Category: বাংলার কৃষি

৮০ শতাংশ পাকলেই ধান কাটার পরামর্শ : আত্রাইয়ে বাম্পার ফলন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; রুহুল আমিন, আত্রাই (নওগাঁ) : নওগাঁর আত্রাইয়ে ধানের শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। মাঠভরা ধান, আর ধানের ভারে ন্যুয়ে পড়েছে শীষ।

অধিকাংশ মাঠগুলোতে ধান পাকতে শুরু করেছে। ধানের সোনালি রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে মাঠের পর মাঠ।

এ যেন এক মনোরম দৃশ্য।

জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে শাহাগোলা, ভোঁপাড়া, মনিয়ারী, পাঁচুপুর ও বিশা ইউনিয়নে সর্বাধিক পরিমাণ জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। এবারও বোরো মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকদের বোরো চাষে কোনও সমস্যায় পড়তে হয় নি।

বিশেষ করে বীজতলা থেকে ধান রোপণ ও পরিচর্যা সবমিলিয়ে মাঠে মাঠে কৃষকের ধান এখন দর্শনীয় হয়ে উঠেছে।

উপজেলার চৌথল গ্রামের আবু বক্কর ছিদ্দিক বাংলাকাগজকে বলেন, এবার আমি ৫৬ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি।

‘এর প্রায় সবগুলোতেই জিরাসাইল ধানের আবাদ করেছি। আমার জমির প্রায় সব ধানই পেকে গেছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম কাউছার হোসেন বাংলাকাগজকে বলেন, বোরো চাষের শুরু থেকেই ভালো মানের বিজ এবং জমির উর্বরতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেছি।

‘বর্তমানে কিছু এলাকাতে ধান কাটা শুরুও হয়েছে। এবার জমিতে বাম্পার ফলন হয়েছে।’

‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষায় ৮০ শতাংশ পাকলেই জমির ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছি।’

ঠাকুরগাঁওয়ে হারিয়ে যাচ্ছে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ কচু শাক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; আব্দুল আউয়াল, ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁও সদরে এক সময় গ্রামের মেঠোপথের দুইপাশে, কৃষি জমি আর বাড়ির পাশের ঝোপে-জঙ্গলে কচুক্ষেত দেখা যেতো। তখন হাট-বাজারে কচু শাক বিক্রিও হতো। কিন্তু এখন সেই চিরচেনা কচু গাছ আর চোখে পড়ে না।

তাইতো এখন হাট-বাজারে সবজির পসরায় আগের মতো নেই কচু।

আবার মেঠোপথ ও কৃষি জমিতেও চোখে পড়ে না এ শাক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, প্রতি ১০০ গ্রাম কচু শাকে থাকে ৬ দশমিক ৮ গ্রাম শর্করা, ৩ দশমিক ৯ গ্রাম প্রোটিন, ১০ মিলিগ্রাম লৌহ, ০ দশমিক ২২ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন), ০ দশমিক ২৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-২ (রাইবোফ্লেবিন), ১২ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’, ১ দশমিক ৫ গ্রাম স্নেহ বা চর্বি, ২২৭ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ৫৬ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি।

বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে গণপূর্ত, ফায়ার সার্ভিস এবং টেলিফোন অফিসের পাশে চোখে পড়েছে বেশকিছু কচু গাছ। যা দেখা যায় না সাধারণত।

জানা গেছে, স্থানীয়রা কচু শাক হিসেবে খেয়ে থাকেন। আবার অনেকেই কচু সংগ্রহ করে হাটে-বাজারে বিক্রিও করেন। এটি একটি সবজিও।

কাগজের কর প্রত্যাহার চান সম্পাদকেরা : কৃষিতে সুবিধা দেবেন জানালেন অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : সংবাদপত্র ছাপানোর প্রধান কাঁচামাল নিউজপ্রিন্ট কাগজের ওপর কর প্রত্যাহার চেয়েছেন সম্পাদকেরা। একইসঙ্গে তাঁরা সংবাদপত্র শিল্পে করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাব বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

আগামি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় বৃহস্পতিবার (‌১৫ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে এসব প্রস্তাব দেন বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদকেরা।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, বৈঠকে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক সোহরাব হোসেন, আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান ও চ্যানেল আইয়ের প্রতিনিধি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাইখ সিরাজ সংযুক্ত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, ইআরডি সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনিম সংযুক্ত ছিলেন।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সম্পাদকরা ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতি নিয়েও বিভিন্ন প্রস্তাব ও পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁরা নিউজপ্রিন্ট কাগজের ওপর কর প্রত্যাহার করা যায় কিনা, সে বিষয়েও প্রস্তাব দিয়েছেন।

বৈঠকের আলোচনার বিষয় সম্পর্কে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষিতে ভর্তুকি আরও বাড়াতে বলেছেন চ্যানেল আই এর শাইখ সিরাজ। পোল্ট্রি শিল্পের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এবং পরামর্শ দিয়েছেন।’

এ ছাড়া কৃষিতে কাজ করতে আসা শিক্ষিত তরুণদের আগ্রহি করে তুলতে প্রণোদনা চালুর প্রস্তাব করেছেন তিনি। শহর কেন্দ্রিক ছাদকৃষিতেও প্রণোদনার কথাও বলেছেন।

‘নিউজপ্রিন্ট পেপারের ওপর কর কমিয়ে দেওয়ার জন্য বলেছেন নঈম নিজাম। নাঈমুল ইসলাম খান সংবাদপত্র শিল্পে করপোরেট ট্যাক্স কমাতে বলার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন।’

উন্নয়ন প্রকল্পে যেসব অপচয় হয়, তা বন্ধ করতে আরও সচেষ্ট হতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছেন কয়েকজন সম্পাদক, বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এক প্রশ্নের উত্তরে ভবিষ্যতে খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন, সরকার সেখানে হাতে দেবে, সহযোগিতা করবে। কৃষি আমাদের লাইফ লাইন। সব প্রকার কৃষিপণ্য উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। শিক্ষিত যাঁরা কৃষিতে আসতে চায়, তাঁদেরকে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হবে। ম্যানুয়াল থেকে যাঁরা আধুনিক কৃষিতে আসতে চায়, তাঁদেরকে সহযোগিতা করবো। কৃষিকে শক্তিশালি করার জন্য যা যা প্রয়োজন সরকার সব করবে।’

চালের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ধান-চাল-গম এগুলো প্রকৃতির আচরণের ওপর নির্ভরশীল। আমরা দাবি করি আমরা স্বাবলম্বি। যে বছর প্রকৃতি স্বাভাবিক থাকে, সে বছর আমরা এই দাবি করতে পারি। প্রকৃতি বৈরি হয়ে উঠলে, প্রাকৃতিক কোনও দুর্যোগ আসলে সেটা আমরা মেইনটেন করতে পারি না। আমাদের এখানে যে পরিমাণ জমি আছে, দক্ষতা আছে, সেটা যদি পূর্ণাঙ্গ মাত্রায় ব্যবহার করতে পারি, তবেই আমরা সেবছর সাবলম্বি। কিন্তু গত বছর আমাদের অনেক বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। সেই কারণে যেসব কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাঁদের জন্য একটা প্যাকেজ নেওয়া হচ্ছে।’

রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা জমিতে চাষ : পানির সঙ্কট দূরে গভীর নলকূপ চান কৃষকেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; শহিদুল ইসলাম হৃদয়, রাঙামাটি : চলতি মৌসুমে চাষিরা কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসা জমিতে যে হারে ধানের আবাদ করেছেন, সে তুলনায় ফলন হবে কিনা তা নিয়ে হতাশায় কপাল চাপড়াচ্ছেন।

রাঙামাটির কৃষকেরা বলছেন, প্রতিবছরের এই সময়ে হালকা বৃষ্টি থাকলেও এ বছর বৃষ্টির কোনও লক্ষণ এখনও পর্যন্ত চোখে পড়ে নি। এ কারণে পানির সঙ্কটে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কৃষকদের। এভাবে চলতে থাকলে নষ্ট হতে পারে আবাদি জমির ফসল।

সরেজমিনে কয়েকদিনের অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ বছর হ্রদের পানি খুব ধীরগতিতে কমছে। তাই হঠাৎ পানি বেড়ে গেলেও ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন এখানকার চাষিরা।

আবার সবুজের চাঁদরে ভরা এই আবাদি ফসল টিকিয়ে রাখার বর্তমান মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে পানি।

শহরের রাঙাপানি এলাকার কৃষক নরেন্দ্র চাকমা বাংলা কাগজকে বলেন, আমাদের এলাকার ৫০টির মতো পরিবার জলে ভাসা জমিতে চাষের উপর নির্ভরশীল। প্রতিবছরের ন্যায় এবার চাষ করার পর পানির সঙ্কটের কারণে লাভের তুলনায় লোকসান গুনতে হতে পারে।

‘কারণ একদিকে হ্রদের পানি খুব ধীরগতিতে কমছে। আবার অন্যদিকে ফসলি জমির জন্য পানি আনতে হয় অনেক দূর-দূরান্ত থেকে।’

‘এখন জমিতে পানি কম থাকার কারণে ইতিমধ্যেই আবাদি ফসলের চেহারা পাল্টাতে শুরু করেছে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে যদি পানির ব্যবস্তা কিংবা একটা ডিপ টিউবলের (গভীর নলকূপ) ব্যবস্থা করে দেওয়া হতো তাহলে আমরা অনেকটা উপকৃত হতাম। এতে আগামিতেও ফসল থেকে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হতো।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক বাংলা কাগজকে বলেন, এই ভরা মৌসুমে রাঙামাটি জেলার সিংহভাগ জলে ভাসা জমিতে ধানের চাষ হয়। যেটা হ্রদের পানির উচ্চতার উপর নির্ভর করে চাষ করা হয়, পানি কমতে থাকলে কৃষকেরা চাষ করতে শুরু করে। এ ধরনের জমি আমাদের জরিপমতে, ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি কিন্তু এবার হ্রদের পানি কমার যে প্রবণতা সে তুলনায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। তারমধ্যে সদরেই ২৩০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে।

‘যদি হ্রদের পানি আরও আগে থেকে কমতো, তাহলে চাষাবাদকৃত জমির পরিমাণ তুলনামূলক আরও বাড়তো।’

পোল্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ১৯ সাংবাদিক

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ৬টি ক্যাটাগরিতে ১৯ জন সাংবাদিককে দেওয়া হলো পোল্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড- ২০১৯। পোল্ট্রি খাতের বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিশেষ অবদান রাখায় স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দেয় বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)।

ক্যাটাগরিগুলোর মধ্যে দৈনিক সংবাদপত্রের ভিত্তিতে পুরস্কার দেওয়া হয় দৈনিক ভোরের কাগজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মরিয়ম সেঁজুতি, দৈনিক দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং দি নিউজ টুডের জ্যেষ্ঠ নিজস্ব প্রতিবেদক মাজহারুল ইসলাম মিচেলকে।

ঢাকার বাইরের সংবাদপত্র ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন সাপ্তাহিক চৌদ্দগ্রামের নির্বাহি সম্পাদক এমদাদ উল্লাহ।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী প্রদান করলেন পোল্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড

টেলিভিশন ও রেডিও ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন যমুনা টেলিভিশনের স্পেশাল করেসপনডেন্ট সুশান্ত সিনহা, চ্যানেল ২৪ এর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক কৃষিবিদ ফয়জুল সিদ্দিকী, মোহনা টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক তানজিলা খানম সাথী।

বার্তা সংস্থা ও অনলাইন ক্যাটাগরিতে বৈশাখী টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক তাসলিমুল আলম তৌহিদ, ম্যাগাজিন ক্যাটাগরিতে এগ্রিনিউজ২৪.কম এর প্রধান নির্বাহি খোরশেদ আলম জুয়েল পুরস্কার পেয়েছেন।

আর প্রমিজিং ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার পেয়েছেন ১০ জন সাংবাদিক।

এনটিভির জ্যেষ্ঠ সংবাদদাতা মাকসুদুল হাসান, দৈনিক জনকণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক রহিম শেখ, সময় টিভির প্রতিবেদক কাজল আব্দুল্লাহ, দৈনিক যুগান্তরের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মিজানুর রহমান চৌধুরী, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট শাহীদ আহমেদ, জাগোনিউজ২৪.কম-এর বিশেষ সংবাদদাতা মনিরুজ্জামান উজ্জল, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলার ভূঁইয়া নজরুল, এগ্রিকেয়ার২৪.কম এর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আবু খালিদ, দৈনিক ইত্তেফাক’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মো. নিজামুল হক ও নিজস্ব প্রতিবেদক মুন্না রায়হান।

জুরিবোর্ডে বিচারক হিসেবে প্রতিবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করেছেন দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগি সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, টিভি টুডের এডিটর ইন চিফ মনজুরুল আহসান বুলবুল, যমুনা টেলিভিশনের বিজনেস এডিটর সাজ্জাদ আলম খান তপু ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম।

অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, পোল্ট্রি খাতের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের বিপরীতে উৎসে কর বাতিল করা হয়েছে। এ খাতের উন্নয়নে যে কোনও সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করবে। সরকারের সঙ্গে বসে সমাধান করে এগিয়ে যাবে এ সেক্টর। একইসঙ্গে এ খাতে কর রেয়াত সুবিধার বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিপিআইসিসি সভাপতি মসিউর রহমান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আব্দুল জব্বার শিকদার।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আবাদ : বোরো ধান ভাল উৎপাদনের আশা কৃষিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বোরো ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হয়েছে। একইসঙ্গে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এ বছর হাইব্রিড ধানের আবাদ বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিলো, সেটিও লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। হাওরসহ সারাদেশের ধান সুষ্ঠুভাবে ঘরে তুলতে পারলে বোরোতে অনেক ভাল ফলন হবে। শুধু ধান নয়; মাঠে অন্যান্য ফসলের উৎপাদন পরিস্থিতিও ভালো অবস্থায় আছে বলে জানান মন্ত্রী।

কৃষিমন্ত্রী রোববার (২১ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে অনলাইনে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এসব কথা বলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মেসবাহুল ইসলাম। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ সংস্থাপ্রধান ও প্রকল্প পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেবে, এ বছর বোরোতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ৪৮ লাখ ৫ হাজার ২০০ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে হাইব্রিড ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ১১ লাখ ৪ হাজার ৬৩৩ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ১২ লাখ ১৩ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় এ বছর মোট আবাদ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর এবং হাইব্রিডের আবাদ বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে।

এ বছর বোরো ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ সহায়তা বাবদ প্রায় ১৪৫ কোটি টাকার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে হাইব্রিড জাতের ধানের চাষ বৃদ্ধিতে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার প্রণোদনা। এ বছর ২ লাখ হেক্টর বেশি জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমাদের এই ছোট দেশে জনসংখ্যা অনেক বেশি, যা ক্রমশ বাড়ছে। অন্যদিকে শিল্পায়ন ও নগরায়নসহ নানা কারণে চাষের জমি দিনদিন কমছে। এই কম জমি থেকেই আমাদের খাদ্য চাল উৎপাদন করতে হবে, চালে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। ভুট্টা, আলু, শাকসবজি, তেল, ডাল ও মসলা জাতীয় ফসলের চাষ ও উৎপাদন বাড়াতে চেষ্টা চলছে। কিন্তু জমিস্বল্পতার কারণে একটির আবাদ বাড়াতে গেলে অন্যটির কমে যায়। কাজেই সকল ফসলের উৎপাদন অব্যাহত রাখা ও তা আরও বৃদ্ধি করতে হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে হবে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গবেষক-বিজ্ঞানি ও সম্প্রসারণকর্মিসহ সকলকে আরও মনোযোগি হতে হবে।

সভায় জানানো হয়, চলমান ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৬৮টি প্রকল্পের অনুকূলে মোট ২ হাজার ৪শ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি হয়েছে ৪০ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

যেখানে জাতীয় গড় অগ্রগতি ৩৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

কৃষিমন্ত্রী : কৃষির উন্নতি হলেই গ্রামের মানুষের জীবন উন্নত হবে

তথ্যবিবরণি : গ্রামের মানুষের জীবনমানকে উন্নত করতে চাইলে কৃষিকে উন্নত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের গ্রামের অর্থনীতি এখনও কৃষিভিত্তিক। সেজন্য, গ্রামের মানুষের জীবনকে উন্নত করতে চাইলে কৃষিকে উন্নত করতে হবে। কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ ও লাভজনক করতে পারলে গ্রামের মানুষের আয় বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ও জীবন উন্নত হবে। বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার এ লক্ষ্যেই কৃষিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে নিরলস কাজ করছে।

কৃষিমন্ত্রী শনিবার (৬ মার্চ) মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় হোসেন্দী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৫ বছর পূর্তি উৎসব ও পুনমির্লনীতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস।

ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বাবা-মার কাছে বেশি সম্পদ রেখে যাওয়ার প্রত্যাশা করা উচিত নয়। তোমরা দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে মানুষের কল্যাণে মহৎ কাজে নিয়োজিত থাকবে। মনে রাখতে হবে মানুষের কল্যাণে কতটুকু কাজ করেছি- তার ওপরই জীবনের সার্থকতা নির্ভর করে।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডাঃ মাজহারুল হক তপনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক আইজিপি (প্রিজন) ও পিএসসির সাবেক সদস্য মোঃ লিয়াকত আলী খান, প্রাক্তন ছাত্র স্কোয়াড্রন লিডার (অবসর) গোলাম কিবরিয়া আব্বাসী, মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, গজারিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আব্দুল মান্নান ও গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থিরা তাঁদের স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। পরে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

শুক্রবারের বিশেষ : আত্রাইয়ের কৃষক ব্যস্ত বোরো ধানের জমি পরিচর্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; রুহুল আমিন, আত্রাই (নওগাঁ) : নওগাঁর আত্রাইয়ে এ বার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি বোরো ধান রোপনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

গত বছর এ উপজেলায় বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৭ হাজার ৯৫০ হেক্টর।

এ বার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমি।

তবে ইতোমধ্যেই এ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে বলেই জনিয়েছে কৃষি অফিস।

উপজেলা কৃষি অফিস আরও জানিয়েছে, এ বার আত্রাইয়ের ৮টি ইউনিয়নের প্রতিটি ব্লকেই বোরো ধান চাষ হয়েছে। এখন কৃষক ব্যস্ত জমি পরিচর্যায়।

সাহাগোলা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের কৃষক ইকরাইল হোসেন, মেহেদী হাসান ও গোলাপ বাংলা কাগজকে বলেন, ‘গত বছর শুরুতে অতিবৃষ্টি হওয়ায় অনেক জমিতে চারা রোপন করতে দেরি হয়েছিলো।’

‘কিন্তু এ বার তাড়াতাড়ি বিলের পানি নেমে যাওয়ায় সময়মতো জমিতে বোরো ধান রোপন সম্পন্ন হয়েছে।’

রসুলপুর গ্রামের ফাদিল হোসেন বাংলা কাগজকে বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এ বছর বেশি জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি।’

‘আবহাওয়া ভালো থাকায় এ বার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম কাউছার বাংলা কাগজকে বলেন, ইতোমধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া জমিগুলোতে বোরো ধানের রোপন সম্পন্ন হয়েছে।

‘এ বার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে ধান রোপন হবে।’

‘কাঙ্ক্ষিত ফসল উৎপাদনে আমরা কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।’

রাঙামাটিতে তরমুজের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা : ন্যায্যমূল্য চান চাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; শহিদুল ইসলাম হৃদয়, রাঙামাটি : হ্রদ ও পাহাড়ে ঘেরা নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই পার্বত্য অঞ্চল। সবুজের অরণ্যে ঘেরা রাঙামাটি জেলার আনাচেকানাচে দেখা মিলে কৃষিনির্ভর সকল সম্প্রদায়ের মানুষের। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রাঙামাটি শহরের উপকণ্ঠে চাষিরা চাষ করেছে মৌসুমি ফল তরমুজ।

এশিয়ার সর্ববৃহৎ কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসা জমিতে রসে টইটুম্বুর এই ফলের ফলন ভালো হওয়ায় হাসি ফুটেছে তরমুজ চাষিদের মুখে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের মগবান ইউনিয়নের তারিঙ্গে পাড়ার বেশ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ছেয়ে আছে তরমুজের আবাদি ফসলে।

কয়েক মসেরমধ্যেই তরমুজ বাজারজাতকরণের উপযোগি হয়ে উঠবে বলেই জানিয়েছেন এখানকার তরমুজ চাষিরা।

চাষি আব্দুর রহিম বাংলা কাগজকে বলেন, তরমুজের চাষ করতে ২-৩ লাখ টাকা খরচ করলে ৫-৬ লাখ টাকা পাওয়া যায়, আমরা এই জমিতে বছরের ৪-৫ মাস চাষ করতে পারি। কারণ এই জমি পানিতে ডুবে থাকে, পানি থেকে ভেসে উঠলে আমরা তরমুজের চারা রোপণ করি।

‘এবার আমাদের চাষের ফলনও ভালো হয়েছে, লাভবান হবো বলে তো আশা করছি।’

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক বাংলা কাগজকে বলেন, আমাদের পরিসংখ্যানমতে, রাঙামাটি জেলায় এ বছর ২৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে।

‘খুব সাম্প্রতিক সময়ে এর ফলন পাবেন কৃষকেরা। এরমধ্যে আমাদের সিংহভাগ তরমুজ হয় লংগদু উপজেলায়।’

‘তবে গত কয়েক বছর ধরে সদর উপজেলায়ও তরমুজের আবাদের প্রবণতা খুবই বাড়ছে।’

‘এ বছর আমাদের তথ্যমতে, শুধু রাঙামাটি জেলা সদরের ৪০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এ ধরনের আবাদ হতে থাকলে আমরা আশা করছি, আমাদের কৃষক ভাইরা উপকৃত হবে এবং ফলন ও ভালো হবে বলে আশা করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কৃষক ভাইদের প্রশিক্ষণ এবং মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন সহায়তাসহ সকল প্রকারের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মিরা।’

বছরের এই সময়টাতে হ্রদের পানি কমতে থাকায় দ্বীপগুলো পানির উপরে উঠে আসে আর এ সময়েই তরমুজ চাষ করার উপযোগি হয়।

৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৫ ইলিশ অভয়াশ্রমে সকল মাছ ধরা নিষিদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ইলিশ সম্পদের উন্নয়নে জাটকা সংরক্ষণের জন্য পহেলা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস দেশের ৬টি জেলার ৫টি ইলিশ অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

সোমবার (পহেলা মার্চ) তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যবিবরণিতে বলা হয়েছে, ওই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে বরিশাল, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, শরীয়তপুর ও পটুয়াখালী জেলার সকল ইলিশ অভয়াশ্রম।

৫টি অভয়াশ্রম এলাকা হলো : চাঁদপুর জেলার ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর নিম্ন অববাহিকার ১শ কিলোমিটার এলাকা, ভোলা জেলার মদনপুর/চর ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর শাহবাজপুর শাখা নদীর ৯০ কিলোমিটার এলাকা, ভোলা জেলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালী জেলার চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ১শ কিলোমিটার এলাকা, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা এবং চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার মধ্যে অবস্থিত পদ্মা নদীর ২০ কিলোমিটার এলাকা এবং বরিশাল জেলার হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ ও বরিশাল সদর উপজেলার কালাবদর, গজারিয়া ও মেঘনা নদীর প্রায় ৮২ কিলোমিটার এলাকা।

প্রতিবছর মার্চ ও এপ্রিল এ দুইমাস উল্লিখিত অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে।

এ সময় ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

এক্ষেত্রে আইন অম্যান্যকারি কমপক্ষে ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

নিষিদ্ধ সময়ে অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট ৬ জেলার জাটকা আহরণে বিরত থাকা ২ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭৮ জন জেলের জন্য মাসে ৪০ কেজি করে দুই মাসে ৮০ কেজি হারে মোট ১৯ হাজার ৫০২ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল ইতোমধ্যে বরাদ্দ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

কৃষিমন্ত্রী : পরিসংখ্যানের গড়মিলে ধান-চালের দাম বেশি

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ : সাম্প্রতিক সময়ে আলু ও ধান-চালের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার মনে হয়, দেশে এগুলোর আবাদ, উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতার (একর প্রতি) যে পরিসংখ্যান রয়েছে, তা সঠিক নয়। পরিসংখ্যানের গড়মিলের কারণেই আলু ও ধান-চালের দাম বেশি ছিলো।

শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সঠিক ও প্রকৃত তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য ও মানসম্পন্ন পরিসংখ্যান প্রস্তুতের জন্য নিজস্ব দেশীয় পদ্ধতি (মেথড) উদ্ভাবনের জন্য পরিসংখ্যানবিদ ও বিবিএসের কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান কৃষিমন্ত্রী। একইসঙ্গে বাস্তবতার আলোকে সংগৃহীত তথ্যের পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণের জন্যও আহ্বান জানান তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজন সঠিক ও সময়োপযোগী পরিসংখ্যান। জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে যে কোনও ধরনের ইতিবাচক কৌশল গ্রহণে সময়োপযোগি ও গুণগত মানসম্পন্ন পরিসংখ্যানই কার্যকর দিকনির্দেশনা দিতে পারে। কিন্তু বিবিএসের জন্য সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা অনেক কঠিন। নির্ভরযোগ্য তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা যায়, সে উপায় পরিসংখ্যানবিদ ও বিবিএসের কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করতে হবে।

‘ইউরোপ, আমেরিকা বা পশ্চিমা বিশ্বে যে পদ্ধতিতে (মেথড) তথ্য সংগ্রহ করে, তা আমাদের দেশে কতটুকু কার্যকর তা খতিয়ে দেখা দরকার। দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী, জনগণের শিক্ষা, সামাজিক ও মানসিক অবস্থাকে বিবেচনায় নিয়ে কীভাবে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা যায়, সে রকম নিজস্ব পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে হবে। একইসাথে, বাস্তবতার আলোকে সংগৃহীত তথ্যের পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করতে হবে।’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষে দেশে প্রথমবারের মতো ‘জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস’ পালিত হয়েছে।

পরিসংখ্যানের গুরুত্বকে সবার কাছে তুলে ধরতেই বিবিএসের এ আয়োজন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান, টেকসই উন্নয়নের উপাদান’।

এখন থেকে প্রতি বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি পালিত হবে ‘জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস’।

ড. রাজ্জাক বলেন, কৃষিখাতে সঠিক তথ্য খুবই দরকার। বিভিন্ন খাদ্যপণ্য বছরে কতটুকু উৎপাদিত হচ্ছে, চাহিদা কতটুকু বা উৎপাদন বছরে কতটুকু বাড়ছে, এসবের প্রকৃত ও সঠিক তথ্য দরকার। সেটি করতে পারলে ভবিষ্যত পরিকল্পনা প্রণয়ন অনেক ভালো ও সহজতর হবে। অন্যদিকে, দেশে দারিদ্র্যের হারসহ অন্যান্য বিষয় ও উন্নয়নের গতি প্রবৃদ্ধি নিয়েও কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান সমিতির সভাপতি ড. পি কে মতিউর রহমান ও গেস্ট অব অনার হিসেবে ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি টোমো হোজুমি উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী।

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান সমিতির সভাপতি ড. পি কে মতিউর রহমান বলেন, দেশে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহে অনেক বাধা রয়েছে। সঠিক তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সামাজিক, মানসিক ও পারিবারিকসহ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধবতা মোকাবিলা করে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা খুবই চ্যালেঞ্জিং। সেজন্য, তথ্য প্রদানকারীর সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি।

সভায় জানান হয়, বিবিএস জরিপের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার।

‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১’ হবে সম্পূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক বা ই-সেন্সাস এর ভিত্তিতে।

কম্পিউটার অ্যাসিসস্টেড পার্সোনাল ইন্টারভিউ (সিএপিআই) এতে ব্যবহৃত হওয়ার কথা রয়েছে।