Category: পাঠকমত

পাঠকের কলাম : সমকালীন ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি এবং আমাদের বাস্তবতা

তাহেরা চৌধুরী : বর্তমান বিশ্বের সব থেকে আলোচিত ব্র্যান্ডিং ধারণাগুলোর একটি ব্লু ওশান স্ট্র্যাটেজি। এর আক্ষরিক অনুবাদ নীল সাগরের কৌশল। পাঠক চমকে উঠে যদি প্রশ্ন করেই বসেন, ব্যবসা করতে আবার সাগর কেনো? তাঁদের প্রশ্নের সহজ উত্তর হতে পারে, বিশ্বের আলোচিত এই ব্যবসায়িক কৌশল মূলত কম দামে বাহারি পণ্য সামগ্রি ক্রেতা বা ভোক্তার হাতে পৌঁছানোকেই বুঝায় মূলত। অপরদিকে যেখানে গতানুগতিক ধারার একই পণ্যের ব্যবসা আলাদা আলাদা উচ্চমূল্য নির্ধারণের বৃত্তে আটকে থাকে।

ব্লু ওশান স্ট্র্যাটেজির প্রধান আলোচ্য বিষয় : একটা ব্যবসায়িক ধারণার ভেল্যু ইনোভেশন করা। হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক কিম এবং মার্বগেন এর মতে, ভেল্যু ইনোভেশন একটা ব্যবসায়িক উদ্যোগকে সবার থেকে আলাদা করতে পারে। সৃষ্টি করতে পারে অপার নতুন সম্ভাবনা।

আবার এই ভেল্যু ইনোভেশনই একটা ব্যবসায়িক উদ্যোগকে সমাজের প্রচলিত ব্যবসার সঙ্গে টিকে থাকার প্রতিযোগিতায় নামাতে পারে। যেখানে প্রফিট মার্জিন বা ব্যবসায়িক সাফল্য আর দশটা উদ্যোগের কাছাকাছিই হয়।

যদি সহজ বাক্যে বলতে হয়, তাহলে আপনার ব্যবসায়িক উদ্যোগ গতানুগতিক না হয়ে যদি একটু ভিন্ন ধাচের হয়; তখন আপনার ব্যবসার সরাসরি কোনও প্রতিপক্ষই নেই। ফাঁকা মাঠে পেশাদার খেলোয়াড় আপনি নিজেই। বাকি কাজ গোলের হিসাব রাখা।

ভিনদেশি ব্যবসায়িক উদ্যোগের উদাহরণ টেনে ব্যাপারটার একটু খোলাসা করি : ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সালে বেলজিয়ামে আমাদের কোচিং সেন্টারগুলোর মতো ব্যাপক পরিমাণে ছিলো মুভি থিয়েটারের ব্যবসা। আর থিয়েটার ব্যবসা ওখানে নতুন কিছু নয়। আবার ব্যবসায়িক ধারণা প্রায় আমাদের কাছাকাছি। এক্ষেত্রে ধনি লোকদের জন্য একটু বেশি আরামদায়ক চেয়ার আর মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্নবিত্তদের জন্য আরেকটু নিম্নমানের চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো।

যেহেতু ব্যবসায়িক ধারণা ছিলো আমাদের কাছাকাছি; সুতরাং তাঁদের প্রফিট মার্জিনও ছিলো প্রায় এক।

১৯৮০ সালের দিকে টেলিভিশন আর স্যাটেলাইটের আবিষ্কার মানুষের সিনেমা হলে যাওয়াতে অনীহার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তখন বেলজিয়ামের থিয়েটার ব্যবসায় এক ধরনের ধস নেমে আসে।

আবার যেহেতু প্রায় সবার প্রফিট মার্জিন কাছাকাছি; একটা দুইটা জায়ান্ট কোম্পানি ছাড়া; তাই প্রায় সবাই শীতের পাতার মতো ঝড়ে পড়লো।

বাকি রইলো কিছু জায়ান্ট কোম্পানি; যাঁরা নিজেদের সর্বস্ব ব্যবসা করতে শুরু করলো।

তখন সবাই একই ধরনের স্ট্র্যাটেজি হাতে নিলো, সাধারণ সিনেমা থিয়েটার থেকে মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল হলো ফুড, পানীয় ইত্যাদির জমজমাট আয়োজন।

ব্যবস্থা হলো আরও আরামদায়ক সিটের।

এইসব ব্যবস্থা করতে গিয়ে সিনেমা টিকিটের দাম হু হু করে বাড়তে লাগলো।

হিতে বিপরীত হওয়া বাক্যটির সফল ব্যবহার যাকে বলে, সাধারণ মানুষের কাছে সিনেমার কদর আরও কমে গেলো।

কিন্তু ভয়াবহ এই অর্থনৈতিক অবস্থায় ভেল্যু ইনোভেশন তথা ‘ব্লু ওশান স্ট্র্যাটেজির ভেল্কিবাজি’ দেখালেন বার্ট ক্লে নামক এক থিয়েটার ব্যাবসায়ি।

যিনি সাধারণ সিনেমা থিয়েটার কিংবা মাল্টিপ্লেক্স সিনেমার বদলে নিয়ে আসলেন মেগাপ্লেক্স সিনেমা হলের ধারণা। সিনেমার নাইট শোয়ের বদলে চালু করলেন ইভিনিং শো। ছোট আনমুভএবেল চেয়ার এর জায়গায় দখল করে নিলো মুভেবল আরাম চেয়ার।

এই চেয়ারের ব্যবহারের ফলে যে কোনও একজনকে না সরিয়েই অন্যজন সহজেই যাতায়াত করতে পারতেন। আবার জায়গা বড় হওয়ায়; যে কেউ কাজের পরে একটু বিশ্রাম নিতে পারতো; ফলে কারও কোনও ধরনের ঝামেলা (ডিস্টার্ব) হতো না।

এর ফলে একসঙ্গে দুই কাজ (রথ দেখাও হলো; কলা বেচাও হলো) হয়ে যেতো।

যার ফল পুরা ব্রাসেলসের (বেলজিয়ামের রাজধানি) প্রায় ৪০ শতাংশ সিনেমা ব্যবসা তাঁদের হাতে চলে আসে প্রথম বছরেই।

ভাবছেন কেনো এসব তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে লিখছি?

তবে উত্তর দিই।

বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা আরও সহজ ভাষায় বলতে গেলে ফেসবুক ব্যবহার করে ব্যবসায়িক উদ্যোগ হু হু করে বাড়ছে। ব্যাপারটা অনেকটা আশার সঞ্চার করেছে। পরিচিত, অপরিচত, আধা পরিচিত বন্ধু আত্মীয়-স্বজন অনেকেই এখন নিজেদের ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে ব্যবসা করছেন হরেক রকম পণ্য।

খুব সহজেই ম্যাসেঞ্জারে নক করে পেইজটি লাইক কিংবা শেয়ার করছেন।

এর সবগুলো ব্যাপারই পজিটিভ। কিন্তু হতাশার কারণ হচ্ছে সম্প্রতি বাংলাদেশে বিষয়টিতে করারোপের কথা বলা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। তখন ফেসবুক ব্যবহার করে ব্যবসা করতে গেলেও দিতে হবে কর। ফলাফল : ফেসবুক ব্যবহার করে পণ্যের দাম, লোকাল বিক্রির সমান।

এ কারণে ব্যবসায়ের জন্য নির্ধারণ করা যেতে পারে আলাদা ভেল্যু ইনোভেশন। সবার থেকে আলাদা করতে পারেন আপনার প্রফিট মার্জিন।

লেখক : সাবেক শিক্ষার্থি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

শফিকুর রহমানের কলাম : আমরা ‘মোটামুটি একটা’ বাসযোগ্য নগরি চাই

অনেকদিন পর আজ (সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি) পত্রিকায় একটি মন ভালো করা প্রতিবেদন দেখলাম।

‘মরা খালে পানির প্রবাহ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে একটি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক।

খবরটি প্রাধান্যও পেয়েছে। কারণ এটি শেষ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদন আকারেই প্রকাশিত হয়েছে।

খবরটি পড়ে জানতে পারলাম, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত যথাক্রমে ১৪টি ও ৫টি খাল এবং ২টি বক্স কালভার্ট সংস্কারে কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

উভয় করপোরেশন সংস্কারাধীন খাল ও কালভার্ট থেকে ‘কয়েক হাজার টন আবর্জনামাটি’ অপসারণ করায় কিছু খালে পানির প্রবাহ দেখা যাচ্ছে।

যা বর্ষার আগে একটি সুসংবাদ বলতে আমাদের দ্বিধা নাই।

আবার উভয় সিটি করপোরেশন বলছে, তাঁদের খাল উদ্ধার ও প্রবহমান রাখার এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এ অবস্থায় ঢাকা মহানগরির খালের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ থাকলেও সেগুলোতে পানির সঠিক প্রবাহ সৃষ্টি করা হবে বলেই আমরা মনে করি।

আর খালের সংখ্যার মতভেদ নিয়ে রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্স সেন্টার তাঁদের ২০২০ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ঢাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৭৩টি খাল আছে।

তবে এর ৪ বছর আগে ঢাকা জেলা প্রশাসন দাবি করেছিলো, ঢাকায় খালের সংখ্যা ৫৮টি। তারমধ্যে আবার ৩৭টি মৃতপ্রায় ও দখলিকৃত।

আবার বাকিগুলোর মধ্যে কয়েকটি রাস্তায় রুপান্তরিত।

‘সবমিলে’ রাজধানী ঢাকার ২৬টি খালের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিলো ঢাকা ওয়াসা’র।

গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে খালগুলো ২ সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তার পর থেকে এই দেড় মাসের অগ্রগতি নিয়েই এ প্রতিবেদন।

আমরা জানতে পেরেছি, উভয় সিটি করপোরেশনে খাল সংস্কার বাবদ এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

সবগুলো খাল পুনরুজ্জীবিত করতে তাঁরা সরকারের কাছে ২৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে।

আর এ পর্যন্ত যা খরচ হয়েছে, তার সবটুকুই বহন করেছে সিটি করপোরেশনগুলো।

ওয়াসা এর আগে এলজিআরডি মন্ত্রণালয় থেকে খাল সংস্কারের জন্য বছরে ৪০ থেকে ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেতো।

তবে খাল সংস্কার নিয়ে আমরা তেমন কোনও কর্মকাণ্ড দেখি নি।

এমন অবস্থায়, গেলো দেড় মাসে খাল উদ্ধারে অগ্রগতি ভালোই।

সবমিলে এখন সিটি করপোরেশন খালগুলো উদ্ধার করে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করবে বলেই আমরা মনে করছি।

এতে ধানমন্ডির মতো রাস্তায় আর পানি জমে থাকা আমরা দেখতে পাবো না বলেই আশা করছি।

এর পাশাপাশি সিটি করপোরেশন খালের পাশে বৃক্ষরোপণ করে পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগি হওয়ার সঙ্গে সৌন্দর্যবৃদ্ধিতেও অবদান রাখবে বলেই আমরা আশা করছি। এক্ষেত্রে হাতিরঝিলের আদলে খালগুলোর তীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করে নগরবাসির হাপিত্যেশ দূর করা যায়।

সবমিলে আমরা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র মহোদয়দের সদিচ্ছাকে সাধুবাদ জানাই এবং আমরা শুধু এতোটুকু আশা করছি, মেয়রদের সদিচ্ছায় আমরা ‘মোটামুটি বাসযোগ্য একটা’ ঢাকা পাবো।

লেখক : রাজধানী ঢাকার নাগরিক; অর্থনীতিবিদ ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড।

‘বিশাল বড় ব্যাগ’ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দুদকের অভিযান!

মন্তব্য প্রতিবেদন : দেশের প্রতিটি খাতে যেন দুর্নীতি এক রকম ঝেঁকে বসেছে। ঢুকে গেছে রন্ধ্রে রন্ধ্রে। এক্ষেত্রে এমন কোনও খাত ও সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান নেই; যেখানে দুর্নীতি ঢুকে যায় নি। ফলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এসেছে নানা সময়। তবে তাই বলে দুর্নীতি দমনে অভিযান পরিচালিত হবে না! হবে, সবই হবে। কিন্তু সেটা হতে হবে সব খাতে দুর্নীতিবাজদের ‘পরিষ্কার’ করার মাধ্যমেই।

এমন অবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শুধু নয় দুদকের কর্মকর্তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। তাঁদের শাস্তির ব্যবস্থাও করতে হবে। যাতে কোনোভাবেই একজন সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হন কিংবা কোনও খাতের দুর্নীতিবাজ অনিয়ম করে পার পেয়ে না যান। যাতে কোনোভাবেই বিপদে না পড়েন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। কারণ বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের। আর এ সরকারের কোনও ক্ষতি হলে, সেটি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিরই ক্ষতি। তবে তাই বলে বর্তমান সরকারের কোনও মন্ত্রী বা সাংসদও যেন দুর্নীতিতে নিমজ্জিত না থাকেন, সেটিও আমাদের দেখতে হবে।

একই বিষয় নিয়ে লেখা বাংলা কাগজের কাছে লিখিত আকারে পাঠিয়েছেন চারজন পাঠক। যার সারমর্ম ঠিক এ রকমই।

তাঁরা লিখেছেন- আমাদের চোখ তো এক রকম চড়কগাছ হয়ে গিয়েছে, কারণ যেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতির দায় এড়াতে পারেন না এর মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা। সেখানে দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রোববার (১৯ জুলাই) অভিযান চালাতে গিয়েছেন বড় একটি ব্যাগ নিয়ে। যদিও তাঁরা ব্যাগটি বহন করেন নি। কিন্তু ব্যাগটি বহন করেছে তাঁদের সঙ্গে যাওয়া এক কর্মচারী।

অনেকেই বলতে পারেন- ব্যাগ বহনে কেন প্রশ্ন উঠবে? কিন্তু এতো বড় অস্বচ্ছ ব্যাগ বহনে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কারণ তাঁদের যদি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছ থেকে কোনও কিছু জানার থাকে বা ডকুমেন্ট নেওয়ার থাকে, তবে স্বচ্ছ ব্যাগ বহন করা যেতে পারে। আর এ ধরনের ক্ষেত্রে ব্যাগই বা বহন করতে হবে কেন, শুধু ডকুমেন্টগুলো হাতে করে নিলেই কী হয়।

আবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছ থেকে নাকি কোনও ডকুমেন্টই পায় নি দুদক। তাহলে ব্যাগ এতো ভারী হলো কী করে? যা আজ (রোববার- ১৯ জুলাই) সব টেলিভিশন চ্যানেল দেখিয়েছে। আর টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দেখিয়েছে বলেই আমরা দেখেছি, যদি না দেখাতো, তবে তো দুদকের অনুসন্ধান যে কী রকম, ‌’জাতি তা দেখতে পেত না’।

এমন অবস্থায় শুধু স্বাস্থ্য খাত নয়; সব খাতের সকল দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় আনা হোক। করা হোক তাঁদের বিচার। দেওয়া হোক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। এটাই আমাদের বাংলাদেশি তথা বাঙালিদের চাওয়া।

ঘুরছে নানা প্রশ্ন : সাহেদের তদন্ত করবে ডিবি

রুমি হক, পাঠক, বাংলা কাগজ : রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে হস্তান্তর করা হয়েছে ডিবি’র (গোয়েন্দা পুলিশ) হাতে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাঁকে আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়ার কথা রয়েছে। এক্ষেত্রে সবগুলো দিনের রিমান্ড পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

যাক সেসব কথা- এখন আসা যাক মূল আলোচনায়- যেটি হলো- সাহেদ যদি এতই ধুরন্ধর হবেন, তবে কেন তিনি নিজের গ্রামের নিকট দিয়েই ভারতে পালাতে চাইবেন?

  • সাহেদকে ধরার পর হাতকড়া লাগানো অবস্থায়ও কেন তাঁর সঙ্গে থাকা পিস্তলের ছবি প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন মাধ্যমে?
  • শুধু গোফ ফেলে দিয়ে চুলে রঙ করলেই কি একজন মানুষকে চেনা যায় না? না-কি বোরখা পড়ে সহজেই সীমানা পার হওয়া যায়?
  • আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে- মানুষ গমণাগমণের পথগুলোতে তাঁদের কঠোর নজরদারি ছিল, তাহলে কি অন্য পথগুলো পলায়নকারীরা ব্যবহার করেন না? না-কি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার লোকবল কম? প্রধানমন্ত্রী কি গোয়েন্দা খাতে কম বরাদ্দ প্রদান করেন?
  • স্থানীয় থানায় মামলা রুজু না করেই কেন ঠিক নয়টার মধ্যে সাহেদকে আনা হলো তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দরে।
  • সাহেদের পালিয়ে থাকা নয়দিনের ব্যাপারে কি সব তথ্য প্রকাশ করা হবে? যাতে সাধারণ মানুষও ভবিষ্যতে ‘জনতাই পুলিশ, পুলিশই জনতা’- আদলে চোখ-কান খোলা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে যখনই কোনও দুষ্কৃতিকারি পলায়নের চেষ্টা করবে বা নিজেকে আড়ালের চেষ্টা করবে; তখনই যেন তা ধরে ফেলতে পারে সাধারণ মানুষ। যাতে সহযোগিতা হবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর।
  • সাহেদ যে এতোদিন নিজেকে বিভিন্ন বাহিনীর নানা পদে আছেন বলে পরিচয় দিয়েছিলেন, সেগুলো কি দেশের কারও চোখেই কোনোদিন পড়েনি। তাহলে কেন এতোদিন চুপচাপ ছিলেন সংশ্লিষ্টরা।
  • আমরা কি এখনও সাহেদকে দেখেও বুঝতে পারছি না, দেশে বর্তমানেও এ ধরনের ধুরন্ধর ব্যক্তি অনেক থাকতে পারেন বা রয়েছেন; ফলে তাঁদের মুখোশ আমাদের উন্মোচন করে দেওয়া কি জরুরি নয়?
  • সাহেদের হাসপাতাল দীর্ঘ ছয় বছর মেয়াদ উত্তীর্ণ (লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয় ২০১৪ সালে) থাকার পরও এতোদিন তাহলে কীভাবে খোলা ছিল?
  • জামায়াতের ঘাঁটি বলে খ্যাত সাতক্ষীরা থেকে কী আর কেউ প্রতারণার মাধ্যমে ফুলেফেঁপে উঠেছেন? উঠলে তাঁরা কারা? তাঁদের বিরুদ্ধে এখনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? আর নেওয়া হলে কবে?
  • সাহেদের একান্ত হিসেবে পরিচিত ও তাঁর মুখপাত্র তরিক শিবলী কি গুরুত্বপূর্ণ কোনও তথ্য প্রদান করেছেন? করলে সেগুলো কি তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। না-কি প্রকাশ করে বা প্রকাশ না করে সাহেদের আরও অপকর্মের (প্রতিষ্ঠান) বিষয়ে অভিযান চালানো হবে। এ বিষয় কি জানানো যায়?
  • করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনতে কি যে কোনও একটি বাহিনীকে দায়িত্ব প্রদান করা যায়? না-কি দেশের বাহিনীগুলোর মধ্যে কোনও সমন্বয়হীনতার অভাব নেই। না থাকলে তো অনেক ভালো। এমন অবস্থায়- সব বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্য খাতে কি শিগগির আমরা কোনও বড় অভিযান দেখতে পাব? না-কি আর কোনও প্রতিষ্ঠানেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি?

(ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক)।

(লেখাটি পাঠকের একান্তই ব্যক্তিগত মত, তবে এটি বাংলা কাগজের পক্ষ থেকে সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হলো)।