Category: নারির ক্ষমতায়ন

ফলোআপ : বাস থেকে প্রতিবন্ধি নারি ফেলে দেওয়ার ঘটনায় আটক চালক ও সহকারি

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বাস থেকে প্রতিবন্ধি নারি ফেলে দেওয়ার ঘটনায় বাস চালক ও তার সহকারিকে আটক করেছে র‌্যাব।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান মঙ্গলবার (৯ মার্চ) বাংলা কাগজকে বলেন, এন মল্লিক পরিবহনের ওই বাসের চালক ও তার সহকারিকে আটক করা হয়েছে। বাসটিও জব্দ করা হয়েছে।

এর আগে আন্তর্জাতিক নারি দিবসের আগের দিন রোববার (৭ মার্চ) সকালে ঢাকা-নবাবগঞ্জ সড়কের রোহিতপুর নামক স্থানে ভাড়া দিতে না পারায় এক প্রতিবন্ধি নারিকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সোমবার (৮ মার্চ) ‘ভাড়া না থাকায় বাস থেকে ফেলে দেওয়া হলো প্রতিবন্ধি নারিকে! (ভিডিও)’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলা কাগজ।

প্রতিবেদনের ভিডিওতে দেখা গেছে, এন মল্লিক নামের একটি বাস থেকে ছুড়ে ফেলা হয় বোরকা পরা বাকপ্রতিবন্ধি নারিকে।

তিনি মাটিতে পড়েই গোঙানো শুরু করেন।

পরে স্থানীয়রা গিয়ে তাঁকে মাটি থেকে তোলেন।

যে গাড়ি থেকে ওই নারিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তার নম্বর ঢাকা মেট্রো ব-১৩-১৫২১।

বাসটি ঢাকা-নবাবগঞ্জ রুটে চলাচল করে।

স্থানীয়রা জানান, বাকপ্রতিবন্ধি ওই নারি বাস থেকে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার কারণ টাইলসের ওপর লিখে জানিয়েছেন।

সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘এন মল্লিক কোনাখোলা থেকে উঠাইসে। ভাড়া নাই। এন মল্লিক কোনও দিনও আমার থেকে ভাড়া নেয় না। এরা ভাড়া চায়। দিতে না পারায় এমুন ব্যবহার।’

নারি-পুরুষ সমতার দাবিতে মানববন্ধন কাউখালীতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; জিয়াদুল হক, পিরোজপুর : দেশের প্রায় সবগুলো জেলা ও উপজেলায় পালন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক নারি দিবস।

দিবসটি উপলক্ষে কাউখালীতে নারি-পুরুষ সমতার দাবিতে করা হয়েছে মানববন্ধন।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুনাম এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।

৮ মার্চ (সোমবার) সকালে উপজেলা পরিষদের সামনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপি মানববন্ধন শেষে বক্তব্য দেন সামজসেবক আ. লতিফ খসরু, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহিদা হক, প্রেসক্লাবের সভাপতি রতন কুমার দাস, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রিয়াজুল হক রিয়াজী, সুনাম কমিটি কাউখালী উপজেলা শাখার সভাপতি সুজন আইচ, আরটিভি’র জেলা প্রতিনিধি শেখ রিয়াজ আহম্মেদ নাহিদ এবং সুনামের সাধারণ সম্পাদক রবিউল হাসান মনির।

চৌদ্দগ্রামে আন্তর্জাতিক নারি দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; আবু বকর সুজন, চৌদ্দগ্রাম : করোনাকালে নারি নেতৃত্ব, গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব- এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আন্তর্জাতিক নারি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৮ মার্চ (সোমবার) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পৌর মেয়র জিএম মীর হোসেন মীরু, উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান এ বি এম এ বাহার, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ত্রিনাথ সাহা, ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদা আখতার, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখিনা বেগম, জেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি মমিনুর রহমান ফটিক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং উপজেলা মহিলা কর্মকর্তা বিধি রানী চক্রবর্তী।

ভাড়া না থাকায় বাস থেকে ফেলে দেওয়া হলো প্রতিবন্ধি নারিকে! (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে বাক‌প্রতিবন্ধি এক নারি যাত্রীকে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে আন্তর্জাতিক নারি দিবসের আগের দিন রোববার (৭ মার্চ) সকালে।

ঢাকা-নবাবগঞ্জ সড়কের রোহিতপুর নামক স্থানে ওই ঘটনা ঘটে।

আর ভাড়া দিতে না পারায় ওই নারিকে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, এন মল্লিক নামের একটি বাস থেকে ছুড়ে ফেলা হয় বোরকা পরা বাকপ্রতিবন্ধি নারিকে।

তিনি মাটিতে পড়েই গোঙানো শুরু করেন।

পরে স্থানীয়রা গিয়ে তাঁকে মাটি থেকে তোলেন।

যে গাড়ি থেকে ওই নারিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তার নম্বর ঢাকা মেট্রো ব-১৩-১৫২১।

বাসটি ঢাকা-নবাবগঞ্জ রুটে চলাচল করে।

স্থানীয়রা জানান, বাকপ্রতিবন্ধি ওই নারি বাস থেকে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার কারণ টাইলসের ওপর লিখে জানিয়েছেন।

সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘এন মল্লিক কোনাখোলা থেকে উঠাইসে। ভাড়া নাই। এন মল্লিক কোনও দিনও আমার থেকে ভাড়া নেয় না। এরা ভাড়া চায়। দিতে না পারায় এমুন ব্যবহার।’

জানা গেছে, প্রতিবন্ধি ওই নারিকে ছুড়ে ফেলা এন মল্লিক কোম্পানির বাসের হেলপারের নাম হাসান (২২)।

তাঁর বাড়ি নবাবগঞ্জের জয়কৃষ্ণ এলাকায়।

বাসটির চালক ছিলেন সবুজ মিয়া (৪০)।

একজন বাকপ্রতিবন্ধির সঙ্গে এমন আচরণে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় জনতা।

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান বাংলা কাগজকে বলেন, ‘এখনো এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করে নি।’

‘তবে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’

আন্তর্জাতিক নারি দিবস আজ : বাংলাদেশে সম্মাননা পাচ্ছেন শ্রেষ্ঠ ৫ জয়িতা

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারি দিবস। নারির সম-অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১৯১৪ সাল থেকে বিভিন্ন দেশ দিবসটি পালন করে আসছে। ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ দিনটি ‘আন্তর্জাতিক নারি দিবস’ হিসেবে পালন করছে। আজকের দিনে শ্রেষ্ঠ ৫ জয়িতাকে সম্মাননা দেওয়া হবে।

জানা গেছে, সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হবে। এবার নারি দিবসের প্রতিপাদ্য- ‘করোনাকালে নারি নেতৃত্ব, গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণি দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণিতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নারি-পুরুষ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের ফলে নারি উন্নয়ন আজ সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি, বিচারবিভাগ, প্রশাসন, কূটনীতি, সশস্ত্রবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী, শান্তিরক্ষা মিশনসহ সর্বক্ষেত্রে নারীর সফল অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ ক্রমান্বয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

পৃথক বাণিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীর সম অধিকারের বিষয়টি সংবিধানে নিশ্চিত করেছেন। নারি পুরুষের যৌথ প্রচেষ্টায় বিনির্মাণ হবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।

‘নারি তাঁর মেধা ও শ্রম দিয়ে যুগে যুগে সভ্যতার সকল অগ্রগতি এবং উন্নয়নে করেছে সমঅংশীদারিত্ব। আর তাই সারাবিশ্বে বদলে গেছে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি। এখন নারির কাজের মূল্যায়ন হচ্ছে, বৃদ্ধি পাচ্ছে স্বীকৃতি।’

‘লিঙ্গ সমতা ও নারির ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। আমাদের জাতীয় উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা গ্রহণ করেছি নানামুখী পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ।’

নারি দিবসের কর্মসূচি : আন্তর্জাতিক নারি দিবসে জাতীয় পর্যায়ের ৫ জনকে ‘শ্রেষ্ঠ জয়িতা’ সম্মাননা দেবে সরকার। সকাল সাড়ে ১০টায় শিশু একাডেমি মিলনায়তনে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাঁদের হাতে ১ লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেবেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা ।

বিকেল ৪টায় ৬৭টি নারি, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে অনলাইনে আলোচনা সভা হবে। তাতে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। সভায় উন্নয়নকর্মি, প্রতিবন্ধি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, আদিবাসি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি আলোচনা করবেন।

এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে দেশের জাতীয় গণমাধ্যম বিশেষ সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করছে। বিভিন্ন সংগঠন ব্যানার ফেস্টুন ও পোস্টারের মাধ্যমে দিবসটি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে।

যেভাবে এলো আন্তর্জাতিক নারি দিবস : ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি সুচ কারখানার নারি শ্রমিকরা দৈনিক শ্রম ১২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৮ ঘণ্টায় আনা, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মক্ষেত্রে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। আন্দোলন করার অপরাধে সে সময় গ্রেপ্তার হন অসংখ্য নারি। কারাগারে নির্যাতিত হন অনেকেই।

এর ৩ বছর পরে ১৮৬০ সালের একইদিনে গঠন করা হয় ‘নারি শ্রমিক ইউনিয়ন’। ১৯০৮ সালে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের কারখানার প্রায় দেড় হাজার নারিশ্রমিক একই দাবিতে আন্দোলন করেন। অবশেষে আদায় করে নেন দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজ করার অধিকার।

১৯১০ সালের এইদিনে ডেনমাকের্র কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সম্মেলনে জার্মানির নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারি দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই সারাবিশ্বে দিবসটি আন্তর্জাতিক নারি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক নারিবর্ষে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারি দিবস হিসেবে পালন করা শুরু করে। এর দুই বছর পর ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারি দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

নারি দিবস হচ্ছে- জাতিগত, গোষ্ঠীগত, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক কিংবা রাজনৈতিক সবক্ষেত্রে বৈষম্যহীনভাবে নারির অর্জনকে মর্যাদা দেওয়ার দিন। এদিনে নারিরা তাঁদের অধিকার আদায়ের জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসকে স্মরণ করে এবং ভবিষ্যতের পথ পরিক্রমা নির্ধারণ করে, যাতে আগামি দিনগুলো নারীর জন্য আরও গৌরবময় হয়ে ওঠে।

এবারের শ্রেষ্ঠ ৫ জয়িতা : এবার বাংলাদেশে শ্রেষ্ঠ ৫ জয়িতা হলেন : বরিশালের হাছিনা বেগম নীলা, বগুড়ার মিফতাহুল জান্নাত, পটুয়াখালীর মোসাম্মৎ হেলেন্নছা বেগম, টাঙ্গাইলের বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিজান এবং নড়াইলের অঞ্জনা বালা বিশ্বাস।

ঝিনাইদহে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; কেয়া প্রমাণিক, ঝিনাইদহ : নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে ঝিনাইদহে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের মডার্ন মোড়ে ওই কর্মসূচি পালিত হয়।

কর্মসূচিতে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে জনপ্রতিনিধি ও মানবাধিকার কর্মীরা অংশ নেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা সামাজিক সহায়তা কমিটির সভাপতি আমিনুর রহমান টুকু, এইডের প্রধান নির্বাহি তারিকুল ইসলাম পলাশ, উপজেলা সামাজিক সহায়তা কমিটির সদস্য শরীফা আক্তার এবং এইডের জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ মোকাবিলা প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারি খন্দকার আশরাফুন্নাহার আশাসহ অন্যান্যরা।

বক্তারা নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সাইবার অপরাধ : নারীর ভরসা হয়ে উঠছে পিসিএসডব্লিউ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে পড়ালেখা শেষ করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন সামিয়া সিদ্দিকা (ছদ্মনাম)।

সারা দিন ব্যস্ততা শেষে রাতে ঘুমানোর সময় মুঠোফোন হাতে নিতেই হোয়াটস অ্যাপে অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে।

বারবার কেটে দেওয়ার পরেও কল আসছেই।

এক সময় এক রকম বিরক্তির স্বরেই কল ধরলেন সামিয়া।

কল ধরার সঙ্গেসঙ্গেই ওপাশ থেকে অশালীন ভাষায় নানা মন্তব্য ও কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা ভেসে আসছিলো।

কল কেটে দেওয়ার সঙ্গেসঙ্গে ইনবক্সে বিভিন্ন অশ্লীল ছবি আসতে শুরু করলো।

এভাবে দুইদিন এভাবে চলার পর সামিয়া পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন সম্পর্কে জানতে পারেন।

এতে কল করেন পুলিশের হটলাইন নম্বরে।

সেখান থেকে পরামর্শ নিয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

‘নারীর জন্য নিরাপদ সাইবার স্পেস’ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন- (পিসিএসডব্লিউ) নামে অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজ চালু করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।

সামিয়ার মতো হাজারো নারী হয়রানির প্রতিকারের জন্য তাঁদের কাছে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ক : ফোর্বস : শেখ হাসিনা বিশ্বের ৩৯তম ক্ষমতাধর নারী

বেগম রোকেয়ার ভাস্কর্য ‘আলোকবর্তিকা’ উন্মোচিত রংপুরে

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; রংপুর : বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার ভাস্কর্য ‘আলোকবর্তিকা’ উন্মোচিত হয়েছে রংপুর নগরীতে।

মহীয়সী এই নারীর জন্ম ও মৃত্যুদিনে ৯ ডিসেম্বর (বুধবার) বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর শালবন ইন্দ্রার মোড়ে নির্মিত ভাস্কর্যটি উন্মুক্ত করা হয়।

ভাস্কর অনীক রেজা এই মহীয়সী নারীর ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেন।

অনীক রেজা বাংলা কাগজকে জানান, সিটি করপোরেশন থেকে তাকে ভাস্কর্যটি উন্মুক্ত করতে বলা হয়। এজন্য ছোটো পরিসরে তিনি ভাস্কর্য উন্মুক্ত করার প্রস্তুতি নেন।

এই সময় সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক এবং রংপুরের কয়েকজন সাংস্কৃতিক কর্মী, কবি ও লেখক উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের জেলা সাংস্কৃতিক সম্পাদক আতিক উল আলম কল্লোল বাংলা কাগজকে বলেন, রংপুর নগরের শালবন ইন্দ্রার মোড়ে বিগত সিটি মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর সময়ে বেগম রোকেয়ার ভাস্কর্য নির্মাণ কাজের উদ্বোধন হয়েছিল। এরপর ধীরগতিতে চলা নির্মাণ কাজ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি জানান, মাটি থেকে শুধু উঁচু বেদি তৈরির পরে কয়েকটি ইটের পিলার ছাড়া তখন আর কিছুই ছিল না। অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকা বেদিটি ভরে ছিল ধুলোবালি আর বিভিন্ন ফেস্টুন পোস্টারে।

মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা সেই বেদিটি দেখে হতাশ ছিলেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন মহল থেকে তখন ওই ভাস্কর্য নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। অবশেষে বছর তিনেক বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয় নির্মাণ কাজ।

অনীক রেজা জানান, ভাস্কর্যটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এটির উচ্চতা মাটি থেকে ২০ ফুট। এরমধ্যে শুধু রোকেয়ার প্রতিকৃতি লম্বায় প্রায় ১২ ফুট। আর বেদির চারদিক জুড়ে রয়েছে ৫০ বর্গফুট জায়গা।

ভাস্কর্যটিতে রোকেয়ার জন্ম-মৃত্যুর সন উল্লেখসহ তার লেখা কিছু বই ও বাণীর উল্লেখ রয়েছে।

১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বেগম রোকেয়া। ১৯৩২ সালের একই তারিখে কলকাতার সোদপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার ব্যবস্থায় নারীর সমান অধিকারের জন্য আমৃত্যু লড়াই করেছেন মহিয়সী এই নারী।

মতিচূর, সুলতানার স্বপ্ন, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী ইত্যাদি কালজয়ী গ্রন্থে ধর্মীয় গোঁড়ামি, সমাজের কুসংস্কার ও নারীর বন্দিদশার স্বরূপ উন্মোচন করেছেন তিনি।

বাল্যবিবাহ, যৌতুক, পণ প্রথা, ধর্মের অপব্যাখ্যাসহ নারীর প্রতি অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন রোকেয়া।

এ বিষয়ক : প্রধানমন্ত্রী : নারীরা না এগোলে সমাজ চলবে খুঁড়িয়ে

রোকেয়া পদক পেলেন ৫ মহিয়সী নারী

পাঁচ বিশিষ্ট নারী পাচ্ছেন রোকেয়া পদক

প্রধানমন্ত্রী : নারীরা না এগোলে সমাজ চলবে খুঁড়িয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : জনসংখ্যার অর্ধেকই যেখানে নারী, সেখানে তাঁদের পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ না দিলে সমাজও এগোতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বেগম রোকেয়া দিবসে বুধবার (৯ ডিসেম্বর) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রোকেয়া পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তিনি এই কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা সমাজে যেখানে অর্ধাংশ নারী, একটা সমাজকে যদি উন্নত করতে হয়,… তারা সমানভাবে যদি নিজেদের তৈরি করতে না পারে, তাহলে সেই সমাজ কীভাবে গড়ে উঠবে?’

‘সমাজের অর্ধাংশকে আমরা যদি এগোতেই না দিই, তাহলে কী করে একটা সমাজ দাঁড়াতে পারে। সমাজকে তো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে হবে।’

এ অনুষ্ঠানে নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতিতে ভূমিকার জন্য পাঁচজনকে চলতি বছরের বেগম রোকেয়া পদক দেওয়া হয়।

নারী শিক্ষায় অবদানের জন্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার এবং পেশাগত উন্নয়নের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ভূমিকার জন্য কর্নেল ডা. নাজমা বেগম এবার রোকেয়া পদক পেয়েছেন।

নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদানের জন্য মঞ্জুলিকা চাকমা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নারী জাগরণের ক্ষেত্রে ভূমিকার জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বেগম মুশতারী শফি এবং নারীর অধিকার আদায়ের সংগ্রামের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদা আক্তার এ সম্মাননা পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পদকজয়ীদের হাতে সম্মাননা, সনদ ও চেক তুলে দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে সশরীরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারায় নিজের দুঃখের কথা অনুষ্ঠানে প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের মেয়েরা অনেক এগিয়ে গেছে। আমরা চাই আমাদের দেশের মেয়েরা সমানভাবে এগিয়ে যাক। কারণ বেগম রোকেয়াই আমাদের পথ দেখিয়ে গেছেন।’

সমাজে নারীর ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে নিজের মা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিবের কথাও স্মরণ করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমার মা, যিনি সারাজীবন আমার বাবার পাশে থেকে এই স্বাধীনতা সংগ্রামে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন… যখন আমার বাবা জেলে থাকতেন, তখন দল গঠন থেকে শুরু করে আন্দোলন সংগ্রাম করা বা তার মামলা মোকদ্দমা দেখা বা আমাদেরকে মানুষ করা, লেখাপড়া শেখানো- সব দায়িত্ব কিন্তু আমার মা নিজে করেছেন।’

‘কাজেই সেখানেও আমি দেখি… সমাজে কত বড় দায়িত্ব তিনি পালন করে গেছেন। অথচ কোনো প্রতিষ্ঠনিক শিক্ষার সুযোগ তার ছিল না, কারণ সেই যুগে মেয়েরা একটু বড় হলে আর তাদেরকে স্কুলে যেতে দেওয়া হত না, পড়তে দেওয়া হত না। আমি দেখেছি, আমার মা খুব জ্ঞানপিপাসু ছিলেন এবং নিজের চেষ্টায় তিনি অনেক লেখাপড়া করতেন, আমাদেরকে সব সময় লেখাপড়া করতে উৎসাহিত করতেন।’

নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রতিবছর রোকেয়া পদক দেয় বাংলাদেশ সরকার।

১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বেগম রোকেয়া। ১৯৩২ সালের একই তারিখে কলকাতার সোদপুরে তার মৃত্যু হয়।

রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার ব্যবস্থায় নারীর সমান অধিকারের জন্য আমৃত্যু লড়াই করেছেন মহিয়সী এই নারী। বাল্যবিবাহ, যৌতুক, পণ প্রথা, ধর্মের অপব্যাখ্যাসহ নারীর প্রতি অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন।

মতিচূর, সুলতানার স্বপ্ন, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী ইত্যাদি কালজয়ী গ্রন্থে ধর্মীয় গোঁড়ামি, সমাজের কুসংস্কার ও নারীর বন্দিদশার স্বরূপ উন্মোচন করেছেন তিনি।

তৎকালীন সমাজের অচলায়তন ভেদ করে বেগম রোকেয়া যে নারীদের আলোর পথ দেখিয়েছিলেন, সে কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তিনি সমাজের একটা বিবর্তন নিয়ে এসেছিলেন। এবং নিজের উদ্যোগে, অনেক প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে তিনি এই দেশের নারী সমাজকে এগিয়ে নিয়ে আসেন এবং তাদের শিক্ষায় আলোকিত করেন।”

রোকেয়ার লেখা থেকে উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘তিনি বলতেন, ‘কন্যাগুলিকে সুশিক্ষিত করিয়া কার্যক্ষেত্রে ছাড়িয়া দাও। নিজের অন্ন, বস্ত্র উপার্জন করুক।”

সেই সময়ের সমাজে নারী শিক্ষার বাধাগুলো দূর করতে রোকেয়ার সংগ্রামের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেগম রোকেয়া তার ভাইয়ের থেকে শিক্ষা নিয়েছেন, পরবর্তীতে স্বামীর থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তার নামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করে নারীদের স্কুলে আনতে গেলে সেই সময় অনেক বাধার মুখোমুখি হতে হত তাঁকে।’

‘কষ্ট করেই তিনি শিক্ষার আলোটা জ্বালিয়ে দিয়ে যান আমাদের জন্য। যার জন্য আজকে আমরা বলতে পারি, মেয়েরা অনেক সুযোগ আমরা পেয়েছি।’

দেশের স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অবদানের কথা এ অনুষ্ঠানে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতার পর নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে জাতির পিতার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘নারীরা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হলে পরিবারে তার একটা গুরুত্ব থাকে এবং কীভাবে তারা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হবেন- জাতির পিতা সেটা নিয়ে সব সময় চিন্তা করতেন।’

‘আমরা সরকার গঠন করার পর থেকে সব সময় এই দিকটায় উদ্যোগ নিয়েছি। নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা, নারীদেরকে বেশি সুযোগ দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য বা চাকরি- সবক্ষেত্রে যেন তারা অবস্থানটা দৃঢ করতে পারে, আমরা কিন্তু সেই ব্যবস্থাটা নিয়েছি।’

নারীর শিক্ষা নিশ্চিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বৃত্তি দিচ্ছি, উপবৃত্তি দিচ্ছি। এমনকি আপনারা জানেন, প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষের উপর যে উপবৃত্তি দিই, সেই বৃত্তির টাকাটা সোজা মায়ের নামে চলে যায়।’

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে রোকেয়া দিবসের এ অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা ও সচিব কাজী রওশন আক্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ক : রোকেয়া পদক পেলেন ৫ মহিয়সী নারী

প্রসূতির দুধ বাড়াতে ৩০ খাবার

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : শিশুর জন্মের পর অনেক শিশুই ঠিকমতো বুকের দুধ পান না। তাই বুকের দুধ বাড়ানো নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন অনেকেই।

ওই সময় ডাক্তার কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করার সুপারিশ করেন। যা প্রসূতি মায়ের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। ভালো রাখতে সাহায্য করে রক্ত সঞ্চালনও।

সাধারণত ডাক্তারেরা সুপারিশ করেন, আপনি মেডিটেশন করুন এবং শান্ত থাকার ক্রিয়াকলাপগুলো খুঁজে বের করুন।

মানসিক চাপ বুকের দুধ কম উৎপাদনের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে।

আপনার সঙ্গী, সেবা–প্রদানকারী এবং ডাক্তারদের মধ্যে যোগাযোগ থাকলে আপনার জীবন আরও সহজ হয়ে উঠবে।

বুকের দুধ বাড়াতে ৩০টি খাবার খেতে পারেন। খাবারগুলো হলো :

১. মেথির বীজ : সারা পৃথিবীতে স্তন্যদুগ্ধ বৃদ্ধির জন্য বহু প্রজন্ম ধরে মেথি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ওমেগা-৩ ফ্যাট সমৃদ্ধ যা আপনার শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিটা–ক্যারোটিন, ভিটামিন বি, ক্যালসিয়াম এবং লৌহ সমৃদ্ধ খাদ্য হিসাবে আপনি মেথি পাতাও ব্যবহার করতে পারেন। চা বানানোর সময়ও মেথি বীজ ব্যবহার করা যেতে পারে বা সবজির তরকারিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এ ছাড়াও মেথি দেওয়া হয় রুটি এবং পুরি বা কচুরিতে।

২. মৌরির বীজ বা মৌরি : বুকের দুধের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি, গ্যাস এবং পেটের ব্যাথা কমাতে মৌরি ব্যবহার করা হয়। ধারণা করা হয়, এইসকল বীজের গুণাগুণ বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর দেহে পৌঁছায়। আপনি রাতে এক গ্লাস জলে এক চা চামচ মৌরি ভিজিয়ে রাখতে পারেন এবং সকালে তা পান করতে পারেন অথবা চা–এর মধ্যে দিয়েও পান করতে পারেন।

৩. রসুন : রসুন রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি, হৃদরোগ প্রতিরোধ, এবং প্রতিষেধক বৈশিষ্ট্য থাকার জন্য সুপরিচিত। রসুন বুকের দুধের স্বাদ এবং গন্ধকে প্রভাবিত করতে পারে তাই এটি সীমিত ও সতর্কভাবে ব্যবহার করতে হবে।

৪. সবুজ পাতাওয়ালা শাকসবজি : পালংশাক, পাতাকপি, মেথিপাতা, সরষে শাক জাতীয় সবুজ শাক–সবজি লৌহ, ক্যালসিয়াম এবং ফোলেটের মত খনিজগুলির বড় উৎস। এগুলিতে প্রচুর ভিটামিন থাকে এবং স্তন্যদুগ্ধের উৎপাদন বৃদ্ধি করে বলে মনে করা হয়। দৈনিকভিত্তিতে আপনার খাদ্যতালিকায় অন্তত এক প্রস্থ সবুজ শাক সবজি থাকা উচিত।

৫. জিরা : জিরা স্তন্যদুগ্ধের উৎপাদন বৃদ্ধি করার সঙ্গেসঙ্গে হজমে সহায়তা করে এবং এটি কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটফাঁপা, অম্বলের উপশমকারি হিসেবেও পরিচিত। এটি ভিটামিন এবং ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ। উপকার পেতে এটি সালাদে ব্যবহার করুন অথবা রাতভর জলে ভিজিয়ে রাখুন এবং ওই জল পান করুন।

৬. তিল বীজ : বুকের দুধ বাড়ানোর জন্য বহু লোক তিলের বীজ বা তিল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এই বীজ ক্যালসিয়ামের একটি অসাধারণ দুগ্ধ বর্জিত উৎস যা আপনার শিশুর বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি প্রসবের পরে, মায়ের কর্মক্ষমতা ফিরে পেতে এবং স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য ক্যালসিয়াম বিশেষ প্রয়োজনীয়। আপনি আপনার দৈনন্দিন রান্নার মধ্যে তিল ব্যবহার করতে পারেন বা এটি দিয়ে মিষ্টি খাবার তৈরি করতে পারেন যেমন লাড্ডু এবং প্রতিদিন একটি করে খেতে পারেন।

৭. পবিত্র তুলসী : পবিত্র বেসিল বা তুলসি মায়ের দুধ বৃদ্ধি করার জন্য বহু প্রজন্ম ধরে ব্যবহার করা হয়েছে। স্তন্যদুগ্ধের উৎপাদন বৃদ্ধি করার সঙ্গেসঙ্গে এটি মন শান্ত রাখার গুণের জন্যও পরিচিত এছাড়া এটি পাচনতন্ত্রের গতি স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধা বাড়ায়। তুলসি চা–এর মাধ্যমে গ্রহণ করলে এটি আপনাকে আরাম এবং স্বস্তি দেবে।

৮. ওটমিল : এটি দেহে শক্তি যোগায় ও প্রসব পরের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য দুর্দান্ত। এটি আঁশযুক্ত বা তন্তু সমৃদ্ধ যা আপনার পাচনতন্ত্রের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আপনি ব্রেকফাস্টে ওটস্ খেতে পারেন বা ওটস্ কুকিজ তৈরি করতে পারেন। নিউট্রিশনিস্টরা বা পুষ্টিবিদরা স্তন্যদুগ্ধ বৃদ্ধি করতে যে কোনও খাদ্যতালিকাতেই ওটস্ যোগ করার সুপারিশ করে থাকেন।

৯. কাঁচা পেঁপে : বুকের দুধের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কাঁচা পেঁপে মনে প্রশান্তি আনে এবং ভালো ঘুম আনে। আপনি সালাদের মধ্যে গ্রেট করে বা ঘষে নিয়ে কাঁচা পেঁপে খেতে পারেন। কাঁচা পেঁপে বুকের দুধ বাড়ানোর জন্য অন্যতম সেরা ফল বলে মনে করা হয়।

১০. গাজর : গাজর স্তন্যদুগ্ধ বৃদ্ধিতে একটি বড় ভূমিকা পালন করে এবং এটি ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ; যা বুকের দুধের মান উন্নত করে। সালাদের আকারে কাঁচা গাজর খান অথবা সকালে এক কাপ রস করে প্রাতরাশের সঙ্গে পান করুন। গাজর বিশ্বের সর্বত্রই পাওয়া যায় এবং এটি বুকের দুধ বৃদ্ধি করার জন্য সেরা খাবারগুলির মধ্যে একটি।

১১. বার্লি : বার্লি স্তন্যদুগ্ধের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারে এবং আপনাকে হাইড্রেটেড রাখে বা শরীরের জলস্তরের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। আপনি এটা সালাদের সঙ্গে নিতে পারেন অথবা রাতভর জলে ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে পান করতে পারেন।

১২. শতমূলী : শতমূলী একটি উচ্চ তন্তুময় বা আঁশযুক্ত ভিটামিন-এ এবং কে সমৃদ্ধ খাদ্য। এটি স্তন্যদুগ্ধের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সাহায্যকারী হরমোনকে উদ্দীপিত করে। একটি সুস্বাদু খাবার বা জলখাবার বানাতে এটি অন্য সবজির সঙ্গে মিলিতভাবে একটি প্যানে সিদ্ধ করে বা হালকা সাঁতলে নিন।

১৩. বাদামী চাল : কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, স্তন্যদুগ্ধের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে বাদামী চাল উপকারী। এটি স্তন্যদুগ্ধের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দায়ী হরমোনকে উদ্দীপিত করে বলে জানা যায়। এটা মায়ের জন্য শক্তিদায়ক এবং সুস্বাস্থ্যের পথনির্দেশকারী। একটি প্রেসারকুকার বা রাইসকুকারে এটি রান্না করুন এবং সবজি সহ খেতে থাকুন।

১৪. এপ্রিকট বা খুবানি : এপ্রিকট বা খুবানি হরমোন জনিত ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে থাকে এবং এটি প্রসবের আগে ও পরে উভয় সময়েই খাওয়া উচিত। এটি বুকের দুধ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ ও তন্তুবহুল বা আঁশযুক্ত খাদ্য আপনার সকালের ওটমিল খাদ্যতালিকায় এটি যোগ করুন।

১৫. স্যালমন মাছ : আপনি যদি তাজা স্যালমন পান তবে আপনার ডায়েটে এটি যোগ করা উচিত। এটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড বা ইএফএ সমৃদ্ধ যা একটি মহাখাদ্য বলে মনে করা হয় এবং বুকের দুধ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এটা দুধকে আরও পুষ্টিকর করে তোলে। আপনি বিভিন্ন উপায়ে সালমন মাছ খেতে পারেন- সিদ্ধ করা, গ্রিল করা, বা প্যানে ভেজে।

১৬. করলা : এই সবজির উচ্চ মানের পুষ্টিগুণ আছে। এটিতে প্রচুর জল থাকে। যা মাকে হাইড্রেটেড রাখে। এটি সহজপাচ্য এবং স্তন্যদুগ্ধের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম। যদিও অনেকেই করলার স্বাদ পছন্দ করেন না তথাপি আপনি এর জন্য কোনো সুস্বাদু উপায় খুঁজে বের করতেই পারেন।

১৭. মিষ্টি আলু : মিষ্টি আলু কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ যা মাকে শক্তি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভিটামিন–সি, বি–কমপ্লেক্স, এবং ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ। আপনি মিষ্টি আলু বিভিন্ন উপায়ে রান্না করতে পারেন যেমন মশলাদার এবং মিষ্টি খাবার।

১৮. কাজুবাদাম : এই মহাখাদ্য ভিটামিন ই এবং ওমেগা-৩-তে সমৃদ্ধ। তারসঙ্গে কাজুবাদামের পুষ্টিগুণ; যাতে পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাট উপস্থিত থাকে, এই বাদামগুলোকে মহাখাদ্যে পরিণত করে। দুধের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য আপনি কাজুবাদাম কাঁচা খেতে পারেন বা এর পরিপূরকও খেতে পারেন। বিশ্বের অনেক অংশে, বাদামগুলোকে প্রচুর স্বাস্থ্যকর সুবিধার কারণে সবচেয়ে ভাল খাবার বলে মনে করা হয়, তাই মায়েদের পরিচর্যার জন্য ডাক্তারেরা কাজুবাদাম খাওয়ার পরামর্শ দেন।

১৯. শুলফা বীজ : আপনি যদি স্বাভাবিকভাবে বাড়িতেই দ্রুত বুকের দুধ বাড়ানোর কথা ভাবেন, তবে উত্তরটি হলো শুলফা বীজ। এই উপাদানটি ম্যাগনেসিয়াম, লোহা এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ হয়, এটি যে কোনও খাবারের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য আদর্শ যেখানে বুকের দুধ উৎপাদনকে লক্ষ্য করা হয়।

২০. পানি : বুকের দুধ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কী খাওয়া উচিত তা বিবেচনা করার সময়, লোকেরা প্রায়ই পানিকে উপেক্ষা করে। দুধ উৎপাদন উন্নত করার জন্য সঠিকভাবে হাইড্রেটিং অপরিহার্য, তাই সারাদিনজুড়ে প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়ার কথা মনে রাখবেন।

২১. সজনে ডাটা : লৌহ এবং ক্যালসিয়ামে সমৃদ্ধ উচ্চমানের সবজি, সজনে ডাটা গর্ভাবস্থায় দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পরিচিত, দুপুরের খাবারের সময় বা প্রাতরাশের সময় এই উদ্ভিজ্জ যথেষ্ট পরিমাণে খেলে যথেষ্ট দুধ উৎপাদন নিশ্চিত করতে আপনাকে সহায়তা করতে পারে।

২২. দুধ : দুধ, বিশেষ করে গরুর দুধ ফোলিক এসিড, ক্যালসিয়াম এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট দিয়ে ভর্তি থাকে, এটি কেবল দুধের উৎপাদনেই সহায়তা করে তা নয়, এরসঙ্গে দুধকে আপনার শিশুর জন্য সুষমভাবে পুষ্টিকর করে তোলে। বুকের দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য আপনাকে দিনের মধ্যে দু’বার এক গ্লাস করে দুধ পান করা নিশ্চিত করতে হবে।

২৩. ছোলা : ছোলা প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ এবং নিজেই একটি দারুণ খাদ্য এবং এটি যেকারোর জন্যই স্বাস্থ্যকর বলে মনে করা হয়। তবে ছোলাতে ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স এবং ক্যালসিয়াম থাকায় আপনার বুকের দুধের উৎপাদনকে বাড়িয়ে তোলে।

২৪. বীট : অন্যতম সেরা একটি পুষ্টিকর সবজি, বীট একটি রক্ত পরিশোধক, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর খনিজে সমৃদ্ধ যেগুলির মধ্যে সেইসব বৈশিষ্ট্য রয়েছে; যা দুধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, এছাড়াও বীট আপনার বুকের দুধে শিশুর রক্ত পরিশোধন বৈশিষ্ট্য থাকাও নিশ্চিত করে।

২৫. ডাল : প্রচুর পরিমাণে খনিজ, ভিটামিন এবং প্রোটিনের উপস্থিতির কারণে ডাল বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত একটি সাধারণ উপাদান, কিছু ডালে থাকা ডায়েটারি ফাইবার আপনার খাদ্যে যোগ করলে আপনি এমন একটি উপাদান পাবেন যা কেবলমাত্র স্বাস্থ্যকরই নয় সেটি বুকের দুধের উৎপাদন বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।

২৬. টোফু : টোফু খনিজ, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম এবং প্রচুর প্রোটিনযুক্ত একটি অসাধারণ খাদ্য। এটি সাধারণত বুকের দুধ বৃদ্ধি করতে পূর্ব এশিয়ায় ব্যবহৃত হয়। টফু, ডাল এবং সবুজ পাতাযুক্ত সবজির সঙ্গে নাড়াচাড়া করে আপনি একটি সুষম এবং স্তন্যদুধ বৃদ্ধিকারী খাদ্য পাবেন যা আপনাকে সুস্থ রাখে এবং অত্যন্ত স্বাস্থবান করে তোলে।

২৭. তরমুজ : তরমুজ ফ্রুকটোজ, ফাইবার, এবং অবশ্যই জল দিয়ে সমৃদ্ধ হয়। এটি আপনাকে হাইড্রেটেড রাখে, অপরিহার্য খনিজগুলি দিয়ে আপনার শরীরকে ভর্তি করে এবং স্তন্যদুধের সরবরাহ বজায় রাখতে বা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। জলপান করে সঠিকভাবে হাইড্রেটেড থেকে এবং তরমুজের মতো খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ খাবার খেয়ে মায়েরা বুকের দুধ উৎপাদনের সমস্যাগুলির সঙ্গে লড়াই করতে পারবেন।

২৮. সবুজ চা : সবুজ চা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খনিজগুলি দ্বারা পূর্ণ যা শরীরকে শিথিল করতে সাহায্য করে, প্রতিদিন এক গ্লাস সবুজ চা পান করলে আপনার সিস্টেমকে পরিশুদ্ধ করবে, এটি রক্ত সঞ্চালন এবং কোলেস্টেরল ঠিক রাখতেও সাহায্য করবে এবং কিছুদেশে মনে করা হয় যে এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বুকের দুধ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

২৯. আঙুর : পৃথিবীর কিছু অংশে আঙুরকে একটি মেগা ফল হিসাবে বিবেচনা করা হয়, এটি ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ, সিট্রিক এসিড, ফ্রুকটোজ এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য ফাইবার সমৃদ্ধ। বুকের দুধ পান করাচ্ছেন, বিশেষত স্তন্যদুগ্ধ বৃদ্ধি করার প্রয়োজন আছে এমন মায়েদের খাদ্যতালিকায় এই ফলটি অন্তর্ভুক্ত করা খুবই স্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়।

৩০. কারি পাতা : ভারতীয় উপমহাদেশে কারি পাতা একটি খুব রুচিকর বলে মনে করা হয়, কারণ এই সুস্বাদু পাতাটি মেলানিনকে বাড়িয়ে তুলতে, রক্ত সঞ্চালনের উন্নতি ঘটাতে সহায়তা করে এবং আপনার শরীরে পুষ্টি আত্তীকরণের ক্ষমতা বাড়ায়, সেগুলিতে এমন খনিজও রয়েছে যেগুলি মায়েদের পরিচর্যায় তাঁদেরকে বুকের দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করতে পারে।

এ বিষয়ক : সকালেই উঠুন ঘুম থেকে

নগর-বন্দরে বাইকে নারী

ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন আর সুন্দর থাকুন

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ শুরুর দিনে আপোষেই নিষ্পত্তি ৪৭ মামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; সুনামগঞ্জ : আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ শুরুর দিনে (২৫ নভেম্বর) সুনামগঞ্জে নজির গড়লো নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

এরই অংশ হিসেবে কাউকে কারাগারে না পাঠিয়েই একদিনেই ৪৭টি নারী নির্যাতন মামলার রায় দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক জাকির হোসেন বুধবার (২৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টা থেকে মামলার বাদি-বিবাদিদের উপস্থিতিতে এসব রায় দেন।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ আপোষ মীমাংসায় ও বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে আদালতের বিচারক, আইনজীবী ও মামলার বাদি-বিবাদির সঙ্গে কথা বলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সংসার পালন, যৌতুক দাবি না করা, অত্যাচার-নির্যাতন না করা, পারিবারিক পরিবেশে আলোচনার মাধ্যমে সংসারে বিরোধ মেটানোসহ পৃথক ছয় শর্তে এসব মামলা আপোষ নিষ্পত্তি হয় বলে ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে।

যুগান্তকারী এসব রায়ে ৪৭টি মামলায় জড়িত মোট ৯৪টি পরিবার মামলা থেকে পরিত্রাণ পেলো।

এতে পরিবারগুলোর শিশু-কিশোর ফিরে পাচ্ছে তাঁদের মা-বাবার আদর।

মামলার অন্তত চারজন বাদি-বিবাদি বাংলা কাগজকে জানান, আপোষ মীমাংসার মাধ্যমে মামলা শেষে তাঁরা আবারও পরিবার পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করতে পারবেন।

আসামি পক্ষের এক আইনজীবী মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন- পারিবারিক বিরোধ আপোষ নিষ্পত্তি করতে জনগণকে ন্যায় বিচার ও পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি ফিরিয়ে দিতে এটি একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

‘মামলার বাদি-বিবাদিরা আদালতের রায় পেয়ে খুব সন্তুষ্ট হয়েছেন।’

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের এক আইনজীবী নান্টু রায় বলেন, এটি আদালতের যুগান্তকারী রায়। রায় ঘোষণার ফলে স্বামী ফিরে পাবে স্ত্রী, শিশুরা ফিরে পাবে বাবা-মা।

‘রায় ঘোষণার পরপর মামলার বাদি-বিবাদিকে আদালতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।’

এ বিষয়ক : আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ শুরু