করোনাকালেও রিজার্ভে তৃপ্তির ঢেকুর

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : চলছে মহামারি। বিশ্ব যেন মরছে ধুঁকে ধুঁকে। অর্থাৎ বিশ্বের প্রায় সবগুলো দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। ঠিক এমন সময়ে বাংলাদেশের জন্য এলো সুখকর এক সংবাদ। যে সংবাদে উঠছে তৃপ্তির ঢেকুর। আর এতে মূল ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে রিজার্ভ।

দেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গেল এপ্রিল শেষে বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৩২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার। পরের মাস অর্থাৎ মে শেষে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৩ দশমিক ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

তবে এই ৩৩ বিলিয়নের ঘর আগেই অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এর সঙ্গে নতুন অর্জন ৩৪ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ। যা অর্জিত হয়েছে চলতি জুনে।

জানা গেছে, আমদানি ব্যয় কমার সঙ্গে বিদেশি ঋণ ও বৈদিশিক সহায়তা বৃদ্ধিই রিজার্ভ বাড়তে বড় নিয়ামকের ভূমিকা পালন করেছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গেল মে মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন ১৫০ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। এর আগের মাসে (এপ্রিল) এসেছে ১০৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তবে বিশ্বজুড়ে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় আলোচিত এ দুই মাসের রেমিট্যান্সও তুলনামূলক কম ছিল। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ে (এপ্রিল ও মে) এসেছিল এর চেয়ে আরও ৫৯ কোটি ডলার বেশি (রেমিট্যান্স)।

জানা গেছে- রিজার্ভ বৃদ্ধির মূল দুটো উৎস- রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়। তবে করোনার কারণে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় কমার সঙ্গে তুলনামূলক কম ছিল আমদানি ব্যয়ও। সুতরাং ব্যালেন্স অব পেমেন্টে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ।

উল্লেখ করা যেতে পারে, যে কোনও দেশের রিজার্ভ মূলত ওই দেশের আপৎকালীন সময়ে আমদানি ব্যয় মেটাতে ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে অন্তত তিনমাসের আমদানি ব্যয় রিজার্ভ হিসেবে সঞ্চিত রাখে যে কোনও দেশ। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের রিজার্ভের মাধ্যমে অন্তত ছয় থেকে সাত মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.