Category: ৯৯৯

৯৯৯-এ কল করার মাধ্যমে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সংক্রান্ত সেবা পাওয়া যায়।

যে কোনও সময় ও বাংলাদেশের যে কোনও জায়গা থেকেই এ সেবা পাওয়া যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ১২.১২.২০১৭ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’র উদ্বোধন করেন।

৯৯৯ সেবার ওয়েব ঠিকানা : https://www.999.gov.bd/

ধন্যবাদ সবাইকে।

অপহরণের নাটক : মুচলেকা দিয়ে রক্ষা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; রাসেল কবির মুরাদ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : কলাপাড়ায় অপহরণের নাটক করে অবশেষে থানা থেকে মুচলেকা দিয়ে রক্ষা পেলো নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোস্তফা কামাল ও জয়নাল আবেদীন নামের এক ব্যক্তি।

পুলিশ আত্মগোপনকারিকে উদ্ধার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে সাজানো ও মিথ্যা অপহরণের নাটক।

পুলিশ সূত্র জানা গেছে, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামের অধিবাসি জয়নালকে (২৫) ‘অপহরণ’ করে লালুয়া ইউনিয়নের অধিবাসি রুজেলসহ তার সহযোগিরা।

এ বিষয়ে মোস্তফা কামাল জয়নালের স্ত্রী সোনিয়া বেগমকে দিয়ে ৩০ মার্চ দুপুরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ দিলে কলাপাড়া থানা পুলিশ জয়নালকে পটুয়াখালীর দুমকি থেকে ৩১ মার্চ উদ্ধার করে।

এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের থানায় নিয়ে এলে ঘটনা প্রসঙ্গে প্রমাণিত হয় মোস্তফা কামাল এবং জয়নাল পরিকল্পিতভাবে অপহরণের নাটক সাজিয়েছে রুজেলকে হয়রানি করার উদ্দেশে। তাঁদের সঙ্গে টাকা-পয়সা লেনদেনের সম্পর্ক ছিলো রুজেলের।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আসাদুর রহমান ও উপ-পরিদর্শক সুকন্ঠ দে বাংলা কাগজকে বলেন জানান, এ ঘটনায় কলাপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

‘বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার পর থানা পুলিশ মোস্তফা কামাল এবং জয়নালের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়ার পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।’

ধর্মের নামে নাশকতা : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষকে সংগঠিত হতে বললেন আইজিপি

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘ধর্মের নামে নাশকতা চলছে’ উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে স্থানীয়দেরকে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ।

হেফাজতে ইসলামের সাম্প্রতিক সহিংসতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থান বৃহস্পতিবার (পহেলা এপ্রিল) পরিদর্শন করে প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন পুলিশ প্রধান।

স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তির অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জেলায় সরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক তাণ্ডব চালায় কওমি মাদরাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সমর্থকেরা।

গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ এই ৩ দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়।

পুলিশের মহাপরিদর্শক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের সাথে ১৮ কোটি মানুষ আছে, আপনাদের সাথে আইন আছে। যে রক্তের হোলিখেলা এখানে হয়েছে, তা বরদাস্ত করবেন না আপনারা। সেজন্য সকলকে সংগঠিত হতে হবে।’

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘এই শহরে ৩ লাখ মানুষের বসবাস। এই এলাকায় ৫৭৪টি মাদ্রাসা আপনারা তৈরি করেছেন। এখানে ১ লাখ ৩ হাজারের মতো শিক্ষার্থি আছে। প্রতি বছর এখানে টাকা দিচ্ছেন আপনারা।’

‘দীনের খেদমতের জন্য আপনারা মাদরাসা বানিয়েছেন, আপনারাই বারবার মার খাচ্ছেন। আপনাদের সম্পদই নষ্ট হচ্ছে। ভূমি অফিস জ্বালিয়ে দিয়েছে। রেকর্ড অফিস জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুইশ-আড়াইশ বছরের রেকর্ড পুড়ে গেছে।’

‘এতে জমি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা হবে, সুবিধাবাদিরা দখল করবে আর গ্রামের সাধারণ মানুষ নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হবে।’

‘এতে কার ক্ষতি হবে? গ্রামের নিরিহ মানুষের ক্ষতি হবে। গত দুই দিনে যে ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের ভূমি অফিসে যে ক্ষতি হয়েছে, তা ৫০ বছরেও সেই রেকর্ড ব্যবস্থা ঠিক হবে কিনা আমি জানি না।’

‘হাটহাজারিতেও রেকর্ড একত্র করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে হাটহাজারি অঞ্চলের মানুষকে ৫০ বছরের জন্য শাস্তি ভোগ করতে হবে। কাকে আপনারা এই কালেকটিভ পানিশমেন্ট দিচ্ছেন?’

‘এমন কোনও বছর নেই যে, তাণ্ডব দেখে নি চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লোক। তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করছে। ক্ষোভটা কোথায়?’

কারও কাছে হেফাজতের তাণ্ডবের ছবি, ভিডিও বা কোনও তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়ার আহ্বান জানান পুলিশের মহাপরিদর্শক।

পুলিশ মাঠে : ঠেকাবে করোনার সংক্রমণ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : চলমান করোনাকালে মানুষকে সচেতন করতে আবারও মাঠে নেমেছেন পুলিশ সদস্যরা।

এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক পড়ার বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ এবং স্বাস্থ্যবিধির বিষয়গুলোও তুলে ধরা হচ্ছে।

রোববার (২১ মার্চ) দেশজুড়ে এই বিশেষ উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

‘মাস্ক পরার অভ্যেস, করোনামুক্ত বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই কর্মসূচি শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত এ বাহিনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ২১ মার্চ থেকে করোনাভাইরাস রোধে পুলিশের দেশব্যাপি বিশেষ উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি শুরু হবে।

‘এ কর্মসূচির আওতায় মাঠপর্যায়ে জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনুপ্রেরণা ও উদ্বুদ্ধ করবে পুলিশ।’

‘আপাতত বাধ্য নয়, স্বাস্থ্যবিধি মানতে মাঠপর্যায়ে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে পুলিশের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

অর্থনৈতিক ও জীবনধারা স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এমন পরিকল্পনা নেওয়া কথা জানান আইজিপি।

সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি বলেন, ‘ঘর থেকে বের হলেই মাস্ক পরবেন। কখনোই মাস্ক নিয়ে আসতে ভুলবেন না। আমরা যেহেতু গ্লোবাল ভিলেজে বসবাস করি। তাই সংক্রমণমুক্ত হলেও সংক্রমণের হুমকি থেকে যায়। যতোদিন পর্যন্ত সারাবিশ্ব করোনা ঝুঁকি মুক্ত না হয়, ততোদিন আমাদের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে।

‘নিজের, নিজের সন্তানের, পরিবারের জন্য এবং বয়স্ক নাগরিকদের চিন্তা করে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানায়, আইজিপির নির্দেশনা অনুযায়ি ইতোমধ্যে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ শুরু করেছে ডিএমপি।

রাজধানিতে পুলিশ সদস্যরা জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি বিনামূল্যে মাস্কও বিতরণ করবেন।

করোনা মোকাবিলায় ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলামের নির্দেশে সম্প্রতি রাজারবাগ এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে ৪ হাজার মাস্ক বিতরণ করেন উপ-কমিশনার (ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স) মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁঞা।

করোনার দ্বিতীয় ধাপ মোকাবিলায় দেশব্যাপি পুলিশের উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে- করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের নির্দেশিকা (এসওপি) বিতরণ; পুলিশের লোগো সম্বলিত ফ্রি মাস্ক বিতরণ; করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ; সচেতনতামূলক মাইকিং, লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ; সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রাখা; করোনায় মৃত্যুবরণকারীদের দাফন; পুলিশের অব্যবহৃত স্থাপনা আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রূপান্তর।

এ ছাড়া বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের ইমিগ্রেশন পুলিশের মাধ্যমে শনাক্তকরণ ও কোয়ারেন্টাইনে প্রেরণ; জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’র মাধ্যমে করোনা সংক্রান্ত আগত কলের সাড়াদান; পুলিশ হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব স্থাপন করে কোভিড পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রদান; পুলিশ হাসপাতালে পুলিশ ব্যতীত অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের চিকিৎসাসেবা প্রদান।

পুলিশের যোগসাজশ! : ৯৯৯ এ ফোন করার পরও হামলার শিকার!

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; কুষ্টিয়া : জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পর কুষ্টিয়ায় এক ব্যক্তি সন্ত্রাসি হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার (১২ মার্চ) কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদাহ এলাকায় এই হামলা হয় বলে আসাদুল হক নামের এই ব্যক্তির অভিযোগ।

আসাদুল হক জানান, এই ঘটনায় তিনি শনিবার (১৩ মার্চ) কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

আসাদুল জুনিয়াদাহ এলাকার ফয়জুল্লাপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে।

অভিযোগে স্থানীয় কুচিয়ামোড়া পুলিশ ক্যাম্পের আইসি এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন এবং আলমগীর, মামুন, মিলন, শাকিল, রুবেল, আসমান, রাবিকসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এদের সবাই ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর এবং পাশের দৌলতপুর উপজেলার বাসিন্দা।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার খায়রুল আলম বলেন, ‘আসাদুল হক নামের এক ব্যক্তির অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক ভেড়ামারা থানাকে নির্দেশ দিয়েছি মামলা করতে। ওটা মামলা হয়ে গেছে।’

তবে এক্ষেত্রে পুলিশের কোনও অবহেলা ছিল কিনা সেটাও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এসপি জানান।

অভিযোগে বলা হয়, গত শুক্রবার (১২ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে জুনিয়াদাহ এলাকায় আসাদুলের বাড়ির পাশে পদ্মা নদীতে হঠাৎ গোলাগুলির শব্দ হয়। এতে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ‘স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পে সাহায্য চেয়ে না পাওয়ায়’ পরে জাতীয় জরুরি সেবা সার্ভিস ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে বিষয়টি অবহিত করেন আসাদুল।

এরপর সেখান থেকে তার সঙ্গে ভেড়ামারা থানার ডিউটি অফিসারের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয় বলে আসাদুল অভিযোগে উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগে আরও বলেন, ভেড়ামারা থানার ডিউটি অফিসার তাঁর (আসাদুলের) নাম ও মোবাইল নম্বর তৎক্ষণাৎ কুচিয়ামোড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জাহাঙ্গীরকে দেন।

‘আমার নম্বরে কল দেওয়ার আগেই কোনোভাবে ওই পুলিশ অফিসার সন্ত্রাসীদের সতর্ক করে দেন এবং আমার নাম-পরিচয় তাদের কাছে বলে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে বলেন।’

‘‘পরে আমার নম্বরে দারোগা জাহাঙ্গীর কল দিয়ে হুমকির সুরে বলেন- ‘তুই ফাজলামি করিস, আমি খবর নিয়ে দেখেছি এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটে নি’। এ কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।”

অভিযোগে তিনি আরও বলেন, ‘এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থলের পাশে আমাকে রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। আশপাশের কৃষকরা ছুটে এসে লাঠি দিয়ে তাদের মারধর শুরু করলে তারা পালিয়ে যায়।’

পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান বলে জানান।

যৌতুকের জন্য নির্যাতন : গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টা : ৯৯৯ এ রক্ষা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; জিহাদ হক্কানী, গাইবান্ধা : গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ব্লেড দিয়ে হাত কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ফউজিয়া আকতার রিয়া (২০) নামের এক গৃহবধূ। যৌতুকের দাবিতে আটক রেখে স্বামী ও শশুর বাড়ির লোকজনের নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

পরে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ এ কল করলে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন।

বর্তমানে ফউজিয়া আকতার সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালে ভর্তির পর ফউজিয়ার কেটে যাওয়া হাত সেলাই করাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক মিনা আকতার।

বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো আছে।

শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের নলডাঙ্গা গ্রামের শশুর সিরাজুল ইসলামের বাড়ি থেকে ওই গৃহবধুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগে একইদিন সকালে সুন্দরগঞ্জের শাহবাজ গ্রামের বাবার বাড়ি থেকে শশুর বাড়িতে যায় ফউজিয়া আকতার। কিন্তু বাড়িতে ঢুকতে না দিয়ে একটি ঘরে আটক রেখে তাঁকে মারধর ও নির্যাতন শুরু করে শ্বশুর পরিবারের লোকজন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফউজিয়া আকতার বাংলা কাগজকে জানান, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য স্বামী আরিফুল ইসলাম ও তার বাবা-মাসহ পরিবারের লোকজন মারধরসহ নির্যাতন করতেন।

শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাবার বাড়ি থেকে ফুপু, বড় আম্মা ও চাচিকে সঙ্গে নিয়ে শশুর বাড়িতে গেলে তাদের ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয় নি।

স্বামী আরিফুল বাড়ি না থাকায় শাশুড়ি ফজিলা বেগম তাকে একটি ঘরে আটকে রেখে শ্বশুরকে খবর দেয়।

পরে শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম ও তাঁর শাশুড়ি তাঁকে বেদম মারধর করে।

ফউজিয়া আকতারের মামা আব্দুর রাজ্জাকের অভিযোগ, গত বছরের ৬ মার্চ পারিবারিকভাবে আরিফুল ইসলামের সঙ্গে ফউজিয়া আকতারের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকে যৌতুক দাবি করে আসছিলো ফউজিয়া আকতারের স্বামী আরিফুল ইসলাম।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনসিসির স্বেচ্ছাসেবা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; আবদুল আউয়াল, ঠাকুরগাঁও : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ে রোববার (২৪ জানুয়ারি) করোনাভাইরাস ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রচারপত্র ও মাস্ক বিতরণ করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)।

এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনসিসির মহাস্থান রেজিমেন্টের ব্যবস্থাপনায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

কুচকাওয়াজ শেষে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম।

এ সময় বিএনসিসি ঢাকা রমনা রেজিমেন্টের মেজর সোমেন কান্তি বড়ুয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এটিএম আব্দুল্লাহ, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ বি এম আব্দুল মজিদ, বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিযূষ কান্ত রায়, বিএনসিসি জেলা সমন্বয়ক আশরাফ আলী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, ‘দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালে সেবা প্রদানের জন্য প্রস্তুত থাকা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও সশস্ত্র বাহিনীর সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করা এবং সরকার অর্পিত অন্য যে কোনও দায়িত্ব পালন করা বিএনসিসির দায়িত্ব।’

‘সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবে এই স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।’

পরে সেখান থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

শোভাযাত্রা চলাকালে পথচারিদের মাঝে সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিলি করা হয়।

নিরাপদ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে করণীয় : গ্যাস সিলিন্ডার অন বা চুলা জ্বালানোর আগে দরজা/জানালা খুলুন; আগে ম্যাচের কাঠি জ্বালান, তারপর চুলা জ্বালান; রান্নাশেষে প্রথমে চুলা বন্ধ করুন, তারপর সিলিন্ডারের সংযোগ বন্ধ করুন; সোজা/খাড়াভাবে সিলিন্ডার সংরক্ষণ করুন; বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে সিলিন্ডার সংরক্ষণ করুন; সিলিন্ডারের ভাল্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেগুলেটর ব্যবহার করুন; গ্যাসের গন্ধ পেলে লাইট ফ্যানসহ যাবতীয় ইলেকট্রিক সামগ্রী ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

তথ্যবিবরণী : নিরাপদ গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহারবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এলপিজি সিলিন্ডারের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কিত সতর্কতা অবলম্বনের জন্য বিস্ফোরক পরিদপ্তর, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সর্বসাধারণের প্রতি এসব আহ্বান জানিয়েছে।

৯৯৯ সংক্রান্ত গল্প নিয়ে ম ম মোর্শেদের নাটক ‘মেয়েটা’

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; রহিম রেজা, ঝালকাঠি : এক জনপ্রিয় অভিনেত্রী (নায়িকা) অভিনয় ছেড়ে গ্রামে নিজের তৈরী বাড়ীতে বসবাস শুরু করেন।

এর পর গ্রামের কিছু মানুষের ভালোবাসা, আগ্রহ, সহযোগতিা ও সম্পর্ক ইত্যাদি শত্রু হয়ে ধরা দেয় তাঁর জীবনে।

নাটক ‘মেয়েটা’র শুটিং- বাংলা কাগজ।

একাধিক মানুষের ভালোবাসাপ্রসূত যন্ত্রনা লাঘবে এগিয়ে আসে ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে পুলিশ।

এমনই এক ব্যতিক্রমি গল্প নিয়ে জনপ্রিয় অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক ম ম মোর্শেদের নাটক ‘মেয়েটা’র শুটিং সম্পন্ন হয়েছে।

এতে ম ম মোর্শেদ ছাড়াও অভিনয় করেছেন- হাসিমুন নেছা, নীলাঞ্জনা নিলা, আশরাফুল চঞ্চল, রজনীগন্ধা রফিক, রানা, আবীর, বৃত্ত মারিয়া, অপর্ণা ঘোষ ও যুবক।

নাটকটি প্রযোজনা করেছেন মিঠু খন্দকার।

পরিচালনার সঙ্গে রচনাও করেছেন ম ম মোর্শেদ।

সম্প্রতি কালিগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের বিরতুল ও উলুখোলা গ্রামে দুইদিন শুটিং হয়েছে এ নাটকটির।

বর্তমানে এ নাটকের সম্পাদনা চলছে বলে বাংলা কাগজকে জানিয়েছেন ম ম মোর্শেদ। তিনি বলেন, ‘‘অভিনয়শিল্প ও নারীর প্রতি আমাদের সমাজের চিরাচরিত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা যাবে এই নাটকে। নাটক ‘মেয়টা’তে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন অপর্ণা ঘোষ।’’

‘এক্ষেত্রে অর্পণাকে পরিণত বয়সে ও বৃত্ত মারিয়া রোজারিওকে দেখা যাবে শিশুকালে।’

জানা গেলো- নাটকটিতে ম ম মোর্শেদ নিজেও একটি লিড চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

পুলিশের উপপরিদর্শক (সাব ইন্সপেক্টর) ফরিদ মিয়াসহ উলুখোলা ফারির পুলিশ সদস্যদের একটি টিম নিরাপত্তা দেওয়াসহ নাটকে অভিনয় করে সহায়তা করেছেন বলে জানা গেলো।

এ ছাড়া নাগরী ইউনিয়ন পরিষদ, বিরতুল গ্রাম এবং ওই গ্রামে অবস্থিত স্টার মডেল একাডেমির পরিচালক দিলীপ কুমার সাহা ও পশু চিকিৎসক আমিনুল সুমনের বাড়িতে নাটকটির শুটিং হয়েছে।

নাটকটি খুব সহসাই টেলিভিশন চ্যানেলে দেখা যাবে বলেই জানালেন ম ম মোর্শেদ।

এ বিষয়ক : আলী যাকের সমাহিত বনানী কবরস্থানে

ভ্যাকসিনের ৩ কোটি ডোজ বিনামূল্যে ও ৯৯৯ নীতিমালার খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের ৩ কোটি ডোজ কিনবে বাংলাদেশ। প্রথম দফায় এসব টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নীতিমালা অনুযায়ী জনগণকে বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সোমবার (৩০ নভেম্বর) এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে অনলাইনে সভায় অংশ নিয়ে এতে সভাপতিত্ব করেন।

সভায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নীতিমালা-২০২০ এর খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ড. খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘অক্সফোর্ডের তৈরি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের জন্য ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশের বেক্সিমকো ফার্মা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে অক্সফোর্ডের ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে সিরাম ইনস্টিটিউট।’

তিনি বলেন, ‘গত ১৪ অক্টোবর কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য অক্সফোর্ডের তৈরি ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত ভ্যাকসিন বাংলাদেশ সরকারের কাছে ৩ কোটি ডোজ বিক্রির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। গত ৫ নভেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সঙ্গে সিরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর পর ১৬ নভেম্বর অর্থ বিভাগ ভ্যাকসিন কেনার জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে ৭৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ভ্যাকসিন কেনার জন্য অর্থনৈতিক ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে প্রস্তাব পাঠাবে। এ প্রস্তাব চলে এসেছে।’

ভ্যাকসিন কারা পাবে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটা গাইডলাইন আছে। প্রথম কারা পাবে, দ্বিতীয় ধাপে কারা পাবে সে অনুযায়ী তারা (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়) একটা প্রোগ্রাম ডেভেলপ করছে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার, পুলিশ, প্রশাসনের লোক যারা মাঠে চাকরি করতেছে, তারপর বয়স্ক লোক, বাচ্চা- এ রকম একটা প্রটোকল আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষকে এই ভ্যাকসিন বিনা পয়সায় দেওয়া হবে। টাকা সরকার পে করে দিচ্ছে। তিন কোটি ভ্যাকসিন ফ্রি দেওয়া হবে।’

ভ্যাকসিন বিতরণ নিয়ে কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

সরকার কত টাকায় ভ্যাকসিন কিনছে- জানতে চাইলে খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, ‘ক্রয়ের চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না।’

অন্যান্য ভ্যাকসিনের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আরও অনেকগুলো ভ্যাকসিনের বিষয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে যোগাযোগ রাখছে। এখনই বলা যাচ্ছে না কোনটা বেশি ইফেকটিভ হবে। আমাদের এক নম্বর কন্ডিশন হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল মানতে হবে।’

৯৯৯ নীতিমালার খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন : মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আরও জানান, ৯৯৯ এর জন্য পুলিশের আলাদা ইউনিট গঠন করা হবে। সেটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সচিব জানান, ‘ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এই ইউনিটের দায়িত্বে থাকবেন। তথ্য দেওয়ার নামে প্রতারণা করলে দণ্ড বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তির বিধান থাকবে। এটা দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।’

এ বিষয়ক : মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত : মাস্ক নেই তো, সেবা নেই