কোণঠাসা জঙ্গিরা, শোকের মাস ঘিরে ব্যাপক তৎপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বর্তমানে বড় কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে জঙ্গিরা। তাদের এ কোণঠাসাকে আরও ‘কঠিন’ করে তুলেছেন দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ফলে জঙ্গিদের নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা যেন কোনোভাবেই আর সফল হচ্ছে না।

জঙ্গিবাদ নিয়ে সংবাদ বিশ্লেষণ করেন, এমন একজন বাংলা কাগজকে বলেন- প্রায় প্রতি বছরই জঙ্গিরা চেষ্টা করে, শোকের মাস আগস্ট এলেই কোনও না কোনও নাশকতার ঘটনা ঘটাতে। কিন্তু আগস্টের শুরুতে পবিত্র ইদুল আজহা উদযাপিত হতে যাওয়ায় শোকের মাসে জঙ্গিরা তেমন কোনও নাশকতার চেষ্টা করবে বলে মনে হয় না। তবুও বিষয়টি নিয়ে জোর তৎপর থাকা উচিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। অবশ্য বর্তমানে তাঁরা (আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) যেমন তৎপর রয়েছেন, এমন তৎপরতা ধরে রাখলেই অনেক কিছু। তবে যদি তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়, তবে সেটাতো আরও অনেক ভালো।

সূত্র জানায়, পহেলা জুলাই ছিল হলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস জঙ্গি হামলার চার বছর। দিনটিকে ঘিরে রাজধানী ও দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফলে জঙ্গিরা চেষ্টা করলেও, তারা কোনও ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা সফল করতে পারে নি। একইসঙ্গে দেশজুড়ে সব সময়ই জঙ্গিবাদের ব্যাপারে বিশেষ তৎপর রয়েছে আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনী। এরই অংশ হিসেবে কয়েকদিন পরপরই গ্রেপ্তার হচ্ছেন জঙ্গিরা।

পাশাপাশি জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটন করতে অন্য বাহিনীর সঙ্গে বিশেষ তৎপর রয়েছেন র‌্যাবের সদস্যরাও। আর কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট তো রয়েছেই। সঙ্গে র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বর্তমানে পুলিশ প্রধানের দায়িত্ব পালন করায় পুলিশ বাহিনীও বেশ তৎপর রয়েছে জঙ্গি নির্মূলে।

সূত্রমতে, করোনার কারণে জঙ্গিদের হাতে এখন আর আগের মতো তেমন কোনও অর্থই নেই। এছাড়া বর্তমান সরকারের নানাক্ষেত্রে জোর নজরদারির কারণে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির হাতেই এখন অর্থ রয়েছে। বিপরীতে বেকায়দায় রয়েছে জঙ্গিরা। কারণ বিভিন্নক্ষেত্রে কাজ পেতে এখন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। বিপরীতে নিরুৎসাহিত করা হয় মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধ শক্তিকে।

সূত্র আরও জানায়, বাবা-মায়ের বখে যাওয়া সন্তানদের মধ্যে কিছু অনিষ্টকারীই দেশে দীক্ষিত হয়েছিল জঙ্গিবাদে। যাতে সেনাবাহিনীর সাবেক কিছু বিপদগামী ও পলাতক সদস্যের মদদ ছিল। কিন্তু এ অবস্থা এখন আর নেই। এক্ষেত্রে দেশে যেমন কঠোর অবস্থা, তেমনি বিদেশের (বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ) অবস্থা তো বলাই বাহুল্য।

বিজ্ঞাপন

সূত্রমতে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জঙ্গিদের খারাপ অবস্থায় থাকার মূল কারণ হচ্ছে তাদের মনোবল ভেঙ্গে যাওয়া। এক্ষেত্রে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস (ইসলামিক স্টেট)-এর ভালো অবস্থানে না থাকাই বড় বলে জানা গেছে। কারণ ইতোমধ্যে দেশ দুটো থেকে তাদের ঘাটি ছেড়ে পালিয়েছে আইএস সদস্যরা।

জানা গেছে- বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ জঙ্গিদের সব ধরনের আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করে দিলেও এর ব্যতিক্রম পাকিস্তান। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান লাদেনকে ‘শহীদ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অবশ্য এতে নিজের দেশেরই সংসদ সদস্যদের তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সৃষ্টি হয়েছে তুমুল ঝড়। ফলে এক রকম বেকাদায়ই পড়তে হয়েছে ইমরান খানকে।

সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশের জঙ্গিদের আন্তর্জাতিক কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে তারা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের ব্যর্থ পরিকল্পনা করেছেন বিভিন্ন সময়ে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার কারণে সেটি আর সম্ভব হয় নি। এক্ষেত্রে আদালত চত্বরে আইএস-এর টুপি মাথায় দিয়ে এক জঙ্গি সদস্য আইএস সদস্য হিসেবে নিজেকে জাহির করার অপচেষ্টা চালালেও সেটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্র ছিল বলেই প্রমাণিত হয়েছে।

জানা গেছে- মহামারি করোনাভাইরাস সবার মধ্যেই এক রকম মৃত্যু ভয় জাগিয়ে তুলেছে। স্বাভাবিকভাবেই এতে আক্রান্ত হয়েছেন দেশ-বিদেশের জঙ্গিরাও। ফলে এখন আত্মঘাতি হামলার শঙ্কা বিশ্বজুড়ে নেই বললেই চলে বলেই মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট এক বিশ্লেষক। তাঁর মতে, এখন জঙ্গিরা নিজেরা অংশ নিয়ে কোনও নাশকতা চালাবে বলে আর মনে হয় না।

সূত্র আরও জানায়- বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে জঙ্গিবাদ হচ্ছে এমন ক্ষুদ্র (সর্বোচ্চ দুই-চারজন মিলে) গোষ্ঠী, যারা অতীতে কোনও না কোনও সময় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল- জামায়াত কিংবা এর অঙ্গসংগঠন- শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তারা আত্মঘাতি হয়ে উঠার সিদ্ধান্ত নেন। এ ধরনের সদস্য এখনও রয়েছে। তবে কওমি মাদ্রাসায় এখন এ ধরনের শ্রেণি নেই। কারণ কওমি মাদ্রাসা থেকে পাস করেও দেশে ভালো বেতনে চাকরি পাচ্ছেন যে কেউ। একইসঙ্গে মসজিদ-মাদ্রাসায় বর্তমান সরকার অনেক অর্থ প্রদান করেছেন। এসব দান-অনুদান এখনও পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্তরের মসজিদ-মাদ্রাসায়। ফলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এখন আর জঙ্গিবাদে দীক্ষিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

সূত্রমতে, দেশের নানা শ্রেণি-পেশা তথা ক্ষুদ্র আয়ের মানুষের পাশে সব সময়ই রয়েছে বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার। এরই অংশ হিসেবে নিম্ন আয়ের সকল মানুষের কাছেই সরকার পৌঁছে দিচ্ছে চাল-ডাল-তেল ও অর্থ। যা চলছে প্রতিনিয়ত। ফলে বাংলাদেশে এখন নিম্ন আয়ের মানুষকেও জঙ্গিবাদে দীক্ষিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে জঙ্গি নির্মূলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন কঠোর অপারেশনও বড় ভূমিকা পালন করেছে। ফলে এখন চাইলেও কোনও মানুষকে জঙ্গিবাদে দীক্ষিত করা সম্ভব নয়। চেষ্টা করেও নয়। ফলে যারা আগে থেকেই জঙ্গিবাদে দীক্ষিত ছিলেন, তাদের কিছু অতীতে নিহত হয়েছেন। কেউবা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। বাদবাকি দু’-একজন এখনও জঙ্গিবাদে দীক্ষিত থাকতে পারেন বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে তাদের সংখ্যাও দিনদিন শূন্যের কোটায় পৌঁছে যাচ্ছে।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.