Category: মানুষ মানুষের জন্য

প্রতিদিন বিনামূল্যে কর্মহীন মানুষদের কাঁচাবাজার পৌঁছে দিচ্ছেন কাউন্সিলর আসাদ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : করোনাভাইরাসের এ মহামারিকালে ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ নিম্ন আয়ের মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান আসাদ। প্রতিদিন ভ্যানে করে ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে কর্মহীন ও নিম্ন আয়ের মানুষদের কাছে কাঁচাবাজার পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।

‘লকডাউনের’ শুরু থেকেই তিনি এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ছাড়া পবিত্র রমজান মাসের আগে প্রায় ২ হাজার পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রি বিতরণ করেছেন আসাদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকা, শাহবাগ, পরীবাগ ও বাংলামোটর এলাকাসহ নিজ ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্তরের নিম্ন আয়ের জনগণের মাঝে রমজানের আগে এই উপহার সামগ্রি বিতরণ করেছেন তিনি।

উপহার সামগ্রির মধ্যে ছিলো ছোলা, খেজুর, চিনি এবং ইসবগুলের ভূষিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় উপকরণ।

কাঁচাবাজার বিতরণ প্রসঙ্গে কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান আসাদ বাংলাকাগজকে বলেন, ‘যেভাবে নির্বাচনের সময় মানুষের দুয়ারে গিয়ে ভোট চেয়েছি, ঠিক সেভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় মেয়র মহোদয়ের পক্ষ থেকে কাঁচাবাজার নিয়ে দুয়ারে হাজির হয়েছি।’

‘আমার খুব বাঁচতে ইচ্ছে করছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; রাসেল কবির মুরাদ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : কলাপাড়ার আক্কাস আলী খন্দকার ছোটো বালিয়াতলী গ্রামের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। কোনোরকম খেয়ে-পড়ে চলছিলো তাঁদের সংসার।

দিনমজুর পিতা আবদুর রাজ্জাক খন্দকার বরিশালে দিনমজুরের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুতের দুর্ঘটনায় পতিত হলে তাঁর ডান হাতের অর্ধেকটা কেটে ফেলতে হয়। আর একমাত্র উপার্জনক্ষম পিতা পঙ্গু হয়ে পড়ায় তখন সংসারের দায়িত্ব পড়ে আক্কাসের উপর। যে কারণে বেশিদূর লেখাপড়া করতে পারেন নি তিনি। ফলে ঢাকার মিরপুরে আযম মিস্ত্রির অধীনে ড্রেজারে কাজ করতে যান তিনি। ২০১৮ সালে বালুর ড্রেজার থেকে পড়ে মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায় আক্কাসের।

এরপর ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের অর্থোপেডিক্সের চিকিৎসক বদরুল ইসলামের অধীনে অপারেশন হয় তাঁর।

মাসখানেক পর ডাক্কÍারের কাছে গেলে তিনি বলেন, স্পাইনাল কর্ড ভেঙে গেছে।

পরে অবশ্য ২ মাস পরে গেলে ডাক্তার জানান, ৬ মাস পরে ঠিক হয়ে যাবে।

কিন্তু উপযুক্ত চিকিৎসা করাতে না পেরে আক্কাস বর্তমানে বিছানা থেকে উঠতে পারে না। তাঁর পা দুটো ধিরে ধিরে চিকন হয়ে যাচ্ছে। শরীরের সকল অঙ্গ অবশ হয়ে যাচ্ছে। সারাক্ষণ শুয়ে থাকতে হয় তাঁকে।

সারাক্ষণ ক্যাথেটর পড়িয়ে রাখা হয় আক্কাসকে। মাসের পর মাস হাসপাতালে থেকে সহায়-সম্বল যা ছিলো সব হারিয়ে এখন নিঃস্বপ্রায় তাঁর পরিবার।

ইতিমধ্যেই ডাক্তার ও কবিরাজ মিলে ৭ লাখ টাকারও বেশি খরচ হয়েছে তাঁর চিকিৎসায়।

স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গাজী জামাল বাংলা কাগজকে বলেন, ছেলেটির আহাজারি দেখে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না।

‘আমি তাঁর জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং মোবাইলে বিকাশ করে দিয়েছি। সকলের কাছে অনুরোধ ছেলেটিকে যথাসম্ভব সাহায্য করবেন।’

আক্কাস খন্দকারের পিতা রাজ্জাক খন্দকার বলেন, চোখের সামনে আমার ছেলে বিনা চিকিৎসায় কষ্ট পাবে, তা মানতে কষ্ট হচ্ছে।

‘আমিও পঙ্গু মানুষ। তাই কাজ করতে কষ্ট হয়। দুনিয়ায় এমন কোনও মানুষ কি নেই, যে আমার ছেলের চিকিৎসার ব্যাবস্থা করে দেবে।’

আক্কাস আলী খন্দকার বলেন, ‘আমার খুব বাঁচাতে ইচ্ছে করছে। ভালোভাবে বাঁচতে ইচ্ছে করছে। ডা. বলেছেন, পুনরায় স্পিন অপারেশন করতে পারলে আবার আমি হাঁটতে পারবো।’

‘কিন্তু এর জন্য প্রায় ৯ লাখ টাকার প্রয়োজন। যা জোগাড় করা আমার পক্ষে অসম্ভব।’

আক্কাস ও তাঁর বাবাসহ এলাকাবাসি আক্কাসের চিকিৎসার জন্য বিত্তবানদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন।

আক্কাস জানান, ‘এলাকার কিছু মানুষ আমার সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন।’

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা আবু হাসানাত শহিদুল হক বাংলাকাগজকে বলেন, ‘আক্কাসের অসুস্থতার কথা শুনেছি। মানবিক কারণে আমাদের উচিত আক্কাসের পাশে দাঁড়ানো।’

আক্কাস আলী খন্দকারকে সহযোগিতা করতে হলে, জনতা ব্যাংক, কলাপাড়া শাখায় ০১০০২২২৪৮৫২৩৬ হিসাব নম্বরে টাকা পাঠানো যাবে।

টাকা পাঠাতে ব্যবহার করা যাবে বিকাশ নম্বর : ০১৭৮৯৮০৭৭৩৬।

শিশুদের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; রবিন তালুকদার, টাঙ্গাইল : মানুষের জন্যই মানুষ- এটাই স্বাভাবিক। যদি এর উল্টো হয়, তবে সংশ্লিষ্টজনের মাঝে মানবিকতা গুণটি কমই রয়েছে, বৈকি! তবে ওই ব্যক্তিও যে মানুষের পাশে একেবারেই দাঁড়ান না, সেটি কিন্তু নয়। এক্ষেত্রে মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষেরা বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের পাশে দাঁড়ান নিজ উদ্যোগে কিংবা আবার প্রতিষ্ঠান-সংগঠনের হয়েও। এমনই এক উদ্যোগ ‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন’।

যেখানে একঝাঁক তরুণ মুখ মানুষকে স্বপ্ন দেখায় নিজের স্বপ্নে। তাঁদের মাঝে আলতোভাবে ছড়িয়ে দেন নিজেদের জ্যোতি।

ফাউন্ডেশনটির এমন আলো ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছিলো ২০১১ সালের ১১ জুন।

স্থানটি ছিলো টাঙ্গাইল।

তবে ধিরে ধিরে চলেও এ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম এখন ঢাকা, শেরপুর, বগুড়া, রাজবাড়ী, রংপুর ও চট্রগ্রাম বিভাগ অবধি বিস্তৃত।

আবার শিশুদের জন্য কাজ করাদের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। এরইঅংশ হিসেবে ‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন’র জন্য স্বেচ্ছাসেবি হয়ে কাজ করছেন এখন ১ হাজার ৫ শতাধিক মানুষ।

জানা গেলো, গেলো বছর করোনাভাইরাস মহামারিকালে শুধু টাঙ্গাইলেই এ ফাউন্ডেশনটি ২ হাজারেরও অধিক পরিবারের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ করেন। এরমধ্যে ছিলো চাল, ডাল, তেল, লবণ, পেঁয়াজ ও ছোলা।

নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তুলে দেওয়ারসঙ্গে এ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবিরা নিজ হাতে রান্না করা খাবার তুলে দেন অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে। তাঁরা বিতরণ করেন করোনাভাইরাস থেকে রক্ষার বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রিও। এরমধ্যে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারেরসঙ্গে ছিলো হ্যান্ড গ্লাবসও।

ফাউন্ডেশনটি গেলোবার ইদে ৫ হাজারেরও অধিক পথশিশুর মাঝে বিরতণ করে নতুন পোশাক।

‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন’র পরিচালক ইশরাত সীমা বাংলা কাগজকে বলেন, ‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন’র বিভিন্ন কার্যক্রমেরমধ্যে রয়েছে শিশুশ্রম বন্ধ, পথশিশুদের দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা বন্ধ এবং শিশু ধর্ষণের বন্ধের ব্যাপারে মানববন্ধনসহ অন্যান্য কর্মসূচি।

তিনি জানান, এবারের লকডাউনেও তাঁদের গতবারের ন্যায় কর্মসূচি থাকছে। এবং এই কার্যক্রম ধরে রাখার দৃঢ় প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মুঈদ হাসান তড়িৎ বাংলা কাগজকে বলেন, ‘গতবারের মত এবারও আমরা লকডাউনের পুরো সময়টায় মানুষের পাশে থেকে তাঁদের মুখে খাবার তুলে দিব।’

‘বিশেষ করে যাঁরা ভিক্ষা করে এবং পাগল তাঁরা অন্যের বেঁচে যাওয়া খাবার বা দান করা খাবারই বেশিরভাগ খান।’

এসব মানুষের সঙ্গে কুকুরসহ বিভিন্ন প্রাণির জন্যও তাঁরা প্রতিদিন খাবারের আয়োজন করবেন বলেও জানান।

‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন’ প্রকল্প পরিচালক সজিব খান বাংলা কাগজকে জানান, বুয়েটিয়ান (বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়- বুয়েট সংশ্লিষ্ট) ইনভেস্টমেন্ট নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের দাতাদের সহযোগিতায় গবিব, অসহায় ও দুস্থদের মাঝে খাবারের আয়োজন পুরো বছরজুড়েই অব্যাহত থাকবে।

ঝালকাঠিতে টিসিবি ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; আ. রহিম রেজা, ঝালকাঠি : ঝালকাঠিতে টিসিবি (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) ডিলারদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছেন সাধারণ মানুষ। তাদের অভিযোগ, ডিলারেরা তাদের নিজেদের প্যাকেজ বিক্রি করায় সরকার প্রদত্ত সম্পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছেন না তাঁরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল ১০টা থেকে টিসিবি ডিলারদের পণ্য বিক্রির কথা থাকলেও তারা আসছেন ৫টা বা এর আশেপাশের সময়ে। এমন অবস্থায় টিসিবি ডিলারদের পণ্য ‘কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ’ বিক্রি না হলেও তারা সময় বদল করছেন না। ফলে সরকারি ভর্তুকি প্রদত্ত নিত্যপণ্য স্বল্পমূল্যে পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন বলছে, এরইমধ্যে বেশকিছু ডিলারের লাইসেন্স বাতিলও করা হয়েছে। কিন্তু কোনও সুফল মিলছে না।

তবে ডিলারেরা বলছেন, তাদেরকে পণ্য আনতে হয় বরিশালের টিসিবি গুদাম থেকে। এ কারণে জনসাধারণের কাছে পণ্য নিয়ে পৌঁছাতে তাদের বিকেল হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে অবশ্য সাধারণ মানুষ বলছেন, বরিশালের গুদাম থেকে পণ্য আনার পর ডিলারদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এসব জিনিস রাখার মতো ব্যবস্থা থাকা উচিত। আবার এ অঞ্চলের কিছু ডিলারের এমন ব্যবস্থা রয়েছেও। কিন্তু তারা বিকেলেই নিত্যপণ্যের গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছেন।

জানা গেছে, ঝালকাঠি সদরসহ ৪ উপজেলায় বর্তমানে টিসিবি ডিলারের সংখ্যা ৩০ এর মতো। আর তাদের কাছ থেকে পণ্য নেওয়ার জন্য প্রতিদিনই মানুষ ভিড় করছেন সকাল থেকে। অথচ নিয়োগপ্রাপ্ত সকল ডিলার গুদাম থেকে পণ্যও আনছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝালকাঠি ডিসি অফিসের বিপরীতে জেলখানার সড়কে হাত ব্যাগ নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই সকাল ১১টার থেকে টিসিবির পণ্য নেওয়ার জন্য ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদেরমধ্যে আবার নারিদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে তাঁদেরকেই।

একই অবস্থা চোখে পড়েছে শহরের মিনি পার্ক সংলগ্ন কলেজ খেয়াঘাট এলাকায়ও।

সরেজমিনে ঝালকাঠি ডিসি অফিসের সামনে বিকেল ৫টায় পণ্য নিয়ে আসতে দেখা গেছে সিফাত এন্টারপ্রাইজকে। আর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পণ্য নিয়ে কলেজ খেয়াঘাটে দেখা গেছে নাইম স্টোরের মালিককে।

জানতে চাইলে টিসিবি’র বরিশাল বিভাগের সহকারি কার্যনির্বাহি কর্মকর্তা সাহিদুল ইসলাম বাংলা কাগজকে বলেন, বরিশাল গুদাম থেকে প্রথমে মালামাল দেওয়া হয় বিভাগের দূরবর্তি জেলা ভোলা ও বরগুনার ডিলারদের। তারপর অন্য জেলার মালামাল দিতে দেরি হচ্ছে।

ডিলারদের প্যাকেজ করে পণ্য বিক্রি করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ অন্যায় এবং নিষিদ্ধ। কোনও ডিলার প্যাকেজ করে টিসিবির পণ্য বিক্রয় করলে তার বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার আইনে মামলা করে সাজা দেওয়া হবে।’

পাইকগাছায় স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িবাঁধ মেরামত করলেন এলাকাবাসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা) : পাইকগাছায় বিভিন্নস্থানের ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে মেরামত করেছে এলাকাবাসি।

বৃহস্পতিবার (পহেলা এপ্রিল) কয়েকশ মানুষ নিজেদের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ওই বেড়িবাঁধ মেরামত করেন।

তবে এলাকার কয়েকটি স্থান এখনও ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। এসব এলাকার বাঁধ আগামি পূর্ণিমার আগেই সংস্কার ও মজবুত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসি।

পূর্ণিমার প্রভাবে নদ-নদীতে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় গত মঙ্গল ও বুধবার উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের কাটিপাড়া, দেলুটির জিরবুনিয়া, সোলাদানার গুচ্ছগ্রামসহ কয়েকটি স্থানের বাঁধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হয়।

এতে মৎস্য, কৃষি ফসল ও পানের বরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র কুমার দাস বাংলা কাগজকে বলেন, বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হওয়ার ফলে ৬শ বিঘার চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‘যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২০ লাখ টাকা।’

‘যেসব এলাকার বাঁধ ভেঙ্গে গেছে, সে সকল ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ কয়েকশ এলাকাবাসি বৃহস্পতিবার (পহেলা এপ্রিল) স্বেচ্ছাশ্রমেরভিত্তিতে কাজ করে মেরামত করেছেন।’

বইমেলায় প্রথম ট্রান্সজেন্ডার নারি স্বেচ্ছাসেবক সিমরান

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বইমেলায় প্রথমবারের মতো ট্রান্সজেন্ডার নারি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন সিমরান। সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ‘হুইল চেয়ার সেবা’র হয়ে কাজ করছেন তিনি। রোববার (২১ মার্চ) বইমেলার চতুর্থ দিনে তাঁকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে দেখা গেছে।

এ সময় তিনি বাংলা কাগজকে বলেন, ‘যখন আমি জেনেছি সুইচ বাংলাদেশ মানুষের সেবায় এ উদ্যোগ নিয়েছে তখন আমি স্বেচ্ছায় কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছি। মানুষের পাশে থাকা আমাদের সবার কর্তব্য। আমি চাই মানুষের সেবা করতে। অক্ষম ব্যক্তিদের আমি মেলা পরিদর্শন করাবো।’

বইমেলায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে পেরে কেমন লাগছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে। মেলা যতোদিন আছে, কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করবো।’

ট্রান্সজেন্ডার নারিকে কাজে যুক্ত করার বিষয়ে সুইচ বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা কাগজকে বলেন, উনি (সিমরান) টাকা কালেকশন করছিলেন, তখন উনার সঙ্গে আলোচনা হলো। তিনি আমাদের জানান যে, এ পেশাটা ছেড়ে দিতে চান, স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান। উনার কথা আমাদের ভালো লাগলো। তারপর উনাকে অফিসে ডাকলাম। পরে বিস্তারিত কথা বলে আমাদের বর্তমান প্রজেক্ট হুইল চেয়ার সেবায় উনাকে যুক্ত করলাম।

প্রসঙ্গত, শারীরিক প্রতিবন্ধি ও হেঁটে চলাফেরা করতে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য রোববার (২১ মার্চ) হুইল চেয়ার সেবা উদ্বোধন করে সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন। এ সেবারঅংশ হিসেবে প্রতিদিন মেলার দুই প্রান্ত টিএসসি ও দোয়েল চত্বরে ২০টি হুইল চেয়ার থাকবে।

রাঙামাটিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; শহিদুল ইসলাম হৃদয়, রাঙামাটি : রাঙামাটি শহরের কাঠালতলীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬টি পরিবারের পাশে গ্যাস সিলিন্ডার ও চুলা বিতরণ করেছে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা মহসিন পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান মহসিন রোমান।

সোমবার (১৫ মার্চ) বিকেলে রোমানের ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের গ্যাস সিলিন্ডার ও চুলা বিতরণ করা হয়।

এ সময় সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান দুর্গ্বেশর চাকমা ও নাসরিন আক্তার, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জামাল উদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও রেড ক্রিসেন্টের কার্যকরি কমিটির সদস্য সুলতান মাহমুদ বাপ্পা, সদর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।

গ্যাস সিলিন্ডার ও চুলা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা শহীদুজ্জামান মহসিন রোমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

গরু পেলেন মহাদেবপুরের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির একশ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; আমিনুর রহমান খোকন, মহাদেবপুর (নওগাঁ) : নওগাঁর মহাদেবপুরে মঙ্গলবার (২ মার্চ) দুপুরে উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে নিজস্ব অফিস প্রাঙ্গণে সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির লোকজনের আর্থসামাজিক ও জীবন-মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সুফলভোগিদের মধ্যে ১শ গরু এবং দানাদার খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান মিলনের সভাপতিত্বে আয়োজিত গরু ও দানাদার খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আহসান হাবীব ভোদন।

উন্নত জাতের ক্রসব্রিড বকনা গরু ও ১২৫ কেজি করে দানাদার খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সহকারি কমিশনার (ভূমি) আসমা খাতুন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাবেয়া রহমান পলি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অজিত মন্ডল বিশেষ অতিথি ছিলেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম রাব্বানী।

বঞ্চিত মানুষেরা খেলেন তৃপ্তিভরে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; কেয়া প্রামাণিক, ঝিনাইদহ : মানুষকে আহার করিয়ে তৃপ্তি কে না পায় ? তবে হালে এ ধরনের খাবার খাওয়ানো মানুষের দেখা মেলা ভার।

এর পরও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটী ইউনিয়নের বংকিরা গ্রামে এমন একজন ব্যক্তি রয়েছেন।

তিনি হচ্ছেন আনোয়ার পাশা বিদ্যুৎ।

তিনি ‘বঞ্চিতজন’ সংগঠনের ব্যানারে দরিদ্র মানুষকে আহার করিয়ে তৃপ্তি পান।

সংগঠনটির চেয়ারম্যান তিনি।

আনোয়ার পাশা বিদ্যুতের মানুষকে খাওয়ানোর অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বংকিরা গ্রামের হওনঘাটা মাঠে সংগঠনটির একটি বার্ষিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বংকিরা, হাজরা, গোবিন্দপুর, আসাননগর, চোরকোল, ওয়াড়িয়া, গোবিন্দপুর, চুয়াডাঙ্গার জীবনা, দশমাইল, ভুলটিয়া, ধোপাবিলা ও লক্ষিপুরসহ আরও কিছু এলাকার কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশ শেষে আপ্যায়ন করানো হয় বেশকিছু বঞ্চিত মানুষকে। তাঁরা খেলেন তৃপ্তিভরে।

এ ব্যাপারে বঞ্চিতজন সংগঠনের চেয়ারম্যান আনোয়ার পাশা বিদ্যুৎ বাংলা কাগজকে জানান, সমাজের বঞ্চিত মানুষগুলোকে এক কাতারে সামিল করাই তাঁর লক্ষ্য।

তাইতো তিনি বঞ্চিতদের আহার করিয়ে মুখে হাঁসি ফোটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

গাইবান্ধায় কাটে নি শীতের প্রকোপ : পুরাতন কাপড়ের দোকানে নিম্ন আয়ের মানুষ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; জিহাদ হক্কানী, গাইবান্ধা : দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত ৩ দিন ধরে শীতের প্রকোপ একটু কমেছে।

তবে শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত গাইবান্ধার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে দেখা গেছে গরম কাপড়ের দোকানে।

তাঁদের মধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষ ভিড় জমিয়েছেন পুরাতন কাপড়ের দোকানে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় গাইবান্ধায়। এরইঅংশ হিসেবে সকাল থেকেেই ঘন কুয়াশা এবং বেলা বাড়ার সঙ্গেসঙ্গেই ওই অঞ্চলে বাড়তে থাকে হিমেল হাওয়া।

এদিন সূর্যের মুখ দেখা যায় নি অঞ্চলটিতে।

ফলে জবুথবু হয়ে পড়ে জনজীবন।

মূলত হাড় কাঁপুনি শীত থাকায় প্রায় পুরো সপ্তাহজুড়েই গাইবান্ধায় ছিলো গরম কাপড়ের বিকিকিনি। এরমধ্যে শহরের পি কে বিশ্বাস রোডের পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে ছিলো ভিড়।

গাইবান্ধায় এখনও শীত ও কুয়াশা তেমন না কমায় ওই অঞ্চলে দূর ও স্বল্পপাল্লার যানবাহনগুলোকে চলতে হচ্ছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। আবার গত ৩ দিন ধরে ওই অঞ্চলে শীতের কাপড় না নিয়ে গিয়ে বিপদে পড়া নানা ধরনের গাড়ির বেশকিছু ড্রাইভার ও হেলপারও ভিড় জমিয়েছিলেন পুরাতন কাপড়ের দোকানে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঘন কুয়াশার কারণে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলার ১৬৫টি চরাঞ্চলের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম বিপাকে পড়েন ওই অঞ্চলের মানুষ।

এমন অবস্থা এখন না থাকলেও করুণ অবস্থায় রয়েছেন দরিদ্ররা।

কলাপাড়ায় ২ শতাধিক পরিবারের মাঝে গৃহ সামগ্রি

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; রাসেল কবির মুরাদ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : কলাপাড়ায় ঘূর্নিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ দুস্থ ও অসহায় দুই শতাধিক পরিবারের মাঝে গৃহ নির্মাণ সামগ্রি বিতরণ করা হয়েছে।

চাকামাইয়া ইউনিয়নের দিত্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এসব সামগ্রি বিতরণ করা হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গুড নেইবারস এর সহযোগিতায় জাপান প্লাটফর্মের আর্থিক সহায়তায় বিতরণি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাকামাইয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির কেরামত।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গুড নেইবারস-এর প্রোগ্রাম অফিসার সমিরন বিশ্বাস, ফিল্ড ফ্যাসিলেটর নুরুল ইসলাম পলাশ ও ইনকাম জেনারেশন অফিসার পরাগ ডি রোজারিও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

গৃহ নির্মাণ সামগ্রি বিতরণের আওতায় প্রত্যেক পরিবারকে ১৪টি করে ঢেউটিন প্রদান করা হয়েছে।

টিন পেয়েছেন বিভিন্ন ইউনিয়নে মোট ১ হাজার ১০০ পরিবার।

এর আগে ক্ষতিগ্রস্থ এসব দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করে সংস্থাটি।

রাণীশংকৈলে শীতবস্ত্র ও মাস্ক পেলো দরিদ্ররা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; মাহাবুব আলম, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) : ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় দৈনিক কালের কণ্ঠের শুভসংঘের উদ্যোগে ২ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার বিকেলে পৌর শহরের বন্দরে কম্বল ও মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে।

‘শুভ কাজে সবার পাশে’ স্লোগানকে ধারণ করে দরিদ্রদের মাঝে এসব জিনিস বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সেলিনা জাহান লিটা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না, উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভ, ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালি বেগম, বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান ও আবু সুফিয়ান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, শুভসংঘের সভাপতি উপাধ্যক্ষ মহাদেব বসাক, পুরাতন প্রেসক্লাবের সভাপতি কুসমত আলী ও সাধারণ সম্পাদক দৈনিক কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি সফিকুল ইসলাম শিল্পি,
আন্তর্জাতিক নিউজ এজেন্সি বাংলা কাগজ’র মাহাবুব আলম, ডেইলি সান প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির, দৈনিক দাবানলের প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম সুজন এবং দৈনিক গনকন্ঠ প্রতিনিধি মাহবুব আলমসহ শুভসংঘের বিভিন্ন সদস্য এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অন্য সংবাদকর্মিরা।

প্রসঙ্গত, শীতবস্ত্র বিতরণ ও মাস্ক প্রদান কার্যক্রমের আওতায় এসেছে ২০০ বয়স্ক ও অসহায় নারী-পুরুষ।