ফাহিমের খুনি চিহ্নিত, যে কোনও সময় হতে পারেন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : শেয়ার রাইডিং অ্যাপ পাঠাওয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ’র হত্যাকারীকে এখনো ধরতে না পারলেও তাঁকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ। ফলে খুনি যে কোনও সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র আভাস দিয়েছে, বড় ধরনের কোনও ব্যবসায়িক লেনদেনের জেরে ফাহিম সালেহকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং হত্যাকারী গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাবে না।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ফাহিম সালেহ’র ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একদিন পর জানা যায় ফাহিমের মৃতদেহকে বুকের মাঝ বরাবর কেটে খণ্ডিত করা হয়েছে।

বেরিয়ে এসেছে- লাশ ব্যাগে ভরার উদ্দেশেই কাটা হয়েছিল, তবে পরে কেউ চলে আসায়, তা আর সম্ভব হয়নি।

ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে- ফাহিমের পেশাদার ঘাতক সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে লিফ্টে ফাহিমের সঙ্গেই সপ্তম তলায় ওঠে। লোকটি কালো পোশাক পরিহিত ছিল। মাথায় টুপি ও মাস্ক-সবকিছুই ছিল কালো। হাতে ছিল বড় একটি স্যুটকেস।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের ধারণা- অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় ফাহিমকে হয়তো মাথায় আঘাত করে দুর্বল করা হয়। এরপরই বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে নিষ্ঠুরভাবে গলা কাটা হয়। পাশাপাশি দু’হাত ও দু’পাও কাটা হয়। বুকের মধ্যখানে করাত চালিয়ে দ্বিখণ্ডিত করা হয় দেহ।

এরপর খণ্ডখণ্ড অংশ আলাদা পলিথিন ব্যাগে ভরা হয়। ফ্লোরের রক্ত মুছে ফেলা হয় কৌশলে। করাতেও ছিল না রক্তের দাগ। তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, ফাহিমকে হত্যার পর হয়তো টুকরো টুকরো লাশ ওই স্যুটকেসে ভরে কোথাও নেয়া হতো; যাতে ফাহিম নিখোঁজ রহস্য উদঘাটনেও অনেক সময় পেরিয়ে যায়।

তদন্ত কর্মকর্তা এবং এমন হত্যাকাণ্ডের ওপর গভীর পর্যবেক্ষণকারীরা আরও মনে করছেন- খণ্ড খণ্ড লাশ স্যুটকেসে ভরার আগেই হয়তো ওই এপার্টমেন্টে আসতে আগ্রহী কেউ নিচে থেকে কলিং বেল টিপেছিলেন। সে শব্দেই ঘাতক সবকিছু ফেলে পালিয়েছে।

এর আগে সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ১০ তলার ওই ভবনের সপ্তম তলায় নিজ অ্যাপার্টমেন্টে ফেরেন ফাহিম। এরপর সারারাত এবং পরদিন মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত চেষ্টা করেও ফাহিমকে ফোনে না পেয়ে তাঁর খালাতো বোন ছুটে আসেন ওই ভবনে। এরপর এপার্টমেন্টে গিয়ে আঁতকে উঠেন ফাহিমের খণ্ড-বিখণ্ড লাশ পলিথিন ব্যাগে দেখে। সঙ্গে সঙ্গে ফোন করেন ফাহিমের ছোটবোন রিফ-সালেহকে। দ্রুত চলে আসেন রিফ-সালেহও। এরইমধ্যে ৯১১-তেও কল করা হয়।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.