কমলগঞ্জে বিদ্যুতায়িত হয়ে কিশোরি ভর্তি ঢামেকে

নিজস্ব প্রতিবেদনদাতা, কমলগঞ্জ : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগর ইউনিয়নের শিংরাউলী গ্রামে প্রভাব খাটিয়ে একটি ভবনের ছাদের উপর দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। আর ওই ভবনের ছাদে কাপড় শুকাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ১৬ বছরের মুন্নী বেগম নামে এক কিশোরি। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বাংলা কাগজের কমলগঞ্জ সংবাদদাতা শাব্বির এলাহী জানান- গত ২৬ জুন বৈদ্যুতিক খুটি স্থাপন করে একটি ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। পরে গত ৪ জুলাই দুপুরে ভবনের ছাদের উপর দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুতায়িত হয়ে মুন্নী বেগম গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনার পরদিন ৫ জুলাই দুর্ঘটনা কবলিত দোতলা ভবনের মালিক আব্দুল করিম আবেদনকারি হিসেবে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম বরাবরে আবেদন করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

এর অনুলিপি প্রদান করা হয় চেয়ারম্যান বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন, মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে- গত ২৬ জুন মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাবেক পরিচালক ও বোর্ড সভাপতি কামাল হোসেন নিজে দাঁড়িয়ে একটি ভবন ঘেষে নতুন খুটি পুঁতে সে খুটির ওপর একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার লাগিয়ে জনৈক মতিউল ইসলামের ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছিলেন। সে সময় আবেদনকারী আব্দুর করিম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) মৌলভীবাজারের সাবেক পরিচালক ও বোর্ড সভাপতি কামাল হোসেন ও বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনকারী ঠিকাদারের কর্মীদের আপত্তি জানিয়েছিলেন। ওই সময় পবিস সাবেক সভাপতি কামাল হোসেন বলেছিলেন নিরাপত্তার জন্য এ ভবন এলাকার বৈদ্যুতিক তার ঝুঁকিমুক্ত রাখতে তার প্লাষ্টিক পাইপ দিয়ে আচ্ছাদিত করা হবে। কিন্তু প্রতারণা করে তার ভবনের ছাদের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া বৈদ্যুতিক তার আর প্লাস্টিক পাইপ দিয়ে আচ্ছাদিত করা হয়নি। ফলে গত ৪ জুলাই ছাদে কাপড় শুকাতে গিয়ে অসাবধনতাবশতঃ ভবনের ভাড়াটে মুন্নী বেগম চলমান বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতরভাবে আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই হাত ও পেট মারাত্মকভাবে পুড়ে বড় ধরণো ক্ষতের সৃষ্টি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ভবন মালিক ও আবেদনকারী আব্দুল করিম আরও বলেন, ঘটনার পরদিন ৫ জুলাই পবিস কমলগঞ্জ আঞ্চরিক কার্যালয়ের ডিজিএম-এর কাছে আবেদন করলেও দীর্ঘ ১৮ দিনেও পবিস থেকে কোনও তদন্ত করা হয় নি।

বিজ্ঞাপন

এদিকে আহত মুন্নী বেগমের অবস্থা এতই খারাপ যে সে এখন মৃত্যুও সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। আহত কিশোরির বাবা মোবারক হোসেন বলেন- আশ্চর্যের বিষয় হলো- এমনিতেই অনিয়ম করে ভবনের ছাদের উপর দিয়ে বৈদ্যুতিক তার নেওয়া হয়েছে। তারপর এতবড় দুর্ঘটনা হলো এবং দুর্ঘটনার পরদিনই পবিস কমলগঞ্জ আঞ্চরিক কার্যালয়ে আবেদন করলেও পবিস থেকে কোনও তদন্ত হয়নি। এখন তাঁর বোনের অবস্থা এতই খারাপ যে সে যে কোনও সময়ে মারা যেতে পারে।

তিনি পবিস ও প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান, সুষ্ঠু তদন্তক্রমে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহন করতে।

ঘটনা ও অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানারে চেষ্টা করে পবিসের বোর্ড সভাপতি কামাল হোসেনের মুঠোফোনে নম্বরে কয়েক দফা ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেন নি।

এ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার আব্দুল মালিক মুঠোফোনে বলেন, এ ধরনের ঘটনার কথা তিনি জানেন না। তবে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেবেন বলেই জানান আব্দুল মালিক।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.