জুন ২২, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

আড়াই মাস পরই শেষ হচ্ছে খালেদার জামিন

বাংলাদেশে সরকারের আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিরোধীদল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি পান।

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং চ্যারিটেবল ট্রাস্ট সর্ম্পকিত দু’টি দুর্নীতির মামলায় ১৭ বছরের সাজা নিয়ে খালেদা জিয়া কারাভোগ করছিলেন। তাঁর এই সাজা ছয় মাস স্থগিত থাকছে। যা গণনা শুরু হয়েছে মার্চ থেকে। এক্ষেত্রে মাত্র আড়াই মাস পর সেপ্টেম্বরেই শেষ হচ্ছে খালেদা জিয়ার জামিন। আর বর্তমান করোনাভাইরাসের পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া কেমন আছেন তা নিয়ে অবশ্য দলটি থেকে তেমন কিছু জানা যাচ্ছে না। কারণ দলটি থেকেই কোনোকিছু জানানো হচ্ছে না। একইসঙ্গে বাধ্যবাধকতার কারণে সামনে আসতে পারছেন না খালেদা জিয়া।

জানা গেছে- বাংলাদেশে সরকারের আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিরোধীদল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি পান।

সারাবিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারিতে বাংলাদেশেও যখন উদ্বেগ আতংক রয়েছে, তখন ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে তাঁকে মুক্তি দেওয়া নিয়েও নানা আলোচনাও হয়।

করোনাভাইরাস নিয়ে দেশের পরিস্থিতি এবং এই মুক্তির মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি নেতাদের অনেকে।

তবে সরকার বলছে, খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে শর্তসাপেক্ষে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের অনেকে বলেছেন, আন্দোলন বা বিএনপির কোনও কৃতিত্ব ছাড়াই সরকার সদয় হয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়েছে। তাঁরা বলছেন, তাঁকে মুক্তি দেওয়ার জন্যে সরকার এই সময়টাকে সুবিধাজনক বলে মনে করেছে।

রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে যখন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অনেকে অবাক হয়েছেন। আওয়ামী লীগের অনেক নেতার কাছেও এটি আকস্মিক বিষয় ছিল।

তবে কিছু ঘটনার যোগসূত্র মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন অনেকে।

খালেদা জিয়ার ভাই এবং বোনসহ পরিবারের তিনজন সদস্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পরদিনই বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা সংবাদ সম্মেলন করে এখন করোনাভাইরাসের দুর্যোগ পরিস্থিতিতে মিসেস জিয়ার স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় তাঁর মুক্তি চেয়েছিলেন।

এর একদিন পরই সরকারের পক্ষ থেকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়।

খালেদা জিয়া জেলে থাকার দুই বছরেরও বেশি সময়ে তাঁর মুক্তির জন্য বিএনপি বড় কোনও আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে নি। আইনগত পথেও সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিনের আবেদন নাকচ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শেষ পর্যন্ত তার ভাই শামীম ইসকান্দার পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে নির্বাহী আদেশে মুক্তি চেয়ে আবেদন করেছিলেন গত ১০ই মার্চ।

খালেদা জিয়ার মুক্তির পর তাঁর বোন সেলিমা ইসলাম বলেছেন, তাঁদের আবেদনের পাশাপাশি করোনাভাইরাস পরিস্থিতি তার মুক্তির বিষয়টি তরান্বিত করেছে বলে তারা মনে করেন।

“আমরা খুশি। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। আর ওঁর শরীরিক অবস্থা এতই খারাপ যে এখন বাসায় থেকেই চিকিৎসা চলবে।”

তিনি আরও বলেছেন, “সরকার হয়তো মনে করেছে, বয়স্ক মহিলা এবং এই সময়ে তার হাসপাতালে থাকা ঠিক হবে না। কারণ হাসপাতালে এখন ভাইরাস সমস্যা হয়। যদি কোনও কিছু হয়, তখন দায়িত্ব তো ওনাদের নিতে হবে। এটাও একটা কারণ হতে পারে।”

আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি নেত্রীর মুক্তির ব্যাপারে তার ভাইবোনরা সরকারের সাথে যোগাযোগ রেখেছিলেন। এখন শর্ত সাপেক্ষে সরকার সদয় হয়ে মুক্তি দেয়ায় বিএনপির জন্য এটি ‘বড় দূর্বলতা’ হিসাবে চিহ্নিত হবে এবং এটি সরকারকে রাজনৈতিক ‘সুবিধা’ দেবে।।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মিসেস জিয়ার পরিবারের তাগিদ এবং সরকারের সদয় হওয়ার বিষয়কেই তুলে ধরেছেন।

“বেগম খালেদা জিয়ার ভাই একটা আবেদন দিয়েছিলেন। এরমধ্যে ইনসিডেন্টালি করোনাভাইরাস সারা বিশ্বে ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি বা করোনাভাইরাস বিবেচনা করে মতামত দেয়া হয় নাই। প্রথমত বয়স, দ্বিতীয়ত মানবিক কারণ এবং সরকার সদয় হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী সাজা ৬মাস স্থগিত করে মুক্তি দেয়া হয়েছে,” বলেন তিনি।

Facebook Comments Box

Call Now ButtonContact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share