ইদযাত্রায় যানজট নেই কোথাও, ফাঁকা ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কও

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : পবিত্র ইদুল আজহার যাত্রায় মহাসড়কে কোথাও কোনও যানজটের দেখা নেই। এতে এক রকম স্বস্তিতে রয়েছেন যাত্রীরা। এক্ষেত্রে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোথাও কোনও যানজট দেখতে পান নি বাংলা কাগজের প্রতিবেদকেরা।

প্রতিবেদকেরা জানান- ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে এখনও স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে এ সড়কে টাঙ্গাইল অংশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোথাও যানজট দেখা যায় নি। এবার উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বন্যার পানিতে ডুবে গেছে অধিকাংশ ঘরবাড়ি। এ কারণে অনেকে এবার গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে ঢাকাতেই ঈদ করবেন। এজন্য উত্তরের পথে যানজটের তেমনটা আশঙ্কা নেই বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, ঈদ যাত্রায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ।

পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঈদ যাত্রাকে সামনে রেখে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক ও টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কে জেলা পুলিশের মোট ৬১২ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্বরত থাকবেন। যানজট নিরসনে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ধেরুয়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাড়ের গোলচত্বর পর্যন্ত মহাসড়কে মোট পাঁচটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে।

এর মধ্যে মির্জাপুরের ধেরুয়া ওভার ব্রিজ থেকে নাটিপাড়া পর্যন্ত এক নম্বর সেক্টর, নাটিয়াপাড়া থেকে ঘারিন্দা ওভারব্রিজ পর্যন্ত দুই নম্বর সেক্টর, ঘারিন্দা ওভারব্রিজ থেকে এলেঙ্গা ব্রিজ পর্যন্ত তিন নম্বর সেক্টর, এলেঙ্গা ব্রিজ থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত চার নম্বর সেক্টর ও ময়মনসিংহ লিংক রোড থেকে মধুপুরের অরণখোলা পর্যন্ত পাঁচ নম্বর সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চার নম্বর সেক্টরকে আবার তিনটি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। এলেঙ্গা ব্রিজ থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের সাত নম্বর ব্রিজ পর্যন্ত এক নম্বর সাব সেক্টর, সাত নম্বর ব্রিজ থেকে ১৫ নম্বর ব্রিজ পর্যন্ত দুই নম্বর সাব সেক্টর ও ১৫ নম্বর ব্রিজ থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর গোলচত্বর পর্যন্ত তিন নম্বর সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে।

প্রতিটি সেক্টরে একজন করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সেক্টর ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি একজন সহকারী পুলিশ সুপার সহযোগী ইনচার্জ, সহযোগী ইনচার্জ হিসেবে দুই জন পুলিশ পরিদর্শক, সার্বিক সহযোগিতায় দুইজন টিআই ও দুইজন সার্জেন্ট ও টিএসআই দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়াও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৩৫টি পিকাপ ডিউটি মোতায়েন করা হয়েছে। অপরদিকে প্রতি দুই কিলোমিটারে একটি করে মোট ৩৪ টি মোটরসাইকেল টিম মোতায়েন এবং গুরুত্বপূর্ণ লিংক রোডের মাথায় ১৫টি অস্থায়ী বাঁশকল স্থাপন করা হয়েছে।

এদিকে জেলা পুলিশের পাশাপাশি টাঙ্গাইল র‌্যাব-১২ এর পক্ষ থেকেও পৃথক টহল দেয়া হচ্ছে। মহাসড়কে গরুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি-ছিনতাই রোধে কঠোর নজরদারি পাশাপাশি। পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতেও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আয়ুবুর রহমান বলেন, ‘এখনও মহাসড়কের কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়নি। যানবাহন স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছে। তবে সন্ধ্যায় গাড়ির চাপ কিছুটা বাড়তে পারে।’

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.