Category: প্রবাসীদের কথা

প্রবাসিদের পাসপোর্টের মেয়াদ ১ বছর বাড়াতে ফি লাগবে না

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, প্রবাসীদের পাসপোর্টের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর জন্য কোনও প্রকার ফি লাগবে না।

সৌদি আরবে ৩ দিনের সফর শেষে ঢাকায় ফিরে সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে বুধবার (১০ মার্চ) তিনি ঢাকায় ফেরেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আমরা প্রস্তাব দিয়েছি প্রবাসীদের পাসপোর্টের এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনও প্রকার ফি না নিতে। এ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেবো।’

তিনি বলেন, প্রবাসে এক বছর পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়াতে ২৫ ডলার ফি নেওয়া হয়। এই ফি লাগবে না। সৌদি আরবে টিকা নেওয়ার জন্য তাওয়াক্কাল অ্যাপে আবেদন করতে হয়। আমাদের প্রবাসীদের, যাদের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তারা টিকা নিতে পারছিলেন না। এক বছর মেয়াদ বাড়ালে তারা সেটা নিতে পারবেন। বিষয়টি নিয়ে সৌদি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি সীমান্তে মাইন অপসারণে সহায়তা লাগলে আমরা সেটা দেবো। কুয়েত যুদ্ধের পর গত ৩ যুগ ধরে আমরা ওই অঞ্চলে এ সহায়তা দিয়ে আসছি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, সৌদি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তিনি খুব স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশ-সৌদি আরবের মধ্যে কোনও ইস্যু নেই।

‘রোহিঙ্গাদের ফেরত আনতে হবে, এটা সৌদি আরব বলে নি।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অতীতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম এলাকা থেকে কিছু লোক নানাভাবে পাসপোর্ট নিয়ে গেছে। আবার হাতেলেখা পাসপোর্ট অন্য দেশ থেকেও বানিয়ে নেওয়া যায়। সে কারণে আমরা এমআরপি পাসপোর্ট প্রাধান্য দিতে চাই।’

আজ থেকে কুয়েতে সরাসরি ফিরতে পারবেন বাংলাদেশসহ ৩৫ দেশের অভিবাসিরা

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : আজ ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ থেকে কুয়েতে ফিরতে পারবেন করোনার জন্য বাংলাদেশসহ ৩৫টি দেশে আটকে পড়া অভিবাসিরা।

কুয়েতের স্থানীয় গণমাধ্যম আরব টাইমসের বরাত দিয়ে কুয়েত সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) এ কথা জানিয়েছেন।

কুয়েত সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কুয়েত ফেরৎ সকল অভিবাসিকে কুয়েত মুসাফির অ্যাপসের মাধ্যমে ১৪ দিন নির্ধারিত ৪৩টি হোটেলের যে কোনও একটিতে হোটেলের বুকিং খরচ ও ২টি পিসিআর সনদের বিল পরিশোধ করতে হবে।

এর আগে দুবাইসহ বিশ্বের যে কোনও তৃতীয় দেশে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন পালন শেষে কুয়েত প্রবেশের অনুমতি ছিলো।

এখন সরাসরি যাওয়া যাবে দেশটিতে।

কুয়েত সরকারের সময়োপযোগি এ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে ভূয়সি প্রশংসা করেছেন কুয়েত প্রবাসি বাংলাদেশিরা।

তাঁরা মনে করছেন, এতে করে বাংলাদেশে ছুটিতে আটকে পড়া অভিবাসিরা তাঁদের কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারবেন।

‘বাড়বে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ।’

‘কুয়েত সরকারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সরকারের দেওয়া নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেনো প্রবাসীরা তাঁদের কর্মস্থলে ফিরতে পারেন, এটাই আমাদের কাম্য।’

কুয়েতে প্রায় ৩ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি রয়েছেন। এরমধ্যে প্র‍্যয় ১২ হাজার প্রবাসি ছুটিতে এসে আটকা পড়েছেন, তাঁদেরমধ্যে কিছু মানুষ অন্য দেশ হয়ে কুয়েতে প্রবেশ করেছেন।

প্রবাসিকর্মিদের নিয়ে মালদ্বীপের সঙ্গে চুক্তি সই

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : নতুন করে জনবল নিয়োগ, অবৈধ প্রবাসি কর্মিদের বৈধ করা ও ফেরানোর প্রক্রিয়া ঠিক করে মালদ্বীপের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ সরকার।

মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লা শহিদের ঢাকা সফরের মধ্যে মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই চুক্তি সই হয়।

একই সময়ে বাংলাদেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির সঙ্গে মালদ্বীপের ফরেন সার্ভিস ইনস্টিটিউটের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আরেকটি সমঝোতা চুক্তিও সই হয়েছে।

চুক্তি সই হওয়ার আগে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সফররত মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শহিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল কালাম (এ কে) আব্দুল মোমেন।

এরপর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই সমঝোতা চুক্তি সইসহ বৈঠকের নানাদিক সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মালদ্বীপের মন্ত্রী শহিদ বলেন, ‘একটি সমঝোতা স্মারক হবে দুই দেশের মধ্যে জনবল আদান-প্রদানে এবং বাংলাদেশ থেকে জনবল নিয়োগে শক্ত কাঠামো ঠিক করতে।’

বৈঠকে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি কর্মিদের মালদ্বীপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং মৌলিক অধিকার ও জীবনমান রক্ষায় অবৈধকর্মীদের বৈধকরণের প্রয়োজনীয়তার বিষয় আমি উল্লেখ করেছি।’

‘আমি এই বৈধকরণের প্রক্রিয়া এবং স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তনে অবিরাম সহায়তার জন্য মন্ত্রী মোমেন ও বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’

পর্যটন নির্ভর অর্থনীতির দেশ মালদ্বীপে বর্তমানে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে মোট কতজন বাংলাদেশি কর্মি কাজ করছেন তার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় নি।

৮০ হাজারের মতো প্রবাসীকর্মি দেশটিতে রয়েছে বলে সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মালদ্বীপের অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের বরাতে দেশটিতে বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়ার অ্যাডমিরাল নাজমুল হাসান জানান, ২০১৯ সালে এক লাখ ১০ হাজার ৮৪ জন বাংলাদেশি কর্মি মালদ্বীপে ছিলেন।

২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে সেখান থেকে প্রায় ১৫ হাজার কর্মি দেশে ফিরেছেন বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ‘মালদ্বীপ আমাদের কিছু নার্স নেবে। ইতোমধ্যে অনেক ডাক্তার ওখানে কাজ করেছেন, বিশেষ করে ভ্যাকসিনেশনের জন্য।’

মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শহিদ বলেন, ‘স্বাস্থ্য, ওষুধ, প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে বাংলাদেশের সহযোগিতা আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। আমাদের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটি পছন্দের গন্তব্য বাংলাদেশ।’

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সহযোগিতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পারস্পরিক উদ্বেগের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আমি পুনর্ব্যক্ত করেছি রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তার বিষয়ে। মালদ্বীপ সবসময় রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে কথা বলেছে। গাম্বিয়া সরকারের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ‍ওপর গণহত্যা নিয়ে জবাবদিহি আমরা চাই।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের আয়োজনে মার্চে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ বাংলাদেশ সফরে আসবেন বলেও সাংবাদিকদের জানান দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ‘আমাদের সৌভাগ্যের বিষয় প্রতিবেশি মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসবেন; উনি ঢাকায় আসবেন আমাদের স্বাধীনতা দিবস এবং মুজিববর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানে।’

মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লা শহিদ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রী : বিদেশে গেলে ঋণ আছে, আর দেশে ব্যবসা আছে

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে ঋণ প্রদানের জন্য ৪০০ কোটি টাকার মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

পাশাপাশি তিনি বলেন, যাঁরা দেশে কিছু করতে চায়, তাঁদের জন্য নানা ধরনের ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৬ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাজধানীর আগাঁরগাওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশ নামক সোনার হরিণের পেছনে অন্ধের মতো ছুটবেন না।

‘যে কোনও দেশে যাওয়ার আগে কোথায় যাচ্ছেন, কী কাজে যাচ্ছেন তা ভালোভাবে জেনে নেবেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কাজের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ওই কাজে নিজেকে দক্ষ কর্মী হিসেবে তৈরি করে বিদেশে যাবেন। তাহলে হেনস্থার শিকার হতে হবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের আর্থসামাজিক ও অর্থনীতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রবাসীরা বিরাট অবদান রেখে যাচ্ছেন।’

‘তাঁদের সার্বিক কল্যাণেও বর্তমান সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। একসময় জমিজামা ও ভিটেমাটি বিক্রি বা চড়া সুদে বন্ধক রেখে ঋণ করে বিদেশে যেতে হতো। কিন্তু বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া যায়, সেজন্য জমিজমা ও ভিটেমাটি বিক্রি করতে হবে না।’

‘বাইরে গিয়ে প্রবাসী কর্মীদের যেনো সম্মানহানি না হয়, সে ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বিদেশ প্রেরণের সঙ্গে ওতপ্রোতেভাবে জড়িত বিভিন্ন রিক্রুট এজেন্সিকেও খেয়াল রাখতে হবে।’

এ সময় প্রধামন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি আরও বলেন, হতাশ না হয়ে ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে দেশেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়।

এ বিষয়ক : প্রধানমন্ত্রী : মেয়াদ না বাড়িয়ে প্রকল্পের অবস্থা তদন্ত করতে হবে

ছাত্রলীগকে প্রধানমন্ত্রী : বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে জনসেবায় মন দিলে প্রকৃত মানুষ হওয়া যাবে

কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন আর নেই : রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

অবশেষে মুক্তি পেলেন ভিয়েতনাম ও কাতার ফেরত ৪৭ জন

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা ভিয়েতনাম ও কাতার ফেরত ৪৭ জন অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে তাঁদের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এর আগে আদালত থেকে তাদের মুক্তির আদেশ কারাগারে পৌঁছায়। পরে তা যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের সঙ্গে থাকা মালপত্র বুঝিয়ে দিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়।

সম্প্রতি ভিয়েতনাম ও কাতারে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে ৮৩ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরত আসেন। দেশে ফেরার পর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন শেষে তাঁদের নিজ নিজ বাড়িতে যাওয়ার কথা থাকলেও তাঁদের গ্রেপ্তার দেখায় তুরাগ থানা পুলিশ।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এর জেলার নূর মোহাম্মদ জানান- গত ৫ সেপ্টেম্বর ওই কারাগারে ভিয়েতনাম ফেরতদের মধ্যে ১৯ জনকে পাঠানো হয়। আদালত থেকে তাঁদের মুক্তির আদেশ আসে। পরে তা যাচাই-বাছাই করে দুপুরে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলার মো. আবু সায়েম জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর ওই কারাগারে ভিয়েতনাম ফেরত ৩২ জনকে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে ২৭ জনের মুক্তির আদেশ পাওয়া গেছে। আদেশের কপি যাচাই-বাছাই করে মঙ্গলবার দুপুরে তাঁদের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে তাদের সঙ্গে আনা জিনিসপত্রও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান জানান- এ কারগার থেকে ভিয়েতনাম ফেরত একজনকে দুপুর ১২টার দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত শনিবার (৩ অক্টোবর) আদালতের নির্দেশে ২০ জনকে এ কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ক : ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার : ‘নির্দোষ’ হয়েও বিদেশ ফেরত ৮৩ বাংলাদেশি কারাগারে!

প্রবাসীদের ইকামার মেয়াদ ২৪ দিন বাড়ালো সৌদি সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বাংলাদেশি প্রবাসীদের ইকামার মেয়াদ আরও ২৪ দিন বাড়িয়েছে সৌদি সরকার। আর শ্রমিকদের ভ্রমণ নিশ্চিতে বিশেষ ফ্লাইটের অনুমতিও দিয়েছে দেশটি। বাংলাদেশ বিমানকে রিয়াদ এবং জেদ্দায় সপ্তাহে মোট ৪টি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান- সৌদি সরকার আমাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে নিচের সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে- ইকামার মেয়াদ আরবি সফর মাসের শেষদিন পর্যন্ত (মানে বুধবার- ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে আরও ২৪ দিন) বর্ধিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিমানকে রিয়াদ এবং জেদ্দায় সপ্তাহে মোট ৪টি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় সৌদি আরব দূতাবাসের ভিসা অফিস রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) থেকে খোলা থাকবে। যেখানে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নতুন নিয়মাবলী মেনে কনস্যুলার সেবা প্রদান করা হবে।

এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানান, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) থেকে দেওয়া হবে নতুন ভিসা।

এছাড়া ১৬ ও ১৭ মার্চের রিয়াদ ও জেদ্দার যাত্রীরা ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বরের বিশেষ ফ্লাইটে যেতে পারবেন বলেই জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

কর্মস্থলে যেতে গত কয়েকদিন থেকে উড়োজাহাজের টিকিটের পেছনে ছুটেছেন সৌদিপ্রবাসী শ্রমিকরা। দফায়-দফায় সড়ক অবরোধ আর মন্ত্রণালয়ে ছুটোছুটি করে আকুতি জানিয়েছেন টিকিটের জন্য।

এমন পরিস্থিতিতে দেশে আটকেপড়াদের কাজের অনুমতিপত্র ও ভিসার মেয়াদ বাড়াতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। ওই চিঠিতে বাংলাদেশ অনুরোধ জানায়- ইকামা কিংবা ভিসা, বাংলাদেশের নাগরিকদের যাঁর যেটা প্রয়োজন সেই অনুযায়ী মেয়াদ তিন মাসের জন্য যেন বাড়ানো হয়।

এ বিষয়ক : তৃতীয় দিনের মতো টিকিটের জন্য সৌদি প্রবাসীদের বিক্ষোভ

কুয়েতের শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ায় বিকল্প ভাবনার পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রেরণকারী শীর্ষ দশটি দেশ হলো- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, কুয়েত, ওমান, কাতার, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও সিঙ্গাপুর। এক্ষেত্রে কুয়েত সব সময়ই পাঁচ বা ছয় নম্বরে থাকে। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় তিন লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। এমন অবস্থায় ঘোষণা এলো কুয়েতে ৭ দেশের নাগরিক আপাতত প্রবেশ করতে পারবেন না। ‌‘অজুহাত’ করোনা। এ অবস্থায় নিষেধাজ্ঞা এসেছে বাংলাদেশের নামেও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন- কুয়েতের শ্রম বাজার দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে তা বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এক্ষেত্রে এখনই আমাদেরকে বিকল্প ভাবতে হবে। প্রয়োজনে রপ্তানি বাড়িয়ে হলেও বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ঠিক রাখতে হবে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অবশ্যই কোনও গুরুত্বপূর্ণ দেশের শ্রমবাজার বন্ধ থাকলে সেটি রেমিট্যান্সের ওপর প্রভাব ফেলতে। এতে রিজার্ভেও ধনাত্মক ঊর্ধ্বমুখিতা ব্যাহত হতে পারে।

জানা গেছে- বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন ও ইরান- এ সাতটি দেশের নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কুয়েত। করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেশি হওয়ায় এসব দেশ থেকে কুয়েতে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্তণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- উল্লেখিত দেশে যাঁরা কুয়েতে প্রবেশের আগে ১৪ দিন অবস্থান করেছেন, তাঁরাও দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন না।

রায়হান কবিরের মুক্তি দাবি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : মালয়েশিয়ায় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সরকারের নীতির সমালোচনার করার প্রতিশোধ হিসেবে বাংলাদেশি শ্রমিক রায়হান কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে তার মুক্তির দাবিও করেছে সংস্থাটি।

আজ বুধবার (২৯ জুলাই) রায়হান কবিরের মুক্তি দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে সংস্থাটি।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসীদের ওপর সরকারের নিপীড়ন নিয়ে আল-জাজিরা টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী রায়হান কবির। তার জের ধরে ২৪ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তারের পর ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে মালয়েশিয়ার পুলিশ।

দেশটির অভিবাসন পুলিশের মহাপরিচালক ঘোষণা দিয়েছেন, রায়হান কবিরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং আজীবনের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করা হবে, যেন তিনি আর মালয়েশিয়ায় ঢুকতে না পারেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপ-পরিচালক ফিল রবার্টসন এক বিবৃতিতে বলেন, রায়হান কবিরের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপ সব অভিবাসী শ্রমিকদের অবাধ গ্রেপ্তার, বহিষ্কার, কালো তালিকাভুক্তির মতো অধিকার হরণের মতো ঘটনায় কথা বলার বিরুদ্ধে একটি শীতল বার্তা দিচ্ছে। তথ্যচিত্রের একজন বক্তব্যদাতাকে গ্রেপ্তার করা মানে মালয়েশিয়ার বাক স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের বিধ্বংসী হামলা।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের আচরণ নিয়ে ৩ জুলাই প্রচারিত আল জাজিরার একটি তথ্যচিত্রে রায়হান কবির বক্তব্য দেন।

এরপর রায়হান কবির এবং আল জাজিরা-উভয় মালয়েশিয়ার সরকারের টার্গেটে পরিণত হয় বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিবৃতি উল্লেখ করেছে।

আল জাজিরার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা, মানহানি এবং যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া আইন লংঘন সম্পর্কিত অভিযোগ আনা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারের প্রথম দিনে সাংবাদিকদের কাছে লেখা একটি চিঠিতে রায়হান কবির বলেন, আমি কোনো অপরাধ করিনি। আমি মিথ্যা বলিনি। আমি শুধুমাত্র অভিবাসীদের ওপর বৈষম্যের প্রতিবাদ করেছি। আমি চাই অভিবাসী ও আমার দেশের সম্মান নিশ্চিত হোক। আমার বিশ্বাস, সব অভিবাসী এবং বাংলাদেশি আমার পাশে থাকবে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ২১টি সিভিল সোসাইটি গ্রুপ রায়হান কবিরকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, রায়হান কবিরের ব্যাপারে যেভাবে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে, তার প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।

আল জাজিরার তথ্যচিত্রটি প্রচার হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে। সেখানে তার ছবি, নাম, ঠিকানার ব্যবহার করা হয়, যা অভিবাসীদের জন্য প্রতিকূল হয়ে ওঠা দেশটিতে তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, বিদেশিদের নিয়ে অহেতুক ভয়ের এই সময়ে রায়হান কবিরের ওপর মালয়েশিয়ার সরকারের এই রকম প্রকাশ্য হামলা বিরোধী শক্তিকে রসদ জোগাবে।

সংস্থাটি বলছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকারে দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদেরও সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বাক স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

২০২০ সালের ৩ জুলাই আল জাজিরা টেলিভিশনের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে ‘লকডআপ ইন মালয়েশিয়ান লকডাউন-১০১ ইস্ট’ শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ২৫ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ওই প্রতিবেদনে করোনা ভাইরাস মহামারিতে মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের সঙ্গে সরকারের নিপীড়ন নিয়ে কথা বলেন রায়হান কবির। এর জের ধরে ২৪ জুলাই গ্রেপ্তারের পর তাকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। গ্রেপ্তারের আগেই রায়হানের ওয়ার্ক পারমিট কেড়ে নেওয়া হয়।

ল’ইয়ারস ফর লিবার্টি (এলএফএল) নামের মালয়েশিয়ার একটি মানবাধিকার সংগঠনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘স্পষ্টতই আল জাজিরার প্রামাণ্যচিত্রে বৈষম্য নিয়ে কথা বলার কারণে কর্তৃপক্ষের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের শিকার হয়েছেন রায়হান।’

আল জাজিরা-র এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা মৌলিক মানবাধিকার। সে কারণেই তারা রায়হান কবিরের গ্রেফতারকে উদ্বেগজনক মনে করছে। কারণ, রায়হান কণ্ঠহীন ও নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বলেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আল জাজিরা একটি মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি এর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। একে অপরাধ হিসেবে বিবেচনার কোনও সুযোগ নেই।

রায়হান কবিরের বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের বন্দরে। তার বাবা শাহ আলম একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ২০১৪ সালে তোলারাম কলেজে থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে মালয়েশিয়া চলে যান রায়হান।