আগস্ট ৪, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

খুরুশকুলকে আলাদা শহর করার ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী : বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্বোধন

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গণভবন থেকে খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা- সময় টিভি থেকে নেওয়া ছবি, বাংলা কাগজ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে (সাড়ে ১০টা) গণভবন থেকে খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : খুরুশকুলকে আলাদা শহর হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে (সাড়ে ১০টা) গণভবন থেকে খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- বাংলা কাগজ।

শেখ হাসিনা জানান, প্রকল্পটিতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে।

‘আমরা সেখানে সোলার প্যানেলের ব্যবস্থাও করে দেব।’

‘খুরুশকুলে দুটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থাও করে দেব।’

প্রকল্পটি ঘিরে শোধনাগারও নির্মাণ করে দেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, সেখানে (খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্প) আমরা কমিউনিটি ক্লিনিকও করে দেব।

এ সময় প্রকল্পটি নিয়ে বেশকিছু বিষয় (তথ্য) তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুরুশকুলকে আলাদা একটি সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

‘উদ্বাস্তু হিসেবে থাকার যন্ত্রণা আমারও জানা আছে’- এমন তথ্য উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন- ‘জাতির পিতাকে হত্যার পর আমরাও (শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা) এক রকম উদ্বাস্তু হিসেবে ছিলাম।’

আওয়ামী লীগের এ সভাপতি বলেন, আমি যখন দেশে আসি, তখন সারাদেশ ঘুরে বেরিয়েছি।

‘(ক্ষমতায় আসার আগে) অনেকগুলো ঝড়-জলোচ্ছ্বাস আমরা দেখেছি। সে সময় আমরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। এরপর আমরা যখন ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসি, তারপর ১৯৯৭ সালে একটি ঘূর্ণিঝড় হয়। তখন আমরা প্রথম আশ্রয়ণ প্রকল্প শুরু করি। নেভি (নৌবাহিনী) এটা তৈরি করে দেয়।’

শেখ হাসিনা বলেন- ‘কক্সবাজারের সামনে যে বিশাল ঝাউবন, সেটাও জাতির পিতার তৈরি করে দেওয়া। যাতে কক্সবাজার শহরটা রক্ষা পায়।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে গৃহহীন ও ভূমিহীন অবস্থায় থাকা মানুষদের সকলের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেবারও প্রতিশ্রুতি দেন।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। আমার দেশের মানুষের অন্ন-বস্ত্র ও বাসস্থান অধিকার।

অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই খুরুশকুল আশ্রয়ণ বিশেষ প্রকল্পের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস। অনুষ্ঠানে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

এ সময় গণভবন প্রান্তে ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কক্সবাজার প্রান্তে যুক্ত হন জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন উপকারভোগীকে প্রতীকী চাবি হস্তান্তরের মাধ্যমে ৬শ উপকারভোগীর ফ্ল্যাট হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। তাঁরা প্রতিজন মাত্র এক হাজার এক টাকার বিনিময়ে ফ্ল্যাটের চাবি বুঝে নেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় তিনটি গাছের চারা রোপণ করা হয়। যা সম্পন্ন করেন তিন উপকারভোগী।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিন্নধর্মী-সমুজ্জ্বল উদ্যোগ হিসেবে খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের (এ প্রকল্পে আরও বেশকিছু ভবন নির্মিত হবে; যার মাধ্যমে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন করা হবে) পুরো অংশ বাস্তবায়িত হচ্ছে। যেটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে নির্মিত হবে ১৩৯টি ভবন। ব্যয় হবে এক হাজার ৮শ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। ভূমির প্রয়োজন (ব্যবহৃত) হবে ২৫৩ দশমিক ৫৯ একর।

আরও উল্লেখ করা যেতে পারে- এ ধরনের আশ্রয়ণ প্রকল্পের (জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন) উদ্যোগ ও বাস্তবায়ন বিশ্বে প্রথম। যা শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের এক অনন্য উদ্যোগ।

Facebook Comments Box

Call Now ButtonContact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share