করোনা রোগী বললেন, ‘আমি মরে যাচ্ছি’, পরে পালিয়ে আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বললেন, আমি মরে যাচ্ছি। পরে পালিয়ে করলেন আত্মহত্যা। ঘটনাটি ঘটেছে আদাবর থানাধীন এলাকায়। আর মৃত ব্যক্তি ভর্তি ছিলেন মুগদা জেনারেল হাসপাতালে।

বিষয়টি নিয়ে বাংলা কাগজকে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সেলিম হোসেন জানান, আমরা সিসিটিভির ফুটেজ দেখে বুঝতে পারলাম, আব্দুল মান্নান (আত্মহত্যাকারী ব্যক্তি) পেছনের গেট দিয়ে বাসায় ঢুকতে চেয়েছিল। কিন্তু পারে নি। পরে সে আত্মহত্যা করে।

জানা গেছে, আব্দুল মান্নান খন্দকার (৪১) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শুক্রবার (১৯ জুন) তাঁর শরীরের অবস্থার অবনতি হয়, শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরে তিনি তাঁর স্ত্রী মমতা খাতুনকে (৩০) ফোন করে বলেন, ‘আমি আজ মরে যাচ্ছিলাম। আমি বাসায় যাব।’ তখন স্ত্রী বললেন, ‘আস।’ এরপর থেকে মান্নানের মুঠোফোনটি বন্ধ।

রাত ১০টার পর থেকে মমতা খাতুন তাঁর স্বামীকে ফোনে না পেয়ে ভাই মুসা আজাদীকে (২৮) ঘটনা জানান। ঘটনা শুনে মুসা ভোরে ছুটে যান মুগদা হাসপাতালে। হাসপাতালে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর বোন জামাই ‘কাউকে কিছু না বলে রাত ১২টার দিকে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছেন।’

বিজ্ঞাপন

শনিবার দুপুরে মুসা আজাদী বাংলা কাগজকে জানান, গত ১৩ জুন মান্নানের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। ১৫ জুন করোনায় আক্রান্ত মান্নান খন্দকার মুগদা হাসপাতালে ভর্তি হন। শুক্রবার মুসার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি কাউকে কিছু না বলে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছেন। ভোরে মান্নানকে আর হাসপাতালে পাওয়া যায় নি। পরে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন মুসা আজাদী।

শনিবার (২০ জুন) সকালে রাজধানীর আদাবরের ১৭/১৮ হোসেন হাউজিংয়ের সেন সেশন অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তারক্ষীরা আদাবর থানায় ফোন করে জানান, আদাবরের সেন সেশন অ্যাপার্টমেন্টের পেছনের কাঁঠাল গাছে গলায় ফাঁসি দিয়ে একজন ঝুলে আছেন। খবর পেয়ে সকাল ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মোমিন লাশটি উদ্ধার করেন।

এসআই আব্দুল মোমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, লাশের পাশে একটি ফোন পড়ে আছে। ফোনটির শেষ ডায়ালে থাকা নম্বরটিতে ফোন করেন মোমিন। ফোনটি রিসিভ করেন আব্দুল মান্নান খন্দকারের স্ত্রী মমতা খাতুন। মমতা স্বামীর ফোনটি ধরেই বলেন, ‘তুমি বাসার নিচে এসেছ? আমি আসব?’ তারপর এসআই আব্দুল মোমিন তাঁকে ঘটনা জানান। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর ঘটনা জেনেও বের হতে পারেন নি মমতা। কারণ তিনি, তাঁর ছেলে মৌবিন (৪) ও মেয়ে মিমি (১২) করোনায় আক্রান্ত! তাদের ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হয় নি। পরে মুসা আজাদীকে ঘটনাটি জানান তাঁর বোন মমতা খাতুন। মুসা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান দুলাভাইয়ের লাশ।

শনিবার দুপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থাকা মুসা আজাদী এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমার দুলাভাইকে ১৫ জুন মুগদা মেডিকেলে ভর্তি করিয়েছিলাম। শুক্রবার তাঁর শ্বাসকষ্ট বাড়ে। শরীর অন্য দিনের চেয়েও খারাপ হয়। তারপর আমার বোনকে ফোন করে বলেন, ‘আমি আজ মরে যাচ্ছিলাম। আমি বাসায় যাব।’ এরপর আমার আপা বলেন, ‘আস।’ তার পরই ফোনটি কেটে দেন দুলাভাই। ভোরে হাসপাতালে এসে শুনলাম রাত ১২টার দিকে দুলাভাই পালিয়েছেন। পরে আজ সকালে আপা আমাকে বললেন, মান্নান গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছেন। পরে আমি ঘটনাস্থলে যাই। হয়তো অতিরিক্ত শরীর খারাপ হওয়াতে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।”

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.