আগস্ট ৪, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

পছন্দের স্থানে চিরঘুমে এন্ড্রু কিশোর

এন্ড্রু কিশোর- বাংলা কাগজ।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে হাজারো ভক্ত-অনুরাগীর উপস্থিতিতে এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়। এর আগে সকাল ৯টার দিকে মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘর থেকে বের করে নেওয়া হয় সিটি চার্চে।

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : পছন্দের জায়গা রাজশাহী সার্কিট হাউস এলাকায় ক্রিশ্চিয়ান কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরকে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে হাজারো ভক্ত-অনুরাগীর উপস্থিতিতে এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়। এর আগে সকাল ৯টার দিকে মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘর থেকে বের করে নেওয়া হয় সিটি চার্চে।

সেখানে ধর্মীয় আচার পালন শেষে মরদেহ চার্চের সামনে রাখা হয় শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। এ সময় শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাসহ ভক্ত-অনুরাগীরা।

এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে কফিন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহ কবরস্থানে নেওয়া হয়। কবরস্থানে ঢুকতেই ডান পাশে শিল্পীর পছন্দের জায়গায় আগে থেকেই খোঁড়া হয়েছিল কবর। সেখানেই সমাহিত করা হয়। তারপর সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

হাসপাতালের হিমঘর থেকে সমাহিত করা পর্যন্ত এন্ড্রু কিশোরের পাশেই ছিলেন তার স্ত্রী এন্ড্রু লিপিকা, ছেলে জয় এন্ড্রু সপ্তক ও মেয়ে মিনিম এন্ড্রু সংজ্ঞা। সিটি চার্চে ধর্মীয় প্রার্থনা শেষে তারা কফিনের পাশে বসেন। এ সময় তারা ডুকরে কাঁদেন। কবরে কফিন নামানোর পরও পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁরা।

বাবার কফিনের ওপর মাটি দেওয়ার পর ছেলে ও মেয়ে এই কবরস্থানেই থাকা তাদের দাদা, দাদি, চাচা ও চাচাত বোনের কবরে ফুল দেন। এই চারটি সমাধি রয়েছে পাশাপাশি। তবে এন্ড্রু কিশোরের সমাধি হয়েছে সামান্য একটু দূরে। মৃত্যুর আগে জায়গাটি তিনি নিজেই দেখিয়ে দিয়েছিলেন।

এ সময় সেখানে সুরকার গীতিকার ইথুন বাবু ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান ছিলেন। শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁরা এন্ড্রু কিশোরের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত এবং তার স্মৃতি ধরে রাখতে একুশে পদক দেওয়াসহ তার নামে কিছু করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাবেন বলে জানান তাঁরা।

শ্রদ্ধা জানানোর পর প্রতিক্রিয়ায় মেয়র লিটন ও সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা এন্ড্রু কিশোরের নামে রাজশাহীতে সংগীত বিদ্যালয় এবং কমপক্ষে একটি সড়কের নাম তার নামে করে তাকে স্মরণীয় করে রাখার কথা জানান।

বিজ্ঞাপন

পরিবারের সদস্যরা জানান, রাজশাহীতে ১৯৫৫ সালে জন্ম হয় এন্ড্রু কিশোরের। তার বাবার নাম ক্ষীতিশ চন্দ্র বাড়ৈ। মা মিনু বাড়ৈ। স্কুলশিক্ষিকা মিনু ছিলেন সংগীত অনুরাগী। মায়ের ইচ্ছাতেই রাজশাহীর ওস্তাদ আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে সংগীতের তালিম নেন এন্ড্রু কিশোর। সত্তরের দশকের শেষ দিকে প্লেব্যাকের জগতে পা রাখেন এন্ড্রু কিশোর। এরপর ১৫ হাজারের বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন নন্দিত এই শিল্পী।

তাঁকে বলা হয় ‘প্লেব্যাক সম্রাট’। আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই শিল্পী ক্যানসারে ভুগছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি সিঙ্গাপুরেই ছিলেন চিকিৎসার জন্য। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির পরও দ্বিতীয় দফায় তার দেহে ক্যানসার বাসা বাঁধে। ফলে চিকিৎসকরা হাল ছেড়ে দেন।

অবশেষে শিল্পীর ইচ্ছায় তাকে দেশে আনা হয় গত ১১ জুন। এরপর থেকে রাজশাহীতে তিনি বোনের বাসায় ছিলেন। গত ৬ জুলাই সন্ধ্যায় এখানেই এই কিংবদন্তি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার দুই সন্তান পড়াশোনা করেন অস্ট্রেলিয়ায়। তাদের ফেরার অপেক্ষায় মরদেহ রাখা হয়েছিল হিমঘরে।

এন্ড্রু কিশোরের ভগ্নিপতি প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস বলেন, এন্ড্রু কিশোরকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মরদেহ রাখার কথা ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার ও রাজশাহী কলেজ চত্বরে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি হয়নি। তাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সারাদেশে একসঙ্গে মোমবাতি প্রজ্বলনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box

Call Now ButtonContact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share