অক্টোবর ২৮, ২০২১

The Bangla Kagoj

বিশ্বের সব দেশে, সব ভাষায়, সব সময় । বাংলা কাগজ । আপনার কাগজ । banglakagoj.net (আমাদের কোনও জাতীয় পত্রিকা নেই)।

হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে সোনালীর কাছে ২৬ ব্যাংক এখনও পায় প্রায় হাজার কোটি টাকা

সোনালী ব্যাংক লোগো।

শুধু হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর বিভিন্ন অর্থবছরে সোনালী ব্যাংককে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদান করেছে সরকার। যা কেলেঙ্কারির চেয়ে (তিন হাজার ছয়শ ছয় কোটি টাকা) অনেক বেশি। কিন্তু এরপরও বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা পুরোপুরি মেটাতে পারে নি সোনালী ব্যাংক। এক্ষেত্রে এখনও সোনালী ব্যাংকের কাছে ২৬টি ব্যাংক পায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক খাতের সোনালী ব্যাংকের কাছে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক মিলে ২৬টি ব্যাংক পায় প্রায় হাজার কোটি টাকা। এসব অর্থ ওভারডিউ হিসেবে এখনও পড়ে আছে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, আইবিপি (ইনল্যান্ড বিল পারচেজ- অভ্যন্তরীণ বিল ক্রয়)-এর মাধ্যমে যে বিল অপরিশোধিত অবস্থায় থাকে, তাকেই ওভারডিউ বলা হয়।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক খাতের সোনালী ব্যাংকের শেরাটন (প্রথমে রূপসী বাংলা, পরে ইন্টারকন্টিনেন্টাল) শাখায় হলমার্ক গ্রুপের সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি জালিয়াতির ঘটনায় বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যাংকটির (সোনালী ব্যাংক) কাছে পাওনা দাঁড়ায় দুই হাজার কোটি টাকারও বেশি। এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো থেকে অভ্যন্তরীণ বিল ক্রয়ের মাধ্যমে তুলে নেয় হলমার্ক গ্রুপ। পরে ২০১২ সালের শেষের দিকে গ্রুপটির জালিয়াতির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে নির্দেশ দেন জালিয়াতির ব্যাপারে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। এরই অংশ হিসেবে আগস্টে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভাঙার সুপারিশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে অনিয়মের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হলেও পর্ষদ ভাঙার সুপারিশ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে। তবে এরপরও গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কারণে থেমে থাকে নি ব্যবস্থা গ্রহণ। এরই অংশ হিসেবে সোনালী ব্যাংকের ইন্টারকন্টিনেন্টাল শাখার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নামে মামলা হয়। এক্ষেত্রে গ্রেপ্তারও হন শাখাটির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এ কে এম আজিজুর রহমান। পরে অবশ্য তিনি কারান্তরীণ (হাসপাতালে) থাকা অবস্থায় মারা যান। আর এ কারণে সোনালী ব্যাংক হলমার্কের পুরো জালিয়াতির তথ্য পায় নি বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জানায়। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের পরিদর্শনে হলমার্ক জালিয়াতির আলাদা অংক বেরিয়ে আসে। যা সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রদীপ কুমার দত্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে চিঠি প্রদানের মাধ্যমে জানান। একইসঙ্গে তিনি ওই চিঠিতে উল্লেখ করেন- নামে-বেনামে হলমার্কের অনিয়ম সংগঠিত হওয়ায় এখন (তখন) অর্থ আদায়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। কিন্তু বিভিন্ন ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের কাছে যে অর্থ পাবে, তা ব্যাংকটির পক্ষে প্রদান করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় ব্যাংকটিকে ‘বাঁচাতে’ সরকারের কাছ থেকে অর্থ চান প্রদীপ কুমার দত্ত।

জানা গেছে, শুধু হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর বিভিন্ন অর্থবছরে সোনালী ব্যাংককে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদান করেছে সরকার। যা কেলেঙ্কারির চেয়ে (তিন হাজার ছয়শ ছয় কোটি টাকা) অনেক বেশি। কিন্তু এরপরও বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা পুরোপুরি মেটাতে পারে নি সোনালী ব্যাংক। এক্ষেত্রে এখনও সোনালী ব্যাংকের কাছে ২৬টি ব্যাংক পায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।

সূত্র আরও জানায়, ব্যাংকগুলোর পাওনা প্রদান করার জন্য আতিউর রহমানের আমল থেকেই সোনালী ব্যাংককে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। যেখানে ব্যাংকটির বিভিন্ন সময়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আশ্বস্তও করেছে। কিন্তু এখনও ব্যাংকটি ব্যাংকগুলোর পুরোপুরি পাওনা মেটায় নি। বিপরীতে কিছু সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিপদের মুখে পড়েছে সেসব ব্যাংক। কারণ ভুয়া আইবিপির জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করতে অনীহা প্রকাশ করেছিল দেশের বাইরের বড় বেশকিছু ব্যাংক।

উল্লেখ করা যেতে পারে- কোনও পণ্য আমদানির প্রয়োজনে একটি মাদার ব্যাংকে ঋণপত্র (এলসি- লেটার অব ক্রেডিট) খুলে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। ওই এলসির বিপরীতে অন্য ব্যাংক থেকে বিল ভাঙিয়ে অর্থ নেওয়ার রীতি রয়েছে। যা পরে পণ্য আমদানি শেষে বিক্রির পর মাদার ব্যাংককে প্রদান করা হলে, সেটি আবার বিল ক্রয়কারী ব্যাংককে প্রদান করে মাদার এলসি গ্রহণকারী ব্যাংক। এক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংক হলমার্ক গ্রুপের মাদার এলসিকারক প্রতিষ্ঠান। আর ব্যাংকটি থেকে বিল ইস্যু করার মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি ২৬টিরও অধিক ব্যাংক থেকে বিল ভাঙিয়ে অর্থ তুলে নেয় হলমার্ক গ্রুপ। এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বিল ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম সংগঠিত হয়। অর্থাৎ ভুয়া বিল তৈরি করে দেয় সোনালী ব্যাংক।

বিজ্ঞাপন

সূত্র জানায়, হলমার্ক গ্রুপ কেলেঙ্কারির ফাংশনাল অডিট রিপোর্টে সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। যাঁরা হলমার্ককে ভুয়া বিল তৈরি করতে সহযোগিতা করেছিলেন এবং অনিয়মের বিষয়টি জানার পরও চুপ ছিলেন। এক্ষেত্রে ব্যাংকটির তৎকালীন এমডি, ডিএমডি (উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক), জিএম (মহাব্যবস্থাপক) ও ডিজিএম থেকে শুরু করে এসপিও (সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার) পর্যন্ত ছিলেন।

জানা গেছে, হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান। কিন্তু বর্তমানে গ্রুপটির বেশকিছু প্রতিষ্ঠান বর্তমানে সচল অবস্থায় রয়েছে। যদিও ২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত গ্রুপটির প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশ অচল অবস্থায় ছিল। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠান সচল থাকার কারণে হলমার্ক গ্রুপ বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা অর্জন করলেও সেটি করছে না বলেই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র। একইসঙ্গে সোনালী ব্যাংক থেকেও এক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদান করা হচ্ছে বলেই অভিযোগ রয়েছে। বিপরীতে হলমার্ক থেকে অর্থ আদায় সম্ভব হচ্ছে না ছুতোয় ২৬ ব্যাংককে এখনও প্রায় হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে না সোনালী ব্যাংক।

Facebook Comments Box

Contact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share