দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি; মূল কারণ আধিপত্য বিস্তার, মাদক কারবার ও পুলিশের মাসোয়ারা

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। একদিনেই দেশের দুই স্থানে আট খুনের খবর এসেছে। যাঁদের সবাই সাধারণ মানুষ। এমন অবস্থায় বাংলা কাগজের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। যেখানে মূল কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে মাদক কারবার। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের মাসোয়ারাকেই মূল কারণ বলছেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী।

জানা গেছে- খুলনায় মসজিদ কমিটিতে থাকার বিষয়কে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ সমর্থক সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেছে। ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (শুক্রবার রাত সন্ধ্যা পৌনে আটটা) কাউকে আটক করতে পারে নি পুলিশ।

এলাকাবাসী জানায়, খুলনার মশিয়ালী এলাকার বাসিন্দা হাসান আলী মাস্টারের ছেলে জাকারিয়া (খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক), জাফরিন (খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি) ও মিল্টনের সঙ্গে স্থানীয়দের মশিয়ালী আলিয়া মাদরাসা মসজিদের কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বন্দ্ব চলে আসছে। তাঁরা চায়, মসজিদ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে। কিন্তু এলাকাবাসী তা চায় না। এক্ষেত্রে এলাকাবাসীর অভিযোগ, যাঁরা মসজিদ কমিটিতে আসতে চাইছেন, তাঁরা মূলত মাদক ব্যবসায়ী। তাঁদের মধ্যে খুনোখুনি লেগেই থাকে। এছাড়া তাঁদের কাছে রয়েছে প্রচুর অবৈধ অস্ত্র। তাঁরা মানুষকে মানুষ মনে করে না। যখন-তখন সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে। কিন্তু এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে খুলনা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র কানাই লাল সরকারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুলিশের মাসোয়ারা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের অভিযোগের ব্যাপারে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না- এমন অভিযোগও অস্বীকার করেন। সঙ্গে বলেন- হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

টাঙ্গাইলে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা : টাঙ্গাইলের মধুপুরে একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে মধুপুর উপজেলা শহরের পল্লী বিদ্যুৎ রোড এলাকার মাস্টারপাড়ার ওই বাড়ি থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

নিহতরা হলেন গণি মিয়া (৪৫), তার স্ত্রী কাজিরন ওরফে বুচি (৩৮) এবং কলেজপড়ুয়া ছেলে তাজেল (১৭) ও মেয়ে সাদিয়া (৮)।

স্থানীয়রা জানায়, দুদিন ধরে বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল। আজ সকালে গণি মিয়ার শাশুড়ি এসে বাইরে থেকে তালা লাগানো দেখে ডাকাডাকি করেন। সাড়াশব্দ না পেয়ে এলাকাবাসীর সহায়তায় তালা ভেঙে ভেতরে গিয়ে চারজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে।

এ ব্যাপারে মধুপুর সার্কেলের এসি (সহকারী কমিশনার) কামরান হোসেন বাংলা কাগজকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক কামাল বাংলা কাগজকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে দুই তিন দিন আগে দুর্বৃত্তরা তাঁদের গলাকেটে হত্যার পর লাশ ফেলে গেছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- পবিত্র ইদুল আজহাকে সামনে রেখে এটি ডাকাতির ঘটনা হতে পারে। একইসঙ্গে আত্মীয়দের সঙ্গে শত্রুতা কিংবা ক্রোশও হতে পারে এর কারণ।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.