আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক অবস্থার অবনতি

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : একে একে আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেও গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যে খানে’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় বাংলা গান উপহার দেওয়া এ সঙ্গীত শিল্পী ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বোনের বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছেন।

এর মধ্যেই রোববার (৫ জুলাই) ফেইসবুকে এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন।

এন্ড্রু কিশোরের ভগ্নিপতি সাঈদ বাংলা কাগজকে বলেন, রোববার সাড়ে ৪টার দিকে এন্ড্রু কিশোরের ভাগনির সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থার এখন আগের তুলনায় খারাপ হয়েছে। তবে তাঁকে নিয়ে কোনও গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ করেছে তার পরিবার।

এন্ড্রু কিশোরের ভগ্নিপতি একজন ক্যানসারের চিকিৎসক। তাঁর তত্ত্বাবধানে বাসাতেই তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে জানান সাঈদ। স্ত্রী লিপিকাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাঁর দেখভাল করছেন।

গত বছরের ৯ সেপ্টেস্বর শরীরের নানা জটিলতা নিয়ে সিঙ্গাপুর চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন তিনি। সে যাত্রায় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু ও ঘনিষ্টজন জাহাঙ্গীর সাঈদ।

বিজ্ঞাপন

শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার শরীরে ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ার পর থেকেই সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। ছয়টি ধাপে তাকে মোট ২৪টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় সেখানে কয়েক মাস আটকে থাকার পর ১১ জুন রাতে একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আনা হয়েছে তাঁকে। ঢাকায় ফেরার দুইদিন পরই রাজশাহীতে চলে যান তিনি।

প্রথম দফার চিকিৎসা শেষ হলেও চেকআপের জন্য তিন মাস পর পর তাঁকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে যেতে হবে।

তাঁর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে চিকিৎসার জন্য ১০ লাখ টাকা সহায়তা করেছিলেন।

১৯৭৭ সালে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে প্লেব্যাকে যাত্রা শুরু করেন মিষ্টি গায়কীর অধিকারী এন্ড্রু কিশোর।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.