Category: সম্পাদকীয়

টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া আপাতত বন্ধ করে দিন

সম্পাদকীয় মত, বাংলা কাগজ : যাঁরা যাঁরা প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাঁদের সকলকে নির্বিঘ্নে দ্বিতীয় ডোজ প্রদান করার লক্ষ্যে আপাতত প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ করে দিন। কারণ সাধারণ মানুষ অন্তত এটা বুঝবে, যাঁরা এখন প্রথম ডোজ নেবেন, তাঁরা যদি দ্বিতীয় ডোজ সঠিক সময়ে নিতে না পারেন, তাহলে টিকার কার্যকারিতা তাঁদের প্রতি বিরূপ হতে পারে। সুতরাং প্রথম ডোজ বন্ধ করে দিয়ে যাঁরা এ পর্যন্ত প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাঁদের সকলকে দ্বিতীয় ডোজ দিন। এক্ষেত্রে সরকারের তথ্য বিবরণির ১৩ তারিখের তথ্য প্রদান করা যায় :

দুঃখ প্রকাশ

প্রিয় পাঠক,
আমরা সব সময় বস্তুনিষ্ট ও নির্ভুল প্রতিবেদন এবং সম্পাদকীয়ই আপনাদেরকে উপহার দিতে চাই।

অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে ৪ এপ্রিল বাংলা কাগজে ‘বাংলা কাগজ’র সম্পাদকীয়কে প্রাধান্য দিয়ে লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারি করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন সম্পাদক’ শীর্ষক সম্পাদকীয়ের শেষ লাইনে ‘এর আগে রবিবার (৪ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশের লকডাউন ও কিছু পরামর্শ শিরোনামে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে করে বাংলা কাগজ’ প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে এটি হবে ‘এর আগে রবিবার (৪ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশের লকডাউন ও কিছু পরামর্শ শিরোনামে একটি সম্পাদকীয় মত প্রকাশ করে বাংলা কাগজ।’

যা সুযোগ থাকায় ইতোমধ্যেই সংশোধিত করে প্রকাশ করা হয়েছে।

অনিচ্ছাকৃত এ ভুলের জন্য পাঠক আমরা ক্ষমাপ্রার্থি।

সম্পাদক ও প্রকাশক।

করোনায় আক্রান্তের ‘ভুয়া সংখ্যা’ নিয়ে সাবধান হোন এখনই, না হয় সামনে পস্তাতে হবে

সম্পাদকীয় মত, বাংলা কাগজ : করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যার প্রথমে একটি ‘৯’, শেষে একটি ‘৯’ অথবা শেষ দুটো সংখ্যার যোগফল ‘৯’ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কী বোঝানো হচ্ছে, তা কি সাধারণ মানুষ বোঝে না! অবশ্যই বোঝে। মনে রাখবেন, সাধারণ মানুষ যখন জেগে উঠবে; তখন কিন্তু কোনও কিছুতেই বাধ মানবে না।

তাই বলি, করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে যে বা যাঁরাই এতোদিন ধরে কারসাজি করে থাকুন না কেনো, শুধরে যান; ভালো হয়ে যান। না হয় অদূর ভবিষ্যতে আপনার বা আপনাদের এমন হাল হবে; যা কখনো চিন্তাও করতে পারেন নি।

সুতরাং সাধু সাবধান।

বলছি তবে, বৈ কি! কারণ ইউরোপ বা ওই অঞ্চলের মতো আবহাওয়া কিংবা জলবায়ু নয় আমাদের। তাই সেসব অঞ্চলে করোনার হার বেশি হলেও আমাদের দেশে আক্রান্তের সংখ্যা তাদের মতো পাল্লা দিয়ে বাড়ার কথা নয় কোনোভাবেই।

আরে ভাই, বলেন তো, ওই টিকাওয়ালার পকেটে টাকা-ডলার পুরে আপনার কি লাভ! আচ্ছা, মানলাম আপনার কিছু লাভ আছে। কিন্তু সেটা অন্যভাবে করুন না। নগ্নভাবে বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তের হার বাড়িয়ে দিয়েই কি করতে হবে!

একটা বিষয় মনে রাখবেন, মানুষ এমন একটি প্রাণি; তার ওপর অত্যাচার-অবিচার করলে, সেটি ফিরে আসে নিজের ওপর; খুব তাড়াতাড়িই।

সুতরাং এখনই শপথ নিন; এ ধরনের নোংড়ামি আর নয়।

পাঠকের কলাম : সমকালীন ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি এবং আমাদের বাস্তবতা

তাহেরা চৌধুরী : বর্তমান বিশ্বের সব থেকে আলোচিত ব্র্যান্ডিং ধারণাগুলোর একটি ব্লু ওশান স্ট্র্যাটেজি। এর আক্ষরিক অনুবাদ নীল সাগরের কৌশল। পাঠক চমকে উঠে যদি প্রশ্ন করেই বসেন, ব্যবসা করতে আবার সাগর কেনো? তাঁদের প্রশ্নের সহজ উত্তর হতে পারে, বিশ্বের আলোচিত এই ব্যবসায়িক কৌশল মূলত কম দামে বাহারি পণ্য সামগ্রি ক্রেতা বা ভোক্তার হাতে পৌঁছানোকেই বুঝায় মূলত। অপরদিকে যেখানে গতানুগতিক ধারার একই পণ্যের ব্যবসা আলাদা আলাদা উচ্চমূল্য নির্ধারণের বৃত্তে আটকে থাকে।

ব্লু ওশান স্ট্র্যাটেজির প্রধান আলোচ্য বিষয় : একটা ব্যবসায়িক ধারণার ভেল্যু ইনোভেশন করা। হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক কিম এবং মার্বগেন এর মতে, ভেল্যু ইনোভেশন একটা ব্যবসায়িক উদ্যোগকে সবার থেকে আলাদা করতে পারে। সৃষ্টি করতে পারে অপার নতুন সম্ভাবনা।

আবার এই ভেল্যু ইনোভেশনই একটা ব্যবসায়িক উদ্যোগকে সমাজের প্রচলিত ব্যবসার সঙ্গে টিকে থাকার প্রতিযোগিতায় নামাতে পারে। যেখানে প্রফিট মার্জিন বা ব্যবসায়িক সাফল্য আর দশটা উদ্যোগের কাছাকাছিই হয়।

যদি সহজ বাক্যে বলতে হয়, তাহলে আপনার ব্যবসায়িক উদ্যোগ গতানুগতিক না হয়ে যদি একটু ভিন্ন ধাচের হয়; তখন আপনার ব্যবসার সরাসরি কোনও প্রতিপক্ষই নেই। ফাঁকা মাঠে পেশাদার খেলোয়াড় আপনি নিজেই। বাকি কাজ গোলের হিসাব রাখা।

ভিনদেশি ব্যবসায়িক উদ্যোগের উদাহরণ টেনে ব্যাপারটার একটু খোলাসা করি : ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সালে বেলজিয়ামে আমাদের কোচিং সেন্টারগুলোর মতো ব্যাপক পরিমাণে ছিলো মুভি থিয়েটারের ব্যবসা। আর থিয়েটার ব্যবসা ওখানে নতুন কিছু নয়। আবার ব্যবসায়িক ধারণা প্রায় আমাদের কাছাকাছি। এক্ষেত্রে ধনি লোকদের জন্য একটু বেশি আরামদায়ক চেয়ার আর মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্নবিত্তদের জন্য আরেকটু নিম্নমানের চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো।

যেহেতু ব্যবসায়িক ধারণা ছিলো আমাদের কাছাকাছি; সুতরাং তাঁদের প্রফিট মার্জিনও ছিলো প্রায় এক।

১৯৮০ সালের দিকে টেলিভিশন আর স্যাটেলাইটের আবিষ্কার মানুষের সিনেমা হলে যাওয়াতে অনীহার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তখন বেলজিয়ামের থিয়েটার ব্যবসায় এক ধরনের ধস নেমে আসে।

আবার যেহেতু প্রায় সবার প্রফিট মার্জিন কাছাকাছি; একটা দুইটা জায়ান্ট কোম্পানি ছাড়া; তাই প্রায় সবাই শীতের পাতার মতো ঝড়ে পড়লো।

বাকি রইলো কিছু জায়ান্ট কোম্পানি; যাঁরা নিজেদের সর্বস্ব ব্যবসা করতে শুরু করলো।

তখন সবাই একই ধরনের স্ট্র্যাটেজি হাতে নিলো, সাধারণ সিনেমা থিয়েটার থেকে মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল হলো ফুড, পানীয় ইত্যাদির জমজমাট আয়োজন।

ব্যবস্থা হলো আরও আরামদায়ক সিটের।

এইসব ব্যবস্থা করতে গিয়ে সিনেমা টিকিটের দাম হু হু করে বাড়তে লাগলো।

হিতে বিপরীত হওয়া বাক্যটির সফল ব্যবহার যাকে বলে, সাধারণ মানুষের কাছে সিনেমার কদর আরও কমে গেলো।

কিন্তু ভয়াবহ এই অর্থনৈতিক অবস্থায় ভেল্যু ইনোভেশন তথা ‘ব্লু ওশান স্ট্র্যাটেজির ভেল্কিবাজি’ দেখালেন বার্ট ক্লে নামক এক থিয়েটার ব্যাবসায়ি।

যিনি সাধারণ সিনেমা থিয়েটার কিংবা মাল্টিপ্লেক্স সিনেমার বদলে নিয়ে আসলেন মেগাপ্লেক্স সিনেমা হলের ধারণা। সিনেমার নাইট শোয়ের বদলে চালু করলেন ইভিনিং শো। ছোট আনমুভএবেল চেয়ার এর জায়গায় দখল করে নিলো মুভেবল আরাম চেয়ার।

এই চেয়ারের ব্যবহারের ফলে যে কোনও একজনকে না সরিয়েই অন্যজন সহজেই যাতায়াত করতে পারতেন। আবার জায়গা বড় হওয়ায়; যে কেউ কাজের পরে একটু বিশ্রাম নিতে পারতো; ফলে কারও কোনও ধরনের ঝামেলা (ডিস্টার্ব) হতো না।

এর ফলে একসঙ্গে দুই কাজ (রথ দেখাও হলো; কলা বেচাও হলো) হয়ে যেতো।

যার ফল পুরা ব্রাসেলসের (বেলজিয়ামের রাজধানি) প্রায় ৪০ শতাংশ সিনেমা ব্যবসা তাঁদের হাতে চলে আসে প্রথম বছরেই।

ভাবছেন কেনো এসব তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে লিখছি?

তবে উত্তর দিই।

বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা আরও সহজ ভাষায় বলতে গেলে ফেসবুক ব্যবহার করে ব্যবসায়িক উদ্যোগ হু হু করে বাড়ছে। ব্যাপারটা অনেকটা আশার সঞ্চার করেছে। পরিচিত, অপরিচত, আধা পরিচিত বন্ধু আত্মীয়-স্বজন অনেকেই এখন নিজেদের ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে ব্যবসা করছেন হরেক রকম পণ্য।

খুব সহজেই ম্যাসেঞ্জারে নক করে পেইজটি লাইক কিংবা শেয়ার করছেন।

এর সবগুলো ব্যাপারই পজিটিভ। কিন্তু হতাশার কারণ হচ্ছে সম্প্রতি বাংলাদেশে বিষয়টিতে করারোপের কথা বলা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। তখন ফেসবুক ব্যবহার করে ব্যবসা করতে গেলেও দিতে হবে কর। ফলাফল : ফেসবুক ব্যবহার করে পণ্যের দাম, লোকাল বিক্রির সমান।

এ কারণে ব্যবসায়ের জন্য নির্ধারণ করা যেতে পারে আলাদা ভেল্যু ইনোভেশন। সবার থেকে আলাদা করতে পারেন আপনার প্রফিট মার্জিন।

লেখক : সাবেক শিক্ষার্থি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

তাহলে কি আপনাকে নিয়ে উঠা গুজব সঠিক, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী?

সম্পাদকীয় মত, বাংলা কাগজ : তাহলে কি আপনাকে নিয়ে উঠা গুজব সঠিক, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী? আপনাকে নিয়ে কি গুজব উঠেছে জানেন? আপনাকে নিয়ে গুজব উঠেছে, আপনি নাকি ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেদিন খোলা হবে, সেদিন প্রত্যেক শিক্ষার্থিকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। আর এখন সেটি সম্ভব হচ্ছে না বলেই আপনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে চাইছেন না।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আমরা কি আপনাকে নিয়ে এমন অপবাদ মেনে নিতে পারি? বলেন, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী?

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আপনি কি জানেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে গুজব রটানো হচ্ছে, ৩০ মার্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে না বিষয়টি মানুষ আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলো। কারণ তাঁরা দেখেছে, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার তারিখ দেওয়া হয়েছে ২৪ মে।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষার্থিদের প্রতি দরদ বা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ভাবনার ব্যাপারে আপনার তো কপালে কোনও প্রকার ভাজ করোনাকালে এ পর্যন্ত চোখে পড়লো না!

তাহলে যে গুজব রটেছে, সেটা কি সঠিক?

গুজবকারিরা বলছেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর কাছ থেকে একটি বড় অংকের টাকা নিচ্ছেন। যা আসছে অনলাইনে ক্লাস করানোতে যে পরিমাণ ইন্টারনেট খরচ হয়, তার একটা পারসেন্টেজ হিসেবে।’

আমরা কি তবে এমন কথা শোনার অপেক্ষায়ই ছিলাম মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী?

সরকারের উদ্দেশে বাংলা কাগজ বলতে চায়, করোনাভাইরাস রোধে ভারতের সেরাম থেকে আনা টিকা গ্রহণ করার পরও দেশে সংক্রমণের হার বাড়ছে। এ খবর সাধারণ মানুষের মাঝে বড় ভীতি তৈরি করছে। এতে মানুষ টিকা গ্রহণে ‘চরম’ নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

এ নিরুৎসাহিত হওয়া আবার বাড়তে পারে, যখন কেউ শুনেন, করোনাভাইরাসের টিকা গ্রহণের পরও কোনও এক বিশিষ্ট ব্যক্তি আবার করোনায় আক্রান্ত হয়েই মারা গেলেন। আর এমনটি হলে তো মানুষ টিকা নেবে না।

তাই বাংলা কাগজ বলতে চায়, এখনই সময় করোনাভাইরাসের পরিক্ষা বা এর ফল নিয়ে কেউ কারসাজি করছে কি-না, তা খুঁজে বের করুন অবিলম্বে। কারণ শাহেদ-সাবরীনাদের মতো মানুষ এখনও থাকতে পারে দুই-একজন।

সবমিলে বাংলা কাগজ’র কাছে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষকে ভারতের টিকা প্রদানের ফলে দেশে মূলত সংক্রমণের হার কমতির দিকেই। এক্ষেত্রে আমরা জনাব জো বাইডেনের মতো কিছুদিন পরই বলতে পারার কথা, কবে নাগাদ দেশ থেকে করোনা নির্মূল হচ্ছে।

তবে এরপরও আমাদের মনে রাখতে হবে, করোনা সম্পূর্ণ নির্মূল হলেও কিন্তু আমাদের সকলকে টিকা নিতেই হবে। কারণ এটি একটি রোগ প্রতিরোধি টিকা।

এ অবস্থায় আবারও বলি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, যখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের সকল কার্যক্রম চালানো ছাড়া গতি নেই; ঠিক তখন আবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে আপনার ভিন্ন রকম মন্তব্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খোলার ব্যাপারেই ইঙ্গিত বহন করে।

এখন আপনিই প্রমাণ করুন, সেটি অসত্য।

নূরের ব্যাপারে ডিজিটাল মামলার প্রতিবেদন ও মুশতাকের মৃত্যু

সম্পাদকীয় মত, বাংলা কাগজ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের ব্যাপারে ডিজিটাল আইনে মামলার প্রতিবেদনের তারিখ ১৫ মার্চ নির্ধারণ করা হয় গত বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি)।

একই তারিখে রাত্রিবেলা মারা যান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় বিচারের মুখে থাকা মুশতাক আহমেদ।

এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, দেশ যখন ভালোভাবেই এবং অনেক ভালোভাবে চলছে, তখন সরকার কেনো নিজের পায়ে নিজেই কুঠার মারতে যাবে?

কেনো সরকার মুশতাককে হত্যা করবে? কারণ মুশতাক তো জেলেই রয়েছেন, তাই তিনি তো চাইলেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনও মাধ্যমে তাঁর বিতর্কিত লেখা প্রকাশ করতে পারছেন না। আর জেলের বাইরে থাকলেই কি সরকার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে? তাহলে এ প্রশ্ন উঠছে কেনো?

এমন অবস্থায় সার্বিকভাবে জানার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, নুরুল হক নূরের ব্যাপারে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার প্রতিবেদন দেবার তারিখ নির্ধারণ হবার দিনেই কেনো মারা যাবেন মুশতাক আহমেদ।

সাধারণভাবে এবং মূলত মুশতাক আহমেদের মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই হওয়ারই কথা। আর যদি একটুও অস্বাভাবিকতা থাকে, তাহলে কেনো সেই অস্বাভাবিকতা, তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা দরকার।

কারণ আমরা জানি, বিএনপি যখন আন্দোলন সংগ্রামে ব্যর্থ, ঠিক সেই মুহূর্তে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের টাকায় ‘রাজনীতি করা’ এবং ‘বঙ্গবন্ধুর স্টাইল নিয়ে’ রাজনীতি করে বঙ্গবন্ধুকেই ডোবানোর চেষ্টা করা সেই নূর গংরা এই মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত কি-না, তা খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

২. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আন্দোলন চলতে পারে বা এর সংশোধনও হতে পারে। তবে কোনোভাবেই চলতে পারে না গুজব রটিয়ে মানুষ হত্যা, বাড়ি বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ-লুটপাট।

চলতে পারে না কোনও ব্যক্তিকে চাঁদে দেখা গেছে বলে দেশে নাশকতার ঘটনা। তাই দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজন রয়েছে; অবশ্যই রয়েছে।

তবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু ধারা, যেগুলো আমাদের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক; সেগুলোর সংশোধন করা যেতে পারে।

৩. একাত্তর টিভির এক সাংবাদিককে নুরুল হক নূর কয়েকদিন আগে হুমকি দিয়েছিলেন, তিনি তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয় ভাইরাল করে দেবেন।

এ অবস্থায় নারি নির্যাতন বা নারি নির্যাতনে সহযোগিতা বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে নারি নির্যাতন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় অভিযুক্ত হতে পারেন নুরুল হক নূরও।

যদিও তিনি ইতোমধ্যে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তির কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন।

তবে তিনি যদি নারি নির্যাতনের মতো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বা সহযোগি বা ভুল তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রদানের মাধ্যমে ওই নারিকে হেয় প্রতিপন্ন করা ছাড়াও ঘটনা ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই অভিযুক্ত হতে পারেন নূর।

আর নুরুল হক নূরও অবশ্য অপরাধি হতেন না যদি না ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো কোনও আইন দেশে না থাকতো।

এতে যে যার মতো করে গুজব রটিয়ে দেশের মানুষের শান্তি বিনষ্টে অপপ্রয়াস চালাতে পারতো যে কোনও সময়। কিন্তু এখন আর তা সম্ভব নয়।

৪. মার্চের প্রথমদিনে আপনার উদ্দেশেই বলতে চাই নূর, দেখুন জাতির পিতার জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না। আর আপনি কি-না জাতির পিতাকে নিয়ে, তাঁর পরিবারকে নিয়ে কথা বলেন!

হ্যাঁ, বলতে পারতেন যদি আপনার কাছে কোনও প্রমাণ থাকতো।

এর পরও কেনো আপনি মুশতাকের মৃত্যুর ঘটনায় জাতির পিতার কন্যাকে হুকুমের আসামি করার মতো কথা বলেছেন?

অতীতে কোনও ছাত্রনেতা আপনার মতো এমন বেফাঁস কথা বলেছেন কি-না আমার জানা নেই।

আপনার উদ্দেশে বলতে চাই, আপনি একাত্তর টিভিকে বয়কটের ঘোষণা দিয়ে যেমনিভাবে সকল গণমাধ্যমের রোষাণলে পড়েছিলেন, তেমনি নারি নির্যাতন সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার অপরাধ প্রমাণিত হলে আপনার পক্ষে কিন্তু একজন সুশীলও কথা বলবেন না, সেটা আপনি নিশ্চিত থাকুন। নিশ্চিত থাকুন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে ভবিষ্যতে আন্দোলন চললেও কোনও সুশীল আপনার অপরাধের কারণে আপনাকে মুক্ত করে দেওয়ার কথা বলবেন না।

সুতরাং আপনি বাক্‌-স্বাধীনতার কথা বলে ‘স্বাধীনতা বিরোধিদের সঙ্গে আঁতাত করে’ যখন ইচ্ছে স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তিকে গালাগাল দিয়ে যাবেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপরাধ করে যাবেন, এমনটি আর চলতে পারে না; চলতে দেওয়া যায় না।

শিক্ষামন্ত্রীর ‘অবিবেচক বাড়তি কথা ও ভুল সিদ্ধান্ত’ এবং আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা

কালাম আঝাদ, সম্পাদক ও প্রকাশক; বাংলা কাগজ : আমাদের শিক্ষামন্ত্রীর নাম ডা. দীপু মনি, এমপি, এমবিবিএস (ডিএমসি), এলএলবি (এনইউ), এলএলএম (লন্ডন), এমপিএইচ (জন্স হপকিনস)))))।

ঠিক এতোসব ‘মেডিক্যাল ডিগ্রি থাকার পরও’ কোন দেশের একজন ব্যক্তি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রয়েছেন, তা আমার জানা নেই।

আবার দেখা যায়, আমাদের দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও ডাক্তার নন।

অবশ্য এ ধরনের অনেক উদাহরণ রয়েছে যে, যে বিষয়ে যিনি যোগ্য-অভিজ্ঞ, তিনি সেই পদে নেই।

আমি যখন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থি ছিলাম, তখন (২০১২ সালের আগে) এর আগের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। আমার মনে আছে, সেদিন ছিলো পহেলা ফাল্গুন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন।

তো আমাদের শোভাযাত্রার সময় দেওয়া হয়েছিলো সকাল ১০টায়। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী ক্যাম্পাসে হাজির হয়েছিলেন ঠিক সকাল ৯টায়।

এর পর ১০টারও ১৪ মিনিট আগেই শিক্ষামন্ত্রী উপাচার্যের কক্ষ থেকে বের হয়ে যান শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার জন্য। শুরু হয়ে যায় শোভাযাত্রা। তাতে অনেক শিক্ষকই শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারেন নি। এ কথাটি বললাম, আমাদের আগের শিক্ষামন্ত্রীর সময়ানুবর্তিতা আর বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর সময়জ্ঞান বোঝানোর জন্য।

যাক, আমাদের দেশে বর্তমান জনসংখ্যা কমবেশি ১৮ কোটি। এ হিসাবে তাঁদেরকে দুই ডোজ করে টিকা দিতে হলে প্রয়োজন ৩৬ কোটি টিকা। আর মাসে ৫০ লাখ করে যদি ডোজ আসে, তাহলে সময় প্রয়োজন ৭২ মাস বা ৬ বছর।

এক্ষেত্রে আমাদের দেশের সকল মানুষকে টিকার আওতায় আনতে সময় লাগবে ৬ বছর, যদি বর্তমান অবস্থা চলতে থাকে।

কিন্তু এ অবস্থা থাকবে না; অবশ্যই থাকবে না। কারণ আমরা আরও বেশি করে টিকা পাবো এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যেই পাবো। পাশাপাশি দ্বিতীয় ডোজও সকল মানুষই পাবে প্রথম ডোজের ৩ সপ্তাহের (সরকারের ঘোষণা, দেবে ২ সপ্তাহের মধ্যে) মধ্যেই।

এখন আসি, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার কথায়। আচ্ছা, করোনাভাইরাসের টিকাগুলো দেওয়ার ক্ষেত্রে ফ্রন্টলাইনারদের সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থিদের কেনো অগ্রাধিকার দেওয়া হলো না? আমরা জানি, ২৪ থেকে ২৫ বছর বয়সেই যে কেউ ভালো ফলের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রভাষক হিসেবে নিয়োজিত হতে পারেন।

মূলত আমাদের দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠি শুরু হওয়ার বয়সের প্রথম অংশ (শুরু) এটিই। এর পরও টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ বছর এবং তার বেশি। এক্ষেত্রে টিকা কম থাকার কারণে অন্তত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থিদের অগ্রাধিকার দেওয়া যেতো, বৈকি!

কারণ এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষকদের ফ্রন্টলাইনার হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না। ফলে তাঁরা কবে টিকা পাবেন, সেটাও জানেন না।

আর শিক্ষার্থিরা যেনো আরও দূরে।

এ অবস্থায় আমরা দেখছি, বর্তমানে দেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয় উত্তাল অবস্থায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থিদের একটাই দাবি, তাঁদের হল খুলে দেওয়া।

তাঁদের দাবি, ক্যাম্পাসে তাঁদের পরীক্ষা নেওয়া হলেও হলগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। তাই তাঁদেরকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে ক্যাম্পাস থেকে দূরে ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। আর ক্যাম্পাসে আসতে হচ্ছে লোকাল বাসে করে। ফলে তাঁদের ব্যাপারে যে করোনার ঝুঁকির কথা বলা হচ্ছে, সেটি আসলেই ‘ভোগাস’।

কারণ তাঁরা হলে থাকলে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি থেকে যতোটা বাঁচতে পারতেন, ক্যাম্পাসের বাইরে থাকাতে সেটি আর সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে, দেশে স্বায়ত্তশাসিত ৪টিসহ মোট ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থি সংখ্যা প্রায় সোয়া ৮ লাখ।

আর দেশের ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থি সংখ্যা ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩৩ জন থেকে এক বছরে বেড়ে হয়েছে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৯২ জন।

এ হিসাবে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী সংখ্যা কমবেশি ১২ লাখ। শিক্ষক মিলে এ সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখের বেশি হবে না কোনোভাবেই।

তাই তাঁদের সবাইকে টিকা প্রয়োগ করে ক্যাম্পাস চালু করতে বর্তমানে আমাদের টিকার প্রয়োজন সাড়ে ১২ লাখ। কারণ তাঁদের সবাইকে পরের ডোজ দেওয়া যাবে দুই সপ্তাহ পর। এরমধ্যে দেশে থাকা ৭০ লাখ টিকার মধ্যে ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত টিকা গ্রহণ করেছেন ২৩ লাখ ৮ হাজার ১৫৭ জন। সবমিলে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধনকারির সংখ্যা বাদ দিয়েও আমরা পাবলিক-প্রাইভেট সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থিকেই টিকা দিতে পারতাম।

তাই আমাদেরকে ২৪ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করার যৌক্তিক কোনও কারণ ছিলো না। এখন এ কারণেই মূলত শিক্ষার্থিদের আন্দোলন।

আমাদের বুঝতে হবে দেশে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি মানুষের হার মোট আক্রান্তের ৫৫ শতাংশ।

এতে দেখি ৪০ বছরেরও কম বয়সি মানুষ যেমন বেশি, তেমনি আক্রান্তের হারও বেশি।

আমরা জানি, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৬৮ শতাংশ মানুষই ১৫ থেকে ৫৯ বছরের। জনমিতির পরিভাষায় : তাঁরা হলেন, ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট’। অর্থাৎ বাংলাদেশে এখন নির্ভরশিল জনগোষ্ঠির চেয়ে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠিই বেশি।

আমাদের দেশে বর্তমানে প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজগুলো খোলা রয়েছে। ক্লাস চলছে মাদরাসায়ও। সুতরাং তাঁদেরকেও করোনার টিকার আওতায় আনা উচিত।

পলিটেকনিকগুলোর কথাও আমাদের ভুললে চলবে না।

আমার কাছে হাস্যকর মনে হয়, যখন দেশের আইনে আছে (ছিলো) পরীক্ষা ছাড়া ফল প্রকাশ করা যাবে না। তখন শুধু উচ্চ মাধ্যমিকের ফল দেওয়াই নয়, কোনও ক্লাসের প্রমোশন দেওয়ার আইনগত ভিত্তি নেই শিক্ষামন্ত্রীর। কারণ প্রমোশন দিতে গেলে ফলের প্রয়োজন পড়ে। এক্ষেত্রে অবশ্য আগের ক্লাসের রোল নম্বর রাখার কথা বলছেন শিক্ষামন্ত্রী। তবুও বিষয়টি ঠিক হয় নি। কারণ আমরা সকলেই জানি, আবার শিক্ষামন্ত্রী আরও বেশিভালো করেই জানেন, এর পরও তিনি উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা নিলেন না।

আমরা প্রয়োজনে এ বছর উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থিদের পরীক্ষা নিতাম। কিন্তু পরীক্ষা ছাড়া ফল দেওয়াতে উচ্চমাধ্যমিকের ‘অবুঝ’ (কারণ তাঁরা ভবিষ্যতের অনেক বিষয় সম্পর্কেই জানেন না) শিক্ষার্থিদের অনেকেই খুশি হলেও তাঁরা উচ্চশিক্ষায় গিয়ে পড়বেন বিপদে। কারণ আমরা ভালো করেই জানি, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ১০ বছর একদিকে আর ২ বছরের উচ্চমাধ্যমিক সম্পূর্ণ অন্যদিকে।

আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল বিষয়ে আইন পাশ হবার আগেই শিক্ষামন্ত্রী কোনোভাবেই বলতে পারেন না, ‘এর পর আমাদের এ বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আমরা আইনটি পাশ করতে চাই।’

তাহলে কি শিক্ষামন্ত্রী সুনিশ্চিত যে আইনটি পাশ হবেই! এটা তিনি বলেন কী করে! তাহলে সংসদের কী প্রয়োজন!

আবার দেখছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে যখন ইউজিসি হল ও ক্যাম্পাস খোলার বিষয়ে সভা করবে, তার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে হল ও ক্যাম্পাস খোলার ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

আমাদের শিক্ষার্থিদের আত্মহত্যার পথ দেখিয়ে দিয়ে, বাল্য বিয়ের ‘সুযোগ সৃষ্টি করে’ দিয়ে এবং সাধারণ শিক্ষা থেকে মাদরাসায় শিক্ষার্থিদের যাওয়ার পথ সুগম করে দিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর এমন ‘আস্ফালন’ কেনো?

বাংলা কাগজ সম্পাদকীয় : সরকার পতনের ‘চেষ্টা’ রুখে দিন

সম্পাদকীয়, বাংলা কাগজ : সম্প্রতি ৪২ জন নাগরিকের কার্যকলাপ একটি বড় আলোচিত-সমালোচিত ঘটনা।

এখন আবার এনজিও আর নাগরিক সংগঠনের নতুন জোট!

এক্ষেত্রে বলবো এনজিও আর নাগরিক সংগঠনের নতুন জোট করে সরকার পতনে আপনাদের আর কাজ করতে হবে না।

আর প্রধানমন্ত্রীকেও মনে রাখতে হবে, তিনি যেনো ‘রাষ্ট্রপতির কুচকাওয়াজ’ এ ধরনের অনুষ্ঠানে আর কখনোই প্রধান অতিথি না থাকেন।

এ ধরনের অনুষ্ঠানের প্রয়োজনে প্রধান অতিথি থাকবেন রাষ্ট্রপতি।

অন্যথায় রাষ্ট্রপতিকে ‘ক্ষেপিয়ে তুলতে পারেন’ ‘৪২ জন’সহ আরও অনেকে।

আরেকটি বিষয়- ওবায়দুল কাদেরকে এখন থেকে প্রতিদিনের ব্রিফিংয়ে আরও সতর্ক হতে হবে।

সচিবালয়ে তিনি বঙ্গবন্ধু আর প্রধানমন্ত্রীর ছবি পাশাপাশি স্থাপন করবেন বলেই আশা করি।

আর কোনও মহাকবি শিরোনামের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ছবি ছোট করে অন্যদের ছবি যেনো বড় করা না হয়, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

খেয়াল রাখতে হবে জাতীয় সংসদ কিংবা অন্য কোথাও কোনও অনুষ্ঠান করতে গেলে ব্যানারগুলোর স্থাপন নিয়েও।

পাশাপাশি বড় খেয়াল রাখতে হবে- জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহণ নিয়ে।

মোদ্দাকথা, সরকার পতনে একটি চক্র আবারও তৎপরতা শুরু করেছে বলেই প্রতীয়মান হয়।

এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা জোরদারের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শিগগিরই একটি ফলপ্রসূ বৈঠকের ব্যবস্থা করা উচিত বলেই মনে করি।

ধন্যবাদ সবাইকে। ভালো থাকুন সবাই।

এ বিষয়ক : কালাম আঝাদ’র কলাম : একটি রম্য ও কিছু ‘অ’প্রাসঙ্গিক কথা

করোনার ছুঁতো ভুলে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতি জনসাধারণের জন্য খুলে দিন

সম্পাদকীয় মত, বাংলা কাগজ : রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি জনসাধারণের জন্য এমন সময় বন্ধ রয়েছে; যখন তাঁর জন্মশতবর্ষ চলছে।

অথচ ক’দিন আগেও সেখানে দেখা মিলতো প্রেমিক-প্রেমিকা জুটির।

আড্ডা দিতো বন্ধু-বান্ধবেরা।

বাচ্চার দূরন্তপনায় হারিয়ে যেতেন বাবা।

হকারের হাকডাকে মুখর ছিলো চারিপাশ।

কিন্তু এখন সেখানে আড্ডা-গান বন্ধ।

কারণ জাতির পিতার স্মৃতি বিজড়িত সেই বাড়ি ও তাঁর প্রতিকৃতি এবং এর আশাপাশের অঞ্চল যেনও আওতায় পড়েছে কারফিউর।

এরই অংশ হিসেবে সেখানে বন্ধ রাখা হয়েছে জনসাধারণের চলাচল।

যেতে পারছেন শুধু নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণি-পেশার মানুষ।

জানাতে পারছেন জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা।

কিন্তু জাতির পিতা কি কারও একার সম্পদ বা সম্পত্তি?

তাই তাঁর প্রতিকৃতি বা স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি কি করোনার ছুঁতোয় বন্ধ রাখা উচিত?

করোনা হোক বা অন্য কিছু হোক; কখনোই জাতির পিতার প্রতিকৃতির তিনপাশে পুলিশ বসিয়ে সেটি সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ রাখা উচিত হয় নি।

তাতে যেমন বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অসংখ্য সদিচ্ছার মৃত্যু ঘটছে, তেমনি কেউ কেউ মনে করতে পারে- কোনও এক অজানা কারণে এ স্থানটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

আর এ ধরনের কৌতুহলের উগ্রেক করলে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধপক্ষ সব সময়ই ফাঁয়দা লোটার জন্য নামে।

যা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ইস্যুতে।

কি যে বলতে ইচ্ছে হচ্ছে- ইচ্ছে হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল- আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে এবং খোদ শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালে এ ধরনের দুঃসাহস যে অপশক্তি দেখিয়েছে, সেই অপশক্তিকে ঠাস ঠাস করে গুলি করে নিশ্ছিন্ন করে দিই।

বাংলাদেশে রাজাকারের বাচ্চারা কী ভেবেছে, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি দূর্বল হয়ে পড়েছে?

নাকি তাদের প্রতি উগ্র বা প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ করছে না দেখে তারা কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না!

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারি অপশক্তির উদ্দেশে বলতে চাই- জামায়াত-শিবির বা জঙ্গিরা যেভাবেই, যতোভাবেই ষড়যন্ত্র করুক না কেনো; তারা কখনোই সফল হবে না। তাদেরকে সফল হতে দেওয়া হবে না। বরং এ ধরনের ষড়যন্ত্র চলমান থাকায় তাদেরকে ভাসনচরের মতো কোনও জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে। সময় এসেছে, তাদের কারারুদ্ধ করার।

স্বাধীন বাংলাদেশে জাতির পিতার ভাস্কর্য নিয়ে কথা বলার দুঃসাহস যে দেখিয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারের জন্য দেশে কি কোনও আইনই নেই?

আর আইন থাকার পরও তাকে কেনো এখনও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না?

হেফাজতে ইসলামের বাচ্চা ছেলেরা তো অনেক কিছু না জেনেই তাদের ‘গুরুদের’ কথায় হ্যাঁ হ্যাঁ করছে।

এ অবস্থায় দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপনের সরকারি নির্দেশ দেওয়া হোক। যেনো আমাদের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা ছোট থেকেই জাতির পিতার আত্মজীবনীসহ বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস জেনে বড়ে হতে পারে।

এক্ষেত্রে স্বাধীন বাংলাদেশে সরকারি অর্থায়ন পাওয়া দেশের সকল কওমি মাদরাসায়ও বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করতে হবে। স্থাপন করতে হবে তাঁর প্রতিকৃতি ও ভাস্কর্য।

আমি (কালাম আঝাদ, সম্পাদক ও প্রকাশক, বাংলা কাগজ) ব্যক্তিগতভাবে একটি কথা বলি, আমরা কিন্তু সিলেট অঞ্চলে সর্বপ্রথম মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য স্থাপন করেছিলাম।

অথচ সিলেট হলো মৌলবাদে উপচে পড়া একটি এলাকা।

তো, শিক্ষার্থী থাকাকালীন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত সেই মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য (শিরোনাম- চেতনা’৭১) বাস্তবায়ন করার আগে কি আমরা কোনও হুমকি পাই নি?

পেয়েছি।

কিন্তু আমরা তাতে ডরে যাই নি। বরং দ্বিগুণ উৎসাহে কাজ করেছি।

আর সেই কাজের ফল আমাদের ২০০৫-০৬ ব্যাচের উদ্যোগ ও কর্মকাণ্ডে এবং আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের অর্থায়নে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চেতনা’৭১ ভাস্কর্য।

এ অবস্থায় বলছি, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে আজ (২৯ নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত ব্যবহার হয়ে আসা অন্নদাশঙ্কর রায়ের কবিতার চরণগুলোর ভুল প্রয়োগকে শুদ্ধ করা হোক আজ, এ মুহূর্তেই।

সঙ্গে খুলে দেওয়া হোক তাঁর প্রতিকৃতি ও স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটিও।

উল্লেখ করা যেতে পারে, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে আজ (২৯ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ব্যবহৃত কবিতাটির চরণ এমন-

‘যতকাল রবে পদ্মা, মেঘনা
গৌরী, যমুনা বহমান
ততকাল রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান।’

এখানে অন্নদাশঙ্কর রায়ের লেখা কবিতাটি ভুলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে যমুনার স্থলে মেঘনা এবং মেঘনার স্থলে যমুনা ব্যবহার করেছেন প্রতিকৃতি তৈরি করে দেওয়া সংশ্লিষ্টরা।

যা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বা প্রতিকৃতি তৈরিতে এক ধরনের ষড়যন্ত্র হিসেবেই আমরা ধরে নিতে পারি।

ঠিক এমন পরিস্থিতিতে জাতির পিতার প্রতিকৃতির কবিতাটি শুদ্ধ করায় আর কিছুই নয়; শুধু সদিচ্ছার প্রয়োজন।

আর আমরা এ ধরনের সদিচ্ছা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেখাতে পারি না বলেই জাতির পিতার ভাস্কর্য নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ আসে; আসে তাদের মনগড়া ব্যাখ্যা।

এক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে, অনিয়ম বা অন্য কোনও অভিযোগ এনে যেনো মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের নিরপরাধ শক্তিকে কোনোভাবেই অপদস্ত করা না হয়।

এ ধরনের আর একটি ঘটনাও আমরা দেখতে চাই না। যেখানে আওয়ামী লীগের কোনও নেতাকর্মীকে আটক-হয়রানি করা হচ্ছে।

এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে ‘দূর্বল’ করার হীন আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ধুলোয় যেমন লুটিয়ে দিতে হবে।

তেমনি হেফাজতে পদ-পদবি নেওয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা দেখাতে জামায়াতের আস্ফালনও বন্ধ করতে হবে।

তবে আমাদের অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলায় সকল ধর্মের, সকল মতের ও সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবে।

আর কোনও ধর্মই ফিতনা-ফ্যাসাদ পছন্দ করে না। আর ইসলাম তো নয়ই।

সবমিলে বলতে পারি, আমরা যতোদিন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে শক্তিশালী করার জন্য মন থেকে ফলপ্রসূ (যেমন আমার ক্ষেত্রে আমি বলতে পারি, বাংলা কাগজে বিজ্ঞাপন প্রদান) কাজ করবো না; ততোদিন শুয়োরের বাচ্চারা সাহস দেখাবেই।

তবে আমি মনে করি, আমার মতো মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল শক্তিই এক কথাই বলবে, জানোয়ারের বাচ্চাদের (মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধ শক্তি) দিন শেষ হয়ে এসেছে, তাই তারা হঠাৎ লাফানোর চেষ্টা করেছিলো।

এ বিষয়ক : বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ভুল কবিতা!

৩ ‘ম’ তে আগুন : দ্রুততম সময়ে অসহায়দের পাশে দাঁড়ান

সম্পাদকীয় মত, বাংলা কাগজ : এটা কেমন হলো- মাত্র ২৬ ঘণ্টার ব্যবধানেই রাজধানীতে ‘ম’ দিয়ে শুরু এমন এলাকার ৩টি বস্তিতে আগুনে পুড়ে গেছে প্রায় চারশ ঘর-দোকানপাট।

মহাখালি, মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের বস্তিতে লাগা এসব আগুনে নিঃস্ব হয়েছেন কয়েকশ সাধারণ মানুষ।

রাজধানীতে কয়েকদিন পরপরই বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এসব ঘটনার সবগুলোতেই প্রায় নিঃস্ব হয়ে যান ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীরা।

সবকিছু হারিয়ে পথে গিয়ে দাঁড়ান তাঁরা।

এ অবস্থায় সময়টা এখন হেমন্তকাল (আজ ১০ অগ্রহায়ণ)।

তবুও শীত হানা দিতে শুরু করেছে আরও আগে থেকেই।

ঠিক সে সময়েই রাজধানীর তিনটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীদের দুরাবস্থা এক রকম বর্ণনাতীত।

একে তো ঠাণ্ডায় জবুথবু অবস্থা, তার ওপর চলছে কারোনাকাল।

সুতরাং আগুনে ক্ষতির মুখে পড়া বস্তিবাসীদের পাশে সরকার তথা স্থানীয় সাংসদ দ্রুততম সময়ের মধ্যেই দাঁড়াবেন, এটাই আমরা চাই।

এ বিষয়ক : মিরপুরের বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে

মিরপুরের ভাষানটেকের বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে

কালাম আঝাদ’র কলাম : একটি রম্য ও কিছু ‘অ’প্রাসঙ্গিক কথা

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ, দ্বিতীয় ঢেউ বলে যারা মুখে ফেনা তুলছে। তাদের কিছু সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী; স্বল্প কয়েকজন আসলেই মানুষের জন্য ভালো চাওয়া স্বেচ্ছাসেবক বা অল্প মায়নে তে কাজ করা মানুষ।

আর বাদবাকিরা হলো- করোনাভাইরাস হলে বা মানুষ মরলে যাদের লাভ- তারা। কিংবা মানুষ মারাই যাদের ব্যবসা বা ব্যবসার অংশ- তাহারা।

এক্ষেত্রে আমরা মো. সাহেদকে দেখেছি ও ডা. সাবরিনাকেও দেখলাম।

দেখেছি আরিফ চৌধুরীসহ আরও কিছু মানুষকেও।

করোনাকালে একমাত্র ভালো মানুষের প্রত্যাশা ও আর্তিই হলো- এমন রোগ-শোক যেন দূর হয়ে যায়।

আর যারা মাস্কের ব্যবসা করেন, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের নিয়ে ব্যবসার আশায় আছেন- তারা কখনোই চাইতে পারেন না; করোনাভাইরাস এখনই দূর হয়ে যাক; নির্মূল হয়ে যাক।

এখনকার আরও একটি মূল বিষয় : করোনাভাইরাস রোধে সবাইকে মাস্ক পরিধানে যেমন সচেতন করে তুলতে হবে; তেমনি মানুষ যাতে ঘরেই গেঞ্জি বা এ ধরনের কাপড় দিয়ে মাস্ক তৈরি করে পড়ে- এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষকে জরিমানার আওতায় আনার আগে করোনাকালে মাস্ক বা এ জাতীয় পণ্য কেনার ব্যাপারে তাঁদের ক্ষমতার কথা বিবেচনায় রাখতে হবে। আর সরকারকে বলবো- শুধু ধনিদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা না করে, গরিবের জন্য আরও কিছু করুন। তবেই আসবে মঙ্গল।

খ. করোনাভাইরাসের কারণে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। নানাভাবে মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছেন তাঁরা। হয়েছেন বাল্য বিয়ের শিকারও। সম্প্রতি প্রচার শুরু হওয়া ‘ফ্রিডম স্যানিটারি ন্যাপকিন’ এর বিজ্ঞাপনের মতো কিছু বিষয় শিক্ষার্থীদের ওই মানসিক পীড়াকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যে কেউ ওই বিজ্ঞাপন দেখলে সহজেই বুঝতে পারবেন, তাতে দাঁড়ি-কমার উচ্চারণ এমনভাবে করা হয়েছে, যেনও অর্থ চেঞ্জ হয়ে যায়। এরই অংশ হিসেবে বিজ্ঞাপনটিতে বলা হয়েছে, ‘এবার রুখে দেবে ফ্রিডম।’

আবার বিজ্ঞাপনটির প্রথমদিকে যেভাবে ‘বিথী উঠে দাঁড়াও, বিথী উঠে দাঁড়াও, বিথী উঠে দাঁড়াও, দাঁড়াও, দাঁড়াও, দাঁড়াও, দাঁড়াও’- দাঁড়াও শব্দটি সাতবার উচ্চারণ করা হয়েছে। তাতে যে কেউ কানে হাত দিয়ে টিভি বন্ধ করে দিতে পারেন। আর বাচ্চাদের ব্রেনের নিউরণে এ ধরনের শব্দের অনুরণন হলে সেটি তাঁদের জন্য খারাপ হয়েই দাঁড়াবে, সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই এটা ‘রিয়েলি না বোঝার কিছুই নেই।’ যে কোনও একজন মানসিক ডাক্তারই বিষয়টি সম্পর্কে ভালো বলতে পারবেন।

সুতরাং এখনই আমাদের বিজ্ঞাপনের বিষয়গুলোতে আরও ভালো করে নজর দিতে হবে।

আর হ্যাঁ, বিজ্ঞাপনকে কিন্তু কখনোই ছোট করে দেখা যাবে না।

রম্য- মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে আর কিছু বলবো না। এবার বলবো- দেখুন, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কথা অনেকেই বলছেন, সুতরাং ভুলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার কথা মাথায়ও আনবেন না। তার চেয়ে বরং অজ্ঞানতার অন্ধকারে ঢেকে দিন দেশটাকে।

উনার সঙ্গে আরও একটু হাস্যরস করতে ইচ্ছে করছে- দেখুন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেহেতু (সহসাই) খুলতে হচ্ছে না, সুতরাং পহেলা জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দিয়ে কী লাভ? তার চেয়ে বরং কোনোভাবে যদি আগামী বছরটা পার করা যায়, তবে বই ছাপানোর টাকাগুলো তো বেঁচে যাবে। সেগুলো লাগানো যাবে অন্য কাজে। আর গরিবের ছেলে-পুলের পেছনে টাকা খরচ করে কীইবা লাভ বলেন! ওরা শিক্ষিত হলে কি দেশের কোনও মঙ্গল হবে?

তৃতীয় বিষয় : ভুয়া গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম বিক্রি করে মাদক বিক্রির বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ নিন।

চতুর্থতো : ইন্দিরা রোডে বিস্ফোরণে ম্যানহোলের ঢাকনা উড়ে যাওয়ার বিষয়টি ভালো করে তদন্ত করুন।

হ্যাঁ, আপনাকেই বলছি- আসুন আমরা দেশকে ভালোবাসি। দেশের জন্য কিছু করি।

দেশের ৩০ লাখ শহীদের রক্তের জন্য কিছু করি। দুইলাখ মা বোনের ইজ্জতের কথা স্মরণ করে কিছু করি।

আপনি যদি না ভালোবাসেন, তবে কে ভালোবাসবে দেশকে! বলুন।

আর কেউ কোনও কারণে (হতে পারে সেটা যানজট বা অন্যকিছু) মানসিক অবসাদে ভুগলে মেডিটেশন করুন।

মনে মনে প্রতিদিন বলুন- আমি ভালো আছি। করোনাভাইরাসের পজিটিভ পজিটিভ কথা শুনতে শুনতে আমরা ‘নেগেটিভকে ভালোবাসা শুরু করেছি’।

এমন অবস্থায় প্রতিদিন সকালে এ পি জে আবদুল কালাম সাহেবের পাঁচটি উক্তি মনে মনে বলুন-

আমিই সেরা
আমি করতে পারি
সৃষ্টিকর্তা সব সময় আমার সঙ্গে আছেন
আমিই জয়ী
আজ দিনটি আমার

আসুন আমরা পজিটিভ হই; পজিটিভ।

ধন্যবাদ সবাইকে।

ওহ্‌, আরেকটি কথা- আমার কলামে কিন্তু তেমন কিছুই আসে যায় না। কারণ সাবেক ভিপি নুরুল হক কিন্তু গ্রেপ্তার হয় নি।

তবুও আমরা দেশের জন্য কাজ করে যাবো, কাজ করে যাবো মানুষের জন্য।

আলো আসুক ঘরে ঘরে।

ভালো থাকবেন সবাই।

এ বিষয়ক : কালাম আঝাদ’র কলাম : নূরকে গ্রেপ্তার করুন অবিলম্বে

কালাম আঝাদের কলাম : এখন শিক্ষার্থীদের ছবি পোড়ানোর সময়, নাকি পরীক্ষা দেবার?