Category: মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও বিজয়

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ফরিদপুরে গ্রাম এবং ডাকঘর হয়ে গেছে রাজাকারের নামে!

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; ফরিদপুর : মহান মুক্তিযুদ্ধে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনি ও তাদের দোসর রাজাকারদের হাতে নিহত শহিদদের স্বীকৃতি না মিললেও কুখ্যাত এক রাজাকারের নামে গ্রামের নাম, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডাকঘর এবং সড়কের নামকরণ করা হয়েছে।

অথচ স্বাধিনতার ৫০ বছর হয়ে গেলেও বোয়ালমারীতে আজও মুক্তিযুদ্ধে বির শহিদের স্মরণে কোনও কিছুরই নামকরণ করা হয় নি, আর স্মৃতিস্তম্ভ যেনো অনেক দূরের বিষয়।

অথচ এ অঞ্চলের বধ্যভূমিগুলো যেমন অরক্ষিত; তেমনি কোথাও আবার চরম অবহেলার শিকার শহিদদের গণকবরও!

কিছু স্থানে শহিদদের কবরের ওপরেই দেখা যায় শৌচাগার।

অথচ বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একাংশের নামকরণ করা হয়েছে কুখ্যাত রাজাকার এম এ ওয়াহিদ টিপু মিয়ার নামে।

অথচ তৎকালীন শান্তি কমিটির সভাপতি ছিলেন এম এ ওয়াহিদ টিপু মিয়া। পাশাপাশি তার ছেলেও ছিলো কুখ্যাত রাজাকার। যার নাম জাহাঙ্গীর বারী কোটন। তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালিন হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগসহ বেশকিছু গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে নিহত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের ওই বিরোধিতাকারিরা বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের নাম পরিবর্তন করে ওয়াহিদাবাদ করিয়ে নেন। সেইসঙ্গে ওয়াহিদাবাদ ত্রিপল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ওয়াহিদাবাদ ডাকঘর এবং ইসলামিক মিশন হাসপাতালও ওই কুখ্যাত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারি ওয়াহিদের নাম সংযুক্ত হয়।

এলাকার প্রবিণ রাজনীতিক ও ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বির মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলাউদ্দীন আহমেদ মিয়া বাংলা কাগজকে বলেন- টিপু মিয়া, কোটন ও তৎকালীন কয়েকজন চেয়ারম্যান এবং অন্য রাজাকারদের সহযোগিতা না থাকলে পাকিস্তানি আর্মি বোয়ালমারীতে ঢুকে গণহত্যা চালানোর সাহসই পেতো না।

‘পাকিস্তানি আর্মিদের চেয়ে টিপু মিয়া, কোটন ও বাচ্চু রাজাকার মানুষের ওপর বেশি অত্যাচার এবং গণহত্যা চালিয়েছে।’

আলাউদ্দিন আহমেদ মিয়া আরও বলেন, আমাদের একাত্তরের চেতনার ঘাটতির কারণেই টিপু মিয়ার নামে গ্রামের নামাঙ্কিত (ওয়াহিদাবাদ) সাইনবোর্ড এখনও ঝুলছে।

তিনি অবিলম্বে ওয়াহিদাবাদ গ্রাম এবং ডাকঘরসহ অন্যান্য স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান রাজাকারদের নামে যেগুলোরই নামকরণ করা হয়েছে, সেগুলোর নাম বদল করে বিশিষ্ট বির মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণের দাবি জানান।

একই বিষয়ে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষসহ অন্য বির মুক্তিযোদ্ধাদেরও একই মত।

এ ব্যাপারে বির মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আব্দুর রউফ সিদ্দিকী আক্ষেপ করে বাংলা কাগজকে বলেন, বোয়ালমারীতে গণকবর সংরক্ষিত না হলেও, শহিদদের স্বীকৃতি না মিললেও ওয়াহিদ টিপু মিয়ার নামানুসারে নামাঙ্কিত গ্রামের নামফলক শহিদদের, বির মুক্তিযোদ্ধাদের টিপ্পনি কেটে হাসছে। অচিরেই এই নাম মুছে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বির শহিদ অথবা বির মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করা হোক।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) ঝোটন চন্দ বাংলা কাগজকে বলেন, বোয়ালমারী পৌর সদরের কলেজ রোডের গণকবরটির সংরক্ষণ, স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়েছে।

‘এ ছাড়া হাসামদিয়া, রামনগর ও গোহাইবাড়ির গণকবরগুলো আমি পরিদর্শন করেছি। সেগুলোকে চিহ্নিত করে প্রাথমিকভাবে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে গণকবরগুলো সংরক্ষণে বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা রয়েছে এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের নামে কোনও স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠান থাকলে, সেগুলোর নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা ব্যক্তিদের নামে নামকরণ করা হবে।’

স্বাধিনতার সুবর্ণ জয়ন্তির দিনে সহিংসতা : হেফাজতের মামুনুলসহ ১৭ জনের নামে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের নামে বায়তুল মোকাররম এলাকায় সহিংসতার ঘটনায় মামলা হয়েছে।

এ মামলায় আসামি করা হয়েছে মামুনুল হকসহ মোট ১৭ জনকে।

স্বাধিনতার সুবর্ণ জয়ন্তির দিন ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররম এলাকায় সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় সোমবার (৫ এপ্রিল) রাতে পল্টন থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়।

মামলায় মামুনুল হকসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিন হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এক নম্বর আসামি করা মামুনুল হক।

মামলার বাদি ব্যবসায়ি খন্দকার আরিফ-উজ-জামান।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২৬ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টায় মুসল্লিদের সঙ্গে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র জুমার নামাজ আদায় করতে যান বাদি। জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে উত্তর গেটের সিঁড়িতে কয়েক হাজার উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির জমায়েত দেখতে পান তিনি। তারা জামায়াত-শিবির-বিএনপি-হেফাজতের লোক ছিলো। জমায়েত থেকে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধি স্লোগানও দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের প্রত্যক্ষ নির্দেশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, দা, ছোরা, কুড়াল, কিরিচ, হাতুড়ি, তলোয়ার, বাঁশ, লাঠি, শাবল, রিভলবার ও পাইপগানসহ অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে বাদিসহ অন্য মুসল্লিদের ওপর হামলা চালানো হয়।

২৬ মার্চকে বাংলাদেশ ডে ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল বাউচার ২৬ মার্চকে বাংলাদেশ ডে ঘোষণা দিয়েছেন।

শনিবার (৩ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি ও মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল বাউচার বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে তিনি জানান। একইসঙ্গে ২৬ মার্চকে বাংলাদেশ ডে হিসেবেও ঘোষণা দেন।

মুজিব শতবর্ষ : মহাদেবপুরে ১৪ বির মুক্তিযোদ্ধা পেলেন ১৫ শতাংশ করে জমি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; আমিনুর রহমান খোকন, মহাদেবপুর (নওগাঁ) : নওগাঁর মহাদেবপুরে মুজিব শতবর্ষে ১৪ জন ভূমিহীন বির মুক্তিযোদ্ধা পেয়েছেন বাড়ি নির্মাণের উপযোগি ১৫ শতাংশ করে জমি।

এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে এসব জমির ডিসিআর (মূল মালিকের নামে খাজনা নির্ধারনের আগে, এই নোটিশ জারি হয়। ডকুমেন্ট এর মূল কপি থাকে ভূমি অফিসে, মালিককে কার্বন কপি দেয়া হয়) এবং নামজারি খতিয়ান হস্তান্তর করা হয়।

এ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান মিলন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) আসমা খাতুন।

উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, মুজিব জন্মশতবর্ষে নওগাঁ জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদের বিশেষ উদ্যোগে মহাদেবপুরের ১৪ জন বির মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে প্রত্যেককে ১৫ শতাংশ করে খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে জমির দলিল, ডিসিআর ও খারিজ খতিয়ান প্রদান করা হলো। আশা করি, তাঁরা সুখে থাকবেন।

৭৯ বিশিষ্ট ব্যক্তির বিবৃতি : হেফাজতে ইসলাম নিষিদ্ধের দাবি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি পালনের সময় হেফাজতে ইসলামের দেশব্যাপি ‘মহাতাণ্ডবের কঠোর নিন্দা’ এবং ‘ধর্মের নামে সন্ত্রাসের রাজনীতি’ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

বুধবার (৩১ মার্চ) এক বিবৃতিতে কমিটির পক্ষ থেকে হেফাজতে ইসলামের সব ধরনের সভা সমাবেশ বন্ধ করা এবং হেফাজত-জামায়াতের মতো ‘স্বাধীনতাবিরোধি জঙ্গি মৌলবাদি সন্ত্রাসি সংগঠন’ নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে আসছিলো হেফাজতে ইসলাম ও কয়েকটি রাজনৈতিক দল।

সেই আন্দোলনে স্বাধীনতা দিবস থেকে ৩ দিন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম।

সংঘাতে ৩ দিনে অন্তত ১১ জন নিহত হন।

এই ‘ধর্মীয় উন্মাদনা ও উচ্ছৃঙ্খলতা’ বন্ধ না করলে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে বলে হুঁশিয়ার করা হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

অন্যদিকে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় আমির জুনাইদ বাবুনগরী হুমকি দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে তারা ‘কঠিন কর্মসূচি’ দেবেন।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি তাদের বিবৃবিতে বলেছে, ‘পূর্বাহ্নে ঘোষণা দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধি মৌলবাদি সন্ত্রাসি হেফাজতে ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তির উৎসব উদ্‌যাপন বানচাল করার জন্য সারাদেশে একের পর ধ্বংসাত্মক ঘটনা ঘটিয়েছে। বিশেষভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তারা যে নারকীয় তাণ্ডব চালিয়ে সুরসম্রাট আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনে গত শতাব্দীর কিংবদন্তীতুল্য সঙ্গীতগুরু ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শনসমূহ ধ্বংস করেছে এবং যে পৈশাচিকতায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙেছে তা আমাদের একাত্তরের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং পরবর্তীকালে আল কায়েদা ও আইএস-এর নৃশংস বর্বরতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। সুনামগঞ্জ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের উপরও একইভাবে হামলা এবং উপাসনালয় ধ্বংস করেছে।’

‘দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে হেফাজতের তাণ্ডবে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর সম্পৃক্ততার কথা গণমাধ্যমে বলা হলেও স্থানীয় প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে, যা হেফাজতিদের অধিকতর নৃশংসতায় প্ররোচিত করেছে।’

সংবাদপত্রে আসা খবরের বরাত দিয়ে নির্মূল কমিটি বলেছে, ‘গত ৫ দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসি হামলার জন্য ২৫টি মামলায় ১৫ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হলেও হেফাজতের মাত্র ৩৮ জন স্থানীয় নেতাকর্মিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বাকিদের রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করা হয় নি।’

‘আমরা বহুবার বলেছি, একাত্তরে যারা ধর্মের নামে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধি অপরাধ করেছে, তাদেরই রাজনৈতিক ও আদর্শিক উত্তরাধিকারি হচ্ছে হেফাজতে ইসলাম, যারা ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশকে মোল্লা উমরের তালেবানি আফগানিস্তান বানাতে চায়।’

বিবৃতিদাতারা হলেন- বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী, বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, বিচারপতি শামসুল হুদা, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী, অধ্যাপক অনুপম সেন, কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক, শিল্পী হাশেম খান, শিল্পী রফিকুননবী, অধ্যাপিকা পান্না কায়সার, অধ্যাপিকা মাহফুজা খানম, কথাশিল্পী আনোয়ারা সৈয়দ হক, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন, অধ্যাপক ডা. কাজী কামরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন (অবসর) আলমগীর সাত্তার বীরউত্তম, ক্যাপ্টেন (অবসর) সাহাবউদ্দিন আহমেদ বীরউত্তম, মেজর জেনারেল (অবসর) মোহাম্মদ আবদুর রশীদ, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. আমজাদ হোসেন, ড. নূরন নবী, শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী ও সালমা হক, সংসদ সদস্য আরমা দত্ত, লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, কলামিস্ট সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ, শিক্ষাবিদ মমতাজ লতিফ, অধ্যাপক আবুল বারক আলভী, সমাজকর্মি কাজী মুকুল, ড. ফরিদা মজিদ, চলচ্চিত্রনির্মাতা শামীম আখতার, অধ্যাপক আয়েশ উদ্দিন, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, ডা. শেখ বাহারুল আলম, মেঘনা গুহঠাকুরতা, ডা. ইকবাল কবীর, মুক্তিযোদ্ধা মকবুল-ই এলাহী চৌধুরী এবং মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান শহীদ।

অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম, অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম, অধ্যাপক আবদুল গাফফার, কবি জয়দুল হোসেন, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, মুক্তিযোদ্ধা কাজী লুৎফর রহমান, সাবেক ফুটবলার শামসুল আলম মঞ্জু, সমাজকর্মি কামরুননেসা মান্নান, আজাহার উল্লাহ্ ভূঁইয়া, সঙ্গীতশিল্পী জান্নাত-ই ফেরদৌসী লাকী, অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব, সাংবাদিক শওকত বাঙালি, উপাধ্যক্ষ কামরুজ্জামান, অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী শম্পা, লেখক আলী আকবর টাবী, সমাজকর্মি চন্দন শীল, কাজী মানছুরুল হক খসরু, অ্যাডভোকেট দীপক ঘোষ, ব্যারিস্টার নাদিয়া চৌধুরী, সাংবাদিক মহেন্দ্র নাথ সেন, শহীদসন্তান তৌহিদ রেজা নূর, শহীদসন্তান শমী কায়সার, শহীদসন্তান আসিফ মুনীর তন্ময়, শহীদসন্তান তানভীর হায়দার চৌধুরী শোভন, মানবাধিকারকর্মি তরুণ কান্তি চৌধুরী, লেখক সাংবাদিক সাব্বির খান, মানবাধিকারকর্মি আনসার আহমদ উল্লাহ, মানবাধিকারকর্মি স্বীকৃতি বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট আবদুল মালেক এবং অধ্যাপক সুজিত সরকারও সই করেছেন বিবৃতিতে।

এ ছাড়া সমাজকর্মি হারুণ অর রশীদ, অ্যাডভোকেট মালেক শেখ, সাংবাদিক দিব্যেন্দু দ্বীপ, সহকারি অধ্যাপক তপন পালিত, সমাজকর্মি পূর্ণিমা রাণী শীল, সমাজকর্মি শিমন বাস্কে, সমাজকর্মি শেখ আলী শাহনেওয়াজ পরাগ, সমাজকর্মি সাইফ উদ্দিন রুবেল, লেখক ও চলচ্চিত্রনির্মাতা শাকিল রেজা ইফতি এবং সমাজকর্মি শরিফুল হাসান সুমন রয়েছেন বিবৃতিদাতাদেরমধ্যে।

আইজিপি : নাশকতার নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : হরতালে নাশকতা ও হামলার মামলায় হেফাজতে ইসলামের ঊর্ধ্বতন নেতারা জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। বুধবার (৩১ মার্চ) ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

মামলায় হেফাজতের ঊর্ধ্বতন নেতাদের নাম কেন আসে নি, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে আইজিপি বলেন, ‘নাম না থাকলে যে তদন্তে তাঁদের নাম আসবে না, এমন কোনও কথা নেই। আমরা কোনও কিছুকে প্রভাবিত করতে চাই না। আমাদের দেশে একটি কাজ করলে ১০ রকমের সমালোচনা শুরু হয়। আমরা মনে করি, যারা হামলা করেছে, তাদের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদি কেউ নির্দেশদাতা থাকে, ডেফিনেটলি তারাও আসবে। কাউকে বাদ দিচ্ছি, এমন কোনও কথা বলছি না। আমরা বলছি, যারা অনস্পট ছিলো, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্তের সময় যাঁরা নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁরাও আসবেন আমরা মনে করি। তাঁরা স্বাধীনতাকে কলুষিত করার চেষ্টা করেছেন।’

‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি উদ্‌যাপনের দিন হেফাজত সারাদেশে তাণ্ডব চালায়। মাদরাসার কোমলমতি শিক্ষার্থিদের ব্যবহার করে হাটহাজারী থানায় হামলা চালিয়েছে। এর আগেও এ থানায় তারা হামলা চালিয়েছে। ডাকবাংলোতে আক্রমণ করেছে। ভূমি অফিসে আক্রমণ করেছে। ভূমি অফিসের সব কাগজপত্র একত্র করে জ্বালিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনা হয়তো এখানেই শেষ হতো। কিন্তু এই ভূমি অফিস জ্বালিয়ে দেওয়ার ফলে ওই অঞ্চলের মানুষ বছরের পর বছর কষ্ট পাবেন। এমনকি বাংলাদেশের মানুষের জমিসংক্রান্ত একটি বিরাট সমস্যা। আমাদের ক্রাইমের একটি উৎস এই ভূমি সমস্যা।’

সম্মাননা পেলেন আওয়ামী লীগের ১০৫ প্রবীণ নেতাকর্মি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; মহসিন মিলন, বেনাপোল : দলীয় কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১০৫ জন প্রবীণ নেতাকর্মিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) সকালে স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তি এবং মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে যশোরের নাভারন ইউনিয়নের হাড়িয়া মাঠে এ সন্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বুলী।

ক্রেস্ট প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা আ. জলিল।

এ সময় আবেগঘন বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রহমান মুকুল, আলহাজ নিজাম উদ্দিন, উজ্জল হোসেন, হাসান মাস্টার এবং আবু রায়হান জিকো।

অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিপুল প্রবীণ নেতাকর্মি অংশগ্রহণ করেন।

সুবর্ণ জয়ন্তি উপলক্ষে সকল বেকার ও দুস্থ নাগরিকদের কর্মসংস্থানের জন্য ‘বেকার প্রকল্প’ নামে একটি কমিটি গঠন করা হয় অনুষ্ঠানে।

মোদি : বঙ্গবন্ধুর জীবন বাঙালির সংগ্রামেরই ইতিহাস

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালির যে দীর্ঘ ত্যাগ আর সংগ্রামের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনকে তারই প্রতিচিত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

শনিবার (২৭ মার্চ) গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে জাতির পিতার সমাধিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর মোদি দর্শনার্থি বইয়ে এভাবেই বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘অধিকার, নিজস্ব সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের জন্যে বাংলাদেশের মানুষের যে সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধুর জীবন তারই প্রতিচিত্র। তার অবিনাশী চেতনা আর অদম্য সাহস কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে, বহু বাধা বিপত্তি পেরিয়ে তারা পরিণত হয়েছে বিজয়ি জাতিতে।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দুদিনের সফরে শুক্রবার (২৬ মার্চ) ঢাকায় আসেন নরেন্দ্র মোদি। বিকেলে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেন সম্মানিত অতিথি হিসেবে।

সফরের দ্বিতীয় দিন শনিবার (২৭ মার্চ) তিনি টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুল দিয়ে মোদিকে স্বাগত জানান। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার উপস্থিতিতে দর্শনার্থি বইয়ে স্বাক্ষর করে মোদি সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন এবং একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

দর্শনার্থি বইয়ে তিনি লেখেন, ‘ভারতবাসি বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে একজন বীর হিসেবে, সেই ভারতবাসির পক্ষে আমি ২০ শতকের এই মহান রাষ্ট্রনেতার প্রতি বিনীত শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’

‘বঙ্গবন্ধু ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় নাম, যে ইতিহাসকে তিনি নতুন রূপ দিয়েছেন দৃঢ় সঙ্কল্প আর আত্মত্যাগের প্রবল শক্তি দিয়ে।’

মোদি লিখেছেন, ‘এই ঐতিহাসিক মুজিববর্ষে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধুর দিয়ে যাওয়া সাম্য, মুক্তি আর ন্যায়বিচারের চেতনা আমাদের ভবিষ্যতেও পথ দেখিয়ে যাবে।’

পুতিন : নিরাপত্তা-স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখবে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

জোড়া উদ্‌যাপনে ১০ দিনের অনুষ্ঠানমালার শেষদিন শুক্রবার পুতিনের পাঠানো বার্তা পড়ে শোনান ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ইগনোটভ।

পুতিন বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। বাংলাদেশ তুখোড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও রাষ্ট্রের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীও উদ্‌যাপন করছে।’

‘বাংলাদেশে ও রাশিয়ার সম্পর্ক সব সময় বন্ধুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের আমাদের যৌথ উদ্যোগে ভবিষ্যতের গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা দুই দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। আমি আপনাদের সুস্বাস্থ্য, সাফল্য কামনা করছি এবং বাংলাদেশের সব নাগরিকের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।’

শেষদিনের অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিতি ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এদিন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বার্তাও অনুষ্ঠানে প্রচার করা হয়।

বাইডেন : অগ্রগতি, উচ্চাশা ও সুযোগের দেশ বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তিতে দেওয়া শুভেচ্ছা বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত এখন বাংলাদেশ।

শুক্রবার (২৬ মার্চ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তির আয়োজেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি একথা বলেন।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রেসিডেন্টের বার্তাটি পড়ে শোনান।

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বাইডেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে, আমি বাংলাদেশের জনগণকে স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে অভিনন্দন জানাচ্ছি।

‘বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক অগ্রগতির এক দৃষ্টান্ত; উচ্চাশা ও সুযোগের এক দেশ। অসাধারণ এ অর্জনের জন্য আপনাকে ও বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানাই।’

১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়াকে বিশ্বের সামনে ‘বাংলাদেশের মানবিকতা ও উদারতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’ হিসেবে তুলে ধরেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, ‘এই সঙ্কটের একটি টেকসই সমাধান খুঁজে পেতে যুক্তরাষ্ট্র অবিচল অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।’

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে আমার প্রশাসন আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা করি।’

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বকে গুরুত্ব দেয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি যৌথ অঙ্গীকার শক্তিশালী অংশীদারিত্বের ভিত্তি তৈরি করে।’

‘ভবিষ্যতেও আমাদের দুই দেশের জনগণের আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এই অঙ্গীকারগুলো আরও জোরদার করতে আপনার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।’

বাইডেনের বক্তব্য পড়ে শোনানোর পর ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডির একটি বক্তব্যকেও উদ্ধৃত করেন মিলার।

যেখানে কেনেডি বলেছিলেন, এই স্বাধীনতা আপনাদের এবং নতুন এই দেশের মানুষের হাতেই এ দেশের ভবিষ্যৎ।

এরপর মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের গল্প আগামি প্রজন্মের কাছে তথা বিশ্বের কাছে শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে। বাঙালি জাতির এই আত্মপ্রকাশ অন্যান্য ভূখণ্ডের মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

‘জীবনের প্রতি আপনাদের ভালোবাসার অংশীদার হবে তাঁরা এবং যাঁরা আপনাদের সাহসিকতার চেতনাকে ধারণ করবে এবং এখনও যাঁরা আপনাদের মতো স্বাধীনতা পায় নি, তাঁদের সবার জন্য এটি একটি প্রতীক হয়ে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে কর্মরত আমেরিকান ও বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে আমি বলবো, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ৫০তম বার্ষিকীতে শুভেচ্ছা!’

‘আমরা আপনাদের সঙ্গে দিনটি উদ্‌যাপন করে আনন্দিত। আমরা বাংলাদেশকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের প্রতি শ্রদ্ধা এবং এদেশের জনগণের অসামান্য অগ্রযাত্রার প্রতি অভিবাদন জানাই।’

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘‘আমার প্রিয় কবিতা ‘নাই বুঝি পথ’-এ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন লিখেছেন, ‘নবগান হয়ে গুমরি উঠিল বুকে’, তেমনি আগামী পঞ্চাশ বছর বা আরও পরে প্রতিদিন এভাবেই আমাদের আশাবাদ জেগে উঠুক এবং সেই নতুন দেশ নতুন নতুন বিস্ময় নিয়ে আমাদের কাছে ধরা দিক।’’

মোদি : ভারত-বাংলাদেশ যৌথযাত্রা পুরো অঞ্চলের জন্যই জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তিতে যৌথ অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দুই দেশের কাছেই গণতন্ত্রের শক্তি আছে, এগিয়ে যাওয়ারা দূরদর্শিতা রয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ অগ্রযাত্রা এই পুরো অঞ্চলের জন্য সমান জরুরি।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের আয়োজনে সম্মানিত অতিথি হয়ে এসেছেন প্রতিবেশি বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর আর ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর একসঙ্গে পড়েছে। একবিংশ শতাব্দীর আগামি ২৫ বছর উভয় দেশেরই জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

‘আমরা ঐতিহ্যের অংশীদার। আমরা উন্নয়নের অংশীদার। আমরা লক্ষ্যও ভাগাভাগি করি। আমাদের চ্যালেঞ্জগুলোও ভাগাভাগি করি। বাণিজ্য ও শিল্পে আমাদের জন্য একই ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি সন্ত্রাসবাদের মত সমান বিপদও রয়েছে।’

‘যারা এই জাতীয় অমানবিক ঘটনাবলির পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবে রূপদানকারি শক্তিগুলো এখনও সক্রিয় রয়েছে। আমাদের অবশ্যই তাদের থেকে সাবধানে থাকতে হবে এবং ওদের মোকাবিলা করার জন্য সংগঠিত হতে হবে।’

বাংলাদেশের এই উদ্‌যাপনে সঙ্গি হতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সোনার বাংলাদেশের প্রিয় বন্ধুরা। আপনাদের সবার এই ভালোবাসা আমার জীবনের অমূল্য মুহূর্তের একটি। বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রার এই গুরুত্বপূর্ণ পর্বে আমাকে অংশ করায় আমি আনন্দিত। আজ বাংলাদেশের জাতীয় দিবস, স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী। ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীর ৫০ বছর পূরণ হচ্ছে।’

নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আজ ভারত আর বাংলাদেশ দুটি দেশের সরকারই এই সংবেদনশীলতা উপলব্ধি করছে, আর সেদিকেই অর্থবহ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রমাণ করেছি যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা থাকলে সকল সমস্যারই সমাধান করা যায়। আমাদের স্থল সীমান্ত চুক্তি এর সাক্ষী।’

মহামারির এই দুঃসময়েও সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা সার্ক কোভিড তহবিল গঠনে সহযোগিতা করেছি, নিজেদের মানব সম্পদের প্রশিক্ষণে সহায়তা করেছি। ভারত খুবই আনন্দিত যে ভারতের তৈরি টিকাগুলো বাংলাদেশের ভাইবোনদের কাজে লাগছে।’

বঙ্গবন্ধুর একটি ভাষণ থেকে বাংলায় উদ্ধৃত করে মোদি বলেন, ‘‘শেখ মুজিবুর রহমানজি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ ইতিহাসে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবেই টিকে থাকবে। বাংলাকে দাবিয়ে রাখতে পারে, এমন কোনও শক্তি নেই।’ বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণা বাংলাদেশের অস্তিত্বের বিরোধিতাকারিদের জন্য একটি সতর্কবার্তা ছিলো এবং বাংলাদেশের সামর্থ্যের উপর বিশ্বাসও ছিলো।’

‘আমি আনন্দিত যে, শেখ হাসিনাজির নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বে তার সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। যারা বাংলাদেশ গঠনে আপত্তি করছিলেন, যারা এখানকার মানুষকে নিচু চোখে দেখতেন, যারা বাংলাদেশের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান ছিলেন, বাংলাদেশ তাদের ভুল প্রমাণ করছে।’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাণি থেকে বাংলায় উদ্ধৃত করে মোদি বলেন, ‘‘আমাদের সঙ্গে রয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম এবং গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অভিন্ন ঐতিহ্যের অনুপ্রেরণা। গুরুদেব বলেছেন, ‘কাল নাই আমাদের হাতে; কাড়াকাড়ি করে তাই সবে মিলে; দেরি কারো নাহি সহে কভু।’ অর্থাৎ, আমাদের অপচয় করার মতন সময় নেই, পরিবর্তনের জন্য আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, এখন আর দেরি করা যায় না।’’

আর এটা ভারত ও বাংলাদেশ- দুই দেশের জন্যই ‘সমানভাবে প্রযোজ্য’ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘দুই দেশের লাখ লাখ মানুষের জন্য, তাঁদের ভবিষ্যতের জন্য, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ের জন্য, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য, আমাদের লক্ষ্য এক, তাই আমাদের প্রচেষ্টাও এক হওয়া উচিত।’

‘অতএব, আমাদের আমাদের প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিতে হবে, নতুন মাত্রা দিতে হবে, নতুন উচ্চতায় নিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি যে, ভারত এবং বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে একসঙ্গে অগ্রগতি করবে।’

একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে মোদী বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া অনেক ভারতীয় সেনাও এখানে এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন। আমি এখানকার তরুণ প্রজন্মের আমার ভাই ও বোনদের খুব গর্বের সাথে একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেওয়া আমার জীবনের প্রথম আন্দোলনগুলির মধ্যে একটি ছিলো।’

‘আমার বয়স তখন ২০-২২ বছর ছিল, যখন আমি ও আমার অনেক সহকর্মি বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতার জন্য সত্যাগ্রহ করেছিলাম। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সমর্থন করায় আমি গ্রেপ্তার হয়েছিলাম এবং কারাগারেও গিয়েছিলাম। অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যতটা আকুলতা এখানে ছিলো, ততটা আকুলতা সেখানেও ছিলো।’

এ বাংলায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নৃশংসতার চিত্র ওপারের মানুষকেও বিচলিত করত জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘গোবিন্দ হালদারজি বলেছেন, ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, বাংলার স্বাধীনতা আনলে যাঁরা, আমরা তোমাদের ভুলবো না, আমরা তোমাদের ভুলবো না।’ অর্থাৎ, যাঁরা তাঁদের রক্ত দিয়ে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছিলেন, আমরা তাঁদের ভুলবো না।’’

বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস প্রসঙ্গে তখনকার পাকিস্তানি শাসকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে ভারতের বিজেপি নেতা মোদি বলেন, ‘একটি স্বৈরাচারি সরকার তার নিজস্ব নাগরিকদের গণহত্যা করছিলো। তাদের ভাষা, তাদের কণ্ঠস্বর ও পরিচয়কে চূর্ণ করছিলো। অপারেশন সার্চলাইটের নিষ্ঠুরতা, নিপীড়ন ও অত্যাচারের বিষয়টি নিয়ে বিশ্বের যতটা সোচ্চার হওয়া উচিত ছিল, তা হয় নি।’

কিন্তু ভারতের সব পক্ষই যে তখন নানাভাবে সমর্থন দিয়ে গেছে, সে কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি ভারতের প্রতিটি কোণা থেকে, প্রতিটি দল থেকে সমর্থন মিলেছিলো। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীজির প্রয়াস ও মাহাত্ম্যপূর্ণ ভূমিকা সর্বজনবিদিত।’

‘‘ওই সময়েই ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১, অটল বিহারী বাজপায়ীজি বলেছিলেন, ‘আমরা কেবল মুক্তি সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারীদের জন্য লড়াই করছি, সেই সাথে আমরা ইতিহাসকে একটি নতুন দিশা দেওয়ার চেষ্টাও করছি। আজ বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামীদের সাথে ভারতীয় সেনারাও নিজেদের রক্ত বিসর্জন দিচ্ছে। এই রক্ত একটি নতুন বন্ধন সৃষ্টি করবে যা কোনো অবস্থাতেই ভাঙবে না, কোন কূটনীতিরও শিকার হবে না।’’

‘আমাদের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী বঙ্গবন্ধুকে একজন অক্লান্ত রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ধৈর্য্য, প্রতিশ্রুতি ও আত্মসংযমের প্রতীক।’

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে আটক হওয়ার ঠিক আগে আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর শুরু হয় প্রবাসি সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী এই যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত মিত্রবাহিনীর কাছে ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ওই যুদ্ধে ১ হাজার ১৬১ জন ভারতীয় সেনা শহীদ হয়েছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ১ কোটিরও বেশি শরণার্থি সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্যগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলো; মুক্তিবাহিনীর গেরিলাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও হয়েছিলো ওইসব এলাকায়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ৫০ তরুণ উদ্যোক্তাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানোর ঘোষণা দেন নরেন্দ্র মোদি।

তিনি বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার করার জন্য দুটি দেশের তরুণদের মধ্যে আরও উন্নত যোগাযোগ সমান প্রয়োজনীয়। ভারত-বাংলাদেশ সর্ম্পকের ৫০ বছর উদ্‌যাপন উপলক্ষে বাংলাদেশের ৫০ তরুণ উদ্যোক্তাকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানাতে চাই।’

‘তারা ভারতে আসুন, আমাদের স্টার্ট-আপ আর ইকোসিস্টেম উদ্ভাবনে যোগ দিন, পুঁজিপতি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে দেখা করুন। আমরাও তাঁদের কাছ থেকে শিখবো, তারাও শেখার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, আমি বাংলাদেশি যুবকদের জন্য সুবর্ণ জয়ন্তির বৃত্তি ঘোষণা করছি।’

নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানজিকে শ্রদ্ধা জানাই, যিনি সোনার বাংলার স্বপ্নের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। আমাদের ভারতীয়দের জন্য এটি গর্বের বিষয় যে, আমরা শেখ মুজিরজিকে গান্ধী শান্তি পুরস্কারে সম্মানিত করার সুযোগ পেয়েছি।’