আগস্ট ৩, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

বর্ষণ ও ঢলে তিস্তা-ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার উপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা নদীর পানি- বাংলা কাগজ।

বর্ষণ ও ঢলে তিস্তা-ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার উপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

বাংলা কাগজ সংবাদদাতা, নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম : নীলফামারীতে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল বলে জানায় নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল ৬টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও শুক্রবার ভোররাতের পর থেকে তা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। গত ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৪০ মিলিলিটার। টানা দুই দিনের বৃষ্টির ফলে তিস্তাসহ জেলার সকল নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লোকালয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে আমন ধানের বীজতলার পাশাপাশি বাদামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার কারণে বিভিন্ন পুকুরের মাছ বের হওয়ার ফলে মৎস্য চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তার চরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। উজানের ঢল সামাল দিতে খুলে দেওয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট। তিস্তার বন্যায় বসতঘরে পানি ঢুকছে। চরাঞ্চলে ১০ হাজার পরিবার ইতোমধ্যে পানিবন্দী হয়ে গেছে বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন।

ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা জানান- তিস্তার বন্যায় ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশাচাঁপানী, ঝুনাগাছচাঁপানী, ডাউয়াবাড়ি, গোলমুন্ডা, শৌলমারী, কৈমারীসহ ১০ ইউনিয়নের তিস্তা অববাহিকার ১৫টি চর ও গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ওই সকল এলাকায় বসবাসকারীদের নিরপদে উঁচু স্থানে সরে থাকার জন্য বলা হয়েছে। তিস্তার চরাঞ্চলের বাদাম ক্ষেত ও আমন ধানের বীজতলা হাঁটু থেকে কোমড় পানিতে তলিয়ে রয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার অধিকাংশ নিচু এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যারাজের সবকটি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

ধরলা-ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার উপরে : কুড়িগ্রামে ধরলা-ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী দুটোর অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উজানের পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গত দুইদিন ধরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ওই দুই নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুই নদীর অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কৃষি জমিসহ চরাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়ি-ঘরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

বিপৎসীমার উপরে ধরলা নদীর পানি

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর ১২টায় ধরলার পানি ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সেতু পয়েন্টে বিপদ সীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও চিলমারী পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৫-৬ দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে জেলায় মাঝারি আকারে বন্যা হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সদর উপজেলার ধরলা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলসহ ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার যাত্রাপুর, ভোগডাঙ্গা ও ঘোগাদহ ইউনিয়ন এবং নাগেশ্বরী, উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার বেশ কিছু ইউনিয়নে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার বাংলা কাগজকে বলেন, ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়ে তার ইউনিয়নের পোড়ার চর, ঝুনকার চর এবং চর কালির আলগার প্রায় শতাধিক বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় দুর্গতদের ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

উলিপুরের বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বাংলা কাগজকে বলেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মশালের চরসহ ৬ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কিছু ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। তবে তীব্র নদী ভাঙনের ফলে মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ওই ইউনিয়নে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

বেড়েছে নদীর পানি : পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, আগামী কয়েকদিন পানি অব্যাহত বৃদ্ধি থাকলে জেলার সদর উপজেলাসহ নাগেশ্বরী, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার বেশ কিছু অঞ্চলে মাঝারি আকারে বন্যা দেখা দিতে পারে।

জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম জানান, সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার প্রশাসনের তরফ থেকে যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box

Call Now ButtonContact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share