স্বাস্থ্য খাত নিয়ে ঢের কর্মতৎপর গোয়েন্দারা : বের হতে পারে ভুয়া হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : স্বাস্থ্য খাত নিয়ে ঢের কর্মতৎপর হয়ে উঠেছে দেশের প্রায় সবগুলো গোয়েন্দা সংস্থা। এরই অংশ হিসেবে জোরেশোরে কাজ করছে ডিজিএফআই, এনএসআই ও ডিবি। তদন্ত করছে সিআইডিও। পাশাপাশি কাজ করছে এলিট ফোর্স র‌্যাবের (নিজস্ব) গোয়েন্দাদলও। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য খাতের বড় অনিয়ম বের হতে পারে শিগগিরই। প্রকাশ হতে পারে ভুয়া হাসপাতালগুলোর তালিকাও। সঙ্গে সেগুলো একযোগে বন্ধ করে দেবার সুপারিশ করতে পারে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

সূত্র জানায়, রিজেন্ট ও জেকেজি আলোচনায় আসার আগে থেকেই স্বাস্থ্য খাতের নানা বিষয় নিয়ে ‘কড়া নজর’ রাখছিলেন দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সদস্যরা। আর তাঁদের নজরদারির ফল হিসেবেই শিগগির আরও বড় অভিযান পরিচালিত হতে পারে।

সূত্র আরও জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে যেসব সিন্ডিকেট ও কালো তালিকাভুক্ত ঠিকাদার এরইমধ্যে কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন কিংবা কাজ না করেই তুলে নিয়েছেন অর্থ। তাঁদের ব্যাপারেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রাধান্য পাচ্ছে অর্থ পাচারের বিষয়টিও।

সূত্রমতে, করোনাভাইরাস পরীক্ষার ক্ষেত্রে যেসব হাসপাতাল বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদনের আওতায় রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নিরাপত্তা সামগ্রি সরবরাহকারীরাও আসছেন নজরদারির আওতায়। একইসঙ্গে এতদিন ধরে ভুয়া রিপোর্ট পাওয়া বিভিন্ন ব্যক্তি সম্পর্কেও খোঁজ নিচ্ছেন গোয়েন্দারা। এক্ষেত্রে ভুয়া রিপোর্টপ্রাপ্তদের পুনরায় পরীক্ষা করানোর জন্য সুপারিশ করা হতে পারে। যেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং রিজেন্ট ও জেকেজিসহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর নথি কাজে আসতে পারে। এক্ষেত্রে এখন থেকেই স্বাস্থ্য বুলেটিনে প্রদত্ত তথ্য অধিকতর যাচাই-বাছাইয়েরও পরামর্শ আসতে পারে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র আরও জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নানা অনিয়ম ও জাল-জালিয়াতির ব্যাপারে বেশকিছু তদন্ত করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এক্ষেত্রে বেরিয়ে আসছে কেঁচো খুড়তে সাপ। এরই অংশ হিসেবে খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেরই প্রেস থেকে মুদ্রিত মেডিক্যাল পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সন্ধান পেয়েছেন গোয়েন্দারা। যেখানে আটক হয়েছেন প্রশ্ন ফাঁস চক্রের কয়েকজন।

অপরদিকে গোয়েন্দাদের কাছে মো. শাহেদ ও সাবরিনা ছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. নাসিমা সুলতানাসহ অন্যদের প্রদত্ত তথ্যমতে অধিকতর কর্মাবলী সম্পন্ন করছেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা- এমনটিই জানা গেছে।

আরও জানা গেছে- স্বাস্থ্য খাত নিয়ে দেশজুড়ে হুলোস্থুল চলাকালীন শোকের মাস ঘিরে জঙ্গিবাদ কিংবা ইদ ঘিরে জালনোটচক্র যেন কোনোভাবেই সক্রিয় হতে না পারে, সেটিও নজরে রাখছেন গোয়েন্দা সদস্যরা। একইসঙ্গে অন্য সময়ের ন্যায় অন্যান্য অনিয়ম-অসঙ্গতি নিয়েও রুটিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.