১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমু

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের দায়িত্ব পেয়েছেন দলটির প্রবীণ নেতা ও উপদেষ্টা আমির হোসেন আমু।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বুধবার (৮ জুলাই) তাঁর বসায় এক সংবাদ সম্মেলনে ১৪ দলের সমন্বয়ক এবং মুখপাত্র হিসেবে আমুর নাম ঘোষণা করেন।

দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাজেদা চৌধুরী এতদিন ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন। আর মুখপাত্রের দায়িত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা মোহাম্মদ নাসিম।

কাদের বলেন, “১৪ দলের শরিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দের সম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দলের প্রবীণ নেতা ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুকে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের দায়িত্ব দিয়েছেন ।

“আমির হোসেন আমু তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে ১৪ দলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনে যথাযথ ভূমিকা পালন করবেন বলে নেত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।”

ষাটের দশকের ছাত্রলীগ নেতা আমির হোসেন আমু ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বরিশাল থেকে প্রাদশিক পরিষদের সদস্য হয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর চার বার এমপি হওয়া এই আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমানে ঝালকাঠি-২ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় আমু ছিলেন বরিশাল, খুলনা, পটুয়াখালী, যশোর ও ফরিদপুর জেলার মুজিব বাহিনীর প্রধান। ১৯৭৮-১৯৮৬ সালে তিনি যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে তাকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য করে নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আমু। আওয়ামী লীগের ২০০৯-১৪ মেয়াদের সরকারের একেবারে শেষ দিকে দপ্তর পুনর্বণ্টেনে তাকে ভূমি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১৪ সালের নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করলে আমির হোসেন আমুকে দেওয়া হয় শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ২০০৪ সালের নভেম্বরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ১৪ দলীয় জোটের যাত্রা শুরু হয়। আওয়ামী লীগ ১৪ দলকে বর্ণনা করে তাদের আদর্শিক জোট হিসেবে।

শুরুতে এই জোটের সমন্বয়ক ছিলেন আব্দুল জলিল। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ১৪ দলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পান দলটির প্রবীণ নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। তবে বার্ধ্যকজনিত কারণে প্রায়ই অসুস্থ থাকায় তিনি সক্রিয় ছিলেন না। মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের মাধ্যমেই ১৪ দলের কার্যক্রমের সমন্বয় হচ্ছিল।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মোহাম্মদ নাসিম গত ১৩ জুন মারা গেলে ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্রের পদটি শূন্য হয়।

বর্তমানে ন্যাপ, জাতীয় পার্টি (জেপি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, গণতন্ত্রী পার্টি, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, বাসদ, গণ আজাদী লীগ, বাংলাদেশ জাসদ (আম্বিয়া) ও কমিউনিস্ট কেন্দ্র এই জোটে আওয়ামী লীগের শরিক।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.