স্বাস্থ্যখাতে আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিংয়ে অর্থ পাচারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি যেন কোনোভাবেই পিছু ছাড়ছে না। যাঁরাই শীর্ষ পদগুলোতে আসেন, তাঁরাই যেন হয়ে উঠেন সিন্ডিকেটের অংশ। এক্ষেত্রে নিম্নস্তর থেকে উচ্চ শ্রেণি পর্যন্ত নানাক্ষেত্রের কর্মকর্তাদের আঁতাতের মাধ্যমে দুর্নীতি যেন পুরোনো ঘটনা। স্বাস্থ্য খাতে বড় জালিয়াতি হচ্ছে- খাতটিতে আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উল্লেখ করা যেতে পারে- কোনও পণ্য নির্দিষ্ট দামের চেয়ে কম দাম দেখিয়ে আমদানি করার ঘটনাকে আন্ডার ইনভয়েসিং বলে। এক্ষেত্রে বাদবাকি টাকা হুন্ডি বা অন্য কোনও অবৈধ উপায়ে রপ্তানিকারকের ঠিকানায় পাঠানো হয়। যা পরে ভাগ-ভাটোয়ারা হয়। অপরদিকে ওভার ইনভয়েসিং সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা। অর্থাৎ এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট দামের চেয়ে অধিক দাম দেখিয়ে পণ্য আমদানি করা হয়। তবে এমনক্ষেত্রে (ওভার ইনভয়েসিং) ব্যাংকিং চ্যানেলেই পুরো অর্থ পাঠানো হয়। পরে বাড়তি অংশ ভাগ-ভাটোয়ারা করে নেন সংশ্লিষ্টরা।

শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে ঠিকাদারদের অর্থ লুটপাট : অর্থ আত্মসাতের কায়দা একই। শুধু ভিন্ন ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া আর কিছুই নয়। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের সঙ্গে আঁতাতের ধারাবাহিকতায় আঁতাত হয় ঠিকাদারদের সঙ্গেও।

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ‘গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে’ শুধু কয়েকটি সরকারি মেডিকেল কলেজ থেকেই ঠিকাদাররা আত্মসাৎ করেছেন একশ কোটি টাকারও বেশি।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে- স্বাস্থ্য খাতে নানা অনিয়মের মধ্যে একটি হচ্ছে- একদেশের তৈরি মালামাল চালিয়ে দেওয়া হয়েছে অন্য দেশের বলে। আবার এমন ঘটনাও ঘটেছে- নতুন যন্ত্র আনার পর, সেটি চালুই হয় নি।

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনিয়ম-দুর্নীতিই যেন শেষ কথা নয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জাল-জালিয়াতিও। এর সঙ্গে বড় ন্যাক্কারজনক ঘটনা হলো- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কয়েকটি পদের কর্মকর্তারা সিন্ডিকেট তথা ঠিকাদারদের অঙুলি সঙ্কেতে উঠ-বস করেন।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে- স্বাস্থ্য খাতে সিন্ডিকেটই সব। ওখানে সিন্ডিকেটের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানের কাজ প্রায় হয় না বলেই চলে। অর্থাৎ সিন্ডিকেটের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামেই তৈরি হয় চাহিদাপত্র। আমদানি হয় যন্ত্রপাতি। কিংবা হয় কেনা। আর টেন্ডার কারসাঁজির কথা যেন বলাই বাহুল্য।

বিল আটকে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় : করোনাভাইরাসের সময়ে নানা পণ্যে অনিয়মের কারণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিল আটকে দিয়েছে বলেই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.