অক্টোবর ২৮, ২০২১

The Bangla Kagoj

বিশ্বের সব দেশে, সব ভাষায়, সব সময় । বাংলা কাগজ । আপনার কাগজ । banglakagoj.net (আমাদের কোনও জাতীয় পত্রিকা নেই)।

ডা. সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে যা জানালো পুলিশ

তেজগাঁও থানায় ডা. সাবরিনা- বাংলা কাগজ।

জেকেজির প্রতারণার সঙ্গে ডা. সাবরিনা আরিফের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় রোববার তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরীক্ষার নামে জালিয়াতির অভিযোগে জেকেজির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততাসহ কোনও বিষয়েই পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সদুত্তর দিতে পারে নি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের কার্ডিয়াক সার্জন সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। সবমিলে তাঁকে একইদিন গ্রেপ্তার দেখায় তেজগাঁও থানা পুলিশ। রাতে থানা হাজতে রাখার পর কাল (সোমবার- ১৩ জুলাই) তাঁকে আদালতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডা. সাবরিনার ব্যাপারে গণমাধ্যমের সম্মুখে কথা বলেন এসপি হারুন- বাংলা কাগজ।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

জেকেজির প্রতারণার সঙ্গে ডা. সাবরিনা আরিফের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় রোববার তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

হারুন অর রশীদ বলেন, সাবরিনা একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের কার্ডিয়াক সার্জন। করোনাভাইরাসের ভুয়া রিপোর্টের অভিযোগে জেকেজির গ্রেপ্তার করা কর্মকর্তারা সাবরিনার সংশ্লিষ্টতা আমাদের কাছে স্বীকার করেছে। আমরা বেশকিছু তথ্য প্রমাণের অপেক্ষায় ছিলাম। আমাদের তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর সম্পর্কে খোঁজ খবর নিচ্ছিলেন। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এর আগে করোনাভাইরাস পরীক্ষার নামে জালিয়াতির অভিযোগে জেকেজির যেসব সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন, ইতোমধ্যে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের সবাই বলেছেন, সাবরিনাই জেকেজির চেয়ারম্যান। এছাড়া তিতুমীর কলেজে জেকেজির বুথে হামলার অভিযোগ উঠলে সাবরিনাই প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র হিসেবে সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেন। তবে অভিযানের একদিন আগে তিনি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পদে না থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানান। এতে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযানের বিষয়টি আগেভাগেই ফাঁস হয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অপরদিকে কোনও সরকারি কর্মকর্তা কখনোই কোনও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব নিতে পারেন না। যা তাঁদের চাকরিবিধি লঙ্ঘন। আর বিষয়গুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তো বক্তব্য দিতেই পারেন না।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাবরিনা কী তথ্য দিয়েছেন, তা জানতে চাইলে পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, সাবরিনা জেকেজির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা জিজ্ঞেস করেছিলাম- তিতুমীর কলেজে জেকেজির বুথে হামলার বিষয়ে গণমাধ্যমে আপনি প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র হিসেবে বক্তব্য দিয়েছিলেন কেন? তখন তিনি জানান, ‘আমার স্বামী বলতে বলেছিল।’

এসপি হারুন বলেন, আবার তিনি ফেসবুকে স্বামীর সঙ্গে আলাদা থাকছেন দুই মাস ধরে এসবও লিখেছেন। আসলে আমাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেন নি। এ ব্যাপারে আমরা বারবার তাঁকে জিজ্ঞেস করেও কোনও সদুত্তর নিতে পারি নি।

বিজ্ঞাপন

নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, সাবরিনা তাঁর দায় এড়াতে পারেন না- বলেই মন্তব্য করেন হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, আদালতে কাল (সোমবার) সাবরিনাকে নেওয়া হবে। পুলিশ রিমান্ড আবেদন করবে। জিজ্ঞাসাবাদের পর এই ঘটনায় আর কে কে জড়িত রয়েছেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে। সাবরিনার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীকে যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, একই মামলায় সাবরিনাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্বামী আরিফুলের গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের নাম বদলে রাখেন সাবরিনা মিষ্টি চৌধুরী। তাকে স্বামী আরিফুল নির্যাতন করতেন এমন অভিযোগও তোলেন।

জানা যায়, চিকিৎসা পেশার বাইরে তিনি ওভাল গ্রুপ লিমিটেড নামে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্মেরও চেয়ারম্যান ছিলেন। এর প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন সাবরিনার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরী।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) নমুনা সংগ্রহ করত ‘জোবেদা খাতুন স্বাস্থ্যসেবা প্রজেক্ট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তারা কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই তৈরি করতেন ‘করোনার পজিটিভ-নেগেটিভ রিপোর্ট’।

গত ২৩ জুন জেকেজি হেলথ কেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল চৌধুরীসহ ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Facebook Comments Box

Contact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share