Category: বিশেষ খবর ও প্রতিবেদন

এস আলমের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হতাহতদের ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারায় এস আলম গ্রুপের নিমার্ণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গুলিতে ৫ শ্রমিক নিহত এবং অন্তত ৪০ শ্রমিক আহত হওয়ায় ঘটনার বিচারিক তদন্ত এবং নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৩ কোটি ও আহত শ্রমিকদের প্রত্যেককে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বিবাদের কেনো নির্দেশ দেওয়া হবে না, সেই রুল চাওয়া হয়েছে আদালতের কাছে।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন।

তিনি বাংলা কাগজকে বলেন, ‘নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ৩ কোটি টাকা করে এবং আহতদের প্রত্যেককে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে গত ১৮ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবসহ ৭ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ ১৬ কর্মকর্তা বরাবর ই মেইলের মাধ্যমে আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলাম।’

‘তাদের কাছ থেকে কোনও জবাব আমরা পাই নি। ৭ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিলো। আগামি রবিবার (২৫ এপ্রিল) বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হবে। এই সময়ের মধ্যে জবাব না পেলে বা জবাব দিলেও সে জবাব গ্রহণযোগ্য মনে না হলে সোমবার (২৬ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট আদালতে রিট আবেদনটি উপস্থাপন করে শুনানির তারিখ চাওয়া হবে।’

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীরের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান এই আইনজীবী।

গত ১৭ এপ্রিল গণ্ডামারা ইউনিয়নে এস আলম গ্রুপের নির্মাণাধীন ১৩২০ মোগাওয়াট ক্ষমতার ‘এস এস পাওয়ার প্ল্যান্টে’ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উপর গুলির ঘটনা ঘটে। তাতে ঘটনাস্থলেই ৪ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে আরও ১ জনের মৃত্যু হয়।’

‘এছাড়া ওই ঘটনায় অন্তত ৪০ জন শ্রমিক এবং ২ পুলিশ সদস্য আহত হন।’

প্রত্যক্ষদর্শি ও আহত শ্রমিকদের ভাষ্য, বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে সেদিন শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছিলেন। আর ওই বিক্ষোভে গুলির ঘটনা ঘটে।

রিট আবেদনে বলা হয়, দরিদ্র শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় বিবাদিরা কর্তৃপক্ষ হিসাবে তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এই নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত অপরাধিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আদালত বিবাদিদের প্রতি নির্দেশ দিতে পারেন।

‘প্রভাবশালি মহলের হাত থেকে সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জান-মালের রক্ষা এবং তাদের সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিবাদিদের বিশেষ করে সরকারি কর্মচারিদের সাংবিধানিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।’

‘কিন্তু এ ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, স্থানীয় প্রশাসন দরিদ্র শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মালিক পক্ষের হয়ে সহায়তা করেছে এবং সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্তৃপক্ষ নীরব থেকেছে। এটি সম্পূর্ণভাবে আমাদের সাংবিধানিক চেতনার পরিপন্থী। এটি মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।’

সেই কারণে বিবাদিদের নিষ্ক্রিয়তা কেনো আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং

নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৩ কোটি ও আহত শ্রমিকদের প্রত্যেককে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বিবাদের কেনো নির্দেশ দেওয়া হবে না, সেই রুল চাওয়া হয়েছে আদালতের কাছে।

ক্ষতিপূরণ এবং বিচারিক তদন্ত কমিটির নির্দেশনা ছাড়াও হতাহত শ্রমিকদের তালিকা তৈরি করে তা আদালতে দাখিল করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিট আবেদনে।

স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, শিল্প সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব, বাণিজ্য সচিব, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব, পরিবেশ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও এস এস পাওয়ার আই লিমিটেডসহ ১৯ ব্যক্তি ও দপ্তরকে বিবাদি করা হয়েছে এতে।

গুলি নিয়ে যশোরগামি ফ্লাইটে চড়তে চেয়েছিলেন এক দম্পতি

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগ্নেয়াস্ত্রের ম্যাগাজিন ও গুলিসহ এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাগজপত্র যাচাই–বাছাই করে পরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ওই দম্পতি পুলিশকে বলেন, গুলি নেওয়ার বিষয়টি আগেই ঘোষণা দিতে তাঁরা ভুলে গিয়েছিলেন।

অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সকাল আটটার দিকে ইউএস-বাংলার ফ্লাইটে যশোর যাওয়ার সময় তাদের আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বি এম ফরমান আলী।

ওই দম্পতির পরিচয় ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক তানজিনা মাহিনুর এবং তাঁর স্বামী মোশাহিদ রহমান একজন ব্যবসায়ি।

বাংলাকাগজকে ওসি বি এম ফরমান আলী বলেন, এই দম্পতি বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় স্ক্যানিং মেশিনে পাঁচটি গুলি ও একটি ম্যাগাজিন নজরে আসে শুল্ক কর্মকর্তাদের। এখন কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে, তাঁরা কেনো এগুলো নিয়ে যাচ্ছিলেন।

বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, গুলির কাগজপত্র পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

‘নিয়ম অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র, গুলিসহ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও বিষয়টি ঘোষণা দিতে হয়। তাঁরা দেন নি। উড়ার আগে স্ক্যানিং মেশিনে বিষয়টি ধরা পড়ে।’

নতুন আবিষ্কার : শিক্ষক, চিকিৎসক ও ডাক্তারের কাজ একাই করবে ‘বঙ্গ’

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; বরিশাল : বাংলা, ইংরেজি এবং আঞ্চলিক ভাষাসহ বিভিন্ন দেশের ভাষায় কথা বলা রোবট তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন বরিশালের আগৈলঝাড়ার ক্ষুদে বিজ্ঞানি সুজন পাল। আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বাষির্কির সময়ে তৈরি করা হয়েছে বলে রোবটটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বঙ্গ’।

রোবটের স্বত্ত্বাধিকারি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের সরকারি গৌরনদী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থি ক্ষুদে বিজ্ঞানি সুজন পাল বাংলা কাগজকে বলেন, এ রোবট বাংলা ও ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতে পারে।

‘বাড়ি ও অফিস-আদালত কিংবা যে কোনও প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগলে মুহুর্তেই খবর পৌঁছে দেবে নিকটস্থ ফায়ার সার্ভিসকে।’

‘এ ছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ হলে সঙ্গেসঙ্গে বিশেষ সঙ্কেতের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে ঘরে থাকা লোকজনকে। আবার প্রয়োজনে রোবটটি কাজ করবে প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে। প্রয়োজনে চিকিৎসক হিসেবে প্রাথমিক চিকিৎসাও দিতে পারবে। সেইসঙ্গে কৃষকের কৃষি কাজে, বিশেষ করে ফসলের রোগ বালাই মোকাবিলায় পরামর্শ দেবে এ রোবট।’

তিনি আরও জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমি এ রোবটটিকে আরও আধুনিকভাবে তৈরি করে দেশের মানুষের সেবায় কাজে লাগাতে পারবো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রবল ইচ্ছাশক্তির কারণে অনেকটাই দারিদ্রতাকে জয় করে মেধা দিয়ে বাংলা ও ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় কথা বলা এ রোবট তৈরির পেছনে ছিলো সুজনের পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের একনিষ্ঠ উৎসাহ, মনোবল আর ভালোবাসা। আর এসব কিছুকেই অনুপ্রেরণার অংশ হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন সুজন।

এলাকাবাসি জানান, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও পরিবার থেকে দেওয়া হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে এবং নিজে প্রাইভেট পড়িয়ে টাকা উপার্জন করে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে চার মাস চেষ্টার পর রোবটটি প্রস্তুত হয়।

সুজনের আবিষ্কৃত রোবট যে কোনও প্রশ্ন গুগল থেকে সার্চ করে উত্তর দেবে।

রোবটটি দেখতে ও খুদে বিজ্ঞানি সুজনের সঙ্গে কথা বলতে প্রতিদিনই তাঁর বাড়িতে ভিড় করছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

ক্ষুদে বিজ্ঞানি সুজন পালের বাবা জয়দেব পাল ও মা সবিতা রানী পাল প্রথমে সুজনকে নিরুৎসাহিত করলেও এখন মানুষের মতো কথা বলা রোবট তাঁর ছেলে তৈরি করায় অনেক খুশি তাঁরা।

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ওইএনও) আবুল হাশেম বাংলাকাগজকে বলেন, সুজনের আবিষ্কৃত রোবটটিকে আরও আধুনিকভাবে তৈরি করার লক্ষ্যে সে যদি লিখিতভাবে অর্থনৈতিক সাহায্যের আবেদন করে, তাহলে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে সে যাতে পৃষ্ঠপোষকতা পায়, তাঁর জন্য আমি সুপারিশ করবো।

দোরাইস্বামী : চুক্তির বাকি টিকা দ্রুত পেয়ে যাবে বাংলাদেশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; ব্রাহ্মণবাড়িয়া: বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার ভিক্রম কুমার (ভি কে) দোরাইস্বামী বলেছেন, চুক্তির বাকি টিকা দ্রুত পেয়ে যাবে বাংলাদেশ।

৪ দিনের ভারত সফর শেষে বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সকালে আখাউড়া চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন হয়ে সড়কপথে ঢাকায় ফেরার সময় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক অনেক উন্নত। কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের জন্য দুই দেশের সম্পর্কে বাধা পড়বে না। এ মুহূর্তে ভারতে নিজেদেরই টিকার সংকট রয়েছে। উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। শিগগিরই বাংলাদেশেও টিকা সরবরাহ করা হবে।

‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণেই অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বেশি ভ্যাকসিন সরবরাহ চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, বাকি ভ্যাকসিনগুলো ক্রমান্বয়ে সরবরাহ করা হবে।’

সফরশেষে দোরাইস্বামী সস্ত্রীক চেকপোস্টে পৌঁছালে তাঁদের স্বাগত জানান আখাউড়া উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর এ আলম ও আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান।

দেশের বাইরে মুমিনুলের প্রথম সেঞ্চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : পাল্লেকেলে টেস্টের প্রথম দিন নামের পাশে ৬৪ রান নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন মুমিনুল হক। বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই সেটিকে শতকে পরিণত করলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।

টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি করতে ২২৪ বল খরচ হলো তাঁর। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটি তাঁর চতুর্থ সেঞ্চুরি এবং দেশের বাইরে প্রথম। এতোদিন ঘরের মাঠে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি থাকলেও দেশের বাইরে সেঞ্চুরি না থাকা ক্রিকেটারদের তালিকায় মুমিনুল ছিলেন শীর্ষে। দেশের বাইরে সেঞ্চুরি না থাকা ক্রিকেটারদের তালিকায় আছেন রোহিত শর্মা, চান্দু বরদে, মারনেস লাবুসেন ও স্ট্যানলি জ্যাকসন আছেন।

সেঞ্চুরির সঙ্গে অনেক সমালোচনারও জবাব দিলেন মুমিনুল। ঘরের মাঠে মুমিনুলের টেস্ট গড় ৫৬ দশমিক ৩৯। কিন্তু দেশের বাইরে সম্পূর্ণ উল্টো। ১৮ টেস্টে ৩৪ ইনিংসে সেই গড়ই মাত্র ২৪ দশমিক ৬০। ৭টি ফিফটি ছিলো, কিন্তু ছিলো না কোনও সেঞ্চুরি। এবার সেই সেঞ্চুরির খরা শেষ হলো। নাজমুল হোসেনকে নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ জুটিও গড়েছেন মুমিনুল। কাল ১৫০ রানের জুটি গড়ে বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সকালে সেটিকে ২০০ রানের ঘরের নিয়ে যান। ডাবল সেঞ্চুরির জুটিতে বড় অবদানটা ছিলো বুধবার (২১ এপ্রিল) টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করা নাজমুলেরই। মুমিনুল খেলেছেন পার্শ্ব নায়কের মতোই।

টেস্টে ফিফটি করলে সেটিকে সেঞ্চুরি রূপ দেওয়ায় মুমিনুলই বাংলাদেশে সেরা। পরিসংখ্যানের দিক থেকে মোহাম্মদ আশরাফুল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও সেঞ্চুরি-ফিফটির সংখ্যা ও ইনিংসের দীর্ঘায়ুর হিসেবে মুমিনুলই এগিয়ে আছেন।

৬১ টেস্টে ১১৯ ইনিংস খেলে আশরাফুলের সেঞ্চুরি ৬টি, ফিফটি ৮টি। আশরাফুলের ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করার হার ৪২ দশমিক ৮৬। মুমিনুল মাত্র ৪৩ টেস্টে ৭৯ ইনিংস খেলেছেন। সেঞ্চুরি করেছেন ১০টি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কাল করা ফিফটি মুমিনুলের ১৪তম টেস্ট ফিফটি। ফিফটিকে সেঞ্চুরি বানানোর হার ৪১ দশমিক ৬৭।

সংখ্যাই প্রমাণ করে, টেস্টে ফিফটি করলে সেটিকে মুমিনুলের সেঞ্চুরিতে পরিণত করা নতুন কিছু না। মুমিনুলের মতোই ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করার হার কুমার সাঙ্গাকারা, বীরেন্দর শেবাগদের।

এ বার নিজেকে নতুন করেই সবার সামনে তুলে ধরলেন মুমিনুল।

মেট্রোরেলের কোচগুলো ডিপোতে নেওয়া শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ঢাকায় চালানোর জন্য মেট্রোরেলের এক সেট ট্রেনের কোচ ডিপোতে নেওয়া শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সকালে। সকাল আটটার দিকে ক্রেন দিয়ে কোচ লরিতে তোলার কাজ শুরু হয়। একটি কোচ ইতিমধ্যে লরিতে ওঠানো হয়েছে। এটি দিয়াবাড়ির ডিপোতে নিয়ে যাওয়া হবে।

দিনভর একই লরিতে করে মোট চারটি কোচ ডিপোতে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। সম্ভব না হলে অন্তত ৩টি কোচ নেওয়ার কথা রয়েছে।

আর জেটিতে অবস্থানরত বাকি দুটি কোচ নামিয়ে শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) সকালে ডিপোতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বুধবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে দুটি বার্জ দিয়ে এক সেট ট্রেনের মোট ৬টি কোচ ঢাকায় এসেছে। বিকেল পাঁচটার দিকে ট্রেনবাহী প্রথম বার্জটি মোংলা বন্দর থেকে ঢাকার উত্তরায় মেট্রোরেলের ডিপোর কাছে নদীর জেটিতে ভেড়ে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে আরেকটি বার্জ জেটিতে আসে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) অধীনে ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্প (লাইন-৬) বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাপান থেকে ট্রেনের কোচের পাশাপাশি তা বার্জ থেকে নামানোর যন্ত্রও আনা হয়েছে। বুধবারই (২১ এপ্রিল) এসব যন্ত্র খালাস করা হয়।

মেট্রোরেলের কোচগুলো তৈরি হয়েছে জাপানে। এরপর বড় জাহাজে ভরে জাপানের কোবে বন্দর থেকে গত ৪ মার্চ যাত্রা শুরু করে।

বাংলাদেশের মোংলা বন্দরে পৌঁছায় ৩১ মার্চ। এরপর শুল্ক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঢাকার পথে বার্জে যাত্রা করে। কোচগুলো পৃথক পৃথক আচ্ছাদন দিয়ে মুড়িয়ে আনা হয়েছে।

ডিএমটিসিএল সূত্র বলছে, কোচগুলো ডিপোতে এনে আচ্ছাদন খোলা হবে। এরপর সেখানে প্রতিটি কোচের ১৯ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে লাইনে তোলা হবে। এ কাজে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। এ কাজের জন্য ইতালি থেকে একধরনের যন্ত্র আনা হয়েছে।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব এম এ এন সিদ্দিক বাংলাকাগজকে বলেন, কোচগুলো লাইনে তোলার পর একটা অনুষ্ঠান করা হবে। এতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও জাপানের প্রতিনিধিরা থাকবেন। এরপর পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হবে। এজন্য ডিপো থেকে পল্লবী পর্যন্ত মেট্রোরেলের লাইন, সংকেতব্যবস্থা ও স্টেশন অবকাঠামো প্রস্তুত করা হচ্ছে।

প্রকল্পের নথি অনুসারে, জাপানের কাওয়াসাকি-মিতসুবিশি কনসোর্টিয়ামকে ২৪ সেট ট্রেন নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয় ২০১৭ সালে। দুই পাশে দুটি ইঞ্জিন আর চারটি কোচের সমন্বয়ে ট্রেনের সেটগুলো তৈরি হচ্ছে জাপানে। এরইমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে ৫ সেট ট্রেন, যার প্রথমটি দেশে এসে পৌঁছেছে। দ্বিতীয় সেট জাপান থেকে ১৫ এপ্রিল রওনা হওয়ার কথা। সেটি পৌঁছাতে পারে আগামি ১৬ জুন। আর তৃতীয় সেট ১৩ জুন রওনা দিয়ে ১৩ আগস্ট পৌঁছাতে পারে। বাকি দুটি সেটের আসার সময়সীমা এখনো ঠিক হয় নি।

সবমিলিয়ে ২৪ সেট ট্রেনের দাম পড়ছে ৩ হাজার ২০৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। শুল্ক ও ভ্যাট মিলিয়ে এসব ট্রেন বাংলাদেশে আনার পর মোট খরচ হবে ৪ হাজার ২৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ট্রেনগুলোয় ডিসি ১৫০০ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা থাকবে। স্টেইনলেস স্টিল বডির ট্রেনগুলোয় থাকবে লম্বালম্বি সিট। প্রতিটি ট্রেনে থাকবে দুটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত প্রতিটি বগির দুই পাশে থাকবে চারটি করে দরজা। জাপানি স্ট্যান্ডার্ডের নিরাপত্তাব্যবস্থা-সংবলিত প্রতিটি ট্রেনের যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে ১ হাজার ৭৩৮ জন। ভাড়া পরিশোধের জন্য থাকবে স্মার্ট কার্ড টিকিটিং ব্যবস্থা।

হেফাজতের খালেদ সাইফুল্লাহ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারি পরিচালক আ ন ম ইমরান খান বাংলাকাগজকে বলেন, সম্প্রতি নাশকতা ও সহিংসতার ঘটনায় পল্টন থানায় করা মামলায় মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) ভোররাত ৪টার দিকে খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

৫ এপ্রিল পল্টন থানায় করা সেই মামলার ৮ নম্বর আসামি মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী।

বুধবারও (২১ এপ্রিল) রাজধানির মোহাম্মদপুর ও কাফরুলে অভিযান চালিয়ে দলটির আরও দুই শীর্ষস্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও র‌্যাব।

তারা হলেন দলটির কেন্দ্রীয় সহকারি মহাসচিব ও বাংলাদেশের খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির খুরশিদ আলম কাসেমী এবং খেলাফত মজলিসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি শরাফত হোসাইন।

বিকেল পাঁচটার দিকে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে কাসেমীকে এবং কাফরুল থেকে শরাফতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সহিংসতার ঘটনায় মতিঝিল থানায় দায়ের হওয়া মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি তাঁরা।

জামায়াতের সঙ্গে মিলে সরকারের পতন ঘটাতে চেয়েছিলেন মামুনুল!

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের সঙ্গে সখ্য ছিলো মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারি জামায়াতে ইসলামের। আর জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশেই তিনি সরকার পতন চেয়েছিলেন। চেয়েছিলেন ক্ষমতায় যেতে।

মামুনুল হক রিমান্ডে এসব তথ্য দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র বলছে, বর্তমান সরকারের পতনের মাধ্যমে ইসলামি রাষ্ট্র কায়েমের স্বপ্ন দেখেছিলেন মামুনুল হক। এজন্য তিনি হেফাজতের নেতাকর্মিদের উদ্বুদ্ধ করতেন। তার মতে, অন্য নেতাদের দিয়ে এই বিপ্লব সম্ভব নয়, তাই তিনি নিজেই দায়িত্ব নিয়ে আন্দোলনের নামে সহিংসতায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

মামুনুল মনে করতেন, বর্তমান সরকারের পতন হলে, কাউকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে হলে হেফাজতের সমর্থন লাগবে। আর এই সরকার পতনের উদ্দেশ বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামের নেতাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ হতো।

সূত্র আরও জানায়, হেফাজতে ইসলামের মধ্যে মামুনুল হক সবচেয়ে উগ্রপন্থি নেতা। তিনি যে কোনও মূল্যে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারি দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পতন ঘটাতে চেয়েছিলেন। আর এ কারণেই যে কোনও ইস্যুতেই তিনি সহিংসতার উস্কানিমূলক বক্তব্য দিতেন।

রবিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানির মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে গ্রেপ্তার হন মামুনুল হক।

এর পরদিন তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ।

১৫ দিনেই এসেছে এক মাসেরও বেশি প্রবাসি আয়

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : দেশে গত বছরের এপ্রিলে ১০৯ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসিরা। আর চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনেই এসেছে ১১৫ কোটি ডলার, যা দেশের প্রায় ৯ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকার সমান।

মাস শেষে এই আয় গত বছরের একই মাসের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে নতুন লকডাউনের পরিস্থিতিতেও প্রচুর অর্থ পাঠাচ্ছেন প্রবাসিরা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লকডাউনের কারণে যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। আর সরকারি ২ শতাংশ প্রণোদনার সঙ্গে অনেক ব্যাংক বাড়তি ১ শতাংশ অর্থ দিচ্ছে। ফলে সব আয় বৈধ পথে আসছে। এতে ইদের আগে প্রবাসি আয়ে বড় উল্লম্ফন দেখা যাবে।

করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসি আয় ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছিলো। তা গত মার্চে কমে আসে। তবে এপ্রিলে আবার বেড়েছে। গত মার্চ মাসে এসেছে ১৯১ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১৯৬ কোটি ও ফেব্রুয়ারিতে ১৭৮ কোটি ডলার আসে। গত বছরের জুলাই, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর- এই ৫ মাসের প্রতিটিতেই ২০০ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসি আয় আসে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৬০ কোটি ডলার আসে জুলাইয়ে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক দেশে নতুন করে লকডাউন শুরু হয়েছে। ফলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে প্রবাসি আয়ে। তবে রমজানের কারণে আবার আয় বাড়তে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ৩৩ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ১৩ কোটি ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ১২ কোটি ডলার এসেছে।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকার ২ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা করার পর থেকেই বৈধ পথে প্রবাসি আয়ে গতি আসতে থাকে। অবৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো কমে যায়। করোনার মধ্যে প্রবাসি আয়ে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা করা হলেও তেমন প্রভাব পড়ে নি।

এখন সরকারের ২ শতাংশের সঙ্গে অগ্রণী, রূপালী ও ইসলামী ব্যাংকসহ আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংক বাড়তি ১ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে।

আবার মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকার বেশি এলেও সরকারি ২ শতাংশের সঙ্গে অতিরিক্ত ১ শতাংশ প্রণোদনা মিলছে। সবমিলিয়ে বৈধ পথে প্রবাসি আয় আসা বেড়েছে।

‘চীনের রাষ্ট্রদূতকে হত্যায় হামলা’ : দায় স্বীকার তালেবানের

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : পাকিস্তানে বেলুচিস্তানের রাজধানি শহর কোয়েটায় সেরেনা হোটেলে ভয়াবহ বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামি সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান। হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত ৪ জন নিহত হন এবং আহত ১১ জন।

বুধবার (২১ এপ্রিল) রাতে শক্তিশালী এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, চীনের রাষ্ট্রদূতকে হত্যার জন্য এ হামলা চালানো হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের তালেবান গোষ্ঠী আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী প্রদেশটিতে এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানায় নি তারা। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় আফগান সীমান্তবর্তী উপত্যকা অঞ্চলগুলো তালেবানসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তালেবানের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, তারাই এ হামলা চালিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এটি ছিলো আত্মঘাতী হামলা। হোটেলের ভেতরে গাড়িভর্তি বিস্ফোরক নিয়ে ঢুকে পড়ে আমাদের আত্মঘাতি হামলাকারি।’

এ ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মির জিয়াউল্লাহ বলেন, ‘এ অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের ঢেউ চলছে। এসব সন্ত্রাসি কার্যক্রমে আমাদের নিজেদের লোকজনই জড়িত।’

‘এ হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত। তবে তিনি বিস্ফোরণের সময় ওই হোটেলে ছিলেন না।’

‘আমি একটু আগেই চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি সুস্থ ও ভালো আছেন।’

বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র লিয়াকত সায়ানি এক টুইটবার্তায় বলেন, এ হামলার ঘটনায় সম্ভাব্য সব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করা হবে। এর সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এর আগে ২০১৯ সালে বেলুচিস্তানের গোয়াদার শহরে এক ৫ তারকা হোটেলে বোমা ও বন্দুক হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছিলেন। নিষিদ্ধ বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি এ হামলার দায় স্বীকার করে। বেলুচিস্তানের একাধিক গোষ্ঠী প্রদেশটির স্বাধিনতার দাবিতে লড়ে আসছে। সেইসঙ্গে অঞ্চলটিতে চীনা অবকাঠামো ও ব্যাপক বিনিয়োগের বিরোধিতা করে আসছে।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত : নূরের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ মামলা কক্সবাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ফেসবুক লাইভে এসে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মিদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে এবার কক্সবাজারে মামলা হয়েছে।

সদর থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) শেখ মুনীর-উল-গীয়াস বাংলাকাগজকে জানিয়েছেন, বুধবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জেলা ছাত্রলীগের এক নেতা বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন।

কক্সবাজারের মামলার আগে নূরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে চট্টগ্রামেও।

এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একই অভিযোগে ঢাকায় ২টি, সিলেটে ১টি এবং রাজশাহীতে ১টি মামলা হয়েছে।

এ নিয়ে নূরের বিরুদ্ধে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ এ।

কক্সবাজারের মামলা : মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে নুরুল হক নুরকে (৩০)।

এজাহারে বলা হয়েছে, পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার ইদ্রিস হাওলাদারের ছেলে তিনি।

মামলার বাদি মঈন উদ্দিন (২৬) কক্সবাজার ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।

ওসি মামলার এজাহারের বরাতে বলেন, গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে নুরুল হক নূর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত এক ভিডিও বক্তব্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছেন বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদি।

‘এজাহারে বাদি অভিযোগ করেছেন, নূর যে বক্তব্য প্রচার করেছেন, তাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মিদের ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত হানার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক উসকানি দেওয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রামের মামলা : কোতোয়ালী থানায় আজিজ মিসি বাদি হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নূরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

আজিজ মিসির চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির অর্থ উপ-কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন বিষয়টি বাংলাকাগজকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ (২), ২৮(২), ২৯(১), ৩১(২) ধারায় মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মামলার নথিতে বাদি আজিজ মিসির বলেন, গত ১৪ এপ্রিল ফেসবুক লাইভে এসে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেটা আওয়ামী লীগের ধর্মপ্রাণ নেতাকর্মিদের ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত দিয়েছে। তিনি আক্রমণাত্মক ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন। নূর ও তার সমর্থকদের আইনের আওতায় আনা হলে আওয়ামী লীগের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান কর্মি-সমর্থকদের ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা করা সম্ভব হবে।

‘কোনও মুসলমান আওয়ামী লীগ করতে পারে না’ বলে গত ১৪ এপ্রিল ফেসবুক লাইভে বক্তব্য দেন নুরুল হক নূর।

পাকিস্তানের বিলাসবহুল হোটেলে বোমা হামলা : নিহত ৪

বাংলা কাগজ ডেস্ক : পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের কোয়েটা শহরের একটি বিলাসবহুল হোটেলে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে চারজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে।

বুধবার (২১ এপ্রিল) রাতে হোটেলে ওই হামলা চালানো হয়।

কোয়েটা সফররত পাকিস্তানে চীনের রাষ্ট্রদূত ওই হোটেলে উঠলেও বিস্ফোরণের সময় তিনি সেখানে ছিলেন না বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রাশিদ আহমেদ।

রাষ্ট্রদূত নিরাপদে আছেন জানিয়ে প্রদেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল্লাহ লাঙ্গো বলেন, ‘একটু আগেই তার (রাষ্ট্রদূত) সঙ্গে আমি দেখা করেছি। তার মনোবল চাঙ্গা আছে।’

রাষ্ট্রদূতের সফর বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) শেষ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র লিয়াকত শাহওয়ানি এক টুইটে জানিয়েছেন, হামলার আগে দিনের বেলায় চীনা রাষ্ট্রদূত নঙ রঙ প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জাম কামালের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।

নাসির মালিক নামের একজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সেরেনা হোটেলের কার পার্কিংয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

স্থানীয় একটি হাসপাতালের কর্মকর্তা ওয়াসিম বেগ ৪ জনের মৃতদেহ পাওয়ার কথা জানিয়ে বলেছেন, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তান তালেবান।

তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) একজন মুখপাত্র এসএমএস বার্তায় রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এটি ছিলো একটি আত্মঘাতি হামলা।

চীনা রাষ্ট্রদূত কিংবা প্রতিনিধি দলকে লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়েছে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়।

তবে এ অঞ্চলে এর আগেও চীনের নাগরিক এবং বিভিন্ন প্রকল্পে তালেবান হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বিলাসবহুল সেরেনা হোটেলের কাছেই রয়েছে ইরানের কনস্যুলেট এবং প্রাদেশিক পার্লামেন্ট ভবন।