Category: সাহিত্য

চলে গেলেন মুনীর চৌধুরীর স্ত্রী ও মিশুক মুনীরের মা লিলি চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর স্ত্রী, প্রয়াত সাংবাদিক মিশুক মুনীরের মা নাট্যাভিনেত্রী লিলি চৌধুরী আর নেই।

তাঁর ছোট ছেলে আসিফ মুনীর তন্ময় জানিয়েছেন, সোমবার (পহেলা মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বনানীর বাসায় তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়।

বেতার, মঞ্চ ও টেলিভিশনের একসময়ের ব্যস্ত এই অভিনেত্রীর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

আসিফ মুনীর জানান, আত্মীয়-স্বজনদের দেখার জন্য তার মায়ের মরদেহ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বনানীর বাসায় রাখা হবে।

এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য।

জোহরের পর বনানী কবরস্থানে জানাজা শেষে ছেলের কবরের পাশে দাফন করা হবে লিলি চৌধুরীকে।

১৯২৮ সালের ৩১ অগাস্ট টাঙ্গাইলের জাঙ্গালিয়া গ্রামে নানা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন লিলি, পৈত্রিক পদবিতে তখন তার নাম রাখা হয় লিলি মির্জা।

বাবা নূর মোহাম্মদ মির্জার ছিল বদলির চাকরি। সেই সুবাদে তৃতীয় শ্রেণি থেকেই হোস্টেল জীবন শুরু হয়। কলকাতায় বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠিত সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলে তাকে ভর্তি করে দেন তার বাবা।

লিলি যখন সপ্তম শ্রেণিতে, রবীন্দ্রনাথের নাটকে তার প্রথম অভিনয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল কিছুদিনের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে দিল্লিতে বাবা মায়ের কাছে চলে যান লিলি, ভর্তি হন ইন্দ্রপ্রস্থ গার্লস হাই স্কুলে। স্কুল বদলালেও অভিনয় ঠিকেই চলে।

দুই বছর পর আবার কলকাতায় ফিরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল থেকেই প্রবেশিকা শেষ করেন লিলি। এরপর লেডি ব্রেবোর্ন কলেজে পড়ার সময় দুই বছর হোস্টেল জীবনেও কলেজের নাটকে নিয়মিত অভিনয় করতে থাকেন। এরমধ্যেই আসে দেশভাগের সেই অস্থির সময়, কলকাতাজুড়ে দাঙ্গা। ১৯৪৮ এ নূর মোহাম্মদ মির্জা ঢাকায় চলে আসেন। আর লিলি মির্জার পরিচয় হয় মুনীর চৌধুরীর সঙ্গে।

লিলি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। বাম রাজনীতিতে জড়িত মুনীর ১৯৪৯ সালের মার্চে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। পাঁচ মাস পর মুনীর মুক্তি পেলে তারা বিয়ে করে ফেলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সময় ১৯৫২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আবার গ্রেপ্তার হন মুনীর চৌধুরী। সেবার মুক্তি মেলে দুই বছর পর। এর মধ্যেই কারাগারে রচিত হয় ‘কবর’ নাটকটি।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের শেষ ভাগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের এ দেশীয় দোসরদের সহায়তায় শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ হাজারো বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে। ১৪ ডিসেম্বর আলবদর বাহিনী এসে ধরে নিয়ে যায় মুনীর চৌধুরীকে। স্বামীর সঙ্গে সেই লিলির শেষ দেখা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করা লিলিকে সদ্য স্বাধীন দেশে কঠিন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। চাকরির পাশাপাশি অভিনয় করে যান বেতার, মঞ্চ আর টেলিভিশনে।

মুনীর চৌধুরীর শুরু করা টেনেসি উইলিয়ামসের ‘স্ট্রিট কার নেমড ডিজায়ার’ নাটকের অসমাপ্ত অনুবাদের কাজ লিলিই শেষ করেন।

স্বামীর সঙ্গে তার পত্রালাপ আর দুজনের লেখা ডায়েরির সঙ্কলন প্রকাশিত হয়েছে ‘দিনপঞ্জি-মনপঞ্জি-ডাকঘর’ শিরোনামে।

কাজের স্বীকৃতি হিসেবে নাট্যকার-নাট্যশিল্পী সংসদ, টেলিভিশন নাট্যশিল্পী নাট্যকার সংসদ ও বাংলাদেশ মানবাধিকার নাট্য পরিষদের সম্মাননা পেয়েছেন লিলি চৌধুরী।

২৭ ফেব্রুয়ারি : জঙ্গি আক্রমণের শিকার হন ড. হুমায়ুন আজাদ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : আজ শনিবার; ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ; ১৪ ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)।

আজকের দিনটি গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে বছরের ৫৮তম দিন।

এ হিসাবে, বছর শেষ হতে আরও ৩০৭ দিন বাকি রয়েছে।

আজকের দিনে একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে জঙ্গি আক্রমণের শিকার হন ড. হুমায়ুন আজাদ।

ঘটনাবলি :
১৫০৯ : ব্রাজিলের ওপর পর্তুগালের দীর্ঘমেয়াদি কর্তৃত্ব শুরু হয়।
১৫৫৭ : লন্ডনে রাশিয়ার দূতাবাস কাজ শুরু করে।
১৫৯৪ : চতুর্থ হেনরি ফ্রান্সের রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন।
১৭০১ : পোলান্ড ও সুইডেনের মধ্যে ৬ দিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
১৮০৩ : ভারতের বোম্বেতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়।
১৮৪৪ : ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের ওপর হাইতির দখলদারিত্বের অবসান ঘটে এবং দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে।
১৮৫৮ : ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ঝাঁসি দখল করে।
১৮৬৫ : মিসৌরিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
১৮৭৪ : ব্রিটেনে প্রথম বেসবল খেলা শুরু হয়।
১৯০০ : ম্যাকডোনাল্ডের নেতৃত্বে ব্রিটিশ লেবার পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৩৩ : কমিউনিস্ট ষড়যন্ত্রের অজুহাতে জার্মান নাৎসিরা রাইখস্টাগে অগ্নিসংযোগ করে।
১৯৩৯ : ব্রিটেন ও ফ্রান্স স্পেনের জেনারেল ফ্রাংকোর গণবিরোধি সরকারকে স্বীকৃতি দেয়।
১৯৪২ : জাপানি জঙ্গি বিমানগুলো মিত্র বাহিনীর জাহাজগুলোর ওপর বোমা বর্ষণ শুরু করে।
১৯৬৭ : মহাশূন্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
১৯৭৩ : বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন গঠিত হয়।
১৯৭৪ : বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় নাইজেরিয়া।
১৯৯১ : বাংলাদেশে পঞ্চম সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রা শুরু হয়।
২০০২ : ভারতের গুজরাটে হিন্দু কট্টরপন্থীদের বহনকারি ট্রেনে উগ্রবাদিরা অগ্নিসংযোগ করে। এতে দগ্ধ হয়ে ১৫টি শিশুসহ ৭০ জনের মতো নিহত হয়।
২০০৪ : ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) নামক ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের আক্রমণের শিকার হন বাংলাদেশি ভাষাবিজ্ঞানী, সাহিত্যক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ।

জন্ম :
০২৭২ : রোমান সম্রাট মহান কন্সট্যান্টাইন জন্মগ্রহণ করেন।
১৮০৭ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কবি ও শিক্ষাবিদ হেনরি ওয়েডসওয়ার্থ লংফেলো জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৩২ : সাংবাদিক আলফ্রেড পোলার্ড এডওয়ার্ড জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৪৬ : জার্মান ইতিহাসবিদ ও রাজনীতিক ফ্রানয এর্দমান মেহরিং জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৮১ : লাউৎসেন এখবার্টস ইয়ান ব্রাউয়ার, ওলন্দাজ গণিতবিদ।
১৯০২ : নোবেল পুরস্কার বিজয়ি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লেখক জন স্টাইন্‌বেক্‌ জন্মগ্রহণ করেন।
১৯১২ : ভারত বংশোদ্ভূত ফরাসি লেখক, কবি ও নাট্যকার লরেন্স ডুরেল জন্মগ্রহণ করেন।
১৯২৬ : নোবেল পুরস্কার বিজয়ি কানাডিয়ান নিউরোবায়োলজিস্ট ডেভিড হান্টার হুবেল জন্মগ্রহণ করেন।
১৯২৯ : ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার দালমা পেরেইরা দিয়াস দস সান্তোস জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৪০ : ভি বিশ্বনাধন, ভারতীয় চিত্রশিল্পী।
১৯৪২ : পুরস্কার বিজয়ি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রসায়নবিদ রবার্ট হাওয়ার্ড গ্রাবস জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৫৭ : ইংরেজ অভিনেতা টিমোথি স্পাল জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৭৮ : জর্জিয়ান ফুটবলার কাখা কালাডযে জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৮১ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গায়ক, গীতিকার, প্রযোজক ও অভিনেতা জশ গ্রবান জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৮৫ : রাশিয়া ফুটবলার ডিনিয়ার বিলইয়ালেটডিনভ জন্মগ্রহণ করেন।

মৃত্যু :
১৬৫৯ : হার্ভার্ড কলেজের প্রথম সভাপতি হেনরি ডানস্টের।
১৭৭৬ : স্কট চিত্রশিল্পী জর্জ ম্যামসন।
১৮৩৪ : প্রাবন্ধিক সমালোচক ও কবি চার্লস ল্যাম্প।
১৮৮৭ : রাশিয়ান সুরকার ও রসায়নবিদ আলেকজান্ডার বরডিন।
১৯৩১ : চন্দ্রশেখর আজাদ, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক বিপ্লবি (জন্ম : ২৩/০৭/১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ)।
১৯৩৬ : নোবেল পুরস্কার বিজয়ী রাশিয়ান শারীরবিজ্ঞানী ইভান পেত্রোভিচ পাভলভ।
১৯৪০ : জার্মান স্থপতি পিটার বারনেস।
১৯৫৬ : গনেশ বাসুদেব মাভালঙ্কার, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক বিপ্লবি ও লোকসভার প্রথম স্পিকার তথা অধ্যক্ষ (জন্ম : ২৭/১১/১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দ)।
১৯৬৫ : কার্তিকচন্দ্র দাশগুপ্ত, বাঙালি সাহিত্যিক ও সাংবাদিক (জন্ম : ০৬/০৮/১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দ)।
১৯৭৭ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লেখক জন ডিকসন কার মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৮৯ : নোবেল বিজয়ি অস্ট্রিয়ান প্রাণিবিজ্ঞানী কনরাড লরেঞ্জের।
১৯৯৩ : লিলিয়ান গিশ, মার্কিন অভিনেত্রী, পরিচালক ও লেখিকা (জন্ম : ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ)।
১৯৯৮ : নোবেল পুরস্কার বিজয়ি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানি জর্জ হার্বার্ট হিচিংস।
২০০২ : আইরিশ কৌতুকাভিনেতা, অভিনেতা ও লেখক স্পাইক মিলিগান মৃত্যুবরণ করেন।
২০১১ : নাজমউদ্দিন এরবাকান, তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী (জন্ম : ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ)।
২০১২ : শৈলেন মান্না ভারতের তথা পশ্চিমবঙ্গের কিংবদন্তি ফুটবল খেলোয়াড় (জন্ম : ০১/০৯/১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ)।
২০১৩ : জার্মান বংশোদ্ভূত ফরাসি কূটনীতিক ও লেখক স্টেফানে হেসেল মৃত্যুবরণ করেন।
২০১৫ : রাশিয়ান শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক ও প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী বরিস নেমটসভ।

খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আবুল মকসুদ আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : খ্যাতিমান কলামিস্ট, গবেষক, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ আর নেই।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

গণমাধ্যমকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন সৈয়দ আবুল মকসুদের ছেলে সৈয়দ নাসিফ মকসুদ।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বাংলাদেশের রাজনীতি, সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে নানা বই ও প্রবন্ধ লিখেছেন।

বিখ্যাত সাহিত্যিক ও রাজনীতিকদের জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণামূলক প্রবন্ধও লিখেছেন।

পাশাপাশি কাব্যচর্চাও করেছেন তিনি।

তাঁর রচিত বইয়ের সংখ্যা চল্লিশেরও ওপরে।

বাংলা সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৫ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দ আবুল মকসুদ ১৯৪৬ সালের ২৩ অক্টোবর মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার এলাচিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর বাবা সৈয়দ আবুল মাহমুদ ও মা সালেহা বেগম। শৈশব থেকে আবুল মকসুদ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পত্রিকা পড়ার সুযোগ পান।

সৈয়দ আবুল মকসুদের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৬৪ সালে এম আনিসুজ্জামান সম্পাদিত সাপ্তাহিক নবযুগ পত্রিকায় সাংবাদিকতার মাধ্যমে।

এটি ছিলো পাকিস্তান সোশ্যালিস্ট পার্টির মুখপত্র।

পরে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি সমর্থিত সাপ্তাহিক ‘জনতা’য় কাজ করেন কিছুদিন।

এর পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ বার্তা সংস্থায় যোগ দেন।

২০০৮ সালের ২ মার্চ বার্তা সংস্থার সম্পাদকীয় বিভাগের চাকরি ছেড়ে দেন।

তিনি দৈনিক প্রথম আলোর একজন নিয়মিত কলামিস্ট।

এই দৈনিকে ‘সহজিয়া কড়চা’ এবং ‘বাঘা তেঁতুল’ শিরোনামে তিনি সমাজ, রাজনীতি ও সাহিত্য-সংস্কৃতি নিয়ে নিয়মিত কলাম লিখতেন।

সৈয়দ আবুল মকসুদ সাহিত্যিক হিসেবেও খ্যাতিমান ছিলেন।

১৯৮১ সালে তাঁর কবিতার বই বিকেলবেলা প্রকাশিত হয়।

১৯৮৭ সালে তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ দারা শিকোহ ও অন্যান্য কবিতা প্রকাশিত হয়।

মানবাধিকার, পরিবেশ, সমাজ ও প্রেম নিয়ে কবিতা লিখেছেন সৈয়দ আবুল মকসুদ।

তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বুদ্ধদেব বসু, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রমুখ প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও রাজনীতিকদের জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা করেছেন।

আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে নিয়ে তিনি লিখেছেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর জীবন, কর্মকাণ্ড, রাজনীতি ও দর্শন (১৯৮৬) ও ভাসানী কাহিনী (২০১৩)।

ভাসানী কাহিনীতে তিনি ভাসানীর বৈচিত্র্যময় ও ঘটনাবহুল দীর্ঘ জীবন এবং তাঁর রাজনৈতিক দর্শন বর্ণনা করেছেন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহকে নিয়ে লিখেছেন সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর জীবন ও সাহিত্য (২০১১) ও স্মৃতিতে ওয়ালীউল্লাহ (২০১৪)।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ’র জীবন ও সাহিত্য গ্রন্থে তিনি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর জীবন ও তাঁর সাহিত্যকর্ম নিয়ে লিখেছেন।

এ ছাড়া তৎকালীন সময়ের সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক দিকগুলোও তুলে ধরেন।

২১ ছবিতে এবারের একুশে পদক

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘গৌরবদীপ্ত অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে’ এবার একুশে পদক পেয়েছেন ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক-২০২১ বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বিশিষ্ট নাগরিক ও তাঁদের প্রতিনিধিদের হাতে পদক তুলে দেন।

পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, এককালীন ৪ লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিল্পকলা, সাংবাদিকতা, সাহিত্য, শিক্ষা ও অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য একুশে পদক দেওয়া হয়ে থাকে।

ভাষা আন্দোলনে এ বছর মরণোত্তর একুশে পদক পেয়েছেন ৩ জন।

তাঁরা হলেন- মোতাহের হোসেন তালুকদার (মোতাহার মাস্টার), শামছুল হক ও আফসার উদ্দীন আহমেদ।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যও পদক পেয়েছেন ৩ জন। তাঁরা হলেন : সৈয়দা ইসাবেলা (মরণোত্তর), গোলাম হাসনায়েন ও ফজলুর রহমান খান ফারুক।

সঙ্গীতে পাপিয়া সারোয়ার, অভিনয়ে রাইসুল ইসলাম আসাদ ও সুজাতা আজিম, নাটকে আহমেদ ইকবাল হায়দার, চলচ্চিত্রে সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী এবং আবৃত্তিতে ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় এবার একুশে পদক পেয়েছেন।

সাংবাদিকতায় অজয় দাশগুপ্ত, আলোকচিত্রে পাভেল রহমান, গবেষণায় সমীর কুমার সাহা, শিক্ষায় মাহফুজা খানম, অর্থনীতিতে মির্জা আব্দুল জলিল এবং সমাজসেবায় অধ্যাপক কাজী কামরুজ্জামানকেও পদক দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভাষা ও সাহিত্যে কবি কাজী রোজী ও লেখক-গবেষক গোলাম মুরশিদের পাশাপাশি বুলবুল চৌধুরীও একুশে পদক পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী : বহুমূল্যেই বাঙালির প্রতিটি অর্জন, সেধে কেউ কিছু দেয় নি

বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ভাষার পথ ধরেই আমাদের স্বাধীনতা’ কথাটি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, সবকিছু বহুমূল্যেই বাঙালিকে অর্জন করতে হয়েছে। সেধে কেউ কিছুই দেয় নি।

‘বাঙালির মুক্তিসংগ্রাসের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পাকিস্তানিরা আমাদের ওপর একটি বিজাতীয় ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলো। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়েই ভাষার অধিকার এবং স্বাধীনতাসহ সবকিছু অর্জন করতে হয়েছে আমাদের। কেউ সেধে কিছু দেয় নি।’

শেখ হাসিনা শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে একুশে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৫২ সালের আন্দোলন কেবলমাত্র ভাষাভিত্তিক আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো না, এ আন্দোলন ছিলো সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।’

শেখ হাসিনা একুশে পদক প্রাপ্তদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজকে অমর ভাষা দিবসের যে স্বীকৃতি আপনারা পেয়েছেন তা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্যই পেয়েছেন। কাজেই আপনাদের কাছ থেকেই আগামী প্রজন্ম অনেক শিক্ষা নিতে পারবে।’

‘পুরস্কার দেশের শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা, সংস্কৃতি চর্চা ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন কাজে অবদানের জন্যই এই সম্মাননা। সেজন্য আমি মনে করি এটা শুধু আপনাদের সম্মাননা নয়, গোটা জাতির জন্য সম্মাননা। দেশের মানুষের জন্য সম্মাননা।’

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক রাজধানীর ওসামানী স্মৃৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২১ জন বিজয়ী বরেণ্য ব্যক্তির হাতে এ পদক তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।

জাতীয় ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিককে এবার একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তাঁদের নাম ঘোষণা করা হয়েছিলো।

এবার ভাষা আন্দোলনে ৩ জন; মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে ৩ জন; শিল্পকলায় ৭ জন; ভাষা ও সাহিত্যে ৩ জন; সাংবাদিকতা, শিক্ষা, গবেষণা ও অর্থনীতিতে একজন করে মোট ২১ জনকে একুশে পদক প্রদান করা হয়েছে।

ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য মরণোত্তর একুশে পদক দেওয়া হয়েছে মোতাহার হোসেন তালুকদার (মোতাহার মাস্টার), শামছুল হক ও অ্যাডভোকেট আফসার উদ্দীন আহমেদকে।

শিল্পকলায় পদক পেয়েছেন : কণ্ঠশিল্পী পাপিয়া সারোয়ার, অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ, সালমা বেগম সুজাতা (সুজাতা আজিম), আহমেদ ইকবাল হায়দার (নাটক), সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী (চলচ্চিত্র), ড. ভাস্বর বন্দোপাধ্যয় (আবৃত্তি), ও পাভেল রহমান (আলোকচিত্র)।

মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে গোলাম হাসনায়েন, ফজলুর রহমান খান ফারুক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দা ইসাবেলা (মরণোত্তর) পদক পেয়েছেন।

সাংবাদিকতায় অজয় দাশগুপ্ত, গবেষণায় অধ্যাপক ড. সমীর কুমার সাহা, শিক্ষায় বেগম মাহফুজা খানম, অর্থনীতিতে ড. মীর্জা আব্দুল জলিল, সমাজসেবায় অধ্যাপক কাজী কামরুজ্জামান, ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য কবি কাজী রোজী, বুলবুল চৌধুরী ও গোলাম মুরশিদ পদক পেয়েছেন।

পুরস্কার হিসেবে স্বর্ণপদক, সনদপত্র এবং ৪ লাখ টাকার নগদ অর্থের চেক প্রদান করা হয়েছে।

এবারের ২১ জনসহ এ যাবৎ মোট ৫২০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৩টি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক প্রদান করা হয়েছে।

আর ২০১৮ সাল থেকে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২১-এ উন্নীত করা হয়েছে।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম পদক বিজয়ীদের সাইটেশন পাঠ করেন এবং পুরস্কার বিতরণ পর্বটি সঞ্চালনা করেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বদরুল আরেফীন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, দেশ বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, কবি, সহিত্যিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা রক্ত দিয়ে শুধু মাতৃভাষার দাবি প্রতিষ্ঠা নয় স্বাধীনতা অর্জনের পথ করে দিয়েছিলো, আমরা তাঁদের প্রতি সম্মান জানাই।

তিনি এ সময় দেশব্যাপী কোভিড-১৯ টিকার পরও মাস্ক ব্যবহার, কিছুক্ষণ পর পর হাত ধোয়া এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টিও সকলকে স্মরণ করিয়ে দেন।

একুশে পদক পেলেন ২১ গুণীজন

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘গৌরবদীপ্ত অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে’ এবার একুশে পদক পেয়েছেন ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক-২০২১ বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বিশিষ্ট নাগরিক ও তাঁদের প্রতিনিধিদের হাতে পদক তুলে দেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ৪ ফেব্রুযারি ২০২১ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে।

পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, এককালীন ৪ লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিল্পকলা, সাংবাদিকতা, সাহিত্য, শিক্ষা ও অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য একুশে পদক দেওয়া হয়ে থাকে।

ভাষা আন্দোলনে এ বছর মরণোত্তর একুশে পদক পেয়েছেন তিনজন।

তাঁরা হলেন- মোতাহের হোসেন তালুকদার (মোতাহার মাস্টার), শামছুল হক ও আফসার উদ্দীন আহমেদ।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য পদক পান সৈয়দা ইসাবেলা (মরণোত্তর), গোলাম হাসনায়েন ও ফজলুর রহমান খান ফারুক।

সঙ্গীতে পাপিয়া সারোয়ার, অভিনয়ে রাইসুল ইসলাম আসাদ ও সুজাতা আজিম, নাটকে আহমেদ ইকবাল হায়দার, চলচ্চিত্রে সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী এবং আবৃত্তিতে ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় এবার একুশে পদক পেয়েছেন।

সাংবাদিকতায় অজয় দাশগুপ্ত, আলোকচিত্রে পাভেল রহমান, গবেষণায় সমীর কুমার সাহা, শিক্ষায় মাহফুজা খানম, অর্থনীতিতে মির্জা আব্দুল জলিল এবং সমাজসেবায় অধ্যাপক কাজী কামরুজ্জামানকেও পদক দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভাষা ও সাহিত্যে কবি কাজী রোজী ও লেখক-গবেষক গোলাম মুরশিদের পাশাপাশি বুলবুল চৌধুরীও একুশে পদক পেয়েছেন।

ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনপ্রান্ত থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও বিশিষ্ট নাগরিকদের পাশাপাশি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, মন্ত্রণালয়ের সচিব বদরুল আরেফীনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

একুশে পদক শনিবার : বাণি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক ২০২১ প্রদানের জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এতে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও তথ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিককে একুশে পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

তাঁরা হলেন : ভাষা আন্দোলনে মরহুম মোতাহার হোসেন তালুকদার (মোতাহার মাস্টার) (মরণোত্তর), মরহুম শামছুল হক (মরণোত্তর) ও মরহুম আফসার উদ্দিন (মরণোত্তর)।

শিল্পকলার মধ্যে সঙ্গীতে পাপিয়া সরোয়ার, অভিনয়ে রাইসুল ইসলাম আসাদ, সালমা বেগম সুজাতা (সুজাতা আজিম), নাটকে আহমেদ ইকবাল হায়দার, চলচ্চিত্রে সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী, আবৃত্তিতে ড. ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ও আলোকচিত্রে পাভেল রহমান।

এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে গোলাম হাসনায়েন, ফজলুল রহমান খান ফারুক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুমা সৈয়দা ইসাবেলা (মরণোত্তর)।

সাংবাদিকতায় অজয় দাসগুপ্ত, গবেষণায় ড. সমীর কুমার সাহা, শিক্ষায় মাহফুজা খানম, অর্থনীতিতে ড. মির্জা আব্দুল জলিল, সমাজসেবায় অধ্যাপক কাজী কামরুজ্জামান।

ভাষা ও সাহিত্যে কবি কাজী রোজী, বুলবুল চৌধুরী ও গোলাম মুরশিদ।

রাষ্ট্রপতির বাণি : ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি, শিল্প, সমাজ, গণমাধ্যম প্রভৃতি ক্ষেত্রে নিবেদিতপ্রাণ যেসব খ্যাতিমান বিশিষ্ট নাগরিক ‘একুশে পদক ২০২১’ পেয়েছেন তাঁদের আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

মহান ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিলো।

আমি সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যিনি ১৯৪৮ সালে মাতৃভাষার দাবিতে গঠিত ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর নেতৃত্ব দেন।

আমি ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা আন্দোলনসহ আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ সংগ্রামে অমর শহিদদের স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ভাষা-শহিদদের গৌরবদীপ্ত আত্মত্যাগের স্মৃতিবাহী দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্নক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বিশিষ্ট নাগরিকদের প্রতিবছর একুশে পদক প্রদান করে আসছে।

সম্মাননাপ্রাপ্ত গুণীজনেরা জাতির শ্রেষ্ঠসন্তান। তাঁদের সম্মানিত করার মধ্য দিয়ে দেশে মেধা ও মননচর্চার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হবে বলেই আমি মনে করি।

বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে এ দেশের ছাত্র ও তরুণসমাজ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

এক্ষেত্রে তাঁরা দিকনির্দেশনা পেয়েছেন সমাজের বুদ্ধিজীবি ও মুক্তমনা অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে।

এ বছর যাঁরা একুশে পদক পেলেন, তাঁরাও সেই চেতনা বর্তমান তরুণপ্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন।

আমি তাঁদের সৃষ্টিশীল অবদানের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করি।

আগামীতে এসব আলোকিত গুণীজন নিজ-নিজ কর্মক্ষেত্রে আরো উৎকর্ষের স্বাক্ষর রাখবেন-এ প্রত্যাশা করি।

জয় বাংলা।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

প্রধানমন্ত্রীর বাণি : ‘আবার এসেছে ফেব্রুয়ারি, ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার মাস। এসেছে মহান ভাষা-আন্দোলনের অমর শহিদস্মরণে একুশে পদক প্রদানের আনন্দঘন মুহূর্ত। একুশ মানেই মাথা নত না করা, একুশ মানেই একাত্তরের বিজয়ের দিকে দৃপ্ত পদক্ষেপে দুর্বার অভিযাত্রা, ভাষাভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনরাষ্ট্র বাংলাদেশ-প্রতিষ্ঠা।

১৯৫২ সালের একুশে আমাদের মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে যে সকল ভাষা শহিদ প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, আজ আমি তাঁদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি বাংলাভাষার মর্যাদাপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেতৃত্বদানকারী সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল ভাষাসৈনিকদের।

একুশের শহিদরা যেমন জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠসন্তান, তেমনি দেশের বিভিন্নক্ষেত্রের বিশিষ্ট গুণীজনও জাতির গর্ব ও অহংকার।

যদিও প্রকৃত গুণীজন পুরস্কার বা সম্মাননার আশায় কাজ করেন না, তবুও পুরস্কার বা সম্মননা জীবনের পথচলায় অনিঃশেষ প্রেরণা যোগায়।

একুশের চেতনাকে ধারণ করে দেশের শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির বিকাশ এবং আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে যাঁরা বিভিন্নক্ষেত্রে প্রভূত অবদান রাখছেন, তাঁদের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা গৌরবময় একুশে পদক প্রদান করছি।

ইতিপূর্বে প্রতিবছর বাংলাদেশের অল্পসংখ্যক বিশিষ্ট ব্যক্তিকে জাতীয়পর্যায়ে তাঁদের নিজ-নিজ ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদকে ভূষিত করা হতো এবং পদকপ্রাপ্তদের সম্মানি অর্থের পরিমাণও ছিল যৎসামান্য।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য ব্যক্তিদের পুরস্কার হিসেবে প্রদত্ত অর্থের পরিমাণ কয়েকদফা বৃদ্ধি করে ২০২০ সালে আমরা ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করেছি।

অনুরূপভাবে, আমরা ২০১৮ সাল থেকে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২১-এ উন্নীত করেছি। জাতীয় জীবনে বিভিন্নক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সাল পর্যন্ত ৪৯৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৩টি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক প্রদান করা হয়েছে।

এবারও আমরা ভাষা-আন্দোলনে ভূমিকা রাখার জন্য মরণোত্তর ৩ জন, মুক্তিযুদ্ধে ৩ জন, ভাষা-সাহিত্যে ৩ জন, শিল্পকলায় ৭ জনসহ সাংবাদিকতা-গবেষণা-শিক্ষা-অর্থনীতি ও সমাজসেবায় একজন করে মোট ২১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এই পদক প্রদানের জন্য মনোনীত করেছি।

যাঁরা মরণোত্তর পুরস্কার পাচ্ছেন, তাঁদের আত্মার শান্তি প্রার্থনা করছি, আর যাঁরা আজ পুরস্কার গ্রহণ করছেন তাঁদেরও আমার আন্তরিক অভিনন্দন
জানাই।

আমরা যে চেতনায় বলীয়ান হয়ে ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি এবং একই চেতনায় স্বাধীনতা অর্জন করেছি। সেই চেতনা এবং জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করে গত ১২ বছরে দেশের আর্থ-সামাজিক খাতের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা ২০২০-২১ সালব্যাপী মুজিববর্ষ উদযাপন করছি। আগামীমাসে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন করবো।

২০২১-২০৪১ পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি এবং ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ইনশাআল্লাহ, অচিরেই আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত, সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তবুদ্ধিচর্চার দেশ ‘সোনার বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করবো।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

অভিজিৎ হত্যা মামলার রায় : জিয়াসহ ৫ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড, ১ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বিজ্ঞান মনস্ক লেখক ব্লগার অভিজিৎ রায়কে হত্যা মামলায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধি বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ রায় দেন।

এ মামলায় অভিযুক্ত ৬ আসামির মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস্), আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

তারা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য।

অপর আসামি উগ্রপন্থি ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবীকে রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তাদেরমধ্যে মেজর জিয়া ও আকরাম পলাতক।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

ওইদিনই আদালত রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

২০১৯ সালের ১৩ মার্চ আদালতে এ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

এর পর একই বছর পহেলা আগস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর নির্দেশনা দেন আদালত। ওই বছরের ২৮ অক্টোবর অভিজিতের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক অজয় রায়ের সাক্ষ্যের মাধ্যমে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

অবশ্য একই বছর ৯ ডিসেম্বর অজয় রায় পরলোকগমন করেন।

গত ২০ জানুয়ারি মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ৩৪ সাক্ষীর মধ্যে মোট ২৮ জন সাক্ষ্য দেন।

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে অভিজিৎকে কুপিয়ে যখম করে সন্ত্রাসীরা।

আহতাবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

এ ঘটনায় অভিজিতের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক অজয় রায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বর্ষপূর্তিতে আলো জ্বালিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা গণজাগরণ মঞ্চের

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়া ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের ৮ম বর্ষপূর্তির দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদসহ বিভিন্ন সময়ে ঘাতকের হাতে নিহত প্রগতিশীল লেখক ও ব্লগারদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মঞ্চের সংগঠকরা।

শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আলোক প্রজ্জ্বালন করে শহীদদের স্মরণ করেন তাঁরা।

পরে এক সমাবেশ থেকে বক্তারা বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়সহ বিভিন্ন সময়ে মৌলবাদী শক্তির হাতে নিহত মঞ্চের সংগঠক, প্রগতিশীল লেখক ও ব্লগার হত্যার দ্রুত বিচারের দাবি জানান।

আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি লেখক অভিজিৎ হত্যার রায় ঘোষণা না হলে পরে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।

মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ও যুব ইউনিয়নের নেতা খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, ‘গণজাগরণ মঞ্চের জন্যই আজকে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্ভব হয়েছে। ওই জাগরণে আমরা আমাদের অনেক সহযোদ্ধাকে হারিয়েছি। আমরা আজকে তাঁদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। স্মরণ করছি, শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে, যাঁর জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এই মঞ্চ গড়ে উঠেছিলো। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।’

সমাবেশে মঞ্চের আরেক সংগঠক রবিন আহসান বলেন, ‘২০১৩ সালের পর আজ পর্যন্ত যেসব মুক্তচিন্তার পথিকদের হারিয়েছি, তাদের হত্যার কোনও বিচার হয় নি। প্রতিবার বলা হচ্ছে, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এগিয়ে চলছে। আগামি ১৬ ফেব্রুয়ারি লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার রায় দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তবে আমরা নিশ্চিত, সেদিন এই হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করা হবে না। আবার এই রায় পেছাবে। এভাবে আর কোনও হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে না।’

তিনি বলেন, ‘যেই লক্ষ্য নিয়ে এই গণজাগরণ মঞ্চ গঠিত হয়েছিলো, সেই লক্ষ্যে আমরা এখনও পৌঁছাতে পারি নি। সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে আমাদের একত্রে কাজ করতে হবে।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে মঞ্চের অন্যতম সংগঠক আকরামুল হক, অ্যাডভোকেট জীবনানন্দ জয়ন্ত, সঙ্গীতা ইমাম এবং এফ এম শাহীন উপস্থিত ছিলেন।

৫ ফেব্রুয়ারি : গণজাগরণ মঞ্চের সৃষ্টি হয়; শুভ জন্মদিন শার্নত রামপলইনং, অভিষেক বচ্চন, তেভেজ, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমার

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : আজ শুক্রবার; ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ; ২১ মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (শীতকাল)।

আজকের দিনটি গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের ৩৬তম দিন। বছর শেষ হতে আরও ৩২৯ দিন বাকি রয়েছে।

এইদিনে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের সৃষ্টি হয়।

আজকের দিনে জন্ম নেন ইংরেজ অভিনেত্রি শার্নত রামপলইনং, ভারতীয় চলচ্চিত্র তারকা অভিষেক বচ্চন, আর্জেন্টাইন ফুটবলার কার্লোস তেভেজ, পর্তুগীজ ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং ব্রাজিলীয় ফুটবলার নেইমার।

মৃত্যু দিবস তর্কবাগীশ গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্যের।

ঘটনাবলি :

    ১৬৪৯ : প্রিন্স অব ওয়েলস দ্বিতীয় চার্লস রাজা হন।

    ১৬৭৯ : জার্মানির সম্রাট প্রথম লিওপড ফ্রান্সের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেন।

    ১৭৮২ : ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্পেন মিনার্কো অধিকার করে।

    ১৭৮৩ : ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে ভূমিকম্পে ৩০ হাজার লোক মৃত্যুবরণ করেন।

    ১৭৯২ : টিপু সুলতান ব্রিটিশ ও হায়দারাবাদের নিজামের কাছে পরাজিত হয়ে মহীশূরের অর্ধেক এলাকা ব্রিটিশদের হাতে ছেড়ে দেন।

    ১৮১৭ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম গ্যাস কোম্পানি গঠিত হয়।

    ১৮১৮ : চতুর্দশ চার্লসকে সুইডেনের রাজা ঘোষণা করা হয়।

    ১৮৩১ : প্রসন্নকুমার ঠাকুরের সম্পাদনায় সাপ্তাহিক পত্রিকা দ্য রিফর্মার প্রথম প্রকাশিত হয়।

    ১৮৭২ : ভারত সংস্কারক সভা কর্তৃক ‘ভারত আশ্রম’ প্রতিষ্ঠিত হয়।

    ১৮৮৯ : গৌরহরি সেনের উদ্যোগে কলকাতার বিডন স্ট্রিটে ঐতিহাসিক চৈতন্য লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয়।

    ১৯০০ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে পানামা খাল নিয়ে চুক্তি হয়।

    ১৯২২ : ভারতে বৃটিশ শাসনামলে অসহযোগ আন্দোলনের সময় আজকের দিনে চৌরী-চৌরা ঘটনা, ১৯২২ উত্তরপ্রদেশে পুলিশের নির্যাতন সংগঠিত হয়। পারিবারিক মার্কিন পত্রিকা ‘রিডার্স ডাইজেস্ট’প্রথম প্রকাশিত হয়।

    ১৯২৩ : অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার বিল পন্সফোর্ড প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪২৯ রান করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন।

    ১৯৩৭ : চার্লি চ্যাপলিন অভিনীত প্রথম সবাক চলচ্চিত্র মডার্ন টাইমস মুক্তি পায়।

    ১৯৫৮ : নতুন সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে জামাল আবদেল নাসের মনোনিত হন।

    ১৯৬৬ : লাহোরে আহুত ‘সর্বদলীয় জাতীয় সংহতি সম্মেলন’ এ শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেন।

    ১৯৭৪ : জাতীয় সংসদে বিরোধী ও স্বতন্ত্র সদস্যদের ওয়াক আউটের মুখে একতরফাভাবে বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিল পাস করা হয়।

    ২০১৩ : যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের সৃষ্টি হয়।

জন্ম :

    ১৭৯৯ : ইংরেজ উদ্ভিদবিজ্ঞানী জন লিন্ডল জন্মগ্রহণ করেন।

    ১৮৪০ : টায়ারের উদ্ভাবক জন ব্যুও ডানলপ জন্মগ্রহণ করেন। (মৃত্যু : ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ)।

    ১৮৬৬ : স্কটিশ নৃতাত্ত্বিক স্যার আর্থার কিথ জন্মগ্রহণ করেন।

    ১৮৮৮ : ওলন্দাজ চিত্রশিল্পী আন্তন মাউভ ।

    ১৮৯৪ : বাংলার নারী আন্দোলনের অগ্রগণ্য কর্মী আশালতা সেন জন্মগ্রহণ করেন। (মৃত্যু : ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ)।

    ১৯১৪ : নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ শারীরবিজ্ঞানী অ্যালান লয়েড হজকিং জন্মগ্রহণ করেন।