Category: সিটি করপোরেশন

কেরানীগঞ্জে তিনতলা ভবন উল্টে ডোবায় : আহত ৭

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ঢাকার কেরানীগঞ্জের চরাইল এলাকায় একটি তিনতলা ভবন উল্টে পড়েছে পাশের ডোবায়।

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ ঘটনার পর ৭ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মিরা।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা লিমা খানম বাংলা কাগজকে জানান, সকাল সাড়ে ৮টা দিকে ভবনটি একদিকে কাত হয়ে যায় এবং পাশের ডোবায় উল্টো পড়ে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। উদ্ধারকর্মীরা যে ৭ জনকে আহত অবস্থায় বের করে এনেছেন, তাদের মধ্যে দুজন নারীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

লিমা খানম জানান, পূর্বচরাইল খেলার মাঠের কাছে ওই বাড়িতে দুই তলার ওপরে টিনের ছাউনি দিয়ে আরেকতলা তোলা হয়েছিল।

ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়েছিলো কি না, যথাযথ অনুমোদন ছিলো কি না- সেসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায় নি।

লিমা খানম বলেন, ‘ভবনে আর কেউ নেই বলে জানাচ্ছেন বাড়ির মালিক। এখনও কারও মৃত্যুর তথ্য আমরা পাই নি। ভেতরে আর কেউ আটকা পড়েছেন কি না, আমাদের কর্মিরা তা সার্চ করে দেখছেন।’

এলজিআরডিমন্ত্রী : এলাকার জনঘনত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ভিত্তিতে ভবনের উচ্চতা

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও ড্যাপ রিভিউ কমিটির আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম বলেছেন, রাজধানীতে এলাকার জনঘনত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ভিত্তিতে ভবনের উচ্চতা নির্ধারণ করা হবে। স্থপতি, নগর পরিকল্পনাবিদ ও বেসরকারি আবাসনখাত সংশ্লিষ্টসহ অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ড্যাপ বাস্তবায়ন বিষয়ে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন রিহ্যাব ও বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভলপারস অ্যাসোসিয়েশন (বিএলডিএ) এর প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় একথা বলেন।

তিনি জানান, রাজধানীতে এলাকাভিত্তিক জনঘনত্ব নির্ধারণ করে জোনভিত্তিক ভবনের উচ্চতা নির্ধারণ করা হবে। শহরের কোন অঞ্চলে কত তলা বিল্ডিং হলে সকল নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাবে এবং ঢাকা একটি বাসযোগ্য, আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন শহরে রূপান্তরিত হবে, সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এলাকাভিত্তিক হোল্ডিং-ট্যাক্স, পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য ইউটিলিটি সার্ভিসের চার্জ নির্ধারিত হওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী প্রশ্ন তুলে বলেন, অভিজাত এলাকায় বসবাসকারি এবং যাত্রাবাড়ী অথবা ওয়ারীতে বসবাসকারি মানুষ কেন সমান রেট বহন করবেন? পৃথিবীর অনেক দেশেই এলাকাভিত্তিক ইউটিলিটি সার্ভিসের মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। এটি নিয়ে সমালোচনা হলেও এ বিষয়ে আমাদের একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে।

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, আমাদের সকলের উদ্দেশ একটাই। সেটি হচ্ছে ঢাকা নগরীকে বাসযোগ্য, দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক করে গড়ে তোলা। আর এজন্যই ড্যাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তাই ড্যাপ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লাহ খন্দকারের সভাপতিত্বে সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, রাজউকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শফিউল্লাহ, ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিএলডিএর সভাপতি আহমেদ আকবর সোবহান এবং রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনু্ষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মাহবুব তালুকদার ‘পদত্যাগ করতে প্রস্তুত’

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : সহকর্মিদের সঙ্গে ভিন্নমতের জন্য আলোচিত নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, দেশের ‘ভালোর জন্য’ তার পদত্যাগ করতে কোনও সমস্যা নেই।

কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন ইসি মেয়াদের চার বছর পার করার পর দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে ৪২ জন নাগরিকের দাবির প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন তিনি।

সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনের নিজের দপ্তরে ‘ইসির পঞ্চম বর্ষের প্রারম্ভে আমার বক্তব্য’ শিরোনামে বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে আসেন এ নির্বাচন কমিশনার।

৪২ নাগরিক বর্তমান ইসি সদস্যদের পদত্যাগ দাবি করেছেন, এ বিষয়ে আপনার অবস্থান কী- এ প্রশ্নে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে পদত্যাগ করলে যদি লাভ হয়, দেশের যদি কোনও উপকার হয়, তাহলে আমি যে কোনও মুহূর্তেই পদত্যাগ করতে প্রস্তুত।’

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন ইসি যাত্রা শুরু করে। ২০২২ সালে তাদের মেয়াদ শেষ হবে।

ভোট নিয়ে সমালোচনার পর বর্তমান ইসির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থসংশ্লিষ্ট গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ তুলে এর তদন্ত করতে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়েছেন ৪২ নাগরিক।

তারা আশা করছে, সিইসি ও নির্বাচন কমিশনারেরা স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘এই দাবিটা সম্ভবত আমাদের কাছে নয়, এটা অন্যত্র দাবি করা হয়েছে। এরমধ্যে একটা কথা আছে।’

নানা সমালোচনার পরও এই ইসির কাজের শেষভাগে হলেও ভালো কিছু আশা করছেন মাহবুব তালুকদার।

‘‘আমি একজন আশাবাদী মানুষ হিসেবে ‘যার শেষ ভালো, তার সব ভালো’ এই প্রবাদ বাক্যটিকে কি আশ্রয় করতে পারি?’’, বলেন তিনি।

শপথ নিলেন চট্টগ্রামের নতুন মেয়র ও কাউন্সিলরেরা

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরেরা শপথ নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানির ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শপথ পাঠ করান।

আর কাউন্সিলরদেরকে শপথ পাঠ করা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জিতে মেয়র হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

ক্ষমতাসীন দলের নৌকা প্রতিকে প্রার্থি হয়ে বিএনপির প্রার্থি শাহাদাত হোসেনকে ৩ লাখ ভোটে হারান তিনি।

চট্টগ্রামে মেয়র পদে বিজয়ি রেজাউল

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে জিতে মেয়র হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

ক্ষমতাসীন দলের নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হয়ে বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেনকে ৩ লাখ ভোটে হারিয়েছেন তিনি।

উত্তেজনা, সহিংসতা, প্রাণহানি আর অনিয়মের নানা অভিযোগের পাশাপাশি ভোটারদের কম উপস্থিতির মধ্যে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে গভীর রাতে ফল ঘোষণা করা হয়।

সম্পূর্ণ ভোটগ্রহণ ইভিএমে হলেও এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়ামে ফল ঘোষণা কেন্দ্র থেকে প্রায় ১০ ঘণ্টা পর চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন এই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান।

তিনি জানান, নৌকার প্রার্থী রেজাউল পেয়েছেন ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট।

মোট ৭৩৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩৩টির ফল ঘোষণা হয়।

দুটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়েছে।

তবে সেসব কেন্দ্রের ভোট ফলে কোনও প্রভাব ফেলবে না বলে রেজাউলকে বিজয়ি ঘোষণা করা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন হলেও ভোট দিয়েছেন মোট ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৩। ভোটের হার ২২ দশমিক ৫২ শতাংশ। ১ হাজার ৫৩টি ভোট বাতিল হয়েছে।

অন্য মেয়রপ্রার্থীদের মধ্যে এনপিপির আবুল মনজুর ৪৬৫৩ ভোট, ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন ২১২৬, স্বতন্ত্র প্রার্থী খোকন চৌধুরী ৮৮৫ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ ১১০৯ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জান্নাতুল ইসলাম পেয়েছেন ৪৯৮০ ভোট।

ফল ঘোষণার কেন্দ্রে রেজাউল কিংবা তার প্রতিদ্বন্দ্বি শাহাদাত কেউই ছিলেন না।

গতবার বিএনপির না থাকলেও নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন ঘোষণা কেন্দ্রে।

কিন্তু এবার রেজাউলের প্রধান এজেন্ট নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল ছাড়া শীর্ষ নেতাদের কাউকে দেখা যায় নি।

সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন একবার এলেও থাকেন নি সেখানে।

২০১৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এর আগের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ জ ম নাছির বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম মনজুর আলমকে হারিয়েছিলেন এক লাখের বেশি ভোটে।

সেবার ভোট শুরুর তিন ঘণ্টার মধ্যে ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন মনজুর।

এবার বিএনপি নির্বাচনে থাকলেও ‘দখলদারিত্বের’ কারণে কোনও ভোটই হয়নি বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল জীবনের প্রথম ভোটে জিতে মেয়রের চেয়ারে বসতে চলেছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে সক্রিয় রাজনীতি করলেও এর আগে কখনও ভোটযুদ্ধে নামেন নি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বড় সময় ধরে রেজাউল চট্টগ্রামের রাজনীতিতে প্রয়াত নেতা তিন বারের সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

মনোনয়ন পেয়ে রেজাউল জানিয়েছিলেন, বিজয়ী হলে চট্টগ্রামকে মডেল সিটি হিসেবে সাজাতে মহিউদ্দিন চৌধুরীর পথে হাঁটবেন তিনি।

সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যন আবদুচ ছালামসহ বেশকিছু নেতাকে পেছনে ফেলে শেষ মুহূর্তে রেজাউলের মনোনয়ন লাভ ছিল চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এক বড় চমক।

২০২০ সালের ১৬ মে মেয়র পদে রেজাউলের নাম ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। সেই ভোট হওয়ার কথা ছিল গত বছরের ২৯ মার্চ। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিতে ২১ মার্চ সেই ভোট স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময়ে আইসোলেশন সেন্টার খুলে চিকিৎসা দেওয়া এবং নগরীর নিম্ন আয়ের মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের কর্মসূচি নেন রেজাউল।

কোভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিসিসির প্রশাসক হিসেবে সরকার গত অগাস্টে নিয়োগ দেয় নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজনকে। শপথ নিয়ে এখন তার কাছ থেকেই দায়িত্ব বুঝে নেবেন রেজাউল।

গত ৮ জানুয়ারি সিসিসি ভোটের প্রচার শুরুর সঙ্গে সঙ্গে নগর আওয়ামী লীগে বিবদমান দু’পক্ষের মধ্যে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা রেজাউলের সঙ্গে নামেন। মহিউদ্দিনের মৃত্যুর পর এই ধারার নেতাকর্মীরা এখন তাঁর ছেলে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গে আছেন।

কেন্দ্রের নির্দেশনার পর অন্য ধারাটি তথা নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন নিজে ও তার অনুসারীরা রেজাউলের প্রচারণায় মাঠে নামেন।

প্রচারের শেষ সপ্তাহে ঢাকা থেকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দুই সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও এস এম কামাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেন।

তাঁদের সঙ্গে ছিলেন নির্বাচন পরিচালনার প্রধান সমন্বয়কারী আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ।

নগরির পূর্ব ষোলশহরের বহদ্দার বাড়ির সন্তান রেজাউল নগর ছাত্রজীবনে ছিলেন ছাত্রলীগের নেতা। ১৯৬৯-৭০ সালে চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন, পরে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন তিনি।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সম্মুখ সমরের যোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী ১৯৭২ সালে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হন।

এরপর চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর চরম দুঃসময়ে উত্তর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন তিনি। এরপর হন যুবলীগের সদস্য।

১৯৮৩ সালে চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হন রেজাউল করিম চৌধুরী। চাক্তাই খাল খনন সংগ্রাম কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব ও কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন রেজাউল করিম চৌধুরী।

ছাত্রলীগ যুবলীগ ও নাগরিক আন্দোলনের এই নেতা চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন। এরপর হন সাংগঠনিক সম্পাদক। বর্তমান কমিটিতে তিনি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদকের পদে আছেন।

নিজের এলাকায় বাবা ও মায়ের নামে একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং একটি টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট করেছেন রেজাউল করিম।

১৯৫৩ সালে জন্ম নেওয়া রেজাউল করিম চৌধুরী চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি নেন তিনি।

ছাত্রজীবনে বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পেয়েছিলেন রেজাউল করিম। ১৯৬৮ সালে নগরীর প্যারেড ময়দানে বঙ্গবন্ধুর জনসভার দিন তাকে মঞ্চে নিয়ে যান তখনকার চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের এই নেতা।

লেখক হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে রেজাউল করিম চৌধুরীর। ‘ছাত্রলীগ ষাটের দশক চট্টগ্রাম’ এবং ‘স্বদেশের রাজনীতি ও ঘরের শত্রু বিভীষণ’ নামে দুটি বই রয়েছে তাঁর।

রেজাউল করিম চৌধুরীর তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আরেক মেয়ে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর করেছেন, ছেলে প্রকৌশলের ছাত্র।

পাইকগাছা পৌরসভা নির্বাচনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা) : পাইকগাছা পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যে জমজমাট লড়াই চলছে।

তবে নিরুত্তাপ মেয়র পদ নিয়ে।

পাইকগাছা পৌরসভায় আগামি ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও কমিউনিস্ট পার্টির দুই মেয়র প্রার্থীসহ সব কাউন্সিলর প্রার্থী গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

ভোটারদের মন জয়ের জন্য ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এ প্রচারণা আর গণসংযোগ।

মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিম জাহাঙ্গীর ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট প্রশান্ত কুমার মন্ডল।

নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিম জাহাঙ্গীর।

তাঁর দলীয় কর্মীরা বিভিন্নভাবে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগসহ দলের সব সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের দেখা গেছে প্রচারণায়।

অপরদিকে কমিউনিস্ট পার্টির মেয়র প্রার্থীর পক্ষে লিফলেট বিতরণ ছাড়া তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য প্রচারণা দেখা যায় নি।

শুধু বুধবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলের পর থেকে মাইকিং করে ভোট প্রার্থনা করা হয়েছে কমিউনিস্ট পার্টির মেয়র প্রার্থীর পক্ষে ।

পৌরসভার অন্তত ৪ জন ভোটার বাংলা কাগজকে বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নির্বাচনে জয়লাভ সময়ের অপেক্ষামাত্র।

‘বিএনপির প্রার্থী না থাকায় মেয়র পদে নির্বাচন নিরুত্তাপ হয়ে পড়েছে।’

‘তবে কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী থাকায় নির্বাচনে প্রাণ রয়েছে।’

‘আর কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্য নির্বাচন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ভোটারেরা ধারণা করছেন।’

রিটার্নিং কর্মকর্তা কামালউদ্দীন আহমদ বাংলা কাগজকে বলেন, পাইকগাছা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দুইজন, ৩ সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১২ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

‘এ ৩ পদের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৪৯ জন। এরমধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১ জন মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই কালে পড়েছেন। তবে তিনি আপিলও করেন নি।’

‘আর ১ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাস দেখানো হয়েছে।’

‘তা ছাড়া মেয়র পদে ৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও প্রত্যাহারের শেষদিন বিএনপির প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।’

দেখা গেছে, বর্তমানে পৌরসভা এলাকা প্রার্থীদের পোস্টারে সয়লাব।

আর দুপুর ২টার পর থেকে শুরু হয় মাইকিং।

উপজেলা রির্টানিং কর্মকর্তা কামালউদ্দীন আহমদ বাংলা কাগজকে আরও জানান, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারি, শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত একটানা পাইকগাছা পৌরসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে।

‘ভোট গ্রহণের জন্য প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার নিয়োগ ও তাঁদের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।’

‘ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রসহ সব কেন্দ্রে অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল টিম মোতায়ন করা হবে।’

পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এজাজ শফি বাংলা কাগজকে জানান, পাইকগাছা পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ বাহিনি সতর্ক অবস্থায় আছে।

‘এ পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নি, পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে।’

‘আশা করছি, নির্বাচন পরবর্তী সময় পর্যন্ত এ রকমই থাকবে।’

পাইকগাছা পৌরসভার বর্তমান আয়তন ২ দশমিক ৫২ বর্গ কিলোমিটার।

জনসংখ্যা প্রায় ২১ হাজার। পৌরসভাটিতে গত ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদকৃত মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ৪ ৩১ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৭৭০৩ জন এবং নারী ৭৩৫৮ জন।

নির্বাচনে ৯টি কেন্দ্র ও ৪৩টি বুথ থাকছে।

চসিক : ভোটের ২ লাশ পড়ে গেলো পাহাড়তলী ও সরাইপাড়ায়, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া লালাখানে

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হতে না হতেই পড়ে গেল ২ লাশ। অপরদিকে লালাখান বাজারে ঘটেছে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা।

খুন হয়েছেন দুই প্রার্থীর দুই সমর্থক। নগরীর ১৩ নম্বর পাহাড়তলি ওয়ার্ডের আমবাগান ইউসেপ টেকনিক্যাল স্কুল ও সরাইপাড়া ওয়ার্ডের বারকোয়ার্টার মাইট্টাইল্লা পাড়া এলাকায় পৃথক ওই দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

তারমধ্যে সরাইপাড়ায় একজন খুন হয়েছেন আপন ভাইয়ের হাতে।

আর ১৩ নম্বরে নিহত ব্যক্তি কাউন্সিলর প্রার্থী মাহমুদুরের অনুসারী।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগরের পাহাড়তলীতে আপন ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে আরেক ভাই নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডের বারোকোয়াটার মাইট্টাইল্লা পাড়া এলাকায় ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি বাংলা কাগজকে নিশ্চিত করেছেন পাহাড়তলী থানার ওসি (তদন্ত) রাশেদুল হক।

নিহত ব্যক্তি ১২ নম্বর ওয়ার্ডের (সরাইপাড়া) আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী সাবের আহম্মদের কর্মী বলে জানা গেছে। তার নাম নিজামউদ্দীন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘাতক ব্যক্তির নাম সালাউদ্দিন কামরুল। তিনি ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল আমিনের কর্মী।

অপরদিকে ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের ঝাউতলা এলাকায় নিহত ভোটারের নাম আলাউদ্দিন (২৫)। তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী মাহমুদুর রহমানের কর্মী।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঝাউতলার ইউসেফ আমবাগান স্কুল কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে লাগা সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ছোঁড়া গুলিতে নিহত হন তিনি। এই হত্যার জন্য সেই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী ওয়াসিম চৌধুরীর অনুসারীদের দায়ি করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, বাদশা সোলাইমান নামে ওয়াসিমের এক কর্মীর ছোঁড়া গুলিতে প্রাণ হারান আলাউদ্দিন। এই হত্যার পর ঝাউতলা এলাকায় রেল লাইন অবরোধ করে রেখেছেন মাহমুদুরের সমর্থকেরা।

এর আগে সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দখলে চলে যায় ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের ৩ ভোট কেন্দ্র।

এ ওয়ার্ডের আমবাগান ইউসেপ স্কুল, ঝাউতলা ওয়ার্লেস স্কুল ও পাহাড়তলী কলেজ কেন্দ্র তিনটিতে সন্ত্রাসীদের অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিতে দেখা গেছে।

এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাহমুদুর রহমান সকালে বাংলা কাগজকে জানান, ‘সকালে ভোট শুরুর আগে থেকেই ওয়াসিম উদ্দিনের লোকজন বিভিন্ন কেন্দ্র নিজেদের দখলে নিয়েছে। মধ্যরাত থেকে সন্ত্রাসীরা এখানে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে।’

এ অভিযোগ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওয়াসিম ও মাহমুদুর রহমান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

লালখানবাজারে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া : লালখান বাজার চানমারি রোডের শহীদ নগর সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল পৌনে ৯টা থেকে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

এ সময় হকিস্টিক, লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয়।

কাচের বোতল, ইটপাটকেল ছোড়া হয় এলোপাতাড়ি। বিজিবি-পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এর আগে সকাল ৯টায় এ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদ।

এদিকে পুলিশ লাইন কেন্দ্রেও গোলযোগের খবর পাওয়া গেছে। হামলায় আহত হয়েছেন কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল হাসনাত বেলালের সমর্থক শহীদুল ইসলাম শহীদ।

ভোট দিচ্ছে চট্টগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : মহামারির বাধা আর সংঘাত-সহিংসতা পেরিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে ভোট দিচ্ছেন বন্দরনগরীর বাসিন্দারা।

নির্বাচনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নগরীর ৭৩৫টি কেন্দ্রে বুধবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, একটানা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

শীতের সকালের শুরুতেও বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।

সকালে ভোটগ্রহণের শুরুতেই নগরির আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের কদম মোবারক এমওয়াই উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। একই ওয়ার্ডে মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি (এমইএস) উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

এমইএস উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সুরজিৎ বড়ুয়া বাংলা কাগজকে বলেন, তাঁর কেন্দ্রে মোট ১৬২০ ভোট। প্রথম আধ ঘণ্টায় ১২টি ভোট পড়েছে। ভোট গ্রহণ ‘সুষ্ঠুভাবেই’ চলছে।

১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন ভোটার এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সিটি করপোরেশনের নতুন মেয়র, ৩৯ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ১৪ জন নারী কাউন্সিলরকে নির্বাচিত করবেন।

নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী এবং বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহাদাত হোসেনের মধ্যে।

তবে নতুন মেয়র কে হচ্ছেন, সেই প্রশ্ন ছাপিয়ে ভোটের আগে আলোচনা ছিল ভোটগ্রহণ কেমন হয় তা নিয়ে।

করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে এমনিতেই এক ধরনের উদ্বেগ আছে। তার মধ্যে বিএনপি আগে থেকেই কারচুপির সন্দেহ প্রকাশ করে আসছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আশঙ্কা, ভোট প্রশ্নবিদ্ধ করার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বিএনপি।

তবে এ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলছেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৪ হাজার সদস্যও রয়েছে প্রস্তুত। ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ’ ভোট হবে বলেই তিনি আশা করছেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ নির্বাচন গত বছরের ২৯ মার্চ হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় আট দিন আগে তা স্থগিত করা হয়। এরপর পরিস্থিতির উন্নতি বিবেচনায় ২৭ জানুয়ারি ভোটের দিন ঠিক করে নির্বাচন কমিশন।

অবশ্য ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ আছে এখনও। উনিশ লাখ ভোটারের সঙ্গে ভোটগ্রহণ কর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মিলিয়ে ভোটের মধ্যে থাকবেন এক নগরীর সাড়ে ১৯ লাখের বেশি মানুষ। সেই হিসাবে প্রতি কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ২৬০০ মানুষের উপস্থিতি ঘটতে পারে আট ঘণ্টায়।

এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে মানা না হলে তা কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা। তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, সব স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ভোটের আয়োজন হচ্ছে, সুরক্ষার সব ব্যবস্থাই কেন্দ্রে রাখা হবে।

ভোটের প্রচারের মধ্যে গত ১৬ দিনে মিছিল, সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন উপায়ে নগরীতে জনসমাগম হয়েছে। যেসব ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই ছিল না। গা ঘেঁষাঘেষি করে হয়েছে মিছিল। আর মাস্ক ছাড়া ভোটের প্রচার ছিল নিত্য দিনের ঘটনা।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল আলম বাংলা কাগজকে বলেন, ‘ঝুঁকি কমাতে সব ব্যবস্থাই আমরা নিয়েছি। ভোট গ্রহণের সময় কর্মকর্তারা সবাই মাস্ক পরবেন। সব কেন্দ্রে স্যানিটাইজারসহ সব সুরক্ষা উপকরণ রাখা হয়েছে। কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইভিএমে ভোট নিতে হবে, তা ট্রেনিংয়ে বলে দেওয়া হয়েছে সবাইকে।’

রাত পোহালেই ভোট : চট্টগ্রামে ভাড়ায় খাটছে ৪৭ কিশোর গ্যাং, ‘কেনা হচ্ছে অস্ত্র’

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; চট্টগ্রাম : রাত পোহালেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। এই নির্বাচনকে টার্গেট করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভাড়ায় খাটছে অন্তত ৪৭টি তালিকাভুক্ত সক্রিয় কিশোর গ্যাং।

নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে হাল আমলের এই কিশোর গ্যাং কালচার। নির্বাচনি সভা ও মিছিলে মারামারিতে কাজে লাগানোর পাশাপাশি ভোটের দিনে আধিপত্য বিস্তারের জন্য এসব কিশোর গ্যাংকে ব্যাপকভাবে কাজে লাগানোর শঙ্কাও রয়েছে প্রবলভাবে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বরাবরের মতোই কিশোর গ্যাংকে দমানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে এলেও নগরির বেশ কয়েকটি থানা সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে কিশোরগ্যাংকে। নগরীর চকবাজার, ডবলমুরিং, বায়েজিদসহ বেশ কয়েকটি থানার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) করা তালিকা অনুযায়ী, নগরীতে মোট ৪৭টি সক্রিয় গ্রুপের ৫৩৫ জন সদস্য রয়েছে।

যাদের সব গ্রুপের কাছে আছে অবৈধ দেশি ও বিদেশি অস্ত্র।

তবে কিশোর গ্যাংয়ের সবচেয়ে বেশি আধিপত্য রয়েছে চকবাজার ও কোতোয়ালী থানা এলাকায়।

যারা ইতিমধ্যেই ভাড়ায় কাজ করছে এসব এলাকার বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে।

জানা গেছে, মোটা টাকার বিনিময়ে নির্বাচনী মাঠে আধিপত্য ধরে রাখতে অনেক প্রার্থীই এসব গ্যাংকে ভাড়ায় খাটাচ্ছেন। আবার কোথাও কোথাও রাজনৈতিক হিসাবনিকাশের জেরে ভোটের মাঠে মারমুখী হয়ে অবস্থান নিচ্ছে তারা।

নগরীর সহিংস কিশোর গ্রুপের তালিকার প্রথম দিকে থাকা ইভান প্রকাশ পিস্তল ইভান এবারের নির্বাচনে চকবাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টুর হয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় আছেন। নির্বাচনি প্রচারণায় চকবাজারে এখন পর্যন্ত ছোটখাট যেসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে তার নেতৃত্বে ছিলেন ইভান।

এমন চিত্র নগরীর প্রায় সকল ওয়ার্ডেই। ধর্ষণ মামলার আসামি, খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রব্যবসায়ীদের নিয়ে দলভারি করছেন প্রার্থীরা।

২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের নির্বাচনি প্রচারণায়ও এলাকার চিহ্নিত অপরাধী ও কিশোর গ্রুপ লিডারদের দেখা যাচ্ছে।

যাদের মধ্যে হত্যামামলার আসামি, কমার্স কলেজ রোডের মাসুদ রানা বিপ্লব, মোগলটুলীর আবু তাহের, নির্বাচনি সহিংসতায় বাবুল হত্যাকাণ্ডের সময় অস্ত্র হাতে গ্রেপ্তার হওয়া মেহেদি হাসান জিয়া, পাঠানটুলীর ইয়াবা ব্যাবসায়ী আলী হোসেন রানা এবং ধর্ষণ মামলার আসামি আলী আক্কাস জুয়েল প্রকাশ কালা জুয়েল অন্যতম।

নির্বাচনে প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের চাপে রাখতে এসব কিশোরগ্যাং লিডারদের ব্যবহার করছেন বাহাদুর- ইতোমধ্যে এমন অভিযোগ এনেছেন প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা।

চকবাজারের যুবলীগ নেতা আবদুর রউফ ও এসরারের গ্রুপের অনেকগুলো উপগ্রুপ এবারের নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

যাদের নিয়ন্ত্রণে আছে চকবাজার, জামালখান, চন্দনপুরা, রহমতগঞ্জ, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও ও কালুরঘাট এলাকার বড় অংশ।

চকবাজারে রয়েছে কয়েকটি উপ দলও— যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গিয়াস সিদ্দিকী প্রকাশ পিস্তল গিয়াস, নাহিদুল জাবেদ প্রকাশ টেম্পু জাবেদ, নূর নবী প্রকাশ ধুট নবী, শহীদুল হক প্রকাশ ধামা মিন্টু।

এ ছাড়া রয়েছেন পাঁচলাইশের জসিম উদ্দিন সুমন প্রকাশ পিস্তল সুমন, শাহাদাত প্রকাশ লেংড়া রিফাত, আমির প্রকাশ ইয়াবা আমির, মো. জুলহাস ও কাপাসগোলার অরিত্র দাশ।

মুরাদপুর, নাসিরাবাদ ও পাঁচলাইশের একাংশের নিয়ন্ত্রক শিবির ক্যাডার মো. ফিরোজের কিশোর গ্যাং।

অন্যদিকে দুই নাম্বার গেট, জিইসি, জাকির হোসেন রোড ও নাসিরাবাদ এলাকার ডন কথিত যুবলীগ নেতা সোলাইমান বাদশার কিশোর গ্রুপটি।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার নাসিরাবাদ শিল্প এলাকা, পলিটেকনিক ও শেরশাহ এলাকায় রয়েছে আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দীনের কিশোর গ্যাং।

যুবলীগ নেতা ও সাবেক বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমন গ্রুপের রাজত্ব রয়েছে সিআরবি, কদমতলী, আমবাগান-টাইগারপাস ও নন্দনকানন এলাকায়।

কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে আলোচিত পাহাড়তলীর জহুরুল আলম জসিম, লালখানবাজারের আবুল হাসনাত বেলাল ও চান্দগাঁওয়ের এসরারুল হক এসরার কিশোর গ্যাংয়ের বলে নিজেরাই কাউন্সিলর পদে লড়ছেন স্ব স্ব ওয়ার্ড থেকে।

নির্বাচনের কিশোর গ্যাংকে ভাড়ায় খাটানোর এই কালচারকে ভবিষ্যৎ সামাজিক প্রেক্ষাপটের জন্য বড় রকমের হুমকি বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে মূলত কিশোর গ্যাংগুলো নিজেদের শক্তিশালী করছে। নিজেদের গ্রুপের জন্য কিনছে দেশি-বিদেশি অস্ত্র, বাড়াচ্ছে সদস্য সংখ্যাও, যা পরে সমাজের জন্য ভয়ানক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘কিশোর গ্রুপ গুলোকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা শেল্টার দেয়, এখানে লুকোচুরির কিছু নেই। আর শেল্টার দেওয়ার পিছনের কারণ হচ্ছে মাদক ও অস্ত্র বিক্রি।’

তিনি বলেন, ‘কিশোর গ্রুপের সদস্যদের মাদকে আসক্ত করতে পারলে নেতারা সহজেই মাদক বিক্রি করাতে পারবে। আর কখনও যদি টাকার অভাবে কিশোর গ্রুপের সদস্যরা নেশা করতে না পারে তখন তারা চুরি, ছিনতাই, খুনের মত খারাপ কাজে লিপ্ত হয়। তাই সমাজে বেড়ে যায় সন্ত্রাসী তৎপরতা।’

চবির এ সাবেক উপাচার্য বলেন, ‘সেজন্য রাজনৈতিক নেতাদের উচিত, কিশোর বয়সি বাচ্চাদের রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার না করা। যদি কিশোরদের এই সাব-কালচার বন্ধ না করা যায়, তবে দেশের জন্য একটি অন্ধকারময় ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।’

ড. ইফতেখার আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীকে কঠোর হতে হবে। এরকম যারা বিভিন্ন কিশোর গ্যাং কালচারের সঙ্গে জড়িত, তাদের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।’

তবে এই বিষয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে এই মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছুই করার নেই মন্তব্য করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (জনসংযোগ) শাহ মো. আবদুর রউফ বলেন, ‘কোনও প্রার্থীর যদি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তবে নির্বাচন কমিশনে জানাতে হবে। নির্বাচন কমিশন আমাদের আদেশ দিলে তারপর আমরা ব্যবস্থা নেবো। আমরা বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। তাই কমিশন যা বলবে আমরা তাই করবো। এর বাইরে কোন কাজ করার এখতিয়ার নেই আমাদের।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনি এলাকায় সাধারণ ছুটি ২৭ জানুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চাহিদা মোতাবেক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণের দিন আগামি ২৭ জানুয়ারি (বুধবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচনি এলাকাধীন যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার বা নির্বাচনি কার্যক্রমের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকা এবং পার্শ্ববর্তি পৌরসভা, উপজেলা ও জেলাধিন অন্যান্য দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগদানের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দুই সিটির বৈঠক : আন্তজেলা বাসের জন্য ঢাকার বাইরে চার টার্মিনাল

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ঢাকার বাইরে থেকে আসা বাস রাখার জন্য রাজধানীর বাইরে ৪টি অন্তঃজেলা টার্মিনাল করে শহরের ভেতরেরগুলোকে সিটি টার্মিনালে রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) দক্ষিণের নগর ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে বাস রুট র‌্যাশনালাইজেশন কমিটির পঞ্চদশ সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

তাপস বলেন, ‘আন্তজেলা বাস টার্মিনাল করার জন্য চিহ্নিত ১০টি জায়গার কয়েকটি আমরা পরিদর্শন করেছি। সরেজমিন পরিদর্শনের প্রেক্ষিতে আমরা বিরুলিয়ার বাটুলিয়াতে একটি জায়গা নির্ধারণ করেছি। সেখানে একটি আন্তঃজেলা টার্মিনাল হবে। মূলত উত্তরাঞ্চলের যে বাসগুলো আছে, সেখানে এসব বাস থাকবে।’

‘সাভারের হেমায়েতপুরে দুটি জায়গা দেখে একটি, দক্ষিণাঞ্চলের জন্য কেরানীগঞ্জের বাঘাইরে একটি জায়গা নির্ধারণ করেছি। এবং আরেকটি জায়গা কাঁচপুরে। এই চারটি জায়গায় আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল স্থাপন করলে ঢাকা শহরের ওপর থেকে চাপ কমে যাবে।’

মেয়র বলেন, ‘সায়েদাবাদ, গাবতলী এবং মহাখালী টার্মিনালগুলোকে আমরা সিটি টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবো। বাকি ৪টি টার্মিনাল সারাদেশের যে বাসগুলো ঢাকামুখী যাতায়াত করে, তাদের জন্য নির্ধারণ করতে পারবো। প্রাথমিকভাবে এই সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করে মাননীয় মন্ত্রী বরাবর পাঠিয়ে দেব। সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেবো।’

সিটি বাস সার্ভিসের রুটে কিছুটা পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তাপস বলেন, ‘ঘাটারচর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত রুট- আমরা এখন এটাকে কাঁচপুর পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছি। উত্তর ও দক্ষিণ সিটির প্রায় ৩৪টি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাস বে হবে এবং কিছু কিছু জায়গায় বাস স্টপেজ হবে। এটাকে এখন কিছুটা বাড়াতে হবে। যেহেতু রুট বাড়ানো হয়েছে।’

তিনি জানান, প্রাইলট প্রকল্প হিসেবে যে রুট নির্ধারণ করা হয়েছে, দুই সিটির প্রকৌশলীরা বসে ঠিক করবেন, তার কোথায় বাস বে হবে, কোথায় স্টপেজ হবে। সে অনুযায়ী যাত্রীদের সজন্য সুযোগ-সুবিধা প্রস্তুত করা হবে।

‘শুধু মতিঝিল পর্যন্ত হলে ফলপ্রসূ নাও হতে পারে। এ জন্য আমরা ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত বর্ধিত করছি। সেই প্রেক্ষিতে বাকি আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজটা সেই পর্যন্ত বর্ধিত করবো।’

কতগুলো কোম্পানির মাধ্যমে ঢাকায় বাস চালানো হবে, সেই নীতিমালা শিগগিরই তৈরি হচ্ছে জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে যে কোম্পানির মাধ্যমে চলবে, কতগুলো বাস চলবে, কতগুলো প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত হবে, আয় কিভাবে বণ্টন হবে, কীভাবে পরিচালিত হবে- সামগ্রিক বিষয় নিয়ে নীতিমালা হবে। আশা করি ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অংশীজনদের নিয়ে বসে একটি খসড়া তৈরি করবে। আগামি সভার আগেই খসড়া নীতিমালা প্রস্তুত করলে কোম্পানি গঠনের দিকে এগিয়ে যাবে।’

রাত ১২টার পরে যত্রতত্র বিআরটিসির বাস রাখতে দেওয়া হবে না জানিয়ে তাপস বলেন, ‘আগামী ২৬ জানুয়ারি বিআরটিএকে ভাড়া নির্ধারণের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো, তারা সেখানে সিদ্ধান্ত নেবে। গত সভায় একটি নির্দেশনা দিয়েছিলাম, রাত ১২টার পর বিআরটিসির বাস যত্রতত্র রাখা যাবে না। এই বাসগুলো তাঁদের নিজস্ব ডিপো-টার্মিনাল বা তাদের জায়গায় রাখতে হবে। এ বিষয়ে অনেক দূর অগ্রগতি হয়েছে। তবে কিছু বাস এখনো বাইরে থাকছে জায়গা সঙ্কুলান না হওয়ায়। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিআরটিসি সকল বাস থাকার ব্যবস্থা করবে।’

পাশাপাশি বিআরটিএকে তাদের যানবাহনের তথ্য হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে জানিয়ে দক্ষিণের মেয়র বলেন, ‘এখানে তথ্যগত কিছু ভুল রয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন হালনাগাদ করা হয় নি। তাদের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছি। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তথ্য হালনাগাদ করবে। সামগ্রিকভাবে পুরো বিষয়টা আগামী ৯০ দিনের মধ্যে হালনাগাদ করবে। এই সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

যাত্রী ছাউনি এবং বাস বেরসহ অবকাঠামো নির্মাণে কিছু জমির প্রয়োজন হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থার সাথে যোগাযোগ করা হবে, যাতে কমিটির আগামী সভায় তারা থাকেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘এখন যারা চলছে, অন্যরা যারা এই রুটে চলতে চায়- সবাইকে নিয়ে সমন্বয় করব। মালিকপক্ষ পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসবে, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসবে। অন্যরাও যারা এই রুটে বাস পরিচালনা করতে চায়, তাদেরও আমরা নেব, কোম্পানির মাধ্যমে। যাতে করে আয় ও ব্যয়টা ভাগাভাগি করে ব্যবস্থা নিতে পারে।’

‘নীতিমালার আলোকে প্রাথমিকভাবে জয়েন্ট ভেনচার এগ্রিমেন্ট হবে, যেহেতু এটা পাইলট। এরপর আমরা এটাকে একটা পূর্ণাঙ্গ কোম্পানি হিসেবে চালু করব, যাতে করে সুষ্ঠুভাবে শৃঙ্খলার মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা আসে।’

এ বিষয়ক : আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবোটিকস ও ক্লাউড কম্পিউটিং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মূল বিষয়