Category: ভিন জগত

প্রাণ ছিলো? : মঙ্গলে রাত ৩টায় নাসার রোভারের অবতরণ, অভিনন্দন বাইডেনের

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ৭ মাসের যাত্রাপথ পেরিয়ে রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার পর নিরাপদেই মঙ্গলের বুকে নেমেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোভার পারসিভের‌্যান্স।

সৌরজগতে পৃথিবীর নিকট প্রতিবেশি এই লাল গ্রহে কখনও প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কিনা, সেই তথ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে এই রোবট।

বলা হচ্ছে, পারসিভের‌্যান্স হলো মহাকাশে পাঠানো মানুষের বানানো সর্বাধুনিক অ্যাস্ট্রোবায়োলজি ল্যাব।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৩টার দিকে মঙ্গলের বিষুবরেখার কাছাকাছি বিশাল এক গহ্বরে নামে নাসার মার্স রোভার। ওই গহ্বর বা ক্রেইটারের নাম দেওয়া হয়েছে জেজেরো।

পৃথিবী থেকে মানুষ অবশ্য পারসিভের‌্যান্সের সফল অবতরণের বিষয়টি জানতে পেরেছে প্রায় ১১ মিনিট পর।

মঙ্গল থেকে পৃথিবীতে সংকেত পৌঁছাতে ওই সময়টা লেগেছে।

রোবট যানটি যে মঙ্গলের মাটিতে নিরাপদে নেমেছে, তা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার মিশন কন্ট্রোল রুম।

জেজেরো থেকে পারসিভের‌্যান্সের তোলা প্রথম একটি ছবিও অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকাশ করে নাসা।

এই মঙ্গল অভিযানে নাসার ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার ম্যাট ওয়ালেস বলেন, তাঁদের মঙ্গলযান খুব ভালো অবস্থায় আছে, এটা দারুণ খবর।

বিবিসি লিখেছে, ছয় চাকার ওই মার্স রোভার অন্তত দুই বছর সেখানে কাটাবে।

পাথর খুঁড়ে নমুনা ও তথ্য সংগ্রহ করবে। জানার চেষ্টা করবে, সেখানে কখনও প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কিনা।

‘অবতরণ নিশ্চিত হয়েছে। পারসিভের‌্যান্স মঙ্গলপৃষ্ঠে নিরাপদে নেমেছে,’ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেন নাসার এই অভিযানের লিড গাইডেন্স অ্যান্ড অপারেশন্স স্পেশালিস্ট স্বাতী মোহন।

রোবোটিক এ যানটিকে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে ঢোকার আগে প্রায় ৭ মাসে ৪ হাজার ৭২০ লাখ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়েছে; এরপর ঘণ্টায় ১৯ হাজার কিলোমিটার গতিতে বায়ুমণ্ডল পেরিয়ে এটি লাল গ্রহের পৃষ্ঠ স্পর্শ করে।

অবতরণের পরপরই পারসিভের‌্যান্স মঙ্গল পৃষ্ঠ থেকে বেশ কয়েকটি সাদাকালো ছবি পাঠায়; যার মধ্যে একটিতে পাথুরে পৃষ্ঠের ওপর রোভারটির ছায়াও দেখা গেছে।

পারসিভের‌্যান্সের নিরাপদ অবতরণকে ‘অসাধারণ অর্জন’ অভিহিত করেছেন নাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্টিভ জারসিক।

ওয়ালেস জানিয়েছেন, তাঁদের রোবোটিক যানটির মঙ্গলের অবতরণ ছিল ‘নিখুঁত’।

নাসার এ মঙ্গল যানটির অবতরণই ছিল দুই বছরের, ২৭০ কোটি ডলার ব্যায়ের প্রজেক্টের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ।

পারসিভের‌্যান্স ছাড়াও আগামী এক দশকের মধ্যে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সহযোগিতায় মঙ্গলে আরও দুটি অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা আছে নাসার।

কোভিড-১৯ মহামারিতে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ভয়াবহ বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পারসিভের‌্যান্সের অবতরণ বিরাট খুশির খবর নিয়ে হাজির হয়েছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউস থেকে নাসার মঙ্গলযানের অবতরণ পর্যবেক্ষণ করেছেন; পরে টুইটারে তিনি অভিযান সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানান।

ঢাকার আকাশে ধূমকেতু নিওয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বাংলাদেশ থেকেই দেখা যাচ্ছে ধূমকেতু নিওয়াজ। বাংলাদেশ বললেও ভুল হবে আরেকটু বাড়িয়ে বললে ঢাকার আকাশ থেকেই দেখা যাচ্ছে ধূমকেতুটি।

জানা গেছে- ধূমকেতু নিওয়াজ সূর্যকে প্রদক্ষিণ শেষে বর্তমানে বহিঃসৌরজগতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। যদিও খালি চোখে এটি দেখা কষ্টকর, তবে সূর্যাস্তের পরে অন্ধকার হয়ে এলে উত্তর-পূর্ব আকাশে দিগন্তের কাছে সাধারণ বাইনোকুলার ব্যবহার করেই একে দেখা যাচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকার দক্ষিণ মুগদাপাড়া থেকে ধূমকেতু নিওয়াজের ছবি তুলতে সক্ষম হন বিজ্ঞান বিষয়ক সংগঠন ‘অনুসন্ধিৎসু চক্র বিজ্ঞান’র সদস্য অরুণাভ ব্রুনো।

অরুণাভ দুই দশমিক ৫০ সেকেন্ড এক্সপোজারের ৩২টি ছবি তুলে সেগুলোকে একত্রিত (স্ট্যাক) করে নিওয়াজের একটি ছবি তৈরি করেছেন। জ্যোতির্বিদ্যার কাজে ভালো ছবি তোলার অন্যতম পদ্ধতি এ ধরনের একত্রিতকরণ।

অনুসন্ধিৎসু চক্র বিজ্ঞান জানায়, আগামী ২২ জুলাই পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকবে নিওয়াজ, কিন্তু ক্রমেই সূর্য থেকে দূরে সরে যাওয়ায় এটিকে দিনদিন কম উজ্জ্বল দেখা যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

জানা গেছে- সাধারণ সুদীর্ঘ ৬ হাজার ৮শ বছর পর ধূমকেতু নিওয়াজকে ভালোভাবে দেখার সুযোগ পায় পৃথিবীবাসী।

অনুসন্ধিৎসু চক্র বিজ্ঞান আরও জানায়- কেন্দ্র মাত্র পাঁচ কিলোমিটার আকারের পাথর-ধূলা-বরফের একটি পিণ্ডই হচ্ছে নিওয়াজ। তবে সূর্যালোকের চাপে এর ধূলার লেজটি প্রায় এক কোটি কিলোমিটার দীর্ঘ।

নিওয়াজ সম্পর্কে জানতে যে কেউ www.achokro.org ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারেন।