আগস্ট ১, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম শাখায় জালিয়াতি : কমিশন বাণিজ্যে সরকারের বিপুল অর্থ জলে!

বাংলা কাগজ লোগো।

কমিশন ছাড়া কোনও কাজই হয় না চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্মাণ শাখায়। এক্ষেত্রে কিছু সময় এস্টিমেড কোড নিয়ে সিডিউল কেনার আগেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে অর্থ প্রদান করতে হয় সিন্ডিকেটকে। এমন ক্ষেত্রে যে ঠিকাদারের পার্সেন্টেজ বেশি হয়, কাজ দেওয়া হয় তাঁকেই।

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জালিয়াতির মাত্রা কতটুকু তা এখনও নিরূপণ সম্ভব হয় নি। তবে সংশ্লিষ্টরা আঁচ করতে পারছেন, স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপকহারে জালিয়াতি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর দেশজুড়ে বিভিন্ন বিভাগীয় শাখায়ও ছড়িয়ে পড়েছে জালিয়াতি। যেখানে সিন্ডিকেটই নিয়ন্ত্রণ করে সকল কাজ। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে কমিশন ছাড়া কোনও কাজই করতে পারেন না ঠিকাদারেরা। আবার নির্বাহী প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধেও রয়েছে অজস্র অভিযোগ। এমন অবস্থায় বিভিন্ন প্রকল্পে প্রদ্ত্ত সরকারের অর্থ এক রকম জলেই যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে- কমিশন ছাড়া কোনও কাজই হয় না চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্মাণ শাখায়। এক্ষেত্রে কিছু সময় এস্টিমেড কোড নিয়ে সিডিউল কেনার আগেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে অর্থ প্রদান করতে হয় সিন্ডিকেটকে। এমন ক্ষেত্রে যে ঠিকাদারের পার্সেন্টেজ বেশি হয়, কাজ দেওয়া হয় তাঁকেই।

জানা গেছে- চট্টগ্রাম নগরীর সিনেমা প্যালেসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্মাণ শাখার ৬ তলা ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি টাকা। অথচ ভবনের সম্মুখের বাগানে সৌন্দর্য বর্ধন ও পার্কিং নির্মাণেই খরচ দেখানো হয়েছে দুই কোটি ২৪ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে সিন্ডিকেটকে অর্থ প্রদান করে কাজ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা সরকারের প্রদত্ত অর্থ ভাগভাটোয়া করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্মাণ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফারুক আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোথাও গিয়ে বসে এ বিষয় সমাধানের প্রস্তাব দেন।

এ ব্যাপারে ফারুক বলেন, ‘আসেন অফিসের বাইরে দুজনে বসে একসাথে বিষয়টা সমাধান করি।’

এ ব্যাপারে চট্টগ্রামে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক লুৎফর কবির চন্দন বাংলা কাগজকে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকেই অভিযোগ সংগ্রহ করি। আর গণমাধ্যম তো আমাদের বড় বন্ধুর ন্যায়। সুতরাং এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জানা গেছে- চট্টগ্রাম, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও কক্সবাজারের সকল কাজের দায়িত্বে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে এসেছে- চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্মাণ শাখার ১০টি কাজের অন্যতম বান্দরবান সিভিল সার্জন কার্যালয়ের গ্যারেজ নির্মাণ। এক্ষেত্রে কাজ পাইয়ে দেবেন বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ১২ শতাংশ হারে কমিশন চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে রাঙ্গামাটির সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে তিনি সাধারণভাবে প্রায় সকল কাজ থেকেই অন্তত ৮ থেকে ১১ শতাংশ হারে এতদিন ধরে কমিশন নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঠিকাদারেরা। আর এখন আরও এক শতাংশ কমিশন বেশি চাওয়ায় মুখ খোলা শুরু করেছেন তাঁরা।

এ ব্যাপারে মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কমিশন নেওয়া বিষয়টি অস্বীকার করেন। বলেন- অন্যরা কী করেন, আমি জানি না। তবে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো সব মিথ্যা ও বানোয়াট।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার মুজিবুর রহমান বলেন, ‘বড় অংকের কাজের কথা বাদই দিলাম, সাড়ে আট লাখ টাকার কাজ নিয়েই লস খাইছি।’

Facebook Comments Box

Call Now ButtonContact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share