Category: পুরস্কার, সম্মান ও সম্মাননা

সম্মাননা পেলেন আওয়ামী লীগের ১০৫ প্রবীণ নেতাকর্মি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; মহসিন মিলন, বেনাপোল : দলীয় কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১০৫ জন প্রবীণ নেতাকর্মিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) সকালে স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তি এবং মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে যশোরের নাভারন ইউনিয়নের হাড়িয়া মাঠে এ সন্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বুলী।

ক্রেস্ট প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা আ. জলিল।

এ সময় আবেগঘন বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রহমান মুকুল, আলহাজ নিজাম উদ্দিন, উজ্জল হোসেন, হাসান মাস্টার এবং আবু রায়হান জিকো।

অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিপুল প্রবীণ নেতাকর্মি অংশগ্রহণ করেন।

সুবর্ণ জয়ন্তি উপলক্ষে সকল বেকার ও দুস্থ নাগরিকদের কর্মসংস্থানের জন্য ‘বেকার প্রকল্প’ নামে একটি কমিটি গঠন করা হয় অনুষ্ঠানে।

বঙ্গবন্ধুকে গান্ধী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করলো ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গান্ধী শান্তি পুরস্কার ২০২০-এ ভূষিত করেছে ভারত।

সোমবার (২২ মার্চ) এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

অহিংস ও গান্ধীবাদি আদর্শে আর্থ-সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিবর্তন সাধনের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

২০২০ সালের জন্য এ পুরস্কার ঘোষণা করতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, মানবাধিকার ও স্বাধীনতার কাণ্ডারি ছিলেন বঙ্গবন্ধু। ভারতীয়দের কাছেও তিনি নায়ক। বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার ও অনুপ্রেরণা দুই দেশের ঐতিহ্যকেও বন্ধুত্বপূর্ণ করেছে। তাঁর দেখানো পথেই দুই দেশের বন্ধুত্ব, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে।

১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর এই পুরস্কার প্রদান করছে ভারত সরকার।

ওই বছর মহাত্মা গান্ধীর ১২৫তম জন্ম জয়ন্তি উপলক্ষে তাঁর মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারত সরকার এ পুরস্কার চালু করে।

প্রত্যেক পুরস্কার জয়ি ১ কোটি রুপি করে পান।

সঙ্গে স্মারক, প্রশংসাপত্র এবং একটি ঐতিহ্যশালী হস্তনির্মিত কারুকার্য করা জিনিসও থাকে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১৫ সালে গান্ধী শান্তি পুরস্কার পেয়েছে বিবেকানন্দ কেন্দ্র কন্যাকুমারী, ২০১৬ সালে অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন, ২০১৭ সালে পেয়েছে একল অভিযান ট্রাস্ট এবং ২০১৮ সালে ইয়োহেই সাসাকাওয়া।

পোল্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ১৯ সাংবাদিক

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ৬টি ক্যাটাগরিতে ১৯ জন সাংবাদিককে দেওয়া হলো পোল্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড- ২০১৯। পোল্ট্রি খাতের বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিশেষ অবদান রাখায় স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দেয় বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)।

ক্যাটাগরিগুলোর মধ্যে দৈনিক সংবাদপত্রের ভিত্তিতে পুরস্কার দেওয়া হয় দৈনিক ভোরের কাগজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মরিয়ম সেঁজুতি, দৈনিক দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং দি নিউজ টুডের জ্যেষ্ঠ নিজস্ব প্রতিবেদক মাজহারুল ইসলাম মিচেলকে।

ঢাকার বাইরের সংবাদপত্র ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন সাপ্তাহিক চৌদ্দগ্রামের নির্বাহি সম্পাদক এমদাদ উল্লাহ।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী প্রদান করলেন পোল্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড

টেলিভিশন ও রেডিও ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন যমুনা টেলিভিশনের স্পেশাল করেসপনডেন্ট সুশান্ত সিনহা, চ্যানেল ২৪ এর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক কৃষিবিদ ফয়জুল সিদ্দিকী, মোহনা টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক তানজিলা খানম সাথী।

বার্তা সংস্থা ও অনলাইন ক্যাটাগরিতে বৈশাখী টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক তাসলিমুল আলম তৌহিদ, ম্যাগাজিন ক্যাটাগরিতে এগ্রিনিউজ২৪.কম এর প্রধান নির্বাহি খোরশেদ আলম জুয়েল পুরস্কার পেয়েছেন।

আর প্রমিজিং ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার পেয়েছেন ১০ জন সাংবাদিক।

এনটিভির জ্যেষ্ঠ সংবাদদাতা মাকসুদুল হাসান, দৈনিক জনকণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক রহিম শেখ, সময় টিভির প্রতিবেদক কাজল আব্দুল্লাহ, দৈনিক যুগান্তরের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মিজানুর রহমান চৌধুরী, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট শাহীদ আহমেদ, জাগোনিউজ২৪.কম-এর বিশেষ সংবাদদাতা মনিরুজ্জামান উজ্জল, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলার ভূঁইয়া নজরুল, এগ্রিকেয়ার২৪.কম এর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আবু খালিদ, দৈনিক ইত্তেফাক’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মো. নিজামুল হক ও নিজস্ব প্রতিবেদক মুন্না রায়হান।

জুরিবোর্ডে বিচারক হিসেবে প্রতিবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করেছেন দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগি সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, টিভি টুডের এডিটর ইন চিফ মনজুরুল আহসান বুলবুল, যমুনা টেলিভিশনের বিজনেস এডিটর সাজ্জাদ আলম খান তপু ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম।

অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, পোল্ট্রি খাতের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের বিপরীতে উৎসে কর বাতিল করা হয়েছে। এ খাতের উন্নয়নে যে কোনও সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করবে। সরকারের সঙ্গে বসে সমাধান করে এগিয়ে যাবে এ সেক্টর। একইসঙ্গে এ খাতে কর রেয়াত সুবিধার বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিপিআইসিসি সভাপতি মসিউর রহমান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আব্দুল জব্বার শিকদার।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তিতেও স্বাধীনতা পুরস্কারের তারিখ পরিবর্তন!

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২১ প্রদান অনুষ্ঠানের তারিখ পরিবর্তন হয়েছে। অনুষ্ঠানের পরিবর্তিত তারিখ পরে জানানো হবে। তথ্যবিবরণিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ বছর ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরষ্কার ২০২১ প্রদান উপলক্ষে ২৪ মার্চ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কথা ছিলো।

শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু : পরিদর্শনে গিনেস বুকের প্রতিনিধিদল

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; বগুড়া : বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ১০০ বিঘা আয়তনের ধানখেতে ফুটিয়ে তোলা ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ পরিদর্শন করেছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রতিনিধিদল।

৯ মার্চ (মঙ্গলবার) পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জানিয়েছেন, শস্যখেতের বিশাল ‘ক্যানভাসে’ ফুটিয়ে তোলা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নান্দনিক প্রতিকৃতিটি বিশ্ব রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি মিলবে।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের দুই সদস্য হলেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহাম্মদ এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক এমদাদুল হক চৌধুরী।

তাঁরা বগুড়ার শেরপুরে আমিনপুর মাঠে প্রতিকৃতিস্থল পরিদর্শন শেষে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বর্তমানে চীনের ৭০ বিঘার শস্যচিত্রের রেকর্ড ভাঙার ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, তাঁরা পরিদর্শনের সময় কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দেন। এরমধ্যে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বা ক্রপ ফিল্ড মোজাইকে কী পরিমাণ কাজ হয়েছে, সেটি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

‘এ ছাড়া গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখাতে দুই রঙের শস্য দিয়ে প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলতে হয়। আমিনপুর মাঠে সবুজ ও বেগুনি রঙের শস্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গিনেস বুকে নাম লেখাতে শস্যের রং অবশ্যই প্রাকতিক হতে হয়, আমিনপুর মাঠের দুই ধরনের শস্যের রংই প্রাকৃতিক পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে সব কটি শর্তই এখানে পরিপূর্ণভাবে মানা হয়েছে। ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে যা যা দরকার, সবই আছে এখানে।’

প্রতিনিধিদলের প্রধান অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুকে যেভাবে ফুটিয়ে তেলা হয়েছে, স্কেচে তৈরি বঙ্গবন্ধুর ছবির সঙ্গে শতভাগ মিল রয়েছে। স্কেচে ব্যবহৃত রঙের সঙ্গেও শতভাগ মিল রয়েছে। শস্যের ভ্যারাইটিও রয়েছে নির্দিষ্ট স্থানে সুনির্দিষ্টভাবে। ড্রোন থেকে তোলা ছবিও শতভাগ ঠিক আছে।’

‘শস্যচিত্রে মূল ইমেজ ৬০ ভাগ আছে কি না, সেই মাপঝোখ করতে শেরপুর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সার্ভেয়ার দল কাজ করছে। তারা সঠিক মাপজোখের প্রতিবেদন দিলে দু-তিন দিনের মধ্যে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পেতে পারে বাংলাদেশ।’

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ ফুটিয়ে তুলে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানোর উদ্যোগটি ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের’।

এই পরিষদের আহ্বায়ক আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রতিনিধিদলের সঙ্গে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি পরিদর্শনে যান।

এ সময় বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ একটি ভিন্ন ধারার, ভিন্ন মাত্রার অনন্যসাধারণ, নান্দনিক একটি কাজ। এর মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশ্বজুড়ে অনন্য সম্মানের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তিতে এটি হবে সবচেয়ে দুর্দান্ত, সবচেয়ে নান্দনিক এবং সবচেয়ে বড় কাজ।

বাহাউদ্দিন নাছিম আরও বলেন, ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানোর মাধ্যমে আমরা বিশ্ববাসিকে জানাতে চাই, বাঙালি বিশ্বাসঘাতক ও অকৃতজ্ঞ নয়। বঙ্গবন্ধু শুধু কৃষক ও বাঙালির নেতা নন, জাতির পিতা। সেটা গিনেসের রেকর্ড গড়ে ইতিহাস গড়তে চাই। বাংলাদেশকে বিশ্ববাসীর কাছে জাগ্রত করতে চাই।’

শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের সদস্যসচিব এবং ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ক্রপ মোজাইক ফিল্ড ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে ইতিমধ্যেই ব্রিটেন, জাপান, ভারতের রেকর্ড ভেঙে বর্তমানে চীন অবস্থান করে নিয়েছে। তবে কোনও দেশই শস্যচিত্রে জাতির জনককে তুলে ধরতে পারে নি। গিনেস বুকে নাম লেখানোর মাধ্যমে অনন্য ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশ।

এ সময় অন্যদের মধ্যে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাক, বগুড়া-৫ আসনের সাংসদ হাবিবর রহমান, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আহসানউল্লাহ মাস্টারসহ ৯ ব্যক্তি ও ১ প্রতিষ্ঠান পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : শ্রমিক নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার, কবি মহাদেব সাহা এবং ব্যবসায়ি-রাজনীতিক আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুসহ ৯ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান এবারের স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন।

দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান দেওয়ার জন্য ২০২১ সালের মনোনীতদের তালিকা রোববার (৭ মার্চ) প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য এবার প্রয়াত আহসানউল্লাহ মাস্টার ও প্রয়াত আখতারুজ্জামান বাবুর সঙ্গে স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এ কে এম বজলুর রহমান, প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ।

সাহিত্যে কবি মহাদেব সাহার পাশাপাশি সংস্কৃতিতে এবার পুরস্কার পাচ্ছেন চলচ্চিত্রকার-গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও নাট্যজন আতাউর রহমান।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পুরস্কারের জন্য মনোনিত হয়েছেন ড. মৃন্ময় গুহ নিয়োগি, সমাজসেবা বা জনসেবায় পুরস্কার পাচ্ছেন অধ্যাপক ডা. এম আমজাদ হোসেন।

গবেষণা ও প্রশিক্ষণে প্রতিষ্ঠান হিসেবে এবার পুরস্কার পাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল।

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা পুরস্কার দিচ্ছে সরকার।

স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১৮ ক্যারেট মানের পঞ্চাশ গ্রাম স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, ৩ লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক নারি দিবস আজ : বাংলাদেশে সম্মাননা পাচ্ছেন শ্রেষ্ঠ ৫ জয়িতা

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারি দিবস। নারির সম-অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১৯১৪ সাল থেকে বিভিন্ন দেশ দিবসটি পালন করে আসছে। ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ দিনটি ‘আন্তর্জাতিক নারি দিবস’ হিসেবে পালন করছে। আজকের দিনে শ্রেষ্ঠ ৫ জয়িতাকে সম্মাননা দেওয়া হবে।

জানা গেছে, সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হবে। এবার নারি দিবসের প্রতিপাদ্য- ‘করোনাকালে নারি নেতৃত্ব, গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণি দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণিতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নারি-পুরুষ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের ফলে নারি উন্নয়ন আজ সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি, বিচারবিভাগ, প্রশাসন, কূটনীতি, সশস্ত্রবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী, শান্তিরক্ষা মিশনসহ সর্বক্ষেত্রে নারীর সফল অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ ক্রমান্বয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

পৃথক বাণিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীর সম অধিকারের বিষয়টি সংবিধানে নিশ্চিত করেছেন। নারি পুরুষের যৌথ প্রচেষ্টায় বিনির্মাণ হবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।

‘নারি তাঁর মেধা ও শ্রম দিয়ে যুগে যুগে সভ্যতার সকল অগ্রগতি এবং উন্নয়নে করেছে সমঅংশীদারিত্ব। আর তাই সারাবিশ্বে বদলে গেছে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি। এখন নারির কাজের মূল্যায়ন হচ্ছে, বৃদ্ধি পাচ্ছে স্বীকৃতি।’

‘লিঙ্গ সমতা ও নারির ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। আমাদের জাতীয় উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা গ্রহণ করেছি নানামুখী পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ।’

নারি দিবসের কর্মসূচি : আন্তর্জাতিক নারি দিবসে জাতীয় পর্যায়ের ৫ জনকে ‘শ্রেষ্ঠ জয়িতা’ সম্মাননা দেবে সরকার। সকাল সাড়ে ১০টায় শিশু একাডেমি মিলনায়তনে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাঁদের হাতে ১ লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেবেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা ।

বিকেল ৪টায় ৬৭টি নারি, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে অনলাইনে আলোচনা সভা হবে। তাতে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। সভায় উন্নয়নকর্মি, প্রতিবন্ধি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, আদিবাসি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি আলোচনা করবেন।

এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে দেশের জাতীয় গণমাধ্যম বিশেষ সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করছে। বিভিন্ন সংগঠন ব্যানার ফেস্টুন ও পোস্টারের মাধ্যমে দিবসটি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে।

যেভাবে এলো আন্তর্জাতিক নারি দিবস : ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি সুচ কারখানার নারি শ্রমিকরা দৈনিক শ্রম ১২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৮ ঘণ্টায় আনা, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মক্ষেত্রে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। আন্দোলন করার অপরাধে সে সময় গ্রেপ্তার হন অসংখ্য নারি। কারাগারে নির্যাতিত হন অনেকেই।

এর ৩ বছর পরে ১৮৬০ সালের একইদিনে গঠন করা হয় ‘নারি শ্রমিক ইউনিয়ন’। ১৯০৮ সালে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের কারখানার প্রায় দেড় হাজার নারিশ্রমিক একই দাবিতে আন্দোলন করেন। অবশেষে আদায় করে নেন দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজ করার অধিকার।

১৯১০ সালের এইদিনে ডেনমাকের্র কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সম্মেলনে জার্মানির নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারি দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই সারাবিশ্বে দিবসটি আন্তর্জাতিক নারি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক নারিবর্ষে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারি দিবস হিসেবে পালন করা শুরু করে। এর দুই বছর পর ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারি দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

নারি দিবস হচ্ছে- জাতিগত, গোষ্ঠীগত, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক কিংবা রাজনৈতিক সবক্ষেত্রে বৈষম্যহীনভাবে নারির অর্জনকে মর্যাদা দেওয়ার দিন। এদিনে নারিরা তাঁদের অধিকার আদায়ের জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসকে স্মরণ করে এবং ভবিষ্যতের পথ পরিক্রমা নির্ধারণ করে, যাতে আগামি দিনগুলো নারীর জন্য আরও গৌরবময় হয়ে ওঠে।

এবারের শ্রেষ্ঠ ৫ জয়িতা : এবার বাংলাদেশে শ্রেষ্ঠ ৫ জয়িতা হলেন : বরিশালের হাছিনা বেগম নীলা, বগুড়ার মিফতাহুল জান্নাত, পটুয়াখালীর মোসাম্মৎ হেলেন্নছা বেগম, টাঙ্গাইলের বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিজান এবং নড়াইলের অঞ্জনা বালা বিশ্বাস।

শেখ হাসিনা কমনওয়েলথের অনুপ্রেরণাদায়ি শীর্ষ ৩ নারির তালিকায়

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর জন্য অনুপ্রেরণাদায়ি নারি নেতাদের তালিকায় এসেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

করোনাভাইরাস মহামারি সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলার স্বীকৃতি হিসেবে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অডুর্ন এবং বারবাডোজের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোতলির সঙ্গে উঠে এসেছে তাঁর নাম।

আন্তর্জাতিক নারি দিবস উপলক্ষে কমনওয়েলথের একটি বিশেষ ঘোষণায় এই ৩ নারি প্রধানমন্ত্রীকে তাঁদের সাফল্যের স্বীকৃতি দেন।

শুক্রবার (৫ মার্চ) যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড কিউসিকে উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানানো হয়।

কমনওয়েলথ মহাসচিব বলেন, ‘আমি সবসময়ই অনেক নারি ও মেয়েদের দেখে অনুপ্রাণিত হই, আর এবার আমাদের কমনওয়েলথে ৩ জন অসাধারণ নেতার নাম নিতে চাই, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অডুর্ন, বারবাডোজের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোতলি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নিজ নিজ দেশে কোভিড-১৯ মহামারির সময় তাদের নেতৃত্বের জন্য।’

প্যাট্রিসিয়া বলেন, ‘আরও অনেক নারীর মতো এই ৩ নেতাও তাঁকে আশার আলো দেখান এমন একটি পৃথিবীর জন্য যা নারী-পুরুষ সবার সম্মিলিত সুন্দর ভবিষ্যৎ এবং স্বার্থ নিশ্চিত করতে পারে।’

শেখ হাসিনা টানা তৃতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তাঁর নেওয়া পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে।

প্রথম ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক’ পেলেন ৩ গুণী, এক প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : মাতৃভাষা সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন, বিকাশ, চর্চা ও প্রচার-প্রসারে অবদানের জন্য জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ ৩ ব্যক্তি এবং এক প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রথমবারের মতো তুলে দেওয়া হলো ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক’।

অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জাতীয় পর্যায়ে মাতৃভাষার সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন ও বিকাশে অবদানের জন্য ২০২১ সালের এই সম্মননা পেলেন।

এ ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণে অবদানের জন্য খাগড়াছড়ির জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহি পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক পেয়েছেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উজবেকিস্তানের গবেষক ইসমাইলভ গুলম মিরজায়েভিচ এবং লাতিন আমেরিকার আদি ভাষাগুলো নিয়ে কাজ করা বলিভিয়ার অনলাইন উদ্যোগ অ্যাক্টিভিজমো লেংকুয়াস এ বছর বাংলাদেশ সরকারের এ সম্মাননা পেয়েছেন।

রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী পদক তুলে দেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

সরকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এ বছরই প্রথম এ সম্মাননা দেওয়া হলো।

দুই বছর পর পর জাতীয় পর্যায়ে দুটি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুটি পদক দেওয়া হবে।

২১ ছবিতে এবারের একুশে পদক

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘গৌরবদীপ্ত অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে’ এবার একুশে পদক পেয়েছেন ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক-২০২১ বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বিশিষ্ট নাগরিক ও তাঁদের প্রতিনিধিদের হাতে পদক তুলে দেন।

পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, এককালীন ৪ লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিল্পকলা, সাংবাদিকতা, সাহিত্য, শিক্ষা ও অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য একুশে পদক দেওয়া হয়ে থাকে।

ভাষা আন্দোলনে এ বছর মরণোত্তর একুশে পদক পেয়েছেন ৩ জন।

তাঁরা হলেন- মোতাহের হোসেন তালুকদার (মোতাহার মাস্টার), শামছুল হক ও আফসার উদ্দীন আহমেদ।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যও পদক পেয়েছেন ৩ জন। তাঁরা হলেন : সৈয়দা ইসাবেলা (মরণোত্তর), গোলাম হাসনায়েন ও ফজলুর রহমান খান ফারুক।

সঙ্গীতে পাপিয়া সারোয়ার, অভিনয়ে রাইসুল ইসলাম আসাদ ও সুজাতা আজিম, নাটকে আহমেদ ইকবাল হায়দার, চলচ্চিত্রে সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী এবং আবৃত্তিতে ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় এবার একুশে পদক পেয়েছেন।

সাংবাদিকতায় অজয় দাশগুপ্ত, আলোকচিত্রে পাভেল রহমান, গবেষণায় সমীর কুমার সাহা, শিক্ষায় মাহফুজা খানম, অর্থনীতিতে মির্জা আব্দুল জলিল এবং সমাজসেবায় অধ্যাপক কাজী কামরুজ্জামানকেও পদক দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভাষা ও সাহিত্যে কবি কাজী রোজী ও লেখক-গবেষক গোলাম মুরশিদের পাশাপাশি বুলবুল চৌধুরীও একুশে পদক পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী : বহুমূল্যেই বাঙালির প্রতিটি অর্জন, সেধে কেউ কিছু দেয় নি

বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ভাষার পথ ধরেই আমাদের স্বাধীনতা’ কথাটি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, সবকিছু বহুমূল্যেই বাঙালিকে অর্জন করতে হয়েছে। সেধে কেউ কিছুই দেয় নি।

‘বাঙালির মুক্তিসংগ্রাসের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পাকিস্তানিরা আমাদের ওপর একটি বিজাতীয় ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলো। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়েই ভাষার অধিকার এবং স্বাধীনতাসহ সবকিছু অর্জন করতে হয়েছে আমাদের। কেউ সেধে কিছু দেয় নি।’

শেখ হাসিনা শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে একুশে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৫২ সালের আন্দোলন কেবলমাত্র ভাষাভিত্তিক আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো না, এ আন্দোলন ছিলো সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।’

শেখ হাসিনা একুশে পদক প্রাপ্তদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজকে অমর ভাষা দিবসের যে স্বীকৃতি আপনারা পেয়েছেন তা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্যই পেয়েছেন। কাজেই আপনাদের কাছ থেকেই আগামী প্রজন্ম অনেক শিক্ষা নিতে পারবে।’

‘পুরস্কার দেশের শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা, সংস্কৃতি চর্চা ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন কাজে অবদানের জন্যই এই সম্মাননা। সেজন্য আমি মনে করি এটা শুধু আপনাদের সম্মাননা নয়, গোটা জাতির জন্য সম্মাননা। দেশের মানুষের জন্য সম্মাননা।’

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক রাজধানীর ওসামানী স্মৃৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২১ জন বিজয়ী বরেণ্য ব্যক্তির হাতে এ পদক তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।

জাতীয় ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিককে এবার একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তাঁদের নাম ঘোষণা করা হয়েছিলো।

এবার ভাষা আন্দোলনে ৩ জন; মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে ৩ জন; শিল্পকলায় ৭ জন; ভাষা ও সাহিত্যে ৩ জন; সাংবাদিকতা, শিক্ষা, গবেষণা ও অর্থনীতিতে একজন করে মোট ২১ জনকে একুশে পদক প্রদান করা হয়েছে।

ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য মরণোত্তর একুশে পদক দেওয়া হয়েছে মোতাহার হোসেন তালুকদার (মোতাহার মাস্টার), শামছুল হক ও অ্যাডভোকেট আফসার উদ্দীন আহমেদকে।

শিল্পকলায় পদক পেয়েছেন : কণ্ঠশিল্পী পাপিয়া সারোয়ার, অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ, সালমা বেগম সুজাতা (সুজাতা আজিম), আহমেদ ইকবাল হায়দার (নাটক), সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী (চলচ্চিত্র), ড. ভাস্বর বন্দোপাধ্যয় (আবৃত্তি), ও পাভেল রহমান (আলোকচিত্র)।

মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে গোলাম হাসনায়েন, ফজলুর রহমান খান ফারুক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দা ইসাবেলা (মরণোত্তর) পদক পেয়েছেন।

সাংবাদিকতায় অজয় দাশগুপ্ত, গবেষণায় অধ্যাপক ড. সমীর কুমার সাহা, শিক্ষায় বেগম মাহফুজা খানম, অর্থনীতিতে ড. মীর্জা আব্দুল জলিল, সমাজসেবায় অধ্যাপক কাজী কামরুজ্জামান, ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য কবি কাজী রোজী, বুলবুল চৌধুরী ও গোলাম মুরশিদ পদক পেয়েছেন।

পুরস্কার হিসেবে স্বর্ণপদক, সনদপত্র এবং ৪ লাখ টাকার নগদ অর্থের চেক প্রদান করা হয়েছে।

এবারের ২১ জনসহ এ যাবৎ মোট ৫২০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৩টি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক প্রদান করা হয়েছে।

আর ২০১৮ সাল থেকে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২১-এ উন্নীত করা হয়েছে।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম পদক বিজয়ীদের সাইটেশন পাঠ করেন এবং পুরস্কার বিতরণ পর্বটি সঞ্চালনা করেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বদরুল আরেফীন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, দেশ বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, কবি, সহিত্যিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা রক্ত দিয়ে শুধু মাতৃভাষার দাবি প্রতিষ্ঠা নয় স্বাধীনতা অর্জনের পথ করে দিয়েছিলো, আমরা তাঁদের প্রতি সম্মান জানাই।

তিনি এ সময় দেশব্যাপী কোভিড-১৯ টিকার পরও মাস্ক ব্যবহার, কিছুক্ষণ পর পর হাত ধোয়া এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টিও সকলকে স্মরণ করিয়ে দেন।