Category: ধর্ম

রাজাপুরে ১ হাজার পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রি বিতরণ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; রহিম রেজা, ঝালকাঠি : ঝালকাঠির রাজাপুরের কানুদাশকাঠি গ্রামের সামজসেবক ও শিক্ষানুরাগি এ কে এম মিজানুর রহমান তসলিমের ব্যক্তি উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে এলাকার ১ হাজার পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রি বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) সকালে নিজবাড়িতে আয়োজিত এ বিতরণি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার লাইজু, সামজসেবক ও শিক্ষানুরাগি এ কে এম মিজানুর রহমান তসলিম, রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাবের সভাপতি রহিম রেজা, সমাজসেবক প্রবাসি আলহাজ জসিম উদ্দিন খান, মাসুম খান, সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মনির হোসেন ও হেমায়েত ইসলাম এবং ক্যাডেট মাদ্রাসার পরিচালক রফিকুল ইসলাম।

উপজেলার কানুদাসকাঠি গ্রামের মরহুম আবদুল গফুর খানের সন্তান সৌদি প্রবাসি এ কে এম মিজানুর রহমান তসলিম বাংলাকাগজকে বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে সব সময় পাশে থেকে সাধ্যমত সহযোগিতা করে আসছি।

এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও এলাকার ১ হাজার মানুষের মাঝে মুড়ি, ছোলা, চিড়া, চিনি, খেজুর ও ট্যাংসহ ইফতার সামগ্রির প্যাকেট বিতরণ করেছি। এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

রমজানে পেঁয়াজ-তেল-চিনিসহ ৬ পণ্যের দাম নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ছয়টি পণ্যের যৌক্তিক খুচরা দাম নির্ধারণ করেছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। দাম বেঁধে দেওয়া পণ্যগুলো হলো- ছোলা, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, চিনি ও খেজুর।

নির্ধারিত দামে এসব পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করতে কাজ করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধিন সংস্থাগুলো।

সোমবার (১২ এপ্রিল) কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ি ও সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে পণ্যের চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছে। এই চাহিদার বিপরীতে দেশের উৎপাদন, আমদানির পরিমাণ আমদানির মূল্য বিবেচনা করে যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাজার মনিটরিংয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ মাঠে থাকবে ৩ মন্ত্রণালয় ও ৩টি সেবা প্রতিষ্ঠান। একইসঙ্গে রোজার বাজার নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। ঢাকায় ২৮টি মনিটরিং দলও কাজ করবে।

নতুন বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ি, খুচরা বাজারে ছোলা কেজিপ্রতি ৬৩ থেকে ৬৭ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা, ভোজ্যতেলের এক লিটারের বোতল ১৩৯ টাকা, পাঁচ লিটারের বোতল ৬৬০ টাকা, মোটা দানার মসুর ডাল ৬৭-৬৯ টাকা এবং সরু দানার ডাল ৯৭ থেকে ১০৩ টাকায় বিক্রি হবে। আর চিনির খুচরামূল্য কেজিপ্রতি ৬৭ থেকে ৬৮ টাকায় কিনতে পারবেন ক্রেতারা।

সাধারণ মানের খেজুর কেজিপ্রতি ৮০-১০০ এবং মধ্যম মানের খেজুর ২০০-২৫০ টাকার বেশি হতে পারবে না।

এর আগে রাজধানির খামারবাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, আসন্ন রমজানে বাজারে চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে। সবাই মিলে আমরা মনিটরিং করে যে দামটা নির্ধারণ করা হয়েছে, সে দামে যাতে বিক্রি করা হয় সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো ঢাকা শহরে ৩০টির উপরে মোবাইল টিম কাজ করেছে। যদি আমরা দেখতে পাই, কোনও অসাধু ব্যবসায়ি বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করে, সেক্ষেত্রে আমরা আরও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করবো।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ি, রমজান মাসে প্রায় ৮০ হাজার মেট্রিকটন ছোলা, ৩ লাখ টন পেঁয়াজ, ২ লাখ টন ভোজ্যতেল, ৮০ হাজার টন মসুর ডাল, ১ লাখ ৩৬ হাজার টন চিনি ও ৪০ থেকে ৫০ হাজার টন খেজুরের চাহিদা রয়েছে।

মামুনুলের নারিকাণ্ড : এবার জান্নাত আরার সঙ্গে তাঁর ছেলের ফোনালাপ ফাঁস (অডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : অপরাধ যেনো এবার ভালোভাবেই আকড়ে ধরেছে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ফাঁস হয়েছে মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা ওই নারি জান্নাত আরা এবং তার ছেলের মুঠোফোনের কথোপকথন।

বাংলা কাগজ’র পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো : https://fb.watch/4GNX9YgD9R/

মামুনুলের নারিকাণ্ড : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২ ভিডিওতে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের নারিকাণ্ডের ঘটনায় তার রুহানি ছেলে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি এবং মামুনুল হকের সঙ্গে রয়েল রিসোর্টে সেদিন অবস্থান করা জান্নাত আরা’র ছেলে পরিচয় দেওয়া আরও এক ব্যক্তি নিয়ে মোট ২ ব্যক্তির ভিডিওতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তোলপাড় চলছে। বাংলা কাগজ পাঠকদের জন্য এ ভিডিও দুটোর লিঙ্ক দেওয়া হলো :

জান্নাত আরা’র ছেলে পরিচয় দিয়ে বক্তব্য :

https://www.facebook.com/100008878458593/videos/2586149265024330

মামুনুল হকের ‘রুহানি ছেলে’ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির বক্তব্য :

https://www.facebook.com/watch/?ref=search&v=177308594225634&external_log_id=7285cc85-f715-4a43-b3c5-ce832646ec00&q=%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B2%20%E0%A6%B9%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%20%E0%A6%9B%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87

ফেসবুক লাইভে গিয়ে মামুনুল প্রসঙ্গে সংবাদকর্মিদের বিষোদগার করা সেই পুলিশ সদস্য সাসপেন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকার একটি রিসোর্টে হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের নারিকাণ্ডে ফেসবুক লাইভে গিয়ে মামুনুল হকের পক্ষ নিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা পুলিশ সদস্য গোলাম রাব্বানীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

এএসআই পদবির এই পুলিশ সদস্য কুষ্টিয়ার ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত ছিলেন। এমন অপেশাদার বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর রবিবারই (৪ এপ্রিল) তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন।

জানতে চাইলে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. মুহিদ উদ্দিন বাংলা কাগজকে বলেন, গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে এরইমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রত্যাহার করে তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। পেশার বাইরে গিয়ে কেনো অপেশাদার আচরণ করেছেন- এটা জানতে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার ও ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

এএসআই গোলাম রাব্বানীর গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর। পার্বতীপুর আদর্শ ডিগ্রি কলেজে তিনি পড়াশোনা করেন। যখন মামুনুল হকের গুণকীর্তন করছিলেন, তখনও তিনি পুলিশের পোশাক পরিহিত ছিলেন। তিনি এ সময় মিডিয়া ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন।

আমেনা তাইয়্যেবা মামুনুলের প্রথম স্ত্রীর নাম, হোটেল বুকিংয়েও লিখেছিলেন তাই!

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্টের কক্ষ ভাড়ার সময় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক রেজিস্টারে নিজের নাম-ঠিকানা সঠিক লিখলেও তার সঙ্গীনির নাম লুকিয়েছেন।

মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা সেই নারির নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা হলেও মামুনুল রিসোর্টের নথিতে তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন আমেনা তাইয়্যেবা।

জানা গেছে, আমেনা তাইয়্যেবা মামুনুল হকের প্রথম স্ত্রীর নাম। তিনি ৪ সন্তানের জননি।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুনতে পেরেছি তার (মামুনুল) আসল স্ত্রীর নাম আমেনা তাইয়্যেবা। বিষয়টির তদন্ত করছি। ’

শনিবার (৩ এপ্রিল) দুপুর দুইটার দিকে সাদা রঙের একটি গাড়ি নিজেই চালিয়ে রিসোর্টটিতে যান মামুনুল। ভাড়া করেন এক্সিকিউটিভ ডিলাক্স (সেমি সুইট) কক্ষ। এই কক্ষগুলোর ভাড়া এমনিতে ১০ হাজার টাকা। সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আর ১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ যুক্ত হয়। তবে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ ডিসকাউন্ট করে মামুনুল হককে ৮ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়।

রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ বকুল বলেন, অভ্যর্থনার কর্মিরা মামুনুলের কাছে তার সঙ্গীনির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেছেন তার স্ত্রী, নাম আমেনা তাইয়্যেবা।

মামুনুল কক্ষ ভাড়া করার সময় নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিও জমা দেন।

হেফাজতের এই নেতা ১২ ঘণ্টার জন্য ভাড়া করেন ৫০১ নম্বর কক্ষটি। সেখানে এক ঘণ্টা অবস্থানের পর মামুনুল খাবারের অর্ডার করেন। এরপর সাড়ে পাঁচটার দিকে মামুনুলকে অবরুদ্ধ করেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় যুবকেরা মামুনুলকে ঘিরে যখন একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকেন, তখন তিনি ওই নারীর পরিচয় দেন আমেনা তাইয়্যেবা।

বলেন, তার শ্বশুরবাড়ি খুলনায়, শ্বশুরের নাম জাহিদুল ইসলাম। তবে তার এই বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে নারির বক্তব্য জানার পর। কারণ নারি নিজের নাম জানান জান্নাত আরা।

তাঁর বাবার নাম অলিউর রহমান এবং বাড়ি আলফাডাঙা, ফরিদপুর।

শনিবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে হেফাজত নেতা মামুনুল হক অন্য এক নারিসহ অবস্থান করছেন এমন খবর পেয়ে স্থানীয় জনতা তাঁর কক্ষটি ঘেরাও করেন। এ সময় গণমাধ্যমকর্মিসহ সাধারণ মানুষের নানান প্রশ্নের মুখে প্রশ্নবিদ্ধ হন মামুনুল হক।

তখন মামুনুল হক জান্নাত আরাকে আমেনা তাইয়্যেবা পরিচয় দিয়ে বলেন যে ওই নারি তার স্ত্রী। কিন্তু এখন পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসছে আমেনা তাইয়্যেবা মামুনুল হকের প্রথম স্ত্রীর নাম।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী : নষ্ট এবং ভণ্ড নেতৃত্ব বর্জন করুন

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : নষ্ট এবং ভণ্ড নেতৃত্ব বর্জন করতে মাদরাসা শিক্ষক-শিক্ষার্থিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ।

তিনি রবিবার (৪ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ক্যাবল অপারেটর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পূর্বে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।

ড. হাছান বলেন, ‘মামুনুল হকসহ যে সমস্ত নেতৃবৃন্দ দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাণ্ডব চালিয়েছে এবং হেফাজতে ইসলামের যে নেতারা তাদের সমর্থন করেন, তাদের কেমন লাগছে জানি না, কিন্তু মামুনুল হককে নিয়ে গতকালের (শনিবার : ৩ এপ্রিল) ঘটনাপ্রবাহে আমার প্রচণ্ড লজ্জা লাগছে।’

‘আমি দেশের নাগরিক এবং একজন মুসলমান হিসেবে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থিদের অনুরোধ জানাবো, নিজেকে আলেম হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভণ্ড লেবাস ধরে যারা ইসলামকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে, নানা ফতোয়া দেয়, গরম গরম বক্তৃতা দেয়, আর নিজের জীবন ইসলাম সম্মতভাবে পরিচালনা করে না, সেই সমস্ত নষ্ট এবং ভণ্ড নেতৃত্বকে বর্জন করার জন্য।’

ড. হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, ‘যখন হেফাজতের ব্যানারে মানুষের ঘর-বাড়ি জ্বালানো হচ্ছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম-নারায়ণগঞ্জে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে, তখন নিপুন রায় যখন টেলিফোন করে তার কর্মিকে বাসে আগুন দিতে বলে আর গয়েশ্বর রায় সেটাকে সমর্থন দেন তখন বুঝতে হবে, এটা ইসলামকে রক্ষা বা হেফাজতের জন্য নয়, নরেন্দ্র মোদির আগমনের বিষয়েও নয়, বরং ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ হাসিলের জন্য দেশে একটি বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্যই এসব।’

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ এ সময় ক্যাবল নেটওয়ার্ক পরিচালনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘দেশ ডিজিটাল হয়ে গেছে, ক্যাবল নেটওয়ার্ক সিস্টেমকেও ডিজিটাল হতে হবে। কারণ এটি না হলে, গ্রাহকরা ঠিক সেবা পাচ্ছে না, টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সরকারও ঠিক রাজস্ব পাচ্ছে না।’

‘বিশেষ কিছু ব্যক্তিবর্গের হাতে এই নেটওয়ার্ক কুক্ষিগত থাকতে পারে না।’

‘দেখা গেছে একেকজন কেবল নেটওয়ার্ক লাইসেন্সধারি লাখ লাখ সংযোগ দিয়েছেন, কিন্তু হিসেবের খাতায় দু-দশ হাজার দেখাচ্ছেন। মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করবে, যিনি যে এলাকার জন্য লাইসেন্স পেয়েছেন, সেই এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেন, সেজন্য প্রয়োজনে আমরা কোর্ট পরিচালনা করবো।’

নবায়ন না করার ফলে ইতোমধ্যেই ১২শ’ লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে আত্মপ্রকাশের শর্তে নতুন অপারেটররা লাইসেন্স পাবেন।’

অ্যাসোসিয়েশন অব টিভি চ্যানেল ওনার্স-এটকো’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মোজাম্মেল বাবু, ক্যাবল অপারেটর প্রতিনিধিদের মধ্যে এস এম আনোয়ার পারভেজ, এ বি এম সাইফুল হোসেন, মোহাম্মদ নাজমুদ্দোহা, মোস্তাফিজুর রহমান, কোয়াব প্রশাসক মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার এবং মন্ত্রণালয় ও বিটিভি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রথমবার সাধারণ ছুটিতেও আমাদের মন্ত্রণালয় কাজ করেছে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, তথ্য অধিদপ্তর, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, এগুলো জরুরি সেবার আওতাভুক্ত।

তাদেরকে কাজ করতেই হয় এবং সেটি দেখভাল করার জন্য মন্ত্রণালয়ের সীমিত কাজ করতে হয়। আমরা ঠিক অতীতে যেভাবে করেছি, সেভাবেই করবো। করোনার শুরু থেকেই আমরা যেভাবে জনগণকে সচেতন করার জন্য যে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করেছি, সেটি আরও জোরদার করার ব্যবস্থা নিয়েছি।

ড. হাছান মাহ্‌মুদ এদিন সদ্যপ্রয়াত সংসদ সদস্য আসলামুল হক এবং শনিবার (৩ এপ্রিল) প্রয়াত সাবেক প্রধান তথ্য অফিসার বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন-উর-রশীদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন।

অস্ত্রসহ ঘােড়ায় চড়ে পিকেটিং করা সেই যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : নরসিংদীর ভেলানগরে হরতাল কর্মসূচিতে মধ্যযুগীয় কায়দায় দেশীয় অস্ত্রসহ ঘােড়ায় চড়ে উসকানিমূলক স্লোগান ও যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি তথা পিকেটিং করা সেই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

গ্রেপ্তার ওই যুবকের নাম মো. সৈকত হোসেন (২০)।

সে নরসিংদীর পলাশ থানার চালুয়ার চর গ্রামের মাে. দেলােয়ার হােসেনের পুত্র।

রবিবার (৪ এপ্রিল) রাতে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বাংলাকাগজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শনিবার (৩ এপ্রিল) র‍্যাব সদর দপ্তরের গােয়েন্দা দল এবং র‍্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির দুর্গম এলাকায় অভিযান চালিয়ে সৈকত হােসেনকে গ্রেপ্তার করে।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তি উদ্‌যাপনকালে একটি চক্র দেশের কয়েকটি জেলায় বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে।

গত ২৮ মার্চ নরসিংদীর ভেলানগরে মাে. সৈকত হােসেন (২০) নামে ওই যুবক মধ্যযুগীয় কায়দায় ঘােড়ায় চড়ে সামনে থেকে উসকানিমূলক স্লোগান দেয়, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ও উত্তেজনা ছড়ায়। সৈকত হােসেন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নাশকতা সৃষ্টিকারি দলের সঙ্গে যানবাহন চলাচলে জোরপূর্বক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়ায়।

এই ঘটনাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। এই প্রেক্ষিতে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি চালায়। এর ধারাবাহিকতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি জানান, জনমনে ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টি ও নাশকতা করার দায়ে গ্রেপ্তার সৈকতের বিরুদ্ধে নরসিংদী মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

মামুনুল হকসহ ৫৪ হেফাজত নেতার ব্যাংক হিসাব তলব

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিবিরোধি আন্দোলনের পর তাদের ব্যাংক হিসাবে কী পরিমাণ অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে, তা দেখতে বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) তাদের হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

যাদের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী, মহাসচিব নূর হুসাইন কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মুহাম্মদ মামুনুল হক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মুহাম্মদ মাহফুজুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, মহাসচিব সৈয়দ ফয়জুল করীম, আল-হাইয়্যাতুল উলয়াও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি মাহমুদুল হাসান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ।

পরের বৌ নিয়ে মামুনুলের রিসোর্টে অবস্থানের পরও অবরুদ্ধের ঘটনায় মুন্সীগঞ্জে সাধারণ মানুষের জিনিসপত্রে অগ্নিসংযোগ করেছে হেফাজতের কর্মিরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; এম এ কাইয়ুম, মুন্সীগঞ্জ : নারিসহ হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় দোকানপাট ভাঙচুর ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছে হেফাজতে ইসলামের কর্মিরা। তাঁরা এ সময় মোটরসাইকেলসহ সাধারণ মানুষের জিনিসপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শি ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৩ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জামালদী বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় মিছিল, তাকবির ও সহিংস আগুন জ্বালিয়ে বেশ কয়েকটি যানবাহনসহ দোকানঘর ভাঙচুর ও মহাসড়ক অবরোধ করে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মিরা।

এ সময় মহাসড়কে চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক গজারিয়া থানার পুলিশ এসে নাশকতা কঠোর হস্তে দমনের সঙ্গে পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপারেশন) মোক্তার হোসেন বাংলা কাগজকে বলেন, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্টে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হককে অবরুদ্ধের ঘটনায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সক্রিয় হেফাজতে ইসলামের কর্মিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে সোনারগাঁও বিক্ষোভ যাত্রায় উদ্দেশে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের জামালদী বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হতে শুরু করে।

‘এক পর্যায়ে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও ভাঙচুর শুরু করে।’

‘সোনারগাঁওয়ের মুখি যাত্রাকালে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

শনিবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে শহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বৌ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে ধরা পড়েন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক।

মামুনুল নাম বললেন একটা আর ওই নারি নিজের নাম জানালেন অন্যটা (ভিডিও)

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে নারিসহ অবরুদ্ধ হওয়ার পর হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক সংশ্লিষ্ট নারির যে নাম বলেছেন, তার সঙ্গে ওই নারির বলা নামের কোনও মিলই নেই। পাশাপাশি মামুনুল হক প্রদত্ত ওই নারির ঠিকানার সঙ্গে নারি প্রদত্ত ঠিকানারও কোনও মিল নেই। এ সংক্রান্ত ভিডিও রয়েছে বাংলা কাগজ’র হাতে।

ভিডিওতে দেখা যায় মামুনুল হক বলেছেন, ওই নারির নাম আমিনা তাইয়্যেবা। অপরদিকে ওই নারি তাঁর নাম বলেছেন, জান্নাত আরা।

মামুনুল হক তার শ্বশুরের নাম বলেছেন জাহিদুল ইসলাম এবং শ্বশুরবাড়ি খুলনা।

আর ওই নারি বলেছেন, তাঁর বাবার নাম অলিউর রহমান, বাড়ি আলফাডাঙা, ফরিদপুর।