সাহেদের দুর্নীতি অনুসন্ধান করবে দুদক, যেকোনও সময় গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : এবার রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের ব্যাপারে দুর্নীতির অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

৫৬ প্রতারণা মামলার আসামী সাহেদের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। যা সোমবার (১৩ জুলাই) বাংলা কাগজকে নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য। এদিকে যেকোনও সময় সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হবে বলেই জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্র।

জানা গেছে- মাইক্রোক্রেডিট ও এমএলএম ব্যবসার নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে শতশত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাহেদ চক্রের বিরুদ্ধে।

এছাড়া বহুমাত্রিক জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করারও অভিযোগ উঠেছে করোনা টেস্ট নিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করা রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদের বিরুদ্ধে।

আয়কর ফাঁকি, ভুয়া নাম ও পরিচয়ে ব্যাংক ঋণ নিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের বিষয়টি আমলে নিয়েছে দুদক।

এর আগে কমিশনের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগের বিভিন্ন ব্যক্তি, গণমাধ্যম ও ভার্চুয়াল মাধ্যমসহ নানা উৎস থেকে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সংগ্রহ করে।

বিজ্ঞাপন

এসব তথ্য-উপাত্তসংবলিত অভিযোগগুলো কমিশনের দৈনিক ও সাম্প্রতিক অভিযোগ সেল কমিশনে উপস্থাপন করলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কমিশনের বিশেষ তদন্ত অনুবিভাগের মাধ্যমে এই অভিযোগটি অনুসন্ধান করার কথা রয়েছে। যা পরিচালনা করবে দুদকের উপপরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন- সহকারী পরিচালক মো. নেয়ামুল হাসান গাজী ও শেখ মো. গোলাম মাওলা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- আধা শিক্ষিত সাহেদ ১৯৯৯ সালের পর থেকেই প্রতারণা শুরু করেন। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরায়।

আরও জানা গেছে- অনুমোদন ছাড়া উত্তরা ও মিরপুরে রিজেন্ট হাসপাতালের মাধ্যমে করোনা রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা এবং জালিয়াতি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সাহেদ। এক্ষেত্রে নমুনা ফেলে দিয়ে ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করতো সাহেদের মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতাল। যার মিরপুর ও উত্তরা- এ দুটি শাখাতেই হতো এমন জালিয়াতি।

জালিয়াতির কারণে ইতোমধ্যে রিজেন্ট হাসপাতালের দুটি শাখাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে রিজেন্টের কার্যালয়ও। পাশাপাশি তাঁর ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে ইতোমধ্যে সকল তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে সাহেদের ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় তথ্যও জানাতে বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য খাতে জালিয়াতির কারণে বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যা ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে ডেকে তিনি বলেছেনও। বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একইসঙ্গে তাঁকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সাহেদের বিদেশ গমণেও এসেছে নিষেধাজ্ঞা।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.