আগস্ট ১, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

টোপ দিয়ে সুন্দরী পরীর ভয়ঙ্কর প্রতারণা!

'সুন্দরী' পরী- বাংলা কাগজ।

ঘটনা এখানেই শেষ নয়, ফোনে কথা বলে রুমমেট করার ফাঁদে ফেলে শিকার ধরতো ওই পরী সুন্দরী। তার মন ভোলানো কথায় বহু মানুষ পা দিতেন ভয়াবহ ফাঁদে। কিন্তু এ ফাঁদ যে কত ভয়ংকর তা যখন টের পেতো তখন কিছুই করার আর থাকতো না ভুক্তভোগীদের। তার ওইসব অপকর্মকে সেল্টার দেয়ার জন্য রয়েছে একটি সিন্ডিকেট।

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : টোপ দিয়ে রাজধানী তথা দেশজুড়ে ভয়ঙ্কর প্রতারণা করে যাচ্ছেন বেশকিছু ‘সুন্দরী’। এসব সুন্দরী অর্থবিত্ত আছেন এমন তথ্য নেওয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ঘনিষ্ট হন। পরে তাঁদের ভিডিও ছেড়ে দেবার নাম করে হাতিয়ে নেন বিপুল পরিমাণ অর্থ।

এ ধরনের ঘটনা শুধু রাজধানীতেই নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

কেস স্টাডি : শুধু নামেই নয়, সুন্দর চেহারার অধিকারীও পরী বেগম। কখনও ইউএনও, কখনও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, আবার কখনও সমাজসেবা কর্মকর্তা সেজে সুন্দর হাসি ও তীক্ষ্ণ চাহনি দিয়ে পুরুষদের কাবু করে তাঁদের সর্বস্ব হাতিয়ে নেন। আবার কখনও স্বপ্নমাখা গল্পের ফাঁদ পেতে গ্রামের দরিদ্র অসহায় নারী ও কিশোরীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে কেটে পড়েন।

এছাড়া চাকরিজীবি, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিকসহ অনেককেই ফেসবুকে চ্যাটিং বা মোবাইল ফোনে কথা বলে ফাঁদে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

ঘটনা এখানেই শেষ নয়, ফোনে কথা বলে রুমমেট করার ফাঁদে ফেলে শিকার ধরতো ওই পরী সুন্দরী। তার মন ভোলানো কথায় বহু মানুষ পা দিতেন ভয়াবহ ফাঁদে। কিন্তু এ ফাঁদ যে কত ভয়ংকর তা যখন টের পেতো তখন কিছুই করার আর থাকতো না ভুক্তভোগীদের। তার ওইসব অপকর্মকে সেল্টার দেয়ার জন্য রয়েছে একটি সিন্ডিকেট।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ওই পরী সুন্দরীর ভয়ংকর প্রতারণার খবর এখন টক অব দ্য টাউন। পরীর এমন প্রতারণার বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী শিরীন আক্তার নামে এক গৃহবধূ একাধিক নারীর পক্ষে বাদী হয়ে সম্প্রতি রামগঞ্জের ইউএনও মুনতাসির জাহানের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- পরী বেগম (প্রকাশ ফাতেমা আক্তার পরী) রামগঞ্জ পৌরসভার নন্দনপুর গ্রামের ইম্মত আলী ভূঁইয়া বাড়ির আলমগীর হোসেনের স্ত্রী। স্বামী রাজমিস্ত্রি আলমগীর বেশ কয়েকবার স্ত্রীর বেপরোয়া অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে দফায় দফায় হেনস্তা হয়েছেন। এর বাইরেও পরী বেগম সম্প্রতি রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডীপুর ইউপির বেচারাম বাড়ির শিরীন আক্তারসহ ২৩ জন দরিদ্র অসহায় নারীর কাছ থেকে ইউএনও’র পরিচয় দিয়ে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা, মাতৃত্বভাতা ও নতুন ঘর করে দেয়ার নাম করে সহজ সরল মহিলাদের কাছ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এছাড়া ওই পরী বেশ কয়েকদিন আগে রামগঞ্জ পৌরসভার সাতারপাড়া গ্রামের মিয়া বাড়ির জেসমিন আক্তার কাছ থেকে ৩ হাজার, সুফিয়া বেগমের কাছ থেকে ৮ হাজার, একই গ্রামের মিয়ার বাড়ির সোহাগী বেগমের কাছ থেকে ১০ হাজার, নাসরিন আক্তারের কাছ থেকে ৩০ হাজার, সুমা আক্তারের কাছ থেকে ৭ হাজার, আকলিমা আক্তারের কাছ থেকে ৭ হাজার, বাচ্চু মিয়ার কাছ থেকে ৬ হাজারসহ অসংখ্য নারী-পুরুষের কাছ থেকে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা, মাতৃত্বভাতা ও নতুন ঘর করে দেয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

যোগাযোগ করা হলে বাংলা কাগজের কাছে পরী বেগম দাবি করেন- তাঁর বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ইউএনও মুনতাসির জাহান জানান, ফাতেমা আক্তার পরীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের জন্য সমাজসেবা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে পরীর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাংলা কাগজকে বলেন,পরীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষের কাছ থেকে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

রাজধানীজুড়ে পরীদের দৌরাত্ম্য : জানা গেছে- বর্তমানে রাজধানীজুড়ে ভয়ঙ্কর প্রতারণা ফাঁদ চলছে পরীদের। তাঁরা অর্থবিত্ত আছে, এমন লোকজনের কাছ থেকে হাতিয়ে নেবার চেষ্টা করছেন বিপুল পরিমাণে অর্থ। বিষয়টির সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু দুষ্কৃতিকারীও জড়িত বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

Facebook Comments Box

Call Now ButtonContact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share