Category: সড়ক, নৌ, রেল ও বিমান যোগাযোগ

মেট্রোরেলের কোচগুলো ডিপোতে নেওয়া শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ঢাকায় চালানোর জন্য মেট্রোরেলের এক সেট ট্রেনের কোচ ডিপোতে নেওয়া শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সকালে। সকাল আটটার দিকে ক্রেন দিয়ে কোচ লরিতে তোলার কাজ শুরু হয়। একটি কোচ ইতিমধ্যে লরিতে ওঠানো হয়েছে। এটি দিয়াবাড়ির ডিপোতে নিয়ে যাওয়া হবে।

দিনভর একই লরিতে করে মোট চারটি কোচ ডিপোতে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। সম্ভব না হলে অন্তত ৩টি কোচ নেওয়ার কথা রয়েছে।

আর জেটিতে অবস্থানরত বাকি দুটি কোচ নামিয়ে শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) সকালে ডিপোতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বুধবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে দুটি বার্জ দিয়ে এক সেট ট্রেনের মোট ৬টি কোচ ঢাকায় এসেছে। বিকেল পাঁচটার দিকে ট্রেনবাহী প্রথম বার্জটি মোংলা বন্দর থেকে ঢাকার উত্তরায় মেট্রোরেলের ডিপোর কাছে নদীর জেটিতে ভেড়ে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে আরেকটি বার্জ জেটিতে আসে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) অধীনে ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্প (লাইন-৬) বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাপান থেকে ট্রেনের কোচের পাশাপাশি তা বার্জ থেকে নামানোর যন্ত্রও আনা হয়েছে। বুধবারই (২১ এপ্রিল) এসব যন্ত্র খালাস করা হয়।

মেট্রোরেলের কোচগুলো তৈরি হয়েছে জাপানে। এরপর বড় জাহাজে ভরে জাপানের কোবে বন্দর থেকে গত ৪ মার্চ যাত্রা শুরু করে।

বাংলাদেশের মোংলা বন্দরে পৌঁছায় ৩১ মার্চ। এরপর শুল্ক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঢাকার পথে বার্জে যাত্রা করে। কোচগুলো পৃথক পৃথক আচ্ছাদন দিয়ে মুড়িয়ে আনা হয়েছে।

ডিএমটিসিএল সূত্র বলছে, কোচগুলো ডিপোতে এনে আচ্ছাদন খোলা হবে। এরপর সেখানে প্রতিটি কোচের ১৯ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে লাইনে তোলা হবে। এ কাজে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। এ কাজের জন্য ইতালি থেকে একধরনের যন্ত্র আনা হয়েছে।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব এম এ এন সিদ্দিক বাংলাকাগজকে বলেন, কোচগুলো লাইনে তোলার পর একটা অনুষ্ঠান করা হবে। এতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও জাপানের প্রতিনিধিরা থাকবেন। এরপর পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হবে। এজন্য ডিপো থেকে পল্লবী পর্যন্ত মেট্রোরেলের লাইন, সংকেতব্যবস্থা ও স্টেশন অবকাঠামো প্রস্তুত করা হচ্ছে।

প্রকল্পের নথি অনুসারে, জাপানের কাওয়াসাকি-মিতসুবিশি কনসোর্টিয়ামকে ২৪ সেট ট্রেন নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয় ২০১৭ সালে। দুই পাশে দুটি ইঞ্জিন আর চারটি কোচের সমন্বয়ে ট্রেনের সেটগুলো তৈরি হচ্ছে জাপানে। এরইমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে ৫ সেট ট্রেন, যার প্রথমটি দেশে এসে পৌঁছেছে। দ্বিতীয় সেট জাপান থেকে ১৫ এপ্রিল রওনা হওয়ার কথা। সেটি পৌঁছাতে পারে আগামি ১৬ জুন। আর তৃতীয় সেট ১৩ জুন রওনা দিয়ে ১৩ আগস্ট পৌঁছাতে পারে। বাকি দুটি সেটের আসার সময়সীমা এখনো ঠিক হয় নি।

সবমিলিয়ে ২৪ সেট ট্রেনের দাম পড়ছে ৩ হাজার ২০৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। শুল্ক ও ভ্যাট মিলিয়ে এসব ট্রেন বাংলাদেশে আনার পর মোট খরচ হবে ৪ হাজার ২৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ট্রেনগুলোয় ডিসি ১৫০০ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা থাকবে। স্টেইনলেস স্টিল বডির ট্রেনগুলোয় থাকবে লম্বালম্বি সিট। প্রতিটি ট্রেনে থাকবে দুটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত প্রতিটি বগির দুই পাশে থাকবে চারটি করে দরজা। জাপানি স্ট্যান্ডার্ডের নিরাপত্তাব্যবস্থা-সংবলিত প্রতিটি ট্রেনের যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে ১ হাজার ৭৩৮ জন। ভাড়া পরিশোধের জন্য থাকবে স্মার্ট কার্ড টিকিটিং ব্যবস্থা।

অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : করোনাভাইরাসের কারণে টানা ১৬ দিন পর দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে বুধবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট যশোর ও চট্টগ্রামে গেছে।

এ ছাড়া দিনব্যাপি অন্যান্য এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইট পরিচালনার কথা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সীমিত পরিসরে বুধবার (২১ এপ্রিল) থেকে ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেয়।

অনুমতি পাওয়ার পরপরই ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এবং নভোএয়ার।

তবে কোনও এয়ারলাইন্স কক্সবাজার বা রাজশাহী রুটে ফ্লাইট ঘোষণা করে নি।

গত ৫ এপ্রিল থেকে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের কারণে অভ্যন্তরীণ রুটের সব বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো।

নতুন আবিষ্কার : মার্সিডিজ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : এগিয়ে চলছে দুনিয়া। ‍পৃথিবির অন্য প্রান্তের সঙ্গে পাল্লা না দিলে আমরা অবশ্যই পিছিয়ে পড়বো। আর অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকলে এবং এ ধারা বজায় রাখলে আমরা এগিয়ে যাবো। এটিই নিয়ম। আমাদের নতুন আবিষ্কার মার্সিডিজ।

লিঙ্ক : https://www.linkedin.com/posts/ajjames_mercedes-concept-yes-or-no-its-a-yes-ugcPost-6789012809641410560-9so4

যশোরে আড়াই কোটি টাকার সড়কের কাজের শুরুতেই আধা কিলোমিটারে বালির বদলে মাটি!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; মহসিন মিলন, বেনাপোল : যশোরের মনিরামপুরে ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য একটি পাকা সড়কের কাজে বালির পরিবর্তে মাটি ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছেন উপজেলা নির্বাহি প্রকৌশলী সানাউল হক। পাশাপাশি ইতোমধ্যে ফেলা মাটি না সরিয়ে আর কাজ না করার জন্যও বলা হয়েছে ঠিকাদার শাহিনুর রহমানকে।

জানা গেছে, ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকায় উপজেলার চালুহাটি ইউনিয়নের শয়লা বাজার মোড় থেকে হরিশপুর বাজারের সংযোগ সড়ক হয়ে রসুলপুর পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজ শুরু হয় ১ সপ্তাহের কিছু সময় আগে।

ওই কাজ শুরুর পর রাস্তা খোঁড়ার পর ফেলা হয়েছে বালির বদলে মাটি।

জানা গেছে, ঠিকাদার শাহিনুর রহমান এরইমধ্যে প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কে বালির বদলে মাটি ফেলেছেন।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সড়কে বালির বদলে মাটি ফেলার ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহি প্রকৌশলীর নজরে আসলে তিনি মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করেন।

প্রকৌশলী ঘটনার সত্যতা পেয়ে মাটি সরিয়ে বালি না ফেলে ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে সড়কটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারি প্রকৌশলী গাউসুল আজম বাংলা কাগজকে বলেন, (সড়কটির) ১০ দিন আগে কাজ শুরু হয়েছে। বালির পরিবর্তে মাটি ফেলানোয় ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

নির্বাহি প্রকৌশলীর পর উপ-সহকারি প্রকৌশলীর এমন তথ্য দেওয়ার পর ঠিকাদার শাহিনুর রহমান বাংলা কাগজ’র কাছে দাবি করেন, ৩০০ থেকে ৩৫০ মিটারের মতো সড়কে ‘বালি ফেলা হয়েছে’। বালির সঙ্গে ‘দুই-একটি মাটির চাক’ পড়েছে।

‘বালির পরিবর্তে মাটি ফেলেছি কথাটা ঠিক না। ইঞ্জিনিয়ার অফিস থেকে কোনও চিঠি পাই নি। মৌখিকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা পাইছি। মাটির চাকগুলো সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।’

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নির্মিতব্য সড়কটি যতটুকু অংশে বালির বদলে মাটি ফেলা হয়েছে, এর দৈর্ঘ্য প্রায় আধা কিলোমিটার। কিন্তু এমন অবস্থার পর এবার প্রায় ঠিকাদারের সুরেই কথা বললেন উপজেলা নির্বাহি প্রকৌশলী সানাউল হক।

তিনি বাংলা কাগজের কাছে দাবি করেন, ‘অভিযোগ পেয়ে আমি সরেজমিন গিয়েছি। খোঁড়া রাস্তার ৪০০ থেকে ৫০০ মিটার দূরত্বে মাটি মিশ্রিত বালি ফেলা হয়েছে। সেগুলো না সরানো পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার এখনো অপসারণ কাজ শুরু করেন নি।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী : বুধবার থেকে সিটি করপোরেশন এলাকায় বাস চলবে

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ঢাকাসহ সকল সিটি করপোরেশন এলাকায় সকাল-সন্ধ্যা গণপরিবহন সেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বুধবার (৭ এপ্রিল) থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে নিজের সরকারি বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বুধবার (৭ এপ্রিল) সকাল ৬টা থেকে এটা শুরু হবে। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সকল সিটি করপোরেশন এলাকায় গণপরিবহন সেবা চালু থাকবে।’

নগরকান্দায় ধসে রয়েছে ব্রিজ : বাঁশের ২ সাঁকো করলেন যুবলীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; মিজানুর রহমান, নগরকান্দা (ফরিদপুর) : ফরিদপুরের নগরকান্দায় কুমার নদের উপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটি বালু ভর্তি ট্রাক নিয়ে ভেঙ্গে পড়ায় ফরিদপুর জেলা সদরের সঙ্গে নগরকান্দা সহ ৪/৫টি জেলার সড়ক পথে যানচলাচল বন্ধ হয়ে রয়েছে। আবার নগরকান্দা পৌরসভার সীমানাকে দুইভাগে বিভক্ত করেছে কুমার নদ।

এমন অবস্থায় কুমার নদের ওপর ৩৫ বছর আগে নির্মিত বেইলি এ ব্রিজ গত ২০ মার্চ বালি ভর্তি ট্রাক নিয়ে নদীতে ভেঙে পড়ে।

অথচ এখনও ব্রিজটি সংস্কার না হওয়ায় সাধারণ মানুষ রয়েছেন বিপদে। যদিও তাঁদের বিপদ কিছুটা লাগব হয়েছে নগরকান্দা পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান মিঠুর নির্মিত বাঁশের সাঁকোর কারণে।

কামরুজ্জামান মিঠু বাংলা কাগজকে বলেন, কুমার নদীর বেইলি ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ায় দুই পাড়ের মানুষ নদি পারাপারে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছিলেন। আর তাঁদের কথা চিন্তা করেই দুটি বাঁশের সাঁকে তৈরি করে দিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা জেতী প্রু বাংলা কাগজকে বলেন, ব্রিজের সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে।

‘আশাকরি, কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে।’

শীতলক্ষ্যায় যাত্রিবাহি লঞ্চডুবি : ৫ লাশ উদ্ধার

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ শহরের মদনগঞ্জ ঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে যাত্রিবাহি লঞ্চডুবির ঘটনায় ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা নাহিদা বারি রবিবার (৪ এপ্রিল) রাতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে ‘সাবিত আল আসাদ’ নামের এই লঞ্চ ডুবে যায় বলে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপ-পরিচালক মোবারক হোসেন জানান।

উদ্ধার হওয়া কয়েকজন যাত্রিকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে বলে মুক্তারপুর নৌ স্টেশনের ইনচার্য কবির হোসেন জানান।

আহতদের বরাত দিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘লঞ্চটিতে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রি ছিলো।’

মোবারক হোসেন বলেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া যাহিবাহী লঞ্চ মদনগঞ্জ এলাকায় নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর কাছাকাছি এলাকায় এসকে-৩ নামের একটি কার্গো জাহাজের ধাক্কায় ডুবে যায়।

‘লঞ্চের অনেক যাত্রি সাঁতরে তীরে উঠেছে। কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কিনা, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার করা হলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল ও যাত্রি পরিবহন সংস্থার জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান বাদল বাংলা কাগজকে বলেন, বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ ঘাট থেকে ৪০/৫০ জন যাত্রি নিয়ে লঞ্চটি মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। পথে শীতলক্ষ্যা নদীর নির্মাণাধীন সেতুর কাছাকাছি একটি কার্গো জাহাজ ধাক্কা দিলে লঞ্চটি ডুবে যায়।

ঘটনাস্থলে যাওয়া সদর নৌ পুলিশের এসআই ইউনুস মুন্সী বলেন, লাইটার জাহাজ থেকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে ডুবে যায়। অনেক যাত্রি সাতঁরে তীরে উঠতে পারলেও নিখোঁজ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারি পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বাংলা কাগজকে জানান, ৩ জন ডুবুরি নামানো হয়েছে। প্রবল বাতাসের কারণে উদ্ধার কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে বেশকিছু হতাহত কিংবা নিখোঁজ রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিখোঁজ যাত্রিদের স্বজনেরা মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট এবং এর আশপাশে ভিড় করেছেন।

আত্রাইয়ের বেইলি ব্রিজ এলাকাবাসির জন্য মরণফাঁদ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; রুহুল আমিন, আত্রাই (নওগাঁ) : নওগাঁর আত্রাইয়ে ভাঙা বেইলি ব্রিজ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে।

ব্রিজের একাধিক স্থানে পাতাটন ভেঙে যাওয়ায় ব্রিজটি এখন এলাকাবাসির জন্য এক রকম মরণফাঁদ হয়ে দেখা দিয়েছে।

এক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।

বেইলি ব্রিজের পশ্চিম পাশ দিয়ে নির্মিত সেতু উন্মুক্ত করে দেওয়ার আশায় এটির মেরামতও করছে না কর্তৃপক্ষ।

৮ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আত্রাই উপজেলা। উপজেলার বুক চিড়ে বয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী আত্রাই নদী। নদীর দক্ষিণ পাশে রয়েছে উপজেলা পরিষদ, থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

উত্তর পাশে আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন, উপজেলা সাব-পোস্ট অফিস, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও কলেজ।

উপজেলার বুক চিড়ে আত্রাই নদী প্রবহমান হওয়ায় যুগ যুগ ধরে বিভক্ত হয়েছিলো নদীর দুই তীরের মানুষ। ৯০ এর দশকে বেইলি ব্রিজ স্থাপনের মাধ্যমে বিভক্ত আত্রাইকে একীভূত করা হয়। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসে আমূল পরিবর্তন।

ব্রিজটি হওয়ার পর থেকেই প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন এ ব্রিজ দিয়ে পারপার হয়ে থাকে।

এ ছাড়া পায়ে হেটে পারাপার হন হাজারও পথচারি। ফলে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ।

আত্রাই নতুন বাজারের ব্যবসায়ি আব্দুর রশিদ বাংলা কাগজকে বলেন, আমাদের ব্যবসার মালামাল নওগাঁ থেকে আনতে হয়। এ ব্রিজ ভেঙে গেলে মালামাল আমাদের দোকান পর্যন্ত পৌঁছাতে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হবে।

ভ্যান চালক আব্দুস শুকুর বাংলা কাগজকে বলেন, রাতের বেলায় ব্রিজটিতে কোনও আলোর ব্যবস্থা থাকে না।

‘তাই ভেঙে যাওয়া ব্রিজ দিয়ে লোকজন পারাপার হতে গিয়ে রাতের আঁধারে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। আর আমরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছি।’

এ ব্যাপারে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম বাংলা কাগজকে বলেন, বেইলি ব্রিজটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। দির্ঘদিন থেকে প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে এটি এখন ভাঙা ব্রিজে পরিণত হয়েছে। এটি দ্রুত সংস্কার না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে।

আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, সমগ্র আত্রাই উপজেলার আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিনিয়ত আামাদের এ ব্রিজ দিয়ে পারাপার হতে হয়।

‘বর্তমানে ব্রিজের যে অবস্থা, তাতে যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।’

‘ব্রিজটি ভেঙে গেলে লাখ লাখ জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। সেইসঙ্গে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদেরও অভিযান পরিচালনা বিঘ্নিত হবে। তাই বৃহত্তর স্বার্থে দ্রুত বেইলি ব্রিজের প্রয়োজনীয় সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।’

তাইওয়ানে ৪ দশকের বড় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত অন্তত ৩৬ (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : তাইওয়ানে একটি সুড়ঙ্গের ভেতরে ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে পূর্ব তাইওয়ানে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

গত ৪ দশকের মধ্যে তাইওয়ানে এটাই সবচেয়ে প্রাণঘাতি ট্রেন দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনায় পড়া ট্রেনটি রাজধানি তাইপে থেকে তাইটং যাচ্ছিলো। এ এক্সপ্রেস ট্রেনে সাড়ে তিনশ যাত্রী ছিলেন, যাঁদের একটি বড় অংশ ছিলেন পর্যটক। তা ছাড়া অনেকেই সপ্তাহান্তে বাড়ি ফিরছিলেন। ফলে ট্রেন ছিল যাত্রীতে পূর্ণ।

আসন খালি না থাকায় ট্রেনটির ভেতর অনেকে দাঁড়িয়েও ছিলেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে; দুর্ঘটনা ওই যাত্রিদের ছিটকে ফেলে।

ধারণা করা হচ্ছে, হুয়ালিয়েন শহরের কাছে ওই সুড়ঙ্গে প্রবেশের সময় একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়।

একটি নির্মাণ প্রকল্পের সামগ্রি পরিবহনের ওই ট্রাক ঠিকমত পার্ক করা না থাকায় রাস্তা থেকে পিছলে রেললাইনে উঠে পড়েছিলো।

রয়টার্স জানিয়েছে, সুড়ঙ্গের ভেতরে দুর্ঘটনায় পড়া বগিগুলোতে আরও অন্তত ৭০ জন যাত্রি আটকা পড়ে আছেন।

অন্তত ৪০ জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে আসা ছবিতে দেখা গেছে, লাইনচ্যুত বগিগুলো টানেলের ভেতরে দুমড়ে মুচড়ে আছে। তারমধ্যেই আটকে থাকা যাত্রিদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রেনের প্রথম চারটি বগি থেকে প্রায় একশ যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু পঞ্চম থেকে অষ্টম বগি দুর্ঘটনায় দুমড়ে মুচড়ে গেছে। ফলে সেগুলোতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

‘৪ নম্বর বগি থেকে সবাই বেরিয়েছেন?,’ সুড়ঙ্গের ভেতর এক নারি চিৎকার করে এমনটাই বলছিলেন বলে দমকল বিভাগের সরবরাহ করা ফুটেজে শোনা গেছে।

তাইওয়ানের রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুড়ঙ্গের ভেতর যে বগিগুলো আছে, সেগুলো থেকে লোকজনকে নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা চলছে।

একটি ছবিতে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত পাওয়া আহত এক যাত্রিকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে স্ট্রেচারে করে বের করে আনার দৃশ্য দেখা গেছে। অনেক যাত্রি তাঁদের সুটকেস ও ব্যাগ নিয়ে লাইনচ্যুত, কাত হয়ে পড়া একটি বগির পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, অন্যরা রেললাইনে পড়ে থাকা ধ্বংসস্তূপের জঞ্জালের মধ্য দিয়েই হাঁটছিলেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, অনেক যাত্রি তাঁদের সুটকেস, ব্যাগ ফেলে ট্রেনের ছাদ দিয়ে সুড়ঙ্গের বাইরে বেরিয়ে আসেন, এরপর তাঁরা নিচে নেমে এলে উদ্ধারকারিরা তাঁদের স্বাগত জানায়।

তাইওয়ানে ঐতিহ্যবাহী টম্ব সুইপিং ডে’র দীর্ঘ ছুটির শুরুতে এ ট্রেন দুর্ঘটনাটি ঘটলো।

২০১৮ সালে তাইওয়ানের উত্তর পূর্বাঞ্চলে রেল লাইনচ্যুত হয়ে ১৮ জন নিহত ও ১৭৫ জন আহত হয়েছিলো।

১৯৮১ সালে স্বশাসিত এ দ্বীপে আরেকটি ট্রেন দুর্ঘটনায় ৩০জন নিহত হয়েছিলো।

চান্দিনায় গাড়ি চাপায় মোটরসাইকেল আরোহি নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি চাপায় এক মোটরসাইকেল আরোহি নিহত হয়েছেন।

নিহত ওই ব্যক্তির নাম জাকির হোসেন। ৩৭ বছর বয়সি জাকির হোসেন বৃহস্পতিবার (পহেলা এপ্রিল) বিকেল ৪টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুটুম্বপুর ‘সামিট পাওয়ার’ এলাকায় ওই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।

জাকির কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের আশ্রাফ উদ্দিন মাস্টার বাড়ির মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে কুমিল্লায় যাওয়ার পথে বেপরোয়া গতিতে আসা একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে পেছন দিক থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই মোটরসাইকেল আরোহির।

হাইওয়ে পুলিশের ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) সালেহ্ আহমেদ বাংলা কাগজকে বলেন, কোন গাড়ি ধাক্কা দিয়েছে, সেটি বের করার চেষ্টা করছি। আর ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছি এবং নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।

ঢাকায় বাস সঙ্কটে যাত্রিদের ক্ষোভ, বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গণপরিবহনে যাত্রি সংখ্যা সীমিত করার সিদ্ধান্তের পর রাজধানীতে বাস সঙ্কট ও ভাড়া নিয়ে যাত্রিদের ভোগান্তি ও ক্ষোভ চলছে দ্বিতীয় দিনের মতো। এক্ষেত্রে কিছু কিছু পরিবহনে অর্ধেক যাত্রি না নিয়ে গাদাগাদি করে যাত্রি নিয়েও ভাড়া নেওয়া হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গেটলক করে চলে গেছে বাস, যাত্রিদের কাছে থামার কোনও প্রয়োজনই বোধ করেন নি তাঁরা (বাসের চালক ও হেলপারেরা)।

বৃহস্পতিবার (পহেলা এপ্রিল) সকালে অফিসগামী যাত্রিদের রাস্তায় নেমে ভুগতে হয়েছে আগের দিনের মতই। ঢাকা বিমানবন্দর, মহাখালী, কাকরাইল, শাহবাগ, পল্টন, প্রেসক্লাব ও গুলিস্তান এলাকায় বিপুল সংখ্যক যাত্রিকে দীর্ঘ সময় বাসের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। ক্ষুব্ধ যাত্রিরা সকালে ক্ষিলখেতে রাস্তা আটকে বিক্ষোভও করেছেন।

তাঁদের অভিযোগ সরকারের বিধিনিষেধের সুযোগ নিয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা ‘কৃত্রিম সঙ্কট’ তৈরি করেছে; আদায় করা হচ্ছে ‘দুই থেকে তিনগুণ’ ভাড়া।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করার পর বুধবার থেকে অর্ধেক আসন খালি রেখে গণপরিবহন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়।

রাজধানির বেশির ভাগ রুটে বেসরকারি যে মিনিবাসগুলো চলাচল করে, সেগুলো কমবেশি ৫০ আসনের। সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পর অর্ধেক আসন খালি রেখে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়িয়ে সেগুলোর যাত্রি পরিবহন করার কথা।

অফিস-আদালত, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে বাসে কম যাত্রি পরিবহনের এ নির্দেশনায় বিপাকে পড়েছে রাজধানীবাসি।

অফিসগামি যাত্রিরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাসে উঠতে না পেরে প্রতিবাদ জানাতে সকাল ৯টার দিকে খিলক্ষেতে রাস্তা অবরোধ করলে পুরো বিমানবন্দর সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ জট সৃষ্টি হয়। কুড়িল ফ্লাইওভার-বনানী থেকে উত্তরা পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।

মিজানুর রহমান নামে এক প্রত্যক্ষদর্শি বাংলা কাগজকে বলেন, ‘সকালে অফিস টাইমে লোকজন বাসে উঠতে না পেরে কিছুক্ষণ রাস্তা আটকে রাখে। পরে পুলিশ এসে সবাইকে বাসে উঠিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।’

খিলক্ষেত থানার ওসি মুন্সী ছাব্বীর আহম্মদ জানান, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় বাসগুলো অর্ধেক যাত্রির বেশি তুলছে না। এর ফলে অফিসগামী মানুষরা অনেকেই বাসে উঠতে পারছেন না। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে খিলক্ষেত ওভার ব্রিজের নিচে রাস্তা বন্ধ করে অবস্থান নেন।’

মিরপুর থেকে গুলিস্তানে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা সাইফুল আসলাম জানান, ঘণ্টাখানেক অপেক্ষার পর তিনি বাস পেয়েছেন। ৩০ টাকার ভাড়ার বদলে গুণতে হয়েছে ৭০ টাকা।

‘ভাড়া আরও ১০ টাকা বেশি নিলেও উঠতে হত। আমার মনে হয় একটা কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হয়েছে, যাতে ভাড়া বেশি দিতে হয়।’

একই ধরনের অভিযোগ তেজগাঁও থেকে কাকরাইলে আসা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের। তিনি বলেন, ‘আমরা তেজগাঁও থেকে কাকরাইল মোড়ে যাই ১০ টাকা দিয়ে। আজকে গাজীপুর পরিবহনে এসেছি, সবসময় তারা ১০ টাকা ভাড়া নেয়, আজকে নিয়েছে ৩০ টাকা।’

‘আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে বাস পেয়েছি, সেখানে আবার ভাড়া বেশি। আমার মনে হয় ভাড়া বেশি নিতেই তারা রাস্তায় বাস কম নামিয়েছে।’

গুলিস্তান থেকে সদরঘাটের যাত্রি মোজাহিদ হোসাইন বলেন, ‘বাস ভাড়া ৫ টাকা ছিল। আজকে ১৫ টাকা চাচ্ছে। ভাড়া তো ৫ টাকার জায়গায় হওয়ার কথা ৮ টাকা, কিন্তু তারা নিচ্ছে ১৫ টাকা।’

সকাল ১০টার দিকে খিলগাঁও পুলিশ ফাঁড়ির সামনে দেখা যায় অন্তত ৫০ জন যাত্রি দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু বাসের দেখা নেই।

যাত্রিদের অভিযোগ, অন্যদিন বাসে যাত্রি তোলার জন্য চালকের সহকারীরা ডাকাডাকি করত, এখন পরিস্থিতি পুরো উল্টো।

পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কাশেম বলেন, ‘এক ঘণ্টা ধরে বাসের জন্য অপেক্ষায় আছি, বাস নেই।’

তবে বাসের ‘কৃত্রিম সঙ্কট’ সৃষ্টির অভিযোগ মানতে রাজি নন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ।

তিনি বলেন, ‘সঙ্কট কেনো হবে? বাস যা ছিল তাই রাস্তায় আছে।’

ভাড়া বেশি নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাস ভাড়া বেশি নিলে বিআরটিএ-র ভ্রাম্যমাণ আদালত শাস্তি দেবে।’

স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদাসীনতা : বাসের সঙ্কট আর ভাড়া নিয়ে যাত্রিরা অভিযোগ করলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে তাদের উদাসীনতা দেখা গেছে। বাস চালক বা সহকারীরাও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রিরা মাস্ক ছাড়াই বাসে চড়ছেন। চালক ও সহকারীর মুখের পরিবর্তে থুতনিতে মাস্ক ঝুলতে দেখা গেছে।

বেলা ১১টার দিকে শাহবাগ মোড়ে সাভার পরিবহনের একটি বাসে দেখা যায় বেশিরভাগ যাত্রির মুখে মাস্ক নেই।

মাস্ক-ছাড়া যাত্রি পরিবহন করছেন কেন জানতে চাইলে চালকের সহকারী সজীব বাংলা কাগজকে বলেন, ‘অনেকে মাস্ক মুখে লাগিয়ে ওঠেন, কিন্তু সিটে বসেই মাস্ক খুলে ফেলেন।’

একই বক্তব্য রজনীগন্ধা পরিবহনের চালকের সহকারী জনির। বাংলা কাগজকে তিনি বলেন, ‘আমরা মাস্কের কথা বলতে বলতেই যাত্রিরা গাড়িতে উঠে পরেন। অনেকে মাস্ক খুলে রাখেন, আমরা কী করবো?’

করোনাভাইরাস : সরকারি বিধি-নিষেধের প্রতিবাদে রাইড-শেয়ারিং মোটরসাইকেল চালকেরা

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের ‘সংক্রমণ ঠেকানোর’ জন্য সরকার যে বিধি-নিষেধ দিয়েছে সেটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছেন রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল চালকেরা।

তাঁরা বৃহস্পতিবার (পহেলা এপ্রিল) রাজধানীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।

এ ছাড়া বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে অনেকে যাত্রি পরিবহনও করছেন।

রাজধানী ঢাকার অন্তত পাঁচটি জায়গায়- ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক, প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক, আগারগাঁও, শাহবাগ এবং বাড্ডায় মোটরসাইকেল চালকেরা রাস্তায় দাঁড়ান।

এ সময় শহরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

মোটরসাইকেল চালক নূরে আলম বাংলা কাগজকে বলেন, সরকারের বিধি-নিষেধ অনুযায়ি আমাদের যাত্রি পরিবহন বন্ধ হলে, আমরা চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়বো।

‘সব যানবাহনই তো চলতেছে, তাহলে মোটরসাইকেলে যাত্রি পরিবহন করতে অসুবিধা কোথায়?’

সরকারের নতুন বিধি-নিষেধ অনুযায়ি গণ-পরিবহনে ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রি বহন করা যাবে। ফলে যানবাহন সঙ্কটে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

এ অবস্থায় মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং বন্ধে অনেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে প্রতিদিন ঢাকার মিরপুর ১ নম্বর থেকে আজিমপুর পর্যন্ত যাতায়াত করেন রবিউল ইসলাম।

তিনি জানান, পরিবহন সঙ্কটের কারণে অফিসে যাতায়াত করা এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

বাসে উঠতে না পেরে অফিস-মুখো যাত্রিরা সকালে ঢাকার খিলক্ষেত সড়ক অবরোধ করেছে। এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে বিক্ষুব্ধ যাত্রিরা রাস্তা থেকে ছেড়ে যায়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য গত ২৯ মার্চ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করে সরকার। সে নির্দেশনার আওতায় বাস-ট্রেনসহ সকল গণ-পরিবহনে ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রি পরিবহন করতে বলা হয়েছে। এরইমধ্যে বাস ভাড়া বেড়েছে ৬০ শতাংশ।