মায়ের পাশে সাহারা

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশেই শায়িত হলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১১টায় বনানী কবরস্থান মসজিদে জানাজার পর সাহারা খাতুনকে দাফন করা হয় বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।

জাতীয় ও দলীয় পতাকায় মোড়ানো অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের কফিনে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় সকলের চোখই ছিল অশ্রুসজল।

ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোদের মধ্যে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটির মেয়র, আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ অন্যতম।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, সাহারা খাতুনকে হারিয়ে আওয়ামী লীগ এবং দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, যা পূরণ হবার নয়। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ছিল সাহারা আপার। তিনি বলেন- দেশের মানুষ, আওয়ামী লীগ হারিয়েছে দেশপ্রেমিক, সততার উজ্জল দৃষ্টান্ত। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হারিয়েছেন বিশ্বস্ত হাতিয়ার।

বিজ্ঞাপন

এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, সত্তরের গণ আন্দোলন থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত এই সহযোদ্ধা।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে গেছেন।
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ করে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ।

“বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাসহ বহু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মামলা দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি তিনি ছিলেন অবিচল।”

নানা জটিলতা নিয়ে অসুস্থ সাহারা খাতুনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার ব্যাংককে নেওয়া হয়েছিল, ভর্তি করা হয়েছিল বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। পরদিন রাতে তাঁর মরদেহ ঢাকায় আনা হয়।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সালের আওয়ামী লীগ সরকারে তিন বছরের বেশি সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীরও দায়িত্ব পান তিনি।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.