রেড জোনে রাজধানীর ৪৫ এলাকা, দেওয়া হতে পারে লকডাউন

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : করোনাভাইরাস সংক্রমণের আধিক্যের কারণে রাজধানীর ৪৫ এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে এ সংক্রান্ত গঠিত জাতীয় কমিটি।

একইসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১১ এলাকাসহ দেশের আরও তিন জেলার বিভিন্ন এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

‘রেড জোন’ এলাকার মানে হচ্ছে, এখানে জনসংখ্যার অনুপাতে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা বেশি।

চিহ্নিত এলাকায় কবে থেকে লডডাউন শুরু হবে, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, ‘খুব তাড়াতাড়ি’ এসব এলাকায় লকডাউন দেওয়া হবে।

করোনাভাইরাসের বিস্তার দুই মাসের বেশি সময় সারাদেশে লকডাউন জারি রাখার পর ৩১ মে থেকে বেশিরভাগ বিধিনিষেধ তুলে নেয় সরকার।

তবে এরপর প্রতিদিন সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এলাকা ধরে ধরে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার অনুযায়ী লাল, সবুজ ও হলুদ জোনে ভাগ করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর ভিত্তিতে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজার পরীক্ষামূলকভাবে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

এরপর করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির শনিবারের সভায় ‘রেড জোন’গুলো চিহ্নিত করে। এই সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি এলাকা চিহ্নিতের কাজটি করে।

বিজ্ঞাপন

রেড জোনে ঢাকা দক্ষিণের যেসব এলাকা : যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মুগদা, গেন্ডারিয়া, ধানমন্ডি, জিগাতলা, লালবাগ, আজিমপুর, বাসাবো, শান্তিনগর, পল্টন, কলাবাগান, রমনা, সূত্রাপুর, মালিবাগ, কোতোয়ালি, টিকাটুলি, মিটফোর্ড, শাহজাহানপুর, মতিঝিল, ওয়ারী, খিলগাঁও, পরীবাগ, কদমতলী, সিদ্ধেশ্বরী, লক্ষ্মীবাজার, এলিফ্যান্ট রোড ও সেগুনবাগিচা।

ঢাকা উত্তরের যেসব এলাকা : বসুন্ধরা, গুলশান, বাড্ডা, ঢাকা সেনানিবাস, মহাখালী, তেজগাঁও, রামপুরা, আফতাবনগর, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, মগবাজার, এয়ারপোর্ট, বনশ্রী, রায়েরবাজার, রাজাবাজার, উত্তরা, মিরপুর।

চট্টগ্রামের যেসব এলাকা : চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড (আংশিক), পতেঙ্গার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড, পাহাড়তলির ১০ নম্বর ওয়ার্ড, কোতোয়ালীর ১৬, ২০, ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড, খুলশীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ড, হালিশহর এলাকার ২৬ নম্বর ওয়ার্ড।

আরও তিন জেলার যেসব উপজেলা : নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ সদর এবং পুরো সিটি করপোরেশন এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গাজীপুরের সব উপজেলা ‘রেড জোন’র আওতায় পড়েছে। নরসিংদীর সদর মডেল থানা, মাধবদী ও পলাশ এলাকা পড়েছে ‘রেড জোন’র মধ্যে। ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রামের যেসব এলাকায় প্রতি এক লাখ জনসংখ্যার মধ্যে গত ১৪ দিনে ৬০ জন আক্রান্ত হয়েছে, সেসব এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে এই অনুপাত লাখে ১০।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৪৫টি ‘রেড জোন’র মধ্যে দক্ষিণে ২৮টি এবং উত্তরে ১৭টি এলাকা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার রয়েছে ১১টি এলাকা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে শনিবারের সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে- জেলার জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন এবং পুলিশ সুপার মিলে এসব জোনের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে লাল এলাকা চিহ্নিত করবেন।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক রোববার বাংলা কাগজকে জানান, তাঁরা প্রস্তুতি শেষ করেছেন, এলাকাগুলো চিহ্নিত করেছেন। লক্ডাউন বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করছে তা কবে থেকে হবে।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.