ডাক্তার মন্ত্রী আসতে পারেন স্বাস্থ্য খাতে

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : স্বাস্থ্য খাতে জালিয়াতির মূল কারণ ঊর্ধ্বতনরা খাত সংশ্লিষ্ট না হওয়া। এ কারণেই নিম্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ পেয়েছেন। ফলে স্বাস্থ্য খাতে ডাক্তার মন্ত্রীর বিষয়ে ভাবছে সরকারের শীর্ষ পর্যায়। আর বিপরীতে নিজের পদ বাঁচাতে এক রকম মরিয়া হয়ে উঠেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য খাতে জালিয়াতির খবরে বেশ বিরক্ত। তিনি চাইছেন, খাতটিতে যাঁরাই অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁদের কাউকেই রাখা হবে না। সকলের বিরুদ্ধেই গ্রহণ করা হবে কঠোর ব্যবস্থা। অন্যথায় দিনদিন আওয়ামী লীগেরই সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এমনকি স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সরকারবিরোধী আন্দোলনও হতে পারে। এমন খবরও রয়েছে সংশ্লিষ্টদের কাছে।

এমন যখন অবস্থা, ঠিক সে সময়ে নিজের পদ বাঁচাতে মরিয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের বিরোধ পুরোপুরি প্রকাশ্যে চলে আসার পরও মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অধিদপ্তরের কোনও সমস্যা নেই।

অবশ্য বিকেলে সচিবালয়ে তিনি এ কথা বলার কিছুক্ষণ আগেও তাঁর নাকের ডগায় হয়েছে আন্দোলন। দাবি তাঁর অপসারণ।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ করা যেতে পারে, জালিয়াতির বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানতো এমন বিষয় নিয়ে মুখ খোলায় বরখাস্ত করা হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. আবুল কালাম আজাদকে।

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হওয়ায় বেশ ভয়ের মধ্যেই রয়েছেন তিনি। এরমধ্যে তিনি জানতে পেরেছেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ও তাঁর ওপর বেশ ক্ষিপ্ত রয়েছেন। এমন অবস্থায় অধিদপ্তরের সঙ্গে এক রকম আপোষেই যেতে চাইছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, একইদিন (মঙ্গলবার) দুপুরেই মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে প্রেসক্লাবের সম্মুখে মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে দেশের প্রায় সবগুলো প্রগতিশীল সংগঠন। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের জন্য গেলে সেখানে বাধা দেয় পুলিশ। ওই সময় আরও কঠোর কর্মসূচি দেবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.