যাপ্ত কারিগরি শিক্ষা দেওয়া হয়ে গিয়েছে আপনার?

যাক, কতই বা বলব; বলতে হবে কতোখানি!,- আসলে আপনার জন্য কিছু লিখব, সেটাও ভাবতেই কষ্ট লাগে। কষ্ট লাগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকতে দেখেও।

তাইতো বলতে হয়- ‘অসীমকালের’ হাতছানি নিয়ে আঘাত হানা করোনাভাইরাসের এ অগ্নিকালে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে আপনি কি অচিরেই খুলে দিতে পারেন না সব? খুলে দিতে পারেন না- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান?

আমরা চাই- আপনি অচিরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশনা দিন। নির্দেশনা দিন- করোনাভাইরাস মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার জন্য।

যেন তাঁরা দেশের এ ক্রান্তিকালে দাঁড়াতে পারে মাথা তুলে। জানাতে পারে- তাঁদের মত। যেন তাঁরা গর্বভরে প্রমাণ করতে পারে- করোনাভাইরাস মানবজাতি ধ্বংসের কারণ হতে পারে না। চলতে পারে না দীর্ঘদিন।

কারণ এ জাতির শিক্ষা সকল ক্লেশ-রেশ ধ্বংস করে দিতে জানে। মারাতে (ধ্বংস) সকল জীবানুবোমা।

রাত জেগে দেশের কথা ভাবছি; যদিও ভাবি হররোজই। আবার সেটি বলারও কিছু নেই। কিন্তু না বললে জানারও উপায় নেই। যদিও উপায় আছে ভাবনার কিংবা কাজ দেখে বুঝে নেওয়ার।

তাইতো বলছি- দেশ-বিদেশের এমন ক্রান্তিলগ্নে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান করার আগেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেবার আপনি যে অনুমতি প্রদান করেছিলেন; তা অচিরেই প্রত্যাহার করবেন- সেটিই আমাদের ভাবনা। আমাদের ভাবনা- বর্তমানে দেশের ঢের জায়গায় যেমনিভাবে করোনা ও বন্যা আঘাত হেনেছে; তেমনিভাবে আমাদের শিক্ষার্থীরা তাঁদের মেধা দিয়ে; প্রতিভা দিয়ে জয় করতে শিখবে পাঠ গ্রহণ; আমাদের দেবে সুপরামর্শ।

যেখানে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়; উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের কলম থেকে; ল্যাপটপ থেকে কিংবা মুঠোফোন থেকে বেরিয়ে আসবে ফ্রিল্যান্সিংয়ের নানা কাজ; দেখিয়ে দেবে কারিগরি শিক্ষার ‘কেলমা’।

অনেক কথা বললাম। অন্যভাবে নিবেন না যেন। আপনার মন্ত্রণালয় তথা সকল মন্ত্রণালয় তথা দেশের তিন বিভাগ সর্বোপরি সাধারণ মানুষ নিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করতে পারলেই আমাদের পরিশ্রম স্বার্থক হবে। স্বার্থক হবে আমাদের ভাবনা।

মাননীয় মন্ত্রী- ধন্যবাদ আপনাকে। ধন্যবাদ আপনার মন্ত্রণালয়সহ অধঃস্তন সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। তাঁদের প্রচেষ্টায়ই আমরা শিক্ষালাভ করেছি- ভাবতে পারছি দেশ নিয়ে। বলতে পারছি কিছু কথা।

(উল্লেখ করা যেতে পারে- মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় এনেই এতোদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন বলেই প্রতীয়মান হয়। তাইতো আমরা কখনোই তাঁকে দোষারোপ করতে পারি না কোনোভাবেই। বলতে পারি না, অন্য কোনও কথাও। যেখানে উল্লেখ করা হয়- ‘ওতোগুলো বছর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাহীন ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অদূরদর্শিতার কারণেই।’ আবার শুনতেও চাই না, অন্য কোনও শিক্ষার্থীর আত্মহননের খবর। যা আমাদের ভাসিয়ে দেয় বিষাদে।)

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.