আগস্ট ৪, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

রোহিঙ্গারা করছে লেনদেন, হচ্ছে সন্ত্রাসে অর্থায়ন- বড় জালিয়াতি বিকাশে!

বিকাশ লোগো।

অ্যাপের মাধ্যমে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলতে পারায় অনিয়মের মাধ্যমে ভোটার আইডি কার্ড করে, এর মাধ্যমে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলছে অসংখ্য রোহিঙ্গা। যার মাধ্যমে হচ্ছে মাদক কারবার। ঘটছে সন্ত্রাসে অর্থায়নের মতো ঘটনা।

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও বিকাশ এজেন্টের নামে পারসনাল অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া, বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ থাকায় সিম রিপ্লেসমেন্ট করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, রোহিঙ্গাদেরও বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলতে সহযোগিতা করা, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, বিকাশের কর্মকর্তাদের গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ আরও অনেক জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশের বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে জানার বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামাল এইচ কাদিরের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি। পরে খুদে বার্তা পাঠিয়ে এর কিছুক্ষণ পর আবারও কল দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও নিরুত্তর থাকেন কামাল। এরপর বিকাশের কাস্টমার কেয়ারে (১৬২৪৭) বিষয়টি নিয়ে ফোন দেওয়া হয়। হামজা নামে একজন ফোন রিসিভ করে বিষয়টির ব্যাপারে বিকাশের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে- বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী, কোনও এজেন্ট পারসনাল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারেন না। কিন্তু দেশজুড়ে প্রায় সব এজেন্ট পারসনাল নম্বর ব্যবহার করে সেন্ডমানির মতো অপশন ব্যবহার করছে। একইসঙ্গে এসব এজেন্ট নিজের কাছে রাখছে বেশকিছু পারসনাল নাম্বার। যার মাধ্যমে সন্ত্রাসে অর্থায়নের মতো ঘটনাও ঘটছে। এক্ষেত্রে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ীর মতো অসংখ্য অপরাধী বেছে নিচ্ছেন বিকাশে লেনদেন। কারণ তাতে এজেন্টকে কোনও ধরনের তথ্যই দিতে হচ্ছে না কিংবা এ ধরনের কোনও তথ্যই সংরক্ষণ করছে না বিকাশের এজেন্টরা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বাংলা কাগজকে বলেছিলেন, শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে বিকাশের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হবে।

জানা গেছে- বিকাশে অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ থাকায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বিভিন্ন মুঠোফোন অপারেটরের সহযোগিতায় গ্রাহকের নম্বর থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমাণে অর্থ। যেখানে মুঠোফোন অপারেটরদের কাছ থেকে বিকাশ কর্মকর্তারা ভোটার আইডির তথ্য ও ছবি নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে এমন সব বিকাশ হিসাব বেছে নেওয়া হচ্ছে, যেখানে মোটামুটি ভালো মানের অর্থ রয়েছে। পরে এমন হিসাবগুলোর নম্বর রিপ্লেসমেন্টের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে পুরো অর্থ। যার কোনও সমাধানও মিলছে না। বিপরীতে বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে ফোন দেওয়া হলেও কোনও সহযোগিতা করা হচ্ছে না বলে বাংলা কাগজের কাছে অভিযোগ করেছেন এ ধরনের জালিয়াতির শিকার হওয়া অন্তত চারজন গ্রাহক।

জানা গেছে- অ্যাপের মাধ্যমে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলতে পারায় অনিয়মের মাধ্যমে ভোটার আইডি কার্ড করে, এর মাধ্যমে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলছে অসংখ্য রোহিঙ্গা। যার মাধ্যমে হচ্ছে মাদক কারবার। ঘটছে সন্ত্রাসে অর্থায়নের মতো ঘটনা।

বিজ্ঞাপন

সূত্রমতে, কোনও আচার-অনুষ্ঠান এলে বিকাশের কর্মকর্তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেন। এক্ষেত্রে খোদ প্রতিষ্ঠানটিতে চাকরি করা কর্মকর্তারাই হাতিয়ে নেন গ্রাহকের অর্থ। এ ধরনের বেশকিছু অভিযোগ রয়েছে বাংলা কাগজের কাছে।

এমনই একটি অভিযোগ করেছেন ফারহানা পারভীন নামে একজন। তিনি জানান, বুধবার (১৫ জুলাই) তাঁর নম্বরে বিকাশের কাস্টমার কেয়ার থেকে কল করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তাঁর হিসাব থেকে চার হাজার টাকার কিছু বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। এমনকি তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, বিকাশের কাস্টমার কেয়ারে বিষয়টি নিয়ে তিনবার কল করেও কোনও সমাধান পাওয়া যায় নি। যেখানে বিকাশ থেকে তাঁকে নতুন পিন নম্বর দেওয়া হলেও সেগুলো কাজ করে নি। এখন তিনি খুবই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

জানা গেছে- ফারহানা পারভীনের গ্রামীণফোন নম্বরে (শেষ ডিজিট ২৯৯) বিকাশের কাস্টমার কেয়ার (১৬২৪৭) থেকে কল করে জালিয়াতি করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

Call Now ButtonContact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share