মারা গেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ; রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ মারা গেছেন। শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব খন্দকার ইয়াসির আরেফীন জানিয়েছেন। তিনি বাংলা কাগজকে বলেন, হার্ট অ্যাটাক করে প্রতিমন্ত্রী মারা গেছেন।

৭৪ বছর বয়সী শেখ আবদুল্লাহ টেকনোক্র্যাট কোটায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে বেইলি রোডের বাসায় প্রতিমন্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সিএমএইচে নেওয়া হয় বলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক সেনানিবাসের জাহাঙ্গীর গেইটে সাংবাদিকদের বলেন, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে সিএমএইচে নেওয়ার পথে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রতিমন্ত্রীর করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী উনার ব্যাপারেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বাংলা কাগজকে বলেন, প্রতিমন্ত্রীর জানাজা ও দাফনের বিষয়ে রোববার (১৪ জুন) সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহ গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।

গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গীপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদীয় প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের সময় আবদুল্লাহকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করেন শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

শেখ আব্দুল্লাহর জন্ম ১৯৪৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার কেকানিয়া গ্রামে। চার ভাই, তিন বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

স্থানীয় গওহরডাঙ্গা হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে কোরআনে হেফজের মাধ্যমে শিক্ষা জীবন শুরু করেন তিনি। এরপর একই মাদ্রাসার কওমী ধারায় পড়াশোনা করেন।

১৯৬১ সালে মেট্রিক, ১৯৬৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯৬৬ সালে বি কম (অনার্স) ডিগ্রি নেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে এম কম এবং ১৯৭৪ সালে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৭ সালে ঢাকা সেন্ট্রাল ‘ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রিও নেন শেখ আবদুল্লাহ।

শিক্ষা জীবন শেষে সুলতানশাহী কেকানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও আইনজীবী হিসেবে গোপালগঞ্জ জজ কোর্ট ও ঢাকা জজ কোর্টে প্র্যাকটিস করেন।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে ছাত্রজীবনেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন আবদুল্লাহ। খুলনার আযম খান কমার্স কলেজ ছাত্র সংসদের প্রথম নির্বাচিত এই ভিপি ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

যুব লীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির নেতৃত্বে তিনি আওয়ামী যুব লীগে যোগ দেন। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী যুব লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিরও দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এরপর কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া এই রাজনীতিক ১৯৭১ সালে মুজিব বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও রাজনীতিতে ঝুঁকে পড়েন শেখ আবদুল্লাহ। দীর্ঘদিন গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ আওয়ামী লীগের বিগত কেন্দ্রীয় কমিটিতে ধর্ম বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক : প্রতিমন্ত্রীর মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, শেখ মো. আবদুল্লাহর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাট ক্ষতি। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন পরীক্ষিত রাজনৈতিক নেতাকে হারাল।

শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি আমৃত্যু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.