সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

মন্তব্য প্রতিবেদন : লঞ্চ দুর্ঘটনায় ৩০ জন মারা গেলেই আমরা শোকাহত হই, করোনায় ৪৫ জন মারা গেলেও নয়

বাংলা কাগজ লোগো।

হ্যাঁ, আমাদের এখন যা করতে হবে, তা হলো- করোনা বলে কোথাও কিছু নেই; সেটি ভেবেই আমাদের সাধারণভাবে জীবনযাপন করতে হবে। তবে গ্রহণ করতে হবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। এতেই আমরা মুক্ত থাকব। মুক্ত থাকবে আমাদের জীবন। ক্লান্তি (রোগ-শোক) থেকে ভ্রান্তি থেকে। এজন‌্য আমাদের শুধু প্রয়োজন মানসিক শক্তি। না, আর কিছুই নয়।

গেল বছরের অক্টোবর থেকেই চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় দেশটির তেমন কিছু করার ছিল না বলেই প্রতীয়মান হয়। যদিও অনেক মাধ্যমে অনেক কথাই এসেছে। কেউ কেউ বলেছেন, চীনের পরীক্ষাগার থেকেই কোভিড-১৯ ভাইরাস ছড়িয়েছে। কেউবা আবার বলেছেন, চীন ইচ্ছে করেই করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে। কিন্তু বিষয় আসলে সে রকম কি-না, সেটি নিয়ে তর্ক থাকতেই পারে। তবে সাধারণভাবে মনে হয়, করোনাভাইরাসের ব্যাপারে খোদ চীনেরই এখন পর্যন্ত কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। আবার পাছে নিজের ‘বদনাম’ হয়, সেজন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গণমাধ্যমকে নিজের দেশে নিষিদ্ধও করেছিল দেশটি। অর্থাৎ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও অন্যান্য তথ্যাদি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক, সেটি চায় নি চীন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখে দেশটি।

যাক সেসব কথা, দেশের কথায় আসি। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ১৮ মার্চ। আর সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত এর আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে মারা গেছেন আরও ৪৫ জন। এ নিয়ে শুধু করোনাভাইরাসেই আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল এক হাজার ৭৮৩ জনে।

২৯ জুন দেশে আরও একটি ঘটনা ঘটেছে। যেখানে লঞ্চ ডুবিতে মারা গেছেন ৩০ জন। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

তাহলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু কি কাম্য। না কোনোটিই কাম্য নয়। আসলে কেহই যেমন মারা যেতে চায় না, তেমনি প্রিয়জন হারানোর বেদনা আমাদের দুঃখ দিয়ে যায় দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ। এ বেদনা ভোলার নয়।

সবই তো বুঝা গেল, এখন আমাদের কী করা উচিত?

আসলে আমরা সবকিছুই জানি এবং বুঝি। তবে এ বোঝার ভেতরে আমাদের আরও একটি বিষয় ঝালিয়ে নেওয়া উচিত, যেটি হলো- আমাদের মন আমাদের শরীরকে অনেক অ-নে-কখানি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যেটি বিভিন্ন চিকিৎসাবিজ্ঞানেও প্রমাণিত। আর মেডিটেশনের কথা তো বলাই বাহুল‌্য।

একটি বিষয় ভাবলে সত্যিই কষ্ট লাগে- যেটি হলো দেশজুড়ে প্রতিদিন কতগুলো মানুষ মারা যাচ্ছেন। সেখানে আমাদের মনে হচ্ছে, তেমন কিছুই করার নেই। কিন্তু লঞ্চ বা যে কোনও দুর্ঘটনায়ই যখন কোনও মানুষ মারা যান, তখন আমরা অনেক কষ্ট পাই।

আসলে আসল কথা হলো- করোনায় মারা গেলে কি আমরা কষ্ট পাই না? কষ্ট পাই। আসলে এ কষ্টের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভয়। কারণ নিজেরাই আক্রান্ত হতে পারি, এমন ভয় তাড়া করে সারাক্ষণ। সেখানে অন্যের প্রতি সহানুভূতি বা সহমর্মিতা আমাদের ভুলে যাওয়াটা তেমন অস্বাভাবিক কিছুই নয়। তবে মানুষকে, প্রিয়জনকে ভুলে যাওয়া যায় না; উচিত নয়।

বিজ্ঞাপন

আসল কথা হলো- যে কোনও একটি অজানা কিছু এসে আমাদের ক্ষতি করে দিয়ে যাবে, আর আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকব (না পারার অর্থে), সেটি হতে পারে না।

আমাদের বুঝিয়ে দিতে হবে, আমরাও পারি। আর এ কারণেই আমাদের সব কাজ স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে নিতে হবে। করোনা বা অন্য কোনও অজানা রোগকে আমাদের পরোয়া করা চলবে না। তাহলেই আমরা ভালো থাকব। না হয় মরার আগেই মরে যাব। আর মানুষের তো মরতে কোনও কারণ লাগতো না (বড় কোনও রোগ বা অন‌্যকিছুর অর্থে), এখনও লাগে না। কারণ এখনও মানুষ হৃদরোগ বা অন‌্যভাবে মারা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ঘটছে দুর্ঘটনার মতো ঘটনা। যা আর হতে দেওয়া যায় না।

বর্তমানের পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আমরা অনেক সমস্যা থেকে উত্তরণের সূত্র পাই। যেমন ধরি, বিশ্বে বর্তমানে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে করোনাভাইরাসে। অথচ আমাদের কিছুই করার থাকছে না। কারণ করোনাভাইরাস প্রতিকারে এখনও কোনও ওষুধ আবিষ্কৃত হয় নি। তাহলে আমাদের কী করা?

হ্যাঁ, আমাদের এখন যা করতে হবে, তা হলো- করোনা বলে কোথাও কিছু নেই; সেটি ভেবেই আমাদের সাধারণভাবে জীবনযাপন করতে হবে। তবে গ্রহণ করতে হবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। এতেই আমরা মুক্ত থাকব। মুক্ত থাকবে আমাদের জীবন। ক্লান্তি (রোগ-শোক) থেকে ভ্রান্তি থেকে। এজন‌্য আমাদের শুধু প্রয়োজন মানসিক শক্তি। না, আর কিছুই নয়।

Facebook Comments Box

Contact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share