Category: পরিবেশ-প্রতিবেশ-আবহাওয়া ও জলবায়ু

দেশজুড়ে হঠাৎ বৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বৈশাখ শুরু হয়েছে ৩ দিন আগে। তবে তারও আগে দেশজুড়ে বয়ে গেছে এক দফা কাল বৈশাখি। তবে এবার কাল বৈশাখি নয় গুড়ি গুড়ি ও থেমে থেমে বৃষ্টি হলো দেশজুড়ে। এ যেনো হঠাৎ বৃষ্টি, স্বস্তির বৃষ্টি।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) দ্বিতীয় প্রহরে এ বৃষ্টি হয়। বিভিন্ন স্থানে এ বৃষ্টি হয়েছে সাড়ে ৪টা থেকে।

বাইডেনের জলবায়ু দূত কেরি ঢাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ডাকা জলবায়ু বিষয়ক শীর্ষ সম্মেলন নিয়ে আলোচনার জন্য ঢাকায় পৌঁছেছেন তাঁর জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি।

শুক্রবার (৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারতের নয়াদিল্লী থেকে বিমানে করে ঢাকায় পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে (আবুল কালাম) আব্দুল মোমেনসহ অন্যরা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রী সেলিনা মোমেন কেরিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার সেখানে ছিলেন।

বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাইডেনের ডাকা ‘লিডারস সামিটের’ আমন্ত্রণপত্র তুলে দেবেন কেরি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করবেন মোমেন। এরপর যৌথ সংবাদ সম্মেলন করবেন তাঁরা।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে জানুয়ারিতে ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

দায়িত্ব নেওয়ার প্রথমদিনই প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে আনেন তিনি, যা থেকে ৪ বছর আগে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো তাঁর পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বাইডেন নিজের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্ব দেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকে। তিনি প্যারিস জলবায়ু চুক্তির করার ক্ষেত্রে অগ্রণি ভূমিকায় ছিলেন তিনি।

জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে বাইডেন ঘোষণা দেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধান প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোকে উদ্বুদ্ধ করতে ‘লিডারস সামিট’ আয়োজন করবেন তিনি। এরপর মার্চের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০ বিশ্ব নেতাকে আমন্ত্রণ জানান বাইডেন।

হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ২২ এপ্রিল বিশ্ব ধরিত্রী দিবসে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে শুরু হবে দু’দিনের এই শীর্ষ সম্মেলন। সাধারণ মানুষের দেখার জন্য সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও থাকবে।

এই সম্মেলনের পাশাপাশি নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ২৬তম সম্মেলন বা ‘কপ২৬’ নিয়ে আলোচনার জন্য সফর শুরু করেছেন বাইডেনের দূত কেরি।

পহেলা এপ্রিল থেকে শুরু সফরে ইতোমধ্যে আবুধাবি ও নয়াদিল্লীতে গিয়েছেন তিনি। শেষ গন্তব্য ঢাকা সফর শেষে শুক্রবারই (৯ এপ্রিল) দেশের পথ ধরবেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বাইডেনের আহ্বানে যখন জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বৈশ্বিক সম্মেলন আয়োজন হচ্ছে, তখন জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জোট ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ।

এ কারণে কেরির সফর ও সম্মেলনকে বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আমাদের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তুলে ধরতে পারবো এবং বিশ্ববাসিকে জানাতে পারবো জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় আমাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলোও।’

মহাদেবপুরে ভূমিকম্প অনুভূত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; আমিনুর রহমান খোকন, মহাদেবপুর (নওগাঁ) : নওগাঁর মহাদেবপুরে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৯ টা ২১ মিনিটে ওই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

এ সময় এলাকার সাধারণ মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত্র হয়ে পড়েন।

অনেককেই ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে।

ভূমিকম্পটি ১০ সেকেন্ডের মতো স্থায়ি হলেও উপজেলার কোথাও কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায় নি।

এদিকে জেলা সদর ও অন্যান্য উপজেলাতেও একই ভূমিকম্প হয়েছে বলেই জানা গেছে।

চাঁদপুরে চাল ময়দা চিনি আলু নিয়ে ৫টি ট্রলার ডুবি

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; চাঁদপুর : কালবৈশাখির তাণ্ডবে চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজারের ব্যবসায়িদের পণ্যবাহী ৫টি ট্রলার নদীতে ডুবে গেছে।

ডাকাতিয়া নদীতে পুরাণবাজারে ভূঁইয়ার ঘাটে রবিবার (৪ এপ্রিল) রাতে এ ট্রলারডুবিতে ব্যবসায়িদের বড় অংকের ক্ষতি হয়েছে।

পুরানবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেন বাংলা কাগজকে বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে শ্রমিকদের সহায়তায় নিমজ্জিত ট্রলারের মালামাল উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, ব্যবসায়ীরা জানান, রবিবার (৪ এপ্রিল) রাতে হঠাৎ কালবৈশাখির ঝড় শুরু হয়। ভূঁইয়ার ঘাটে নোঙর করা ২টি চালের, ২টি ময়দা-চিনির এবং ১টি আলুর ট্রলার ডুবে যায়।

এতে চাল ব্যবসায়ি নেপাল সাহা, গোপাল সাহা, বসু পোদ্দার, চাঁনতারা, পরেশ মালাকার, উৎপল, ময়দা ব্যবসায়ি রফিক স্টোর এবং আলু ব্যবসায়ী মনির ঢালীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তাঁরা।

পুরানবাজারের ব্যবসায়ি দুলাল মৃধা বলেন, ‘ট্রলারে আমাদের ১শ’ বস্তা আলু ছিলো। কিছু আলু ঘরে তুলতে পেরেছি। আর বাকি সব ট্রলারের সাথে নদীতে ডুবে গেছে।’

পুরাণবাজার লেবার সমিতির নেতা বাবুল দেওয়ান বাংলা কাগজকে বলেন, ‘ঝড়ে আমাদের অফিসের টিনগুলো সব উড়িয়ে নিয়ে গেছে।’

আর ব্যবসায়ি রফিকুল ইসলাম বাংলা কাগজকে বলেন, পুরাণবাজারে দীর্ঘদিন যাবৎ ট্রলার ভিড়িয়ে মালামাল উঠানোর জন্য কোনও জেটি কিংবা পল্টুন নেই। শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে মালামাল উপরে ওঠায়। জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা প্রতিশ্রুতি দিয়েও এ বিষয়ে কেউ কোনও ব্যবস্থা নেন নি।

সামনে বর্ষাকালে আরও বড় বিপদ আসতে পারে শঙ্কা তাঁর।

গাইবান্ধায় কালবৈশাখি ঝড়ে প্রাণ গেলো ৮ জনের

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; গাইবান্ধা : গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলায় কালবৈশাখি ঝড়ে অন্তত ৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

রবিবার (৪ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ডেপুটি কালেক্টর নেজারত (এনডিসি) এস এম ফয়েজ বাংলাকাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, গাইবান্ধা সদরের মালিবাড়ি ও বাদিয়াখালি ইউনিয়নে ২ জন, ফুলছড়িতে ২ জন, পলাশবাড়ীতে ৩ জন এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ১ জন নিহত হয়েছেন।

এর আগে রবিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে গাইবান্ধা সদরসহ ৭ উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যায় ঘণ্টাব্যাপি কালবৈশাখি ঝড়।

নিহতদের মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলার মালিবাড়ী ইউনিয়নের ঢনঢনিপাড়া গ্রামের মিঠু মিয়ার স্ত্রী সাহারা বেগম (৪১), পলাশবাড়ী উপজেলার ডাকেরপাড়া গ্রামের ইউনুস আলীর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৫০), মোস্তফাপুর গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে গোফ্ফার (৪২), মনোহরপুর ইউনিয়নের কুমেদপুর গ্রামের মমতা বেগম (৫৫), সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কিশামত হলদিয়া গ্রামের সোলেমান আলীর স্ত্রী ময়না বেগম (৪০), ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারী গ্রামের বিটুল মিয়ার স্ত্রী শিমুলী বেগম (২৫) এবং ফুলছড়ি উপজেলার হাফেজ উদ্দীনের নামে জানা গেছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন বাংলাকাগজকে বলেন, নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে।

‘আর বিভিন্ন স্থানে ভেঙে পড়া গাছ অপসারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মিরা কাজ করছেন।’

পাইকগাছায় কপোতাক্ষ নদের বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা) : পাইকগাছায় কপোতাক্ষ নদের বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। ভেসে গেছে চিংড়ির ঘের মাছ, ফসলি জমি ও পানের বরজ।

ক্ষতি হয়েছে লাখ লাখ টাকা। এলাকাবাসি বলছে, পাইকগাছা-তালার সাজাতপুরের সংযোগ সড়কের উপর নির্মাণাধীন ব্রিজ বাঁধ ভেঙ্গে এ ঘটনা ঘটেছে।

জানাগেছে, উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়ন পরিষদের কাটিপাড়া নামক স্থানে পাইকগাছা-তালা সীমান্তে খুলনার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিংবাঁধ দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করাকালে মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) দুপুরে জোয়ারের পানিতে ভেঙ্গে চিংড়ি ঘের, পানের বরজ ও ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বাড়ী ঘর ও রাস্তা ঘাট। স্থানীয় চিংড়ি ঘেরের মালিক রমজান আলী বাংলা কাগজকে বলেন, তাঁর ঘের তলিয়ে গিয়ে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এখানে ১২টি চিংড়ি ঘের। যার জমির পরিমাণ প্রায় ৪শ বিঘা। আগামী অমাবস্যাতেই সকলে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার আগেই এ অবস্থার সৃষ্টি হলো।

স্থানীয়রা জানান, কপোতাক্ষ নদের উপর ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলছে। দুই তিন মাস আগে ব্রিজের জন্য বিশাল এলাকা খনন করে রাখেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

‘এক পাশে পুকুর ও অন্য পাশে বালি দিয়ে বাঁধ দেওয়া হয়। যাকে বলে বালির বাঁধ। যা জোয়ারের পানির তোড়ে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। ৪/৫ বিঘা পানের বরজের ক্ষতি হয়েছে। গরমে ধানক্ষেত নষ্ট হয়েছে।’

‘বাড়ীতে জোয়ারের পানি উঠে প্লাবিত হয়েছে।’

জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আ. মজিদ গোলদার বাংলা কাগজকে বলেন, ব্রিজের কাজ ধীর গতিতে হওয়ায় ও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এতো ক্ষয়ক্ষতি হলো।

পারদ উঠেছে ৩৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : রাজধানিসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

টানা ৩ দিন ধরে বিরাজমান এ তাপদাহ আরও অন্তত কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দেশের সর্বোচ্চ ৩৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এটাই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এ সময় ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, ‘টানা ৩ দিন ধরে এ তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আরও দুদিন তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা রয়েছে।’

মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগসহ রাজশাহী ও পাবনা অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বইছে।

‘চলতি মাসের শেষ দিকে ঝড়োহাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। তখন তাপপ্রবাহও কমে আসবে।’

মার্চ মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছিলো, মাসের শেষভাগে দেশের পশ্চিম ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে এক থেকে দুটি মৃদু (সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ (৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বয়ে যেতে পারে।

২৩ মার্চ : বিশ্ব আবহাওয়া দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : আজ মঙ্গলবার; ২৩ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ; ৯ চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)।

আজকের দিনটি গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে বছরের ৮২তম দিন।

এ হিসাবে, বছর শেষ হতে আরও ২৮৩ দিন বাকি রয়েছে।

আজ বিশ্ব আবহাওয়া দিবস।

ঘটনাবলি :
১৩৫১ : ফিরোজ শাহ তুঘলক দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন।
১৭৫৭ : রবার্ট ক্লাইভ চন্দননগর দখল করেন।
১৭৯৩ : চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা ঘোষিত হয়।
১৮০১ : রাশিয়ার জার প্রথম পল নিহত হন।
১৯১৭ : ভাইসরয় লর্ড চেমস ফোর্ড কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়।
১৯১৮ : জার্মান বাহিনি তাঁদের নব নির্মিত কামানের সাহায্যে প্যারিসের ওপর গোলাবর্ষণ করে।
১৯১৮ : লিথুনিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
১৯২০ : গভর্নর জেনারেল কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুমোদিত হয়।
১৯৩৩ : অ্যাডলফ হিটলার জার্মানির একনায়ক হন।
১৯৪০ : আবুল কাশেম ফজলুল হক নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
১৯৫৬ : পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গ্রহণ করা হয়।
১৯৬৬ : শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে ৬ দফা প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন।
১৯৭২ : বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় বতসোয়ানা।
১৯৭৬ : নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত (মানবাধিকার) আন্তর্জাতিক চুক্তি কার্যকর হয়।
১৯৯৮ : রুশ প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন কর্তৃক আকস্মিকভাবে তাঁর মন্ত্রিসভা বরখাস্ত হয়।

জন্ম :
১৮৮০ : বাসন্তী দেবী বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের এক ব্যক্তিত্ব দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সহধর্মিণী জন্মগ্রহণ করেন (মৃত্যু : ০৭/০৫/১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ)।
১৮৮১ : হাকিম হাবিবুর রহমান, ব্রিটিশ বাংলার বিশিষ্ট চিকিৎসক, লেখক ও রাজনীতিক জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৯২ : সাহিত্য সমালোচক শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন।
১৯০০ : জার্মান মনোবিজ্ঞানী এরিখ ফ্রোমের জন্মগ্রহণ করেন।
১৯০২ : চারুচন্দ্র চক্রবর্তী জরাসন্ধ ছদ্মনামে খ্যাতনামা বাঙালি সাহিত্যিক জন্মগ্রহণ করেন (মৃত্যু : ২৫/০৫/১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ)।
১৯০৪ : জোন ক্রফোর্ড, মার্কিন অভিনেত্রী জন্মগ্রহণ করেন (মৃত্যু : ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ)।
১৯০৬ : মরিস অলম, বিখ্যাত ইংরেজ ক্রিকেটার জন্মগ্রহণ করেন।
১৯০৭ : নোবেল পুরস্কার বিজয়ি সুইস বংশোদ্ভূত ইতালীয় ফার্মাকোলজিস্ট ড্যানিয়েল বভেট জন্মগ্রহণ করেন।
১৯১০ : আকিরা কুরোসাওয়া, জাপানি চলচ্চিত্র পরিচালক জন্মগ্রহণ করেন।
১৯১৬ : হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বাঙালি সাহিত্যিক জন্মগ্রহণ করেন (মৃত্যু : ২০/০১/১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দ)।
১৯২২ : ইতালিয়ান অভিনেতা, পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার উগো টোগনাযি জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৩১ : রাশিয়ান দাবাড়ু ও লেখক ভিক্টর কোরচনোই জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৪২ : অস্ট্রিয়ান পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার মাইকেল হানেকে জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৪৮ : ওয়াসিম, বাংলাদেশি চলচ্চিত্র অভিনেতা জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৫২ : রেক্স টিলারসন, মার্কিন ব্যবসায়ি, প্রকৌশলী ও কূটনীতিক জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৫৬ : পর্তুগিজ শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক ও ১১৫তম প্রধানমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল বারোসো জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৬৮ : ইংরেজ সাবেক ক্রিকেটার ও সাংবাদিক ফার্নান্দো রুইজ হিয়েরো জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৭৩ : পোলিশ ফুটবলার জেরযয় ডুডেক জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৭৬ : ভারতীয় অভিনেত্রী, প্রযোজক, রাজনীতিক ও মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৭৮ : আর্জেন্টিনার ফুটবল ওয়াল্টার স্যামুয়েল জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৮৫ : আশেক ইলাহী চৌধুরী আইমন (আর্টিস) বাংলাদেশি আর্টশিল্পী জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৮৬ : কঙ্গনা রানাওয়াত, ভারতীয় অভিনেত্রী জন্মগ্রহণ করেন।

মৃত্যু :
১৮০১ : রাশিয়ার জার প্রথম পল নিহত হন।
১৮৪২ : ফরাসি ঔপন্যাসিক স্তাঁদাল।
১৯৪৮ : বৌদ্ধধর্ম ও দর্শন শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ বেনী মাধক বড়ুয়া।
১৯১০ : নাডার, ফরাসি ফটোগ্রাফার, সাংবাদিক ও লেখক।
১৯১১ : ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক (জন্ম : ১৪/০৫/১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দ)।
১৯৩১ : ভগৎ সিং, প্রসিদ্ধ বিপ্লবী শহীদ (জন্ম : ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ); সুখদেব থাপর, স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবী শহীদ (জন্ম : ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ) এবং শিবরাম রাজগুরু, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবি শহীদ (জন্ম : ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ)।
১৯৩৫ : ফ্লোরেন্স মুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিনেত্রী।
১৯৪৮ : বৌদ্ধধর্ম ও দর্শনশাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ বেনী মাধক বড়ুয়া।
১৯৫৩ : ফরাসি চিত্রশিল্পী ও অঙ্কনশিল্পী রাউল ডুফয় মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৯২ : ফ্রিড্‌রিখ হায়েক, অস্ট্রীয় অর্থনীতিবিদ।
১৯৯৫ : শক্তি চট্টোপাধ্যায়, বাঙালি কবি ও লেখক (জন্ম : ২৫/১১/১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দ)।
২০০৭ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণিতবিদ ও তাত্ত্বিক পল জোসেফ কোহেন।
২০০৭ : সূর্যেন্দুবিকাশ করমহাপাত্র, বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানি (জন্ম : ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ)।
২০০৮ : শহীদুল জহির, বাংলাদেশি গল্পকার ও ঔপন্যাসিক।
২০১১ : এলিজাবেথ টেলর, ব্রিটিশ-মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।
২০১২ : সোমালিয়ার রাজনীতিক ও প্রেসিডেন্ট আব্দুলাহি ইউসুফ আহমেদ।
২০১৪ : স্প্যানিশ আইনজীবী, রাজনীতিক ও ১ম প্রধানমন্ত্রী অ্যাডলফ সুয়ারেজ।
২০১৫ : লি কুয়ান ইউ, আধুনিক সিঙ্গাপুরের জনক৷
২০১৯ : শাহনাজ রহমতুল্লাহ, বাংলাদেশি সঙ্গীতশিল্পী (জন্ম : ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ)।

দিবস :
বিশ্ব আবহাওয়া দিবস।

৭ মাসে ১২০ শাবকের জন্ম চিড়িয়াখানায়

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : করোনাভাইরাস মানুষের বিনোদনের সুযোগ কিছুটা কেড়ে নিলেও ঢাকায় জাতীয় চিড়িয়াখানার বাসিন্দাদের দিয়েছিলো ৭ মাসের স্বস্তি; সেই অবসরের সুফল এখন মিলছে বিভিন্ন প্রাণি পরিবারে নতুন অতিথির আগমনের খবরে।

জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক আবদুল লতিফ জানান, মহামারির সময়টায় বিভিন্ন প্রাণির ১২০টি শাবকের জন্ম হয়েছে, যারমধ্যে ৪টি জন্মেছে সম্প্রতি।

‘চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকার কারণে পশুপাখির উপকার হয়েছে, ইমিউনিটি বেড়েছে। খাবার ভালো দিতে পেরেছি, পরিচর্যা ভালো হয়েছে। ওই সময় প্রাণিরা গর্ভধারণ করায় এখন তারা সন্তান প্রসব করছে।’

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি এবং ১১ মার্চ একটি করে ঘোড়া, ২ মার্চ একটি জলহস্তি ও ৫ মার্চ একটি জেব্রা শাবক জন্ম নিয়েছে।
এরআগে গত বছর একটি জিরাফ, দুটি জলহস্তি, ১৮টি চিত্রা হরিণ, একটি মায়া হরিণ, একটি ঘোড়া, দুটি ইম্পালা, দুটি গাধা, একটি কমন ইল্যান্ড, ২৩টি ময়ূর, ১৩টি ইমু, ৩০টি বক, সাতটি ঘুঘু ও ১৫টি কবুতরসহ ১১৬টি শাবক জন্ম নিয়েছে।

মিরপুরে ১৮৬ একরের চিড়িয়াখানায় নতুন-পুরানো মিলিয়ে এখন ২ হাজার ৮২০টি প্রাণি রয়েছে।

অনেক শাবক জন্মালেও করোনাভাইরাসের কারণে বাইরে থেকে নতুন প্রাণি আনা সম্ভব হয় নি বলেই জানান চিড়িয়াখানার পরিচালক।

তিনি বলেন, ‘কোভিডের কারণে ২ কোটি টাকার দরপত্র বাতিল করে দিতে হয়েছে। প্রাণি এখন কেনা যাচ্ছে, কিন্তু আনার ব্যবস্থা নেই।’

দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে নতুন প্রাণি আনার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে আবদুল লতিফ বলেন, ৪টি লটে ১ জোড়া করে কমন ইল্যান্ড, শিম্পাঞ্জি, ক্যাঙ্গারু, কালো ভালুক, চশমা বানর এবং আফ্রিকার সিংহসহ ৮ ধরনের প্রাণি আনার কথা ভাবছেন তাঁরা।

চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা গেছে, অবকাঠামোর উন্নয়ন কাজ চলছে। ১ মাসের মধ্যে এসব কাজ শেষ হবে জানিয়ে আবদুল লতিফ বলেন, ‘গণ্ডার, ময়ূর আর হাতির জন্য নতুন শেড করছি। বাঘ ও সিংহের খাঁচার সংযোগ পথও নির্মাণ করা হচ্ছে।’

পরিচালক জানালেন, এখন দর্শনার্থি সমাগম হচ্ছে স্বাভাবিক সময়ের মতোই।

সাপ্তাহিক খোলার দিনগুলোতে সাধারণত ৮ থেকে ১০ হাজার এবং ছুটির দিনে ২০ থেকে ৩০ হাজার দর্শনার্থির সমাগম হচ্ছে বলেই জানান তিনি। তবে দর্শনার্থিদের স্বাস্থ্যবিধি মানা ও মাস্ক পড়ার ব্যাপারে চিড়িয়াখানার পক্ষ থেকে নিয়মিত অনুরোধ করা হয়ে থাকে বলেই জানান তিনি।

ঘাটাইলে দো-ফসলি জমি ‘গিলে খাচ্ছে’ ইটভাটা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; রবিন তালুকদার, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় দো-ফসলি জমির মাটি ‘গিলে খাচ্ছে’ স্থানীয় ইটভাটাগুলো।

এতে করে দিনদিন কমে যাচ্ছে আবাদি জমির পরিমাণ। ব্যাহত হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আবাদি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটাগুলোতে।

আবার মাটি ভর্তি ট্রাক অবাধ চলাচলের কারণে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক, তারওপর ধুলোবালিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে পরিবেশ।

ফলে সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে।

সবমিলে প্রশাসনের তদারকি না থাকায় ‘বেপরোয়া হয়ে পড়েছেন’ মাটি ব্যবসায়িরা।

সরজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সাধুর গলগন্ডা গ্রামের মিন্টু, বসুবাড়ী গ্রামের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহীন, বীরচারী চান্দে পাড়া গ্রামের সুমন ও মনির, তেলে গলগন্ডা গ্রামের সুমন মিয়া, দেওপাড়া ইউনিয়নের সাবেক সদস্য খোরশেদ আলম খসরু, শোলাকী পাড়া গ্রামের কদ্দুছ, তালতলা গ্রামের আবদুর রহিম এবং গারো বাজার গ্রামের আলামিনসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মাটি ব্যবসায়ি উপজেলার বিভিন্ন দো-ফসলি জমিতে অবৈধভাবে ‘ভেকু’ (মাটি কাটার যন্ত্র) বসিয়ে দেদারসে মাটি সরবরাহ করছে ইটভাটায়।

ফলে প্রতিনিয়ত আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে, ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ।

আর মাটি ব্যবসায়িরা ‘এলাকার প্রভাবশালী’ হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতেও ‘সাহস পায় না বলেও মন্তব্য স্বল্প কিছু মানুষের।

এ ব্যাপারে তেলে গলগন্ডা গ্রামের সুমন মিয়া বাংলা কাগজের কাছে দাবি করেন, ‘আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েই মাটির ব্যবসা করে থাকি।’ পরে অন্য সকলের কাছে মাটি নেওয়ার বিষয়ে একে একে জানতে চায় বাংলা কাগজ। কিন্তু এর পর আর কেউই কোনও বক্তব্য দিতে রাজি হন নি।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম বাংলা কাগজকে বলেন, দো-ফসলি জমিতে মাটি কাটতে জেলা প্রশাসকের অনুমতি লাগবে। জেলা প্রশাসকের অনুমতি ব্যতিত যারা মাটি কাটে, তারা অবৈধ।

‘ইটভাটাগুলোতে মোবাইল কোর্টের পাশাপাশি মাটি কাটার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলের নজর দেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার সরকার বাংলা কাগজকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্তসাপেক্ষে মাটি ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বিনা টেন্ডারে শৈলকূপায় সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; কেয়া প্রামাণিক, ঝিনাইদহ : কোনও প্রকার টেন্ডার বা কোটেশন ছাড়াই রাস্তার দুই পাশের গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে ‘দুর্বৃত্তরা’।

১০ দিন ধরে প্রকাশ্যে রাস্তার গাছ কেটে বিক্রি করা হলেও শৈলকূপার প্রশাসন নির্বিকার বলেই অভিযোগ উঠেছে।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে যেন ‘সরকারি মাল, দরিয়ামে ঢাল’ অবস্থা।

গ্রামবাসির ভাষ্যমতে, ১০ দিনে প্রায় ৫ লাখ টাকার গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এই দৃশ্য ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের বাগুটিয়া গ্রামের রায়পাড়ার।

সরেজমিন দেখা গেছে, বকশিপুর থেকে একটি কাঁচা সড়ক নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের বাগুটিয়ার ভেতর দিয়ে গেছে।

এই সড়কের দু’ধার দিয়ে রয়েছে মেহগনি ও কড়াইসহ বহু মূল্যবান গাছ।

বাগুটিয়া রায়পাড়া অংশের বেশিরভাগ গাছ বিক্রি করেছে হটিফাজিলপুর গ্রামের শফিকুল নামের এক ব্যক্তি। তার কাছ থেকে ওই গাছ কিনেছে হাটফাজিলপুরের ইটভাটা মালিক মানিক মোল্লা।

মেহগনি ও কড়াই গাছগুলো কেটে নেওয়া হচ্ছে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের সদস্য আমজাদ মোল্লার ইটভাটাতে।

গাছ ক্রেতা মানিক মোল্লা জেলা পরিষদ সদস্য আমজাদ মোল্লার ভাই।

গাছ কাটা শ্রমিক নজরুল ইসলাম ও আমির হোসেন জানান, হাটফাজিলপুরের শফিকুল তাদের এই গাছ কাটতে বলেছে।

গাছ টানার কাজে নিয়োজিত পরিবহন শ্রমিক বাদশা মিয়া জানান, হাটফাজিলপুরের আমজাদ মোল্লার ইট ভাটাতে এসব গাছ রাখা হচ্ছে।

পথচারি কাজল মণ্ডল অভিযোগ করেন, কয়েকদিন ধরে এসব সরকারি গাছ কাটা হলেও কেউ বাধা দিচ্ছে না।

গাছ ক্রেতা মানিক মোল্লা বাংলা কাগজের কাছে দাবি করেন, ‘শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে আমি ৭০ হাজার টাকা দিয়ে এসব গাছ কিনে নিয়েছি।’

জানতে চাইলে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের সদস্য আমজাদ হোসেন মোল্লা বাংলা কাগজকে বলেন, আমি তো গাছ কাটার বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি জেনে আপনাকে জানাবো।

সরকারি গাছ বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বাংলা কাগজের কাছে দাবি করে বলেন, ‘রাস্তা সরকারি হলেও রাস্তার পাশের জায়গা আমাদের। গাছগুলো আমরাই লাগিয়েছি।’

শৈলকূপা এলজিইডি অফিসের প্রকৌশলী রওশন হাবিব জানান, এসব রাস্তার গাছ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ইউনিয়ন ভূমি অফিসের। ফলে গাছ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া না নেওয়া তাদের ব্যাপার।

স্থানীয় নিত্যানন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন বাংলা কাগজের কাছে দাবি করেন, ‘রাস্তা কাদের তা আমি জানি না। তবে চুরি করে গাছ কাটা হচ্ছে।’

শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) কানিজ ফাতেমা লিজা বাংলা কাগজকে বলেন, রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদের হলে সেটি বাস্তবে কতটুকু তা দেখতে হবে।

‘স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি রিপোর্ট দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সুনামগঞ্জে ইউএনও বরাবর ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; কুলেন্দু শেখর দাস, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবান নগর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও সুরমা নদীর তীরবর্তী আজিজ ব্রিকস ফিল্ডের বিরুদ্ধে নদীর পাড় কেটে মাটি নিয়ে ইট তৈরির ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের হারিছ আলী ব্রিক ফিল্ডের লিজকৃত মালিক জেলার তাহিরপুর উপজেলার পুটিয়া গ্রামের মৃত আব্দুনুরের ছেলে রিয়াজ উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রিয়াজ উদ্দিন ব্রিক ফিল্ড সংলগ্ন সুরমা নদীর তীরবর্তী ফসল জমির নদীরক্ষা বাঁধের পাশে নদীর পাড় কেটে মাটি উত্তোলন করে ইট ভাটায় নিয়ে ইট তৈরি করছেন। ফলে নদী তীরবর্তী আশপাশের গ্রামগুলো নদী ভাঙ্গনের হুমকিতে রয়েছে।

তা ছাড়া কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে ফসলি জমিতে ফসল ফলানোও সম্ভব হচ্ছে না।

আবার ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও জ্বালানি হিসেবে লাকড়ি ব্যবহার করার কারণে আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গ্রামের পরিবেশ বিপর্যস্থ হয়ে নানান রোগভোগে সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশুসহ বয়স্ক লোকজন।

এ ব্যাপারে ব্রিক ফিল্ডের মালিক রিয়াজ উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা কাগজের কাছে নদীর পাড় কেটে মাটি নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াসমিন নাহার রুমা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলা কাগজকে বলেন, বিষয়টির ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশমন্ত্রী : গ্রাম হচ্ছে শহর

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ স্লোগান বাস্তবায়ন করে দেশের গ্রামগুলোকে শহরে পরিণত করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ শহরের সকল সুবিধা গ্রামে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

‘বর্তমান সরকারের উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। দেশের কোনও মানুষ গৃহহীন থাকবে না। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকেও জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত গৃহহীনদের গৃহের ব্যবস্থা করা হবে।’

মন্ত্রী রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভায় সৌর সড়কবাতি প্রকল্পের উদ্বোধন ও নবনির্বাচিত বড়লেখা পৌর পরিষদের দায়িত্বভার গ্রহণ উপলক্ষে পৌর মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

বড়লেখা পৌর পরিষদের নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সাধারণ জনগণের সমস্যার কথা গুরুত্ব সহকারে শুনতে হবে। রাস্তাঘাট নির্মাণ ও বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছানোসহ বাস্তবায়নযোগ্য জনকল্যাণকর সকল কাজ যথাসময়ে করতে হবে।

‘জনগণের পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধানের জন্য আসলে সমাধানের ব্যবস্থা করতে হবে।’

‘সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ সরকারের সকল সুবিধা যাতে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিবর্গ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বড়লেখা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, উপজেলার নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আল ইমরান, বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম কামরান চৌধুরী, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুন্দরসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় আয়োজিত অপর এক অনুষ্ঠানে পরিবেশমন্ত্রী ৯৩ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর মাঝে ১১ লাখ টাকার শিক্ষা উপবৃত্তির চেক এবং প্রতিবন্ধিদের মাঝে সহায়ক উপকরণ হিসেবে ১০টি হুইল চেয়ার, ২টি হেয়ারিং এইড ও ৫টি সাদাছড়ি বিতরণ করেন।

এ ছাড়া প্রতিবন্ধি ব্যক্তিদের পরিচয়পত্র সুবর্ণ নাগরিক কার্ড এবং বেদে, দলিত ও হরিজনসহ অনগ্রসর সম্প্রদায়ের ১৫ জনকে নতুন বই প্রদান করেন।

পাশাপাশি বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বোবারথল গ্রামে বিদ্যুতায়ন কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন।