Category: সব খবর

করোনাকাল : অনলাইনে ঘুড়ি বিক্রির টাকায় হাঁড়ি বসে ইলিয়াস শেখদের চুলায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; রাশেদুল হাসান কাজল, ফরিদপুর : গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় পাল্লা দিয়ে ঘুড়ি বানানো হচ্ছে। শুধু দিনে না, রাতের আকাশেও উড়ছে শত শত রঙ-বেরঙের ঘুড়ি। অনেকে আবার সনাতন ঘুড়িকে প্রযুক্তির সহায়তায় ‘ডিজিটাল ঘুড়িতে’ রূপান্তর করছেন।

মোবাইল ফোনের ব্যাটারির সাহায্যে ঘুড়ির ফ্রেমে যুক্ত করছেন ইলেকট্রিক বাতি। এর ফলে রাতের আকাশে একেকটি ঘুড়ি দেখতে উজ্জ্বল তারার মতো মনে হয়।

শুধু তরুণরাই নয়, নারি-পুরুষ সবাই যোগ দিচ্ছেন ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসবে। ঘুড়ি উড়িয়ে গৃহবন্দি থাকার একঘেয়েমিকে দূর করছেন তাঁরা।

সর্বাত্মক ‘লকডাউনে’ বন্ধ হয়ে গেছে অনেকের আয়-রোজগারের পথ। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। করোনাভাইরাসের এ দুর্যোগের সময় অনেকেই বাধ্য হয়ে খুঁজছেন বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ।

এক্ষেত্রে আবার শ্রমজীবীরা এখন বাসাবাড়িতে। ফলে অবসর সময়ে সময় কাটাতে বাংলা নতুন বছরে বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে ঘুড়ি উড়ানোর উৎসব। আর এই উৎসবকেই কাজে লাগিয়ে ফরিদপুর জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেগঞ্জে অনলাইনেই ঘুড়ি বিক্রি করে বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করেছেন অনেকে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর ইলিয়াস শেখ (৬০) তাঁদেরই একজন।

দিনমজুরের কাজ না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি ঘুড়ি বিক্রি করছেন। তা দিয়েই চলছে তাঁর সংসার।

তাঁর এ ঘুড়ি বিক্রি শুরু হয়েছে গত বছরের করোনাকাল থেকেই।

এখন পরিবারের সহায়তায় অনলাইনে ঘুড়ি বিক্রি করছেন তিনি।

ইলিয়াস শেখ বাংলাকাগজকে বলেন, ‘আগে কাম-কাজ কইরা সংসার চালাইতাম। কিন্তু করোনাভাইরাস আসার পর গত বছর থাইকা বেকার হইয়ে পড়ি। তহন দেহি, অনেকেই শখ কইরা ঘুন্নি (ঘুড়ি) উড়াইয়া সময় কাটাচ্ছে। তাই আমিও শখ কইরা একটা ঘুন্নি বানাইয়া কয়েকদিন উড়াই। এইডা দেইখ্যা গ্রামের একজন তাঁর বাচ্চার লাইগ্যা একটা ঘুন্নি বানাই দিতে বলে। পরে তাঁরে একটি ঘুন্নি (ঘুড়ি) বানাই দেই। পরে সে খরচের কিছু টাকা দেয়। এরপরই ঘুন্নির ব্যবসার চিন্তাডা মাথায় আহে।’

তিনি জানান, শৈশবেই ঘুড়ি বানানোর কৌশল রপ্ত করেছিলেন। গত বছর করোনায় ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ৬শ ঘুড়ি বানিয়ে বিক্রি করেছেন। কিন্তু এ বছর ঘুড়ি বিক্রির চাহিদা একটু কম। তারপরও গত কয়েক সপ্তাহে ১০০টি ঘুড়ি বিক্রি করেছেন শেখ।

শুধু আলফাডাঙ্গার জাটিগ্রামের বাসিন্দারাই নন, অন্য গ্রামের মানুষও অনলাইনে তাঁর কাছ থেকে ঘুড়ি সংগ্রহ করেন। এক্ষেত্রে তিনি ফেসবুকে একটি পেজ খুলেছেন।

উপজেলার বানা এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বাংলা কাগজকে বলেন, ইলিয়াস মোল্লা একজন ভালো ঘুড়ি তৈরির কারিগর, তিনি বিভিন্ন ধরনের ঘুড়ি তৈরি করতে পারেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তার ঘুড়ির নামডাক আছে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম আহাদুল হাসান বাংলাকাগজকে বলেন, শুধু ইলিয়াস শেখই নন, তাঁর মতো আরও অনেকেই ঘুড়ি বানিয়ে বিক্রি করছেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে লকডাউন ঘোষণার পর মানুষ যখন হঠাৎ গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে। আর এই সময়টাতেই আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপকহারে ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব শুরু হয়েছে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল হাসান বাংলাকাগজকে বলেন, ইলিয়াস শেখ একজন ভালো ঘুড়ির কারিগর। তাঁকে সহযোগিতা করা হবে।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, ইলিয়াস শেখের দেখাদেখিতে এখন অনেকেই তাঁদের উপার্জনের পথ হিসেবে ঘুড়ি বানানোকেই বেছে নিয়েছেন। তাঁদের সকলেরই চুলা জ্বলে এখন ঘুড়ি বিক্রির টাকায়। তবে লকডাউনের সময়ে সরকারি বিধিনিষেধের কারণে ঘুড়িগুলো বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে- অধিকাংশই ফেসবুকের মাধ্যমে।

এস আলমের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হতাহতের ঘটনা তদন্তে কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; চট্টগ্রাম : বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের নির্মাণাধিন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ৫ জনের মৃত্যুসহ হতাহতের ঘটনা তদন্তে ৪ সদস্যের কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমনি আক্তারকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে বলে বাংলাকাগজকে নিশ্চিত করেছেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, কমিটিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

কমিটিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন, কলকারখানা পরিদর্শক বিভাগের একজন এবং বিদ্যুৎ বিভাগের একজন প্রতিনিধি রয়েছেন।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে শ্রমিক প্রতিনিধি, পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়।

এতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি, জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান এবং জেলা পুলিশ সুপার রাশিদুল হকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়া হবে বলে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দেয়।

উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে এবং আহত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এস আলম গ্রুপের পক্ষ থেকে।

‘এ ছাড়া আহতদের চিকিৎসা ব্যয়ও এস আলমের পক্ষ থেকে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’

এস আলম গ্রুপের নির্মানাধিন বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক ‘হত্যার’ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের নির্মাণাধীন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও বামপন্থী দল।

বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নে ১৩২০ মেগাওয়াটের এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে শনিবার (১৭ এপ্রিল) এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

২০১৬ সালেও গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা এলাকায় এস আলম গ্রুপের মালিকানাধিন এ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জায়গা অধিগ্রহণ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছিলেন।

বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারি ফেডারেশন (স্কপ) এক বিবৃতিতে বলে, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রে বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে শ্রমিকরা দাবি জানিয়ে আসলেও মালিকপক্ষ বরাবর এড়িয়ে গেছে এবং তাঁদের উপর নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। তাঁদের ন্যায্য বেতন-বোনাসের দাবিতে আন্দোলনের এক পর্যায়ে মালিকপক্ষ তাঁদের উপর চড়াও হয়। পরে মালিকের নির্দেশে পুলিশ এসে শ্রমিকদের উপর নির্বিচারে গুলি চালায়।’

‘শ্রমিকদের দাবি নিয়ে কথা বলার অধিকার ন্যায়সম্মত। ফলে তাঁদের ন্যায্য দাবি নিয়ে গড়ে উঠা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশ গুলি করার অধিকার কোথায় পেলো?’

‘পুলিশের উচিত ছিলো, মালিকপক্ষকে চাপ দিয়ে শ্রমিকদের দাবি আদায় করা। অথচ সেখানে আমরা দেখলাম, মালিকের মদদে একটা রাষ্ট্রীয় বাহিনি জনগণের পক্ষে কাজ না করে সরকারি নির্দেশে নিরীহ নিরস্ত্র শ্রমিকের উপর নির্বিচারে গুলি চালালো।’

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) এক বিবৃতিতে বলে, বকেয়া বেতন-ভাতাসহ কতিপয় দাবিতে শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবি না মেনে কোনও যৌক্তিক সমাধান না করে এহেন হত্যাকাণ্ড চালিয়ে শ্রমিকদের দমন করার অপচেষ্টা রুখে দিয়ে হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এক বিবৃতিতে নিহত শ্রমিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, আহতদের সুচিকিৎসা এবং শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার দাবি জানান।

তাঁরা অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে নিরীহ শ্রমিক ও গ্রামবাসিদের উপর গুলিবর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত করে দোষি ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান।

বাম গণতান্ত্রিক জোট এক বিবৃতিতে বলে, ‘বাঁশখালীতে পরিবেশ ধ্বংস করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের শুরুতেও এলাকাবাসি প্রতিবাদ করতে গেলে ৬ জনকে হত্যা করা হয়।’

পৃথক বিবৃতিতে বিভিন্ন সংগঠনের ক্ষোভ ও নিন্দা : শ্রমিকদের ওপর পুলিশের গুলি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারায় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে বিক্ষোভে গুলি ও শ্রমিক হতাহতের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিভিন্ন দল ও সংগঠন। একইসঙ্গে ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়িদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) বাঁশখালীর গণ্ডামারায় সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে ৫ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২ পুলিশ ছাড়া অন্তত ৪০ শ্রমিক। আহত শ্রমিকেরা পুলিশকে দায়ি করেছেন। পুলিশের অভিযোগ, বিনা উসকানিতে ইট-পাটকেল ছোড়ায় ঘটনার সূত্রপাত হয়।

এস আলমের ৭০ শতাংশ এবং চীনা প্রতিষ্ঠান সেফকো থ্রি পাওয়ার কনস্ট্রাকশন ৩০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে।

এক যৌথ বিবৃতিতে শ্রমিকদের দাবিগুলো যৌক্তিক উল্লেখ করে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের গ্রেপ্তার, বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আজীবন আয়ের সমান আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জোটের নেতারা।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের গুলি করে হত্যা ও অসংখ্য শ্রমিক আহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম এক বিবৃতিতে বলেছেন, কাজ করিয়ে মজুরি না দেওয়া এবং বকেয়া মজুরি দাবি করলে গুলি করে হত্যা জঘন্য অপরাধ। বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে অবিলম্বে হত্যাকারিদের চিহ্নিত করতে হবে। দোষিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহত ও আহত শ্রমিকদের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

হতাহতের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এমএসএফ মনে করে পুলিশের গুলিবর্ষণের বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয়েছে জীবন রক্ষার জন্য, কথায় কথায় জীবন কেড়ে নেওয়ার অধিকার দেওয়ার জন্য নয়। শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘন করে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে মালিক বেতন-ভাতা প্রদান না করে কাণ্ডজ্ঞানহীনভাবে শ্রমিকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে চরম দায়িত্বহীনতার কাজ করেছেন। পুলিশ কর্তৃক এভাবে গুলি করে হত্যাও চরম নিন্দনীয়। অনতিবিলম্বে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবির পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাই।

সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না অবিলম্বে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য সরকার দায়ি থাকবে। নিরীহ শ্রমিকেরা তাঁদের ন্যায্য দাবি পেশ করতে গিয়ে গুলি খেয়ে মরবে, স্বাধীন দেশে, স্বাধীনতার এই সুবর্ণ জয়ন্তিতে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়িদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আজীবন আয়ের সমান অর্থ ক্ষতিপূরণ এবং আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজামান।

একই দাবি জানিয়ে পৃথক বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, খেলাফত মজলিস ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

এ ছাড়া একই দাবি জানিয়ে গণসংহতি আন্দোলন এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, রাষ্ট্রীয় মদদে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর জবাব চট্টগ্রাম পুলিশ এবং এস আলম গ্রুপকে দিতে হবে।

এস আলমের নির্মাণাধিন বিদ্যুৎকেন্দ্রে যেভাবে ৫ শ্রমিক গুলি করে ‘হত্যা’

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; চট্টগ্রাম : বাঁশখালীতে এস আলমের নির্মাণাধিন বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে হতাহতের যে ঘটনা ঘটেছে, বকেয়া বেতন পরিশোধ ও রমজানে কাজের সময়সীমা পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ থেকে তার সূত্রপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শি ও আহত শ্রমিকরা।

ঘটনার জন্য পরস্পরকে দায়ি করছে পুলিশ ও শ্রমিকেরা। আর নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের পক্ষ থেকে আগের সংঘর্ষের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এবারও বিক্ষোভের পেছনে ‘উসকানি’ রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নে এস আলম গ্রুপের নির্মাণাধীন ১৩২০ মেগাওয়াটের ‘এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে’ শনিবারের (১৭ এপ্রিল) এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ৫ শ্রমিক মারা গেছেন। আহত হয়েছে কমপক্ষে আরও ৪০ জন শ্রমিক ও ২ পুলিশ সদস্য।

শ্রমিকদের ভাষ্য, পুলিশ তাঁদের তাদের বিক্ষোভে ‘বিনা উসকানিতে’ গুলি চালিয়েছে। বিপরীতে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকের ‘হামলার মুখে বাধ্য হয়ে’ গুলি চালাতে হয়েছে তাঁদের।

কয়েকটি শ্রমিক সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ‘এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট’ প্রকল্পের কাজে চুক্তিভিত্তিক, স্থায়ি ও অস্থায়ি শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়। এদের বেশিরভাগই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা; স্থানীয় শ্রমিকের সংখ্যা তুলনামূলক কম।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে বাংলাদেশি ও চীনা মিলিয়ে ৫ হাজারের মতো শ্রমিক-কর্মচারি কাজ করছেন। প্রকল্প এলাকার ভেতরেই শ্রমিকদের থাকায় জায়গা।

প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকেরা আরও জানান, বকেয়া বেতন ও রমজানে কাজের সময় পরিবর্তন ও ছুটির দাবিতে ‘অস্থায়ি শ্রমিকরা’ শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে বিক্ষোভ করে।

প্রকল্পের স্থায়ি শ্রমিক নোয়াখালী প্রিয়তম সুত্রধর বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন। গুলিবিদ্ধ এক শ্রমিককে নিয়ে তিনি হাসপাতালে আসেন।

প্রিয়তম বলেন, তাঁদের মার্চের মাসের বেতন এখনও দেয় নি।

সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হয়েছেন হাতিয়ার বয়ার চর এলাকার রায়হান। তাঁর দুই চাচাতো ভাই আবদুর রহমান ও মিরন হোসেন রকিও একসঙ্গে প্রকল্পে ক্রেন অপারেটরের কাজ করতেন।

মিরন বাংলাকাগজকে বলেন, ‘পুলিশ এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে।’

গণ্ডামারা পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল ইয়াসির চট্টগ্রাম মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বলেন, ‘কয়েক হাজার শ্রমিক এসে হামলা করে ফাঁড়িতে। আমি মুখে ও চোখে আঘাত পেয়েছি।’

হাসপাতালে ২ পুলিশসহ মোট ৪০ জন চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁদেরমধ্যে ১৭ শ্রমিকের সবাই গুলিবিদ্ধ।

‘আত্মরক্ষার্থে গুলি’ : চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) কবির আহমেদ বাংলাকাগজকে বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকেরা তাঁদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে শুক্রবারও (১৬ এপ্রিল) বিক্ষোভ করে। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকালেও তাঁরা জড়ো হয়ে প্ল্যান্টের বাইরে বিক্ষোভ করে।

‘একপর্যায়ে তারা উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোঁড়ে।’

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে অনেকগুলো গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। অনেক ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছে। শ্রমিকদের কিছু দাবি-দাওয়া ছিলো, যেগুলো নিয়ে এক ধরনের অসন্তোষ ছিলো সেটা থেকে আজকের এই ঘটনাগুলো ঘটেছে।’

বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে এস আলম গ্রুপের ৭০ শতাংশ এবং চীনা কোম্পানি সেফকোথ্রি পাওয়ার কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ রয়েছে।

এস আলম গ্রুপের মোট ৬টি প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। এগুলো হলো- এস আলম স্টিলস, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম সুপার এডিবল অয়েল, এস আলম সিমেন্ট লিমিটেড, সোনালি কার্গো লজিস্টিকস লিমিটেড এবং জেনেসিস টেক্সটাইল এক্সেসরিজ অ্যান্ড এপারেলস লিমিটেড।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটির চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চীনা প্রতিষ্ঠান সেফকোথ্রির প্রতিনিধি টান জে লিং।

‘উসকানি’ দেখছে এস আলম : এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের পক্ষে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারি আকিজ উদ্দিন বাংলাকাগজকে বলেন, ‘চায়নিজ প্রতিষ্ঠানই বাঁশখালীর ওই পাওয়ার প্ল্যান্টটি তৈরি করে দিচ্ছে। সেখানে চায়নিজ ছাড়াও বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছে।’

‘চায়নিজ কর্তৃপক্ষ কর্মরত বাঙালি শ্রমিকদের নিয়মিত বেতনভাতা দিয়ে আসছে। কিন্তু শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) কিছু শ্রমিক বেতন বাড়ানোসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে এবং চায়নিজ কর্তৃপক্ষের ওপর বারবার চাপ দিতে থাকে।’

অতীতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘বিপক্ষে থাকা’ কিছু লোকের ইন্ধনে শনিবারে (১৭ এপ্রিল) এ ঘটনা ঘটেছে অভিযোগ করে আকিজ উদ্দিন বলেন, “তারা উসকানি দিয়ে এ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটিয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।’

প্রকল্পের কাজের শুরুতে ২০১৬ সালে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে স্থানীয়দের বিক্ষোভে গুলি চালানো হলে ৪ জন নিহত হয়।

সেই ঘটনার উল্লেখ করে আকিজ বলেন, ‘শনিবারের (১৭ এপ্রিল) ঘটনাও আগের ঘটনার সূত্র ধরেই ঘটানো হয়েছে।’

তবে সেই ‘কিছু লোক’ কারা- এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও বক্তব্য দেন নি তিনি।

এস আলমের সঙ্গে চুক্তি বাতিল দাবি ৬৮ বিশিষ্ট নাগরিকের

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : চট্টগ্রামের বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রে বকেয়া বেতন আদায়ের দাবিতে ডাকা সমাবেশে পুলিশের গুলিতে ৫ শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে আইনের শাসন পরিপন্থি, গর্হিত অপরাধ ও গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য লজ্জাকর বলে উল্লেখ করে বিবৃতি দিয়েছেন লেখক, শিক্ষক, আইনজীবী, অধিকারকর্মিসহ ৬৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

এই ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার-বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে দোষী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তাঁরা।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষে বাংলাদেশের বৈদেশিক দেনা বিষয়ক কর্মজোটের (বিডাব্লিউজিইডি) সদস্য সচিব হাসান মেহেদীর সই করা বিবৃতিটি গণমাধ্যমের কাছে আসে।

এতে বলা হয়, ‘বকেয়া মজুরির দাবিতে সমাবেশরত নিরীহ শ্রমিকদের ওপর গুলিবর্ষণ একটি গর্হিত অপরাধ ও গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য লজ্জাকর। আমরা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। বকেয়া মজুরির দাবিরত শ্রমিকদের উপর গুলি চালানোর ঘটনা আইনের শাসনের পরিপন্থি।’

‘এমন নির্মম ও অবিবেচনাপ্রসূত হত্যাকাণ্ড ক্ষমতার অপপ্রয়োগ এবং চরম অনাচারের শামিল।’

বাংলাদেশের সংবিধান ও আইনে পুলিশ কোনও অবস্থাতেই নিরীহ শ্রমিকদের ওপর গুলি চালানোর অনুমতি পেতে পারে না জানিয়ে বিশিষ্ট নাগরিকরা আরও বলেছেন, ‘পুলিশ প্রবিধান ১৯৪৩-এর বিধান অনুসারে নিরাপত্তার জন্য হুমকিমূলক সমাবেশ অন্য কোনোভাবে ছত্রভঙ্গ না করা গেলে সর্বশেষ পন্থা হিসেবে ন্যূনতমভাবে শক্তি প্রয়োগের বিধান রয়েছে এবং সেক্ষেত্রে গুলি চালানোর আগে বার বার সাবধান করতে হবে এবং তা চালাতে হবে কাউকে হত্যা করা না, বরং সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার উদ্দেশ থেকে।’

এক্ষেত্রে আইনের বিধান প্রতিপালন করা হয় নি জানিয়ে তাঁরা দাবি করেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আইন অমান্য করার দায় সাধারণ নাগরিকদের চেয়ে কোনও অংশেই কম নয়। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের ও গুলিবর্ষণের ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার-বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি এবং দোষি পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

করোনাভাইরাস মহামারির এই দুর্যোগে শ্রমজীবী মানুষের মজুরি না দেওয়া শ্রম আইন ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন জানিয়ে তাঁরা বলেছেন, ‘এস আলম কেনো শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে নি, তার যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

সকল শ্রমিকের বকেয়া মজুরি দ্রুত পরিশোধের দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শ্রমিকদের মজুরি প্রদানে অবহেলা করার কারণে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে কয়লা-বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সরকারের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে, তা বাতিলের দাবি জানাই।’

বাঁশখালি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে এর আগে ২০১৬ ও ২০১৭ সালেও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং সেসব ঘটনায় কমপক্ষে মোট ৬ জন নিহত ও শতাধিক আহত হলেও হত্যাকাণ্ডের কোনো সুষ্ঠু বিচার হয় নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে আছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মানবাধিকার কর্মি হামিদা হোসেন, অধ্যাপক আকমল হোসেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশি কবীর, ব্র্যাকের নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম এবং আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ ৬৮ জন।

স্নায়ুচাপ সামলে মুম্বাইয়ের আরেক শ্বাসরুদ্ধকর জয়

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চতুর্দশ আসরের ৯ম ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দারাবাদকে ১৩ রানে হারিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। আগের ম্যাচে কলকাতার নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ১৫২ রানের পুঁজি নিয়েই জিতেছিলো রোহিত শর্মার দল। এই ম্যাচে আইপিএলের সবচেয়ে সফল দল জিতেছে ১৫০ রান নিয়েই। জয়হীন হায়দারাবাদের এটি টানা তৃতীয় পরাজয়।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রান জড়ো করে মুম্বাই। দলের পক্ষে কুইন্টন ডি কক ৩৯ বলে ৪০, কাইরন পোলার্ড ২২ বলে অপরাজিত ৩৫ ও রোহিত শর্মা ২৫ বলে ৩২ রান করেন। ঈশান কিষাণ এদিন ১২ রান করতে খরচ করেছেন ২১ বল।

বোলিংবান্ধব উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে আঁটসাঁট ছিলেন রশিদ খান, যদিও পাননি কোনও উইকেট। মুজিব উর রহমান ও বিজয় শঙ্কর শিকার করেন দুটি করে উইকেট।

জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় হায়দারাবাদ। উদ্বোধনি জুটিতে ডেভিড ওয়ার্নার ও জনি বেয়ারস্টো এনে দেন ৬৭ রান। ওয়ার্নার ৩৪ বলে ৩৬ ও বেয়ারস্টো ২২ বলে ৪৩ রান (৩টি চার ও ৪টি ছক্কা) হাঁকিয়ে বিদায় নিলে খেই হারায় দল।

মুম্বাইয়ের বোলার-ফিল্ডাররা হায়দারাবাদকে চেপে ধরলে ধিরে ধিরে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ওয়ার্নারের দল। বিজয় শঙ্করের ২৫ বলে ২৮ রানের ইনিংস শেষ চেষ্টা করলেও সফল হতে পারে নি। নির্ধারিত ২০ ওভারও ব্যাট করতে পারে নি হায়দারাবাদ, তার আগেই গুটিয়ে যায় ১৩৭ রানে।

তৃতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় জয় পাওয়া মুম্বাইয়ের পক্ষে রাহুল চাহার ও ট্রেন্ট বোল্ট ৩টি করে উইকেট শিকার করেন। ৪ ওভার বল করে মাত্র ১৪ রানের খরচায় একটি উইকেট শিকার করেন জাসপ্রিত বুমরাহ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
টস : মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স : ১৫০/৫ (২০ ওভার)
ডি কক ৪০, পোলার্ড ৩৫*, রোহিত ৩২
বিজয় ১৯/২, মুজিব ২৯/২

সানরাইজার্স হায়দারাবাদ : ১৩৭/১০ (১৯.৪ ওভার)
বেয়ারস্টো ৪৩, ওয়ার্নার ৩৬, বিজয় ২৮
রাহুল ১৯/৩, বোল্ট ২৮/৩, বুমরাহ ১৪/১

ফল : মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ১৩ রানে জয়ি।

মামুনুলের কথিত শ্বশুরকে নোটিশদাতা আ.লীগ নেতাদের হত্যার হুমকি!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; কাজলা দিদি, ফরিদপুর : হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের সঙ্গে হোটেলে অবস্থান করা জান্নাত আরা ঝর্ণার বাবাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় আলফাডাঙ্গা উপজেলার ২ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোনায়েম খান শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) আলফাডাঙ্গা থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন।

জান্নাত আরা ঝর্ণার বাবা বির মুক্তিযোদ্ধা ওলিয়ার রহমান ২ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। হেফাজতে ইসলামের রাজনীতিতে জড়িতদের সঙ্গে আত্মীয়ের সম্পর্ক গড়ার বিষয়টি গোপন রাখায় কেনো তাঁকে দলের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে ১২ এপ্রিল কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ।

সাধারণ ডায়েরিতে মোনায়েম খান উল্লেখ করেন, ওলিয়ার রহমানের পরিবারবর্গ হেফাজতের সঙ্গে জড়িত থাকায় আওয়ামী লীগের কর্মপরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা থাকায় ১২ এপ্রিল তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

‘নোটিশ দেওয়ার পরদিন ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে শুরু করে ৭টার মধ্যে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা (০০৩৯৩২৯১০৭৪১৮০, ৬০১১১৬৭০৪৮৪০, ৩৭০৫৭৭৯ নম্বর থেকে আমাকে কল করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হত্যার হুমকি দেয়।’

‘এ ছাড়া একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিনের মুঠোফোন নম্বরে (৩১৩২৬৫৫ নম্বর থেকে) ফোন করে মামুনুল হক পরিচয় দিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আইনের সাহায্য চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি আমি।’

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন বাংলাকাগজকে বলেন, ‘ওলিয়ার রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ায় আমার ব্যক্তিগত মোবাইলে মামুনুল হক পরিচয় দিয়ে ফোন দেন। আমাকে অশ্লীল গালিগালাজ করা হয় এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।’

‘আমাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, তোর মনে যা খেতে চায়; খেয়ে নে, আর বেশি দিন বাঁচতে পারবি না।’

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদুজ্জামান বাংলাকাগজকে বলেন, হুমকি দেওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোনায়েম খান। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।

এর আগে ১২ এপ্রিল কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, আপনি ওলিয়ার রহমান, গোপালপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। আপনার বড় জামাতা মো. হাবিবুর রহমান, মেজ জামাতা অর্থাৎ জান্নাত আরা ঝর্ণার সাবেক স্বামি মো. জাফর শহিদুল ইসলাম, সর্বাধিক সমালোচিত আপনার মেজ মেয়ে জান্নাত আরা ঝর্ণার কথিত স্বামি মো. মামুনুল হকসহ সবাই উগ্রপন্থী ইসলামী সংগঠনের (হেফাজতে ইসলাম) সঙ্গে জড়িত। আপনার মেয়ে জান্নাত আরা ঝর্ণা অবৈধ কার্যকলাপে লিপ্ত। এমনকি আরও জানা যায় যে, আপনার স্ত্রীও জামায়াতপন্থী।’

নোটিশে আরও বলা হয়, ওয়ালিয়ার রহমানকে কেনো ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হবে না, তার পক্ষে আগামি ৭ কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার অনুরোধ করা হলো।

এ বিষয়ে জানতে গোপালপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ওলিয়ার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

সরকারি ‘লকডাউনেও’ ইউএনওর ‘অনুমতিতে’ মহাদেবপুরে গরু-ছাগলের ‘জমজমাট’ হাট!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; আমিনুর রহমান খোকন, মহাদেবপুর (নওগাঁ) : নওগাঁর মহাদেবপুরে মরণব্যাধি করোনাভাইরাসকে উপেক্ষা করে এই ‘লকডাউনের’ সময়েই গরু ও ছাগলের হাট বসেছে।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এই লকডাউনের মধ্যেই কীভাবে হাট চলছে, তা নিয়ে সর্বত্র আলোচনা শুরু হয়েছে।

১৭ এপ্রিল শনিবার বিকেলে সরেজমিনে উপজেলা সদরের গরু ও ছাগলের হাটে গিয়ে দেখা গেছে, হাটটিতে স্বাস্থ্যবিধির কোনও বালাই-ই নেই।

গাদাগাদি করে কেনাবেচা করা হচ্ছে গরু-ছাগল।

এক্ষেত্রে লকডাউনে সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ করতে’ অতিরিক্ত খাজনা আদায়েরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে মহাদেবপুর হাট-বাজারের ইজারাদার এমদাদুল হক বাংলাকাগজকে বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহি অফিসার আমাকে মাইকিং করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট পরিচালনা করার অনুমতি দিয়েছেন।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান মিলন বাংলাকাগজকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট-বাজারে গরু-ছাগল কেনাবেচা করতে বলা হয়েছে। সেটি সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা দেখার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানীকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু সরকার ঘোষিত লকডাউনে কী করে আপনি গরুর হাটের অনুমতি দিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে কোনও কথা বলতে রাজি হন নি ইউএনও মিজানুর রহমান মিলন।

আইপিএল : হায়দারাবাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং : প্রথমে ব্যাট করে ১৫০ তুললো মুম্বাই

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : চিপকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের (SRH) মুখোমুখি হয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স (MI)। শনিবার (১৭ এপ্রিল) টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো রোহিত শর্মার (Rohit Sharma) মুম্বাই।

নির্ধারিত ওভারে ব্যাট করে মুম্বাই তুললো ৫ উইকেটে ১৫০।

হায়দারাবাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে বড় রান তুলতে পারলো না ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন টিম। বল হাতে ছাপ রাখলেন বিজয় শঙ্কর ও মুজিবুর রহমান।

এদিন কুইন্টন ডি কক (Quinton de Kock) ও রোহিতের ওপেনিং জুটিতে ৬.৩ ওভারে ৫৫ রান তোলে মুম্বাই। ২৫ বলের ঝোড়ো ৩২ রানের ইনিংস খেলে আউট হয়ে যান রোহিত। বিজয় শঙ্করের বলে বিরাট সিংয়ের হাতে ক্যাচ তুলে দেন হিটম্যান। মুম্বাইয়ের অধিনায়ক ফিরতেই সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) ও ঈশান কিশানও (Ishan Kishan) শুধু এলেন আর গেলেন।

সূর্যকুমার ১০ রান করে শঙ্করের বলেই তাঁর হাতে ক্যাচ তুলে দেন। অন্যদিকে ঈশান করলেন মাত্র ১২। মুজিবুর রহমানের বলে জনি বেয়ারস্টোর হাতে জমা পড়ে গেলেন তিনি।

নিয়মিত ব্যবধানে পরপর ৩ উইকেট হারানো মুম্বই রীতিমতো ধুঁকতে থাকে। এরপর দুই গেমচেঞ্জার কায়রন পোলার্ড (Kieron Pollard) ও হার্দিক পাণ্ডিয়া (Hardik Pandya) আসেন দলের রানের গতি বাড়াতে। কিন্তু পান্ডিয়া স্কোরবোর্ডে মাত্র ৭ রান যোগ করেই ফিরে গেলেন। এরপর পোলার্ডকে সঙ্গ দিতে আসেন ক্রুনাল পান্ডিয়া (Krunal Pandya)। শেষের দিকে পোলার্ড কিছুটা আলো ছড়ালেন বলেই মুম্বাই ১৫০ রান তুলতে সমর্থ হলেন। ক্যারিবিয়ান স্টার ২২ বলে ৩৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস না খেলতে পারলে মুম্বাই এই রানও তুলতে পারতো না।