শনিবার থেকে ওয়ারীর কয়েকটি এলাকায় লকডাউন

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে রাজধানীর মতিঝিলের ওয়ারীর কয়েকটি এলাকা শনিবার (৪ জুলাই) থেকে লকডাউন ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ঘোষিত এলাকাগুলো ২৫ জুলাই পর্যন্ত লকডাউনের আওতাধীন থাকবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন ওয়ারীর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের এই ৮টি এলাকার মধ্যে বাইরের রোডগুলো হলো টিপু সুলতান রোড, জাহাঙ্গীর রোড, ঢাকা–সিলেট হাইওয়ের জয়কালী মন্দির থেকে বলধা গার্ডেন এবং ভেতরের রোডগুলো হলো লারমিনি স্ট্রিট, হরী স্ট্রিট, ওয়্যার স্ট্রিট, র‍্যাংকিং স্ট্রিট ও নবাব স্ট্রিট।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে কোভিড ১৯ নিয়ন্ত্রণে জোনিং সিস্টেম বাস্তবায়ন বিষয়ক কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব তথ্য তুলে ধরেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস।

সভা শেষে ডিএসসির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস সাংবাদিকদের বলেন, আগামী শনিবার ভোর ছয়টা থেকে লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে। এসব এলাকা ২১ দিন লকডাউন থাকবে।

তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় কেবলমাত্র দুটি সড়কে যাতায়াত থাকবে। বাকি সড়কগুলোর মুখগুলো আমরা বন্ধ করে দেব। সেখানে একটি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। নমুনা সংগ্রহ করার জন্য বুথ স্থাপন করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

তাপস বলেন, লকডাউন এলাকায় বুথের মাধ্যমে স্থানীয়দের করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে বাসিন্দাদের কাছে নিত্যপণ্য সরবরাহ থাকবে। ওষুধ ছাড়া সকল দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, বর্তমানে আমরা ৪৬ জনকে শনাক্ত করেছি। তবে আশঙ্কা করছি এর সংখ্যা আরও অনেক বেশি এবং দ্রুত বিস্তার করতে পারে। বিষয়টি মাথায় রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় সমাজকর্মীদের নিয়েও আমরা সেবা দিয়ে যাবো।

এদিকে পরীক্ষামূলকভাবে চলা পূর্ব রাজাবাজারে ২১ দিনের লকডাউন মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে শেষ হচ্ছে। এরপর এলাকাটিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে চলা হবে। আর কোনও বাড়িতে যদি করোনা রোগী থাকে, তাহলে কেবল সেই বাড়িটি আরও কিছুদিন লকডাউন করা হতে পারে বলে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান জানান।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পহেলা জুন সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক সভায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিবেচনায় দেশের বিভিন্ন এলাকাকে রেড জোন বা লাল (উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ), হলুদ (মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ) ও সবুজ (নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ) এলাকায় ভাগ করে ভিন্নমাত্রায় এলাকাভিত্তিক লকডাউন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ৯ জুন রাত অর্থাৎ ১০ জুন প্রথম প্রহর থেকে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে পরীক্ষামূলকভাবে লকডাউন শুরু হয়েছিল।

মঙ্গলবারের সভায় উপস্থিত ছিলেন- ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তা, পুলিশ কমিশনারের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, স্বশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরেরা।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.