অক্টোবর ২৮, ২০২১

The Bangla Kagoj

বিশ্বের সব দেশে, সব ভাষায়, সব সময় । বাংলা কাগজ । আপনার কাগজ । banglakagoj.net (আমাদের কোনও জাতীয় পত্রিকা নেই)।

রায়হান কবিরের মুক্তি দাবি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

রায়হান কবির- আল জাজিরার সৌজন্যে, বাংলা কাগজ।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সরকারের নীতির সমালোচনার করার প্রতিশোধ হিসেবে বাংলাদেশি শ্রমিক রায়হান কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে তার মুক্তির দাবিও করেছে সংস্থাটি।

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : মালয়েশিয়ায় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সরকারের নীতির সমালোচনার করার প্রতিশোধ হিসেবে বাংলাদেশি শ্রমিক রায়হান কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে তার মুক্তির দাবিও করেছে সংস্থাটি।

আজ বুধবার (২৯ জুলাই) রায়হান কবিরের মুক্তি দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে সংস্থাটি।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসীদের ওপর সরকারের নিপীড়ন নিয়ে আল-জাজিরা টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী রায়হান কবির। তার জের ধরে ২৪ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তারের পর ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে মালয়েশিয়ার পুলিশ।

দেশটির অভিবাসন পুলিশের মহাপরিচালক ঘোষণা দিয়েছেন, রায়হান কবিরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং আজীবনের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করা হবে, যেন তিনি আর মালয়েশিয়ায় ঢুকতে না পারেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপ-পরিচালক ফিল রবার্টসন এক বিবৃতিতে বলেন, রায়হান কবিরের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপ সব অভিবাসী শ্রমিকদের অবাধ গ্রেপ্তার, বহিষ্কার, কালো তালিকাভুক্তির মতো অধিকার হরণের মতো ঘটনায় কথা বলার বিরুদ্ধে একটি শীতল বার্তা দিচ্ছে। তথ্যচিত্রের একজন বক্তব্যদাতাকে গ্রেপ্তার করা মানে মালয়েশিয়ার বাক স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের বিধ্বংসী হামলা।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের আচরণ নিয়ে ৩ জুলাই প্রচারিত আল জাজিরার একটি তথ্যচিত্রে রায়হান কবির বক্তব্য দেন।

এরপর রায়হান কবির এবং আল জাজিরা-উভয় মালয়েশিয়ার সরকারের টার্গেটে পরিণত হয় বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিবৃতি উল্লেখ করেছে।

আল জাজিরার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা, মানহানি এবং যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া আইন লংঘন সম্পর্কিত অভিযোগ আনা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারের প্রথম দিনে সাংবাদিকদের কাছে লেখা একটি চিঠিতে রায়হান কবির বলেন, আমি কোনো অপরাধ করিনি। আমি মিথ্যা বলিনি। আমি শুধুমাত্র অভিবাসীদের ওপর বৈষম্যের প্রতিবাদ করেছি। আমি চাই অভিবাসী ও আমার দেশের সম্মান নিশ্চিত হোক। আমার বিশ্বাস, সব অভিবাসী এবং বাংলাদেশি আমার পাশে থাকবে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ২১টি সিভিল সোসাইটি গ্রুপ রায়হান কবিরকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, রায়হান কবিরের ব্যাপারে যেভাবে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে, তার প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আল জাজিরার তথ্যচিত্রটি প্রচার হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে। সেখানে তার ছবি, নাম, ঠিকানার ব্যবহার করা হয়, যা অভিবাসীদের জন্য প্রতিকূল হয়ে ওঠা দেশটিতে তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, বিদেশিদের নিয়ে অহেতুক ভয়ের এই সময়ে রায়হান কবিরের ওপর মালয়েশিয়ার সরকারের এই রকম প্রকাশ্য হামলা বিরোধী শক্তিকে রসদ জোগাবে।

সংস্থাটি বলছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকারে দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদেরও সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বাক স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

২০২০ সালের ৩ জুলাই আল জাজিরা টেলিভিশনের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে ‘লকডআপ ইন মালয়েশিয়ান লকডাউন-১০১ ইস্ট’ শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ২৫ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ওই প্রতিবেদনে করোনা ভাইরাস মহামারিতে মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের সঙ্গে সরকারের নিপীড়ন নিয়ে কথা বলেন রায়হান কবির। এর জের ধরে ২৪ জুলাই গ্রেপ্তারের পর তাকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। গ্রেপ্তারের আগেই রায়হানের ওয়ার্ক পারমিট কেড়ে নেওয়া হয়।

ল’ইয়ারস ফর লিবার্টি (এলএফএল) নামের মালয়েশিয়ার একটি মানবাধিকার সংগঠনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘স্পষ্টতই আল জাজিরার প্রামাণ্যচিত্রে বৈষম্য নিয়ে কথা বলার কারণে কর্তৃপক্ষের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের শিকার হয়েছেন রায়হান।’

আল জাজিরা-র এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা মৌলিক মানবাধিকার। সে কারণেই তারা রায়হান কবিরের গ্রেফতারকে উদ্বেগজনক মনে করছে। কারণ, রায়হান কণ্ঠহীন ও নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বলেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আল জাজিরা একটি মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি এর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। একে অপরাধ হিসেবে বিবেচনার কোনও সুযোগ নেই।

রায়হান কবিরের বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের বন্দরে। তার বাবা শাহ আলম একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ২০১৪ সালে তোলারাম কলেজে থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে মালয়েশিয়া চলে যান রায়হান।

Facebook Comments Box

Contact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share