স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি : মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কর্মসূচিতে পুলিশের বাঁধা; কঠোরতার হুঁশিয়ারি ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে মু্ক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে বাঁধা দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে এ বাঁধা দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সঙ্গে অংশ নিয়েছে বেশকিছু বামপন্থি সংগঠনও। সবমিলে কর্মসূচিটি ‘প্রগতিশীল সংগঠন সমূহ’-এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে- বাংলা কাগজের প্রতিবেদনের পরই মূলত রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজি গ্রুপসহ স্বাস্থ্য খাতে অন্য অভিযান শুরু হয়। এরপরই আলোচনায় আসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ও নমুনা জালিয়াতির খবর। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও আসা শুরু করে। এর সঙ্গে যোগ হয় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আন্দোলন। শনিবার (১১ জুলাই) চার দফা দাবিতে ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এর মধ্যে প্রথম দাবির দুটি অংশ হলো- দুর্নীতির দায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদের অপসারণ। এ দাবি দুটি অংশের মধ্যে ইতোমধ্যেই (১২ জুলাই- মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সময় বেঁধে দেওয়ার পরদিন) বরখাস্ত হয়েছেন আবুল কালাম আজাদ।

অপর দাবিগুলো হলো- স্বাস্থ্য খাতের সব অনিয়ম ও দুর্নীতি খতিয়ে দেখার জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ ইউনিট স্থাপন করতে হবে ও বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে এবং দেশের সব জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসার মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নতমানের আইসিইউ বেড স্থাপন করতে হবে।

জানা গেছে- মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি শুরু হয়। ওই সময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, খেতমজুর সমিতি, কৃষক সমিতি, উদীচী, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র ও হকার্স ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচির মিছিলটি পল্টন হয়ে জিরো পয়েন্টে প্রবেশ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের আটকে দেন। এরপর মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা প্রায় ঘণ্টা খানেক রাস্তা অবরোধ করে সমাবেশ করেন। এ সময় যানবাহন চলাচলে বিঘ্নতার সৃষ্টি হয়।

কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজার সভাপতিত্বে এবং ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়ের পরিচালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন- কৃষক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক নিমাই গাঙ্গুলী, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, যুব ইউনিয়নের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজেদুল হক রুবেল, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কার্যকরী সভাপতি রুহুল আমিন, হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত ও ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল প্রমুখ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ দাবি করে এ সময় নেতারা যে বক্তব্য দেন, এর সারমর্ম এ রকম- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ঠিকাদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তদন্ত করে তাঁদের গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। একইসঙ্গে অসৎ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে মিঠু গংদের উৎখাত করতে হবে।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.