আগস্ট ৩, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

বিভ্রান্ত করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর!

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লোগো।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একদিন সকাল ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের তথ্য প্রকাশ করে থাকে। এ কারণে বেলা ১১টা কিংবা সর্বোচ্চ ১২টার মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করা কোনও ব্যাপার নয়। এতে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ওইদিনের তথ্য প্রচার করতে পারে। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর স্বাস্থ্য বুলেটিনে অনলাইনে যুক্ত হয় প্রতিদিন বেলা আড়াইটায়। এতে বিটিভির দুইটার সংবাদে পুরোনো তথ্যই যাচ্ছে। আবার বিটিভির দুইটার সংবাদ দেশের সব চ্যানেলে প্রচার করা হয়। সুতরাং দেশ-বিদেশে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত তথ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ একই চ্যানেল যখন নিজের সংবাদ প্রচার করছে, তখন দিচ্ছে এক ধরনের তথ্য। আবার যখন বিটিভির দুইটার সংবাদ প্রচার করছে তখন যাচ্ছে ভিন্ন ধরনের পুরোনো তথ্য। আবার এ বিভ্রান্তির আগুনে ঘি হয়ে দেখা দিয়েছে- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য বুলেটিনের শেষাংশে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তথ্য। কারণ এই অংশে আরও একদিনের আগের তথ্য উপস্থাপন করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ফলে শুধু বিভ্রান্তি আর বিভ্রান্তি। বিভ্রান্তি আর ভ্রান্তি যেন পিছু ছাড়ছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : জনসাধারণকে চরম বিভ্রান্ত করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরই অংশ হিসেবে তথ্য উপস্থাপনে যেমন ‘উদাসীনতা’র পরিচয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তেমনি ব্যানার নিয়েও চলছে হ-য-ব-র-ল কাণ্ড। একে তো বানান ভুল, তার ওপর নানা সময়ে ঘষামাজা করা ব্যানারও ব্যবহার করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যার প্রমাণ বাংলা কাগজের হাতে রয়েছে।

পাশাপাশি ভুল তথ্য উপস্থপেনের সঙ্গে সংস্থাটি নতুন করে যোগ করেছে পুরোনো তথ্য উপস্থাপনের প্রক্রিয়াও।

জানা গেছে, বর্তমানের এ স্বাস্থ্য বুলেটিন আগে গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করতো আইইডিসিআর (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান)। তারও আগে অর্থাৎ করোনাভাইরাস নিয়ে দেশে সর্বপ্রথম সংবাদ সম্মেলন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে করোনাভাইরাস নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হলেও সেটি ছিল বেশ জনাকীর্ণ।

গত ২৮ জানুয়ারি করোনাভাইরাস নিয়ে অনুষ্ঠিত দেশের প্রথম সংবাদ সম্মেলন- ফাইল ফটো।
গত ২৮ জানুয়ারি করোনাভাইরাস নিয়ে অনুষ্ঠিত দেশের প্রথম সংবাদ সম্মেলন- ফাইল ফটো।

পরে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন শুরু করে আইইডিসিআর। সংস্থাটির পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে থাকেন। সেখানে প্রথমে সাংবাদিকদের সম্মুখে সংবাদ সম্মেলন করা হলেও পরে ২৩ মার্চ থেকে শুরু হয় অনলাইনে সংবাদ সম্মেলন। এর আগে ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এবং প্রথম মৃত‌্যুর ঘটনা ঘটে গত ১৮ মার্চ।

আইইডিসিআরের সংবাদ সম্মেলনের ব‌্যানারে কোনও তারিখ উল্লেখ না থাকার কারণে একটি ব‌্যানারের মাধ‌্যমেই সংবাদ সম্মেলনগুলো চলছিল।

আইইডিসিআরের সংবাদ সম্মেলন- ফাইল ফটো।

পরে পহেলা এপ্রিল হঠাৎ করেই আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আর ব্রিফিং করবে না আইইডিসিআর।

ওই সময় থেকে সংবাদ সম্মেলন শুরু করে স্বাস্থ‌্য অধিদপ্তর। যেখানে প্রথমে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ রাখা হলেও সেটি পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে স্বাস্থ‌্য অধিদপ্তর ব‌্যবহার করা শুরু করে নতুন নতুন ব‌্যানার। অর্থাৎ প্রতিদিন একটি করে ব‌্যানার এনে সংবাদ সম্মেলন করতে থাকে স্বাস্থ‌্য অধিদপ্তর। কারণ ব‌্যানারগুলোতে প্রতিদিনের তারিখ উল্লেখ থাকতো। সঙ্গত কারণেই একদিনের ব‌্যানার অপরদিন ছিল ব‌্যবহার অযোগ‌্য। উল্লেখ করা যেতে পারে, সরকারি কাজে ব‌্যবহৃত ব‌্যানারে ঘষামাজা করা অনুচিত। কিন্তু ওই কাজটিও করেছে স্বাস্থ‌্য অধিদপ্তর।

অনলাইনে প্রেস ব্রিফিংয়ে তারিখ উল্লেখসাপেক্ষে প্রতিদিন একটি করে ব্যানার ব্যবহার করতো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত পহেলা মে’র স্বাস্থ্য বুলেটিন- ফেসবুক থেকে নেওয়া ছবি।

পরে অবশ‌্য একটি সাধারণ ব‌্যানার ব‌্যবহার শুরু করে স্বাস্থ‌্য অধিদপ্তর। যেখানে বানানও ঠিক ছিল, ছিল না কোনও ঘষামাজাও।

‘সাধারণ’ ব‌্যানারে স্বাস্থ‌্য অধিদপ্তরের প্রেস ব্রিফিং- ফাইল ফটো।

কিন্তু পরে শুরু হয় বিপত্তি। কারণ সাধারণ ব‌্যানার ব‌্যবহার শুরুর পর আবারও ঘষামাজা করা ব‌্যানার ব‌্যবহার শুরু করে স্বাস্থ‌্য অধিদপ্তর।

বিজ্ঞাপন
১৩ জুন স্বাস্থ‌্য অধিদপ্তরের ‘স্বাস্থ‌্য বুলেটিন’- এ ব‌্যবহার করা হয় ঘষামাজা করা ব‌্যানার।

পরে অবশ‌্য ঘষামাজা অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটে অধিদপ্তরের। কিন্তু বিপত্তি শুরু হয় অন‌্যখানে। অর্থাৎ ভুলে ভরা বানানের ব‌্যানার ব‌্যবহার শুরু করে স্বাস্থ‌্য অধিদপ্তর। যা এখনও চলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভুল ও পুরোনো তথ‌্য উপস্থাপন। তার ওপর মাঝখানে স্বাস্থ‌্যমন্ত্রী এক ধরনের তথ‌্য প্রদানের পর স্বাস্থ‌্য অধিদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয় ভিন্ন তথ‌্য।

ভুলে ভরা ব‌্যানার নিয়ে স্বাস্থ‌্য অধিদপ্তরের অনলাইন ব্রিফিং (সংবাদ সম্মেলন)। ছবিটি ২৩ জুন, ২০২০ খ্রিস্টাব্দে অধিদপ্তরের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া। ছবির ব‌্যানারে ‘কল‌্যাণ’ বানানে লেখা রয়েছে ‘কল‌্যান’ এবং ‘মন্ত্রণালয়’ বানানে লেখা রয়েছে ‘মন্ত্রনালয়’।

অবশ‌্য ২৪ জুনের সংবাদ সম্মেলনে দেখা গেছে, ঘষামাজার মাধ‌্যমে মন্ত্রণালয় বানান ঠিক করার চেষ্টা করেছে অধিদপ্তর। কিন্তু ভুল বানানের কল‌্যাণ (কল‌্যান) রয়ে গেছে আগের অবস্থায়ই।

ঘষামাজার মাধ‌্যমে মন্ত্রণালয় বানান ঠিক করার ‘চেষ্টা’ করেছে স্বাস্থ‌্য অধিদপ্তর- ছবি ফেসবুকের সৌজন‌্যে।

ছোট্ট সোনামণিদের ভুল বানান শেখানোর সঙ্গে বিপত্তি আরও আছে স্বাস্থ‌্য অধিদপ্তরের। খোদ তথ‌্যই উপস্থাপন করা হচ্ছে ভুলভাবে। এরই অংশ হিসেবে ২৪ জুনের স্বাস্থ‌্য বুলেটিনে একবার বলা হয়, নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭ হাজার ২৪৫টি। আবার বলা হয়, নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৬ হাজার ৪৩৩টি।

২৪ জুনের স্বাস্থ‌্য বুলেটিনের লিঙ্ক https://web.facebook.com/dghsbd/videos/1635743826584920/

আরেকটি বিষয় হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একদিন সকাল ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের তথ্য প্রকাশ করে থাকে। এ কারণে বেলা ১১টা কিংবা সর্বোচ্চ ১২টার মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করা কোনও ব্যাপার নয়। এতে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ওইদিনের তথ্য প্রচার করতে পারে। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর স্বাস্থ্য বুলেটিনে অনলাইনে যুক্ত হয় প্রতিদিন বেলা আড়াইটায়। এতে বিটিভির দুইটার সংবাদে পুরোনো তথ্যই যাচ্ছে। আবার বিটিভির দুইটার সংবাদ দেশের সব চ্যানেলে প্রচার করা হয়। সুতরাং দেশ-বিদেশে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত তথ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ একই চ্যানেল যখন নিজের সংবাদ প্রচার করছে, তখন দিচ্ছে এক ধরনের তথ্য। আবার যখন বিটিভির দুইটার সংবাদ প্রচার করছে তখন যাচ্ছে ভিন্ন ধরনের পুরোনো তথ্য। আবার এ বিভ্রান্তির আগুনে ঘি হয়ে দেখা দিয়েছে- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য বুলেটিনের শেষাংশে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তথ্য। কারণ এই অংশে আরও একদিনের আগের তথ্য উপস্থাপন করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ফলে শুধু বিভ্রান্তি আর বিভ্রান্তি। বিভ্রান্তি আর ভ্রান্তি যেন পিছু ছাড়ছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।

Facebook Comments Box

Call Now ButtonContact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share