Category: জাতীয় সংসদ, সচিবালয় ও অন্যান্য অফিস

নিজেই বাইক চালিয়ে সচিবালয়ে মাশরাফি

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ক্রিকেটের পাশাপাশি মোটরসাইকেল প্রীতি রয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজার।

২২ গজের পাশাপাশি সময়-সুযোগ পেলে রাস্তায়ও ঝড় তুলেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটে অনিয়মিত মাশরাফি। তারমধ্যে নড়াইল-২ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ায় তার কাঁধে দায়িত্বও বেড়েছে ঢের।

আবার রাজধানীতে যখন জ্যাম নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার; তখন ঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হিমশিম খেতে হয় সাধারণ কর্মজীবি মানুষদের।

এবার সেই সাধারণ মানুষদের কাতারে দেখা গেলো মাশরাফিকে। কোনও প্রকার ‘ভিআইপি সুবিধা না নিয়ে’ মোটরসাইকেলে চড়ে সচিবালয়ে গেলেন দেশের ক্রিকেটের অন্যতম নায়ক।

কমলা রঙের পাঞ্জাবি, কালো হেলমেট পরে জ্যামের মধ্যে বাইকের ড্রাইভিং সিটে বসা মাশরাফির ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাঁর সঙ্গে বসা ছিলেন আরও একজন।

জ্যামের মধ্যে বাইকে বসে যেন অপেক্ষার প্রহর গুণছেন দু’জনে, তবুও গিয়েছেন গন্তব্যে।

মাশরাফির ছোট ভাই মোরসালিন মুর্তজা দু’টি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘নড়াইলের উন্নয়নের জন্য সচিবালায়ের উদ্দেশে। চেনা যায়?’

সোমবার (২২ মার্চ) বাইক চালিয়ে সচিবালয়ে যান মাশরাফি।

সুবর্ণা মুস্তাফা : ভ্যাকসিন তো লেবেনচুস না, বাসায় রেখে একটা করে খাবে

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে। ভ্যাকসিন নিয়ে দেশের কিছু মানুষ নেতিবাচক কথাও বলছে। তাদের উদ্দেশে অভিনয়শিল্পী ও সাংসদ সুবর্ণা মুস্তাফা বললেন, ‘কিছু মানুষ আছে সব ব্যাপারে বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ করবেই। তাদের নিয়ে বলার কিছু নেই। সরকার প্রচুর টাকা দিয়ে এ দেশের জনগণের জন্য ভ্যাকসিন এনেছে। এগুলো তো লেবেনচুস না, বাসায় রেখে দেবে। পরে একটা একটা খাবে। ভ্যাকসিনের একটা নির্দিষ্ট মেয়াদও থাকে।’

সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় সংসদ ভবন চত্বরে কোভিড ১৯ ভ্যাকসিন নিয়েছেন সুবর্ণা মুস্তাফা। সংসদ কর্মচারী ও মহিলা সাংসদদের জন্য এই ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে করা হয়েছে বলে জানালেন সুবর্ণা মুস্তাফা। সংসদ কর্মচারি ও নারী সাংসদদের জন্য যেহেতু সংসদ ভবন চত্বরে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, তাই সেখানে করোনার টিকা নিয়েছেন সুবর্ণা।

বাংলাদেশে করোনার টিকা দেওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যে ভয় কাজ করছে বলে শোনা যায়। বিষয়টি মনে করিয়ে দিতেই সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, এটা খুবই হাস্যকর। আমি মনে করি, এটার কোনও অর্থ হয় না। আমরা কিন্তু জন্মের পর টিকা নিয়েছিলাম।’

‘এর পর যদিও আর কোনও টিকা নেওয়া হয় নি। কিন্তু সারা পৃথিবীতে প্রতি বছর নানা ধরনের ফ্লু, নিউমোনিয়ার কারণে কোনও না কোনও ভ্যাকসিন মানুষ নিয়ে থাকে। ভ্যাকসিন তো রক্ষাকবচ। সারা পৃথিবীর সবাই কোভিড–১৯ ভ্যাকসিন নিচ্ছে। ভ্যাকসিন নিয়ে যারা নেতিবাচক কথা ছড়াচ্ছে, তারা জ্ঞানপাপী। তারাই এমন ভয় ছড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষকে বলতে চাই, এটা আপনাদের পছন্দ। আমরা শুধু বলতেই পারি, তুমি করোনার ভ্যাকসিন নাও। এরপরও যদি না নেয়, নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে, তাহলে তো কথা নেই।’

কিন্তু আপনি তো শুধু জনপ্রতিনিধি নন, সবার প্রিয় একজন অভিনয়শিল্পী। আপনাকে এ দেশের অনেকে অনুসরণ করে এবং আপনার কথায় অনেকে উৎসাহ ও অনুপ্রাণিত হয়। সেই অবস্থান থেকে কী বলবেন? এমন প্রশ্নে সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, ‘এটা একদমই মানুষের জন্যই আনা হয়েছে। স্তরে স্তরে এ দেশের সবাই ভ্যাকসিন পাবে। প্রথমে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, দেশের জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের। প্রধানমন্ত্রী আজ তা ৪০ বছর বয়সি নাগরিকদের জন্যও করে দিয়েছেন।’

দেশের বাইরে যারাই করোনার ভ্যাকসিন নিচ্ছে, একদম নিরিবিলি পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে। অনেক লোকজন, এমনকি উৎসবমুখর পরিবেশও বলছে। সাংসদ ও অভিনয়শিল্পী হিসেবে এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য শুনতে চাই। জবাবে সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, ‘আমার কিন্তু এটা উৎসবের মতো লাগে। করোনার ভ্যাকসিন নিতে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসবে, উদ্‌যাপন করবে—একটা ঘাতক ভাইরাস, যেটার এখনো কোনও ওষুধ বের হয় নি। বিজ্ঞানীদের নিরলস পরিশ্রম, দিন–রাত এক করে মানুষের মঙ্গলের জন্য কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিয়ে এল—এটা তো অবশ্যই উদ্‌যাপন করার বিষয়। বাংলাদেশের কিছু মানুষ আছে সব ব্যাপারে বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ করবে। হাসিমুখে ভ্যাকসিন নিলে এই মানুষেরা মন্তব্য করবে। কাঁদো কাঁদো চেহারায় নিলেও মন্তব্য করবে। হতে পারে, একজন মানুষ ইনজেকশন ভয় পায়। আমার একজন বন্ধু আছে, সিরিঞ্জ দেখলে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। তাকে ভ্যাকসিন দিতে নেওয়া হলে ৩-৪ জন সঙ্গে যেতে হবে। আমার কথা হচ্ছে, আমি হেসে নিচ্ছি না বসে নিচ্ছি, নাকি কেঁদে নিচ্ছি বা শুয়ে নিচ্ছি ভ্যাকসিন, দ্যট ইজ নট দ্য পয়েন্ট, দ্য পয়েন্ট ইজ ভ্যাকসিন অ্যাবয়লেবল। সবার ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত।’

সুনামগঞ্জে টিকা নিলেন ২ সাংসদ, জেলা-উপজেলা চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধারা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; কুলেন্দু শেখর দাস, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ জেলা হাসপাতাল থেকে করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মহিবুর রহমান মানিক, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ নুরুল হুদা মুকুট, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, বিএম’র সভাপতি ডা. আব্দুল হেমিক, মুক্তিযোদ্ধা মালেক হোসেন পীর, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. সৈকত দাসসহ সমাজের বিশিষ্টজনেরা।

রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় এসব টিকা দেওয়া হয়।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মো. শামস উদ্দিন, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াসমিন নাহার রুমা, হাসপাতালের আরএমও ডা. রফিকুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের উপপরিচালক ডা. মোজাম্মেল হক, সহকারি পরিচালক ডা. ননী ভূষন তালুকদার, জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক সীতেশ তালুকদার মঞ্জু, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি কর, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার মঞ্জুর আহমদ, সদস্য সবুজ কান্তি দাস ও নুরুল ইসলাম বজলু ,যুবলীগ নেতা পাভেল আহমদ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দিপঙ্কর কান্তি দে, রাজন মিয়া ও অমিয় মিত্র।

সকাল থেকে জেলা সদর হাসপাতালসহ ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনাভাইরাসে এ ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়ে চলে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

জেলা সদরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচ তলার বামপাশের কক্ষে শয্যা ও চেয়ার টেবিলসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ স্থাপন করে এ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সদর হাসপাতালের ৮টি বুথ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও ৩ দিন করে টিকা প্রদানের জন্য বুথ স্থাপন করা হয়েছে।

জেলার ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৩টি বুথ ও সদর হাসপাতালের ১০টি বুথে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিটি বুথে একজন করে টিকাদান কর্মির দায়িত্বে একজন চিকিৎসক, একজন জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স ও ৪ জন স্বেচ্ছাসেবক টিকা প্রদানকালীন দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া প্রতিটি টিকাদান কেন্দ্রে ২ জন টিকাদান কর্মি এবং ৪ জন করে স্বেচ্ছাসেবিও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

জরুরি কোনও সমস্যা দেখা দিলে কুইক রেসপন্স টিমের সদস্যরা সব ধরনের দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রতিটি বুথে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার, অক্সিমিটার, পাল্‌স মিটার, ইনজেকশন কার্সন ও ব্লাড প্রেশার মাপার যন্ত্রসহ প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল উপকরণ রাখা হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ টিকা প্রদানের জন্য ডাক্তার, নার্স, আয়া ও ব্রাদারসহ ফ্রন্টলাইনাদের টিকা প্রদানের তালিকা প্রস্তুত করেছে।

এ ছাড়া টিকা গ্রহণকারিদের সহযোগিতার জন্য এএফআই ম্যানেজমেন্ট সেন্টারও স্থাপন করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে সুরক্ষা অ্যাপস দিয়ে যে কেউ টিকা গ্রহণের জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন।

সংসদে পীর ফজলুর : সংকটে বিএনপি অন্যকে বলে ‘পেহেলি আপ’

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : জাতীয় পার্টির সাংসদ পীর ফজলুর রহমান বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক খাত বখে যাওয়া অবাধ্য সন্তানের মতো। এই খাতকে কোনোভাবেই সরল পথে আনা যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে পীর ফজলুর রহমান এ কথা বলেন।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনার পাশাপাশি বিএনপিরও সমালোচনা করেন বিরোধী দলের এই সাংসদ। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের টিকা আসার পর বিএনপি এখন বলছে, আওয়ামী লীগকে আগে টিকা নিতে হবে।

‘‘যেকোনও সংকটে বিএনপি অন্য দলকে এগিয়ে দিতে চায়। তখন তারা বলে, ‘পেহেলি আপ’। টিকা নিয়ে রাজনীতি ঠিক না।’’

জাতীয় পার্টির সাংসদ আরও বলেন, বিএনপিদলীয় একজন সদস্য গতকাল সোমবার (২৫ জানুয়ারি) বলেছেন, দেশে মানুষ খাদ্য পাচ্ছে না, অনাহারে আছে। কোথা থেকে বিএনপি এই তথ্য পেয়েছে, তিনি জানেন না। এটা মিথ্যা কথা। দেশে কোনো খাদ্যসংকট নেই। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়।

‘প্রধানমন্ত্রী অনেক কিছু করছেন, এসব দৃশ্যমান। কিন্তু অর্থনীতির সেক্টর অবাধ্য বখে যাওয়া সন্তানের মতো। তিনি বলেন, দুর্নীতি হলে সবার আগে রাজনীতিবিদদের কলুষিত করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তারা বেশি অর্থ পাচার করছেন। এটি খতিয়ে দেখা দরকার, কোন কোন কর্মকর্তা অর্থ পাচার করছেন।’

‘যারা পিপলস লিজিংয়ে টাকা রেখেছিলেন, তাঁরা দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। অন্যদিকে পি কে হালদারের বান্ধবীরা সুখে আছেন। পি কে হালদারের অনিয়মের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, যাঁরা তাঁর আশপাশে ছিলেন, তাঁদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর উদ্ধৃত করে জাতীয় পার্টির সাংসদ ফখরুল ইমাম বলেন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি আয়ের তথ্যে গরমিল রয়েছে। তাতে দেখা যায়, পাঁচ বছরে লাপাত্তা হয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকা। রাষ্ট্রের এই বিপুল অর্থ কোথায় আছে, আদৌ আছে কি না, তা জানেন না নীতিনির্ধারকেরা। বাংলাদেশ ব্যাংক আর ইপিবির রপ্তানি আয়ের এই গরমিলের টাকায় ছয়টি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা যাবে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, লুটেরা কারা? এরা কি দলে, সরকারে, না আশপাশে? এদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানতে চান।

ফখরুল ইমাম বলেন, দেশে সম্পদশালীদের সংখ্যা বেড়েছে। দেশে ধনীদের আয় যেভাবে বাড়ছে, দরিদ্রদের আয় সেভাবে বাড়ছে না। এর ফলে আয়–ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। দেশে বর্তমানে ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ দরিদ্র। প্রায় দুই কোটি অতিদরিদ্র।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে বিরোধী দলের এই সাংসদ বলেন, শেখ হাসিনা ব্যক্তিকেন্দ্রিক নন, বহুমাত্রিক।

সরকারি দলের সাংসদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া বলেন, সব সূচকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ভালো করেছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল।

জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ রওশন আরা মান্নান বলেন, পি কে হালদারকে বিদেশ থেকে ধরে এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক। না হলে ভবিষ্যতে উদাহরণ হয়ে থাকবে। অনেকে টাকাপয়সা নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাবে। এ ধরনের আরও কত পি কে হালদার আছে, দুদককে তা খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, ‘হলমার্কের এমডি কারাগারে বান্ধবীর সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। টাকা দিয়ে এগুলো ব্যবস্থা করেছে। এই টাকাগুলো নিজেদের হলেও নাহয় কথা ছিল। এসব টাকা ব্যাংকের, তারা বান্ধবীদের পেছনে খরচ করছে। এই দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।’

সরকারি দলের আরেক সাংসদ এ বি তাজুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি যে ভাষণ দিয়েছেন, তা উন্নয়নের দলিল। এই উন্নয়ন আপনা–আপনি হয়নি। নানা বাধাবিপত্তি পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই উন্নয়ন করেছেন।

সরকারি দলের সাংসদ আব্দুস সালাম মুর্শেদী শ্রমিকদের প্রণোদনার জন্য যে টাকা দেওয়া হয়েছে, তা পরিশোধে আরও ছয় মাস সময় দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে খুলনার অতীত ঐতিহ্য ফিরে আসবে। শিল্পনগরী হিসেবে ঘুরে দাঁড়াবে।

সরকারি দলের সাংসদ সাইফুজ্জামান বলেন, ভারত যে দামে করোনার টিকা পাচ্ছে, বাংলাদেশও একই দামে পাচ্ছে। অনেকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথ সবার আগে টিকা নিয়েছেন, এই তথ্য সঠিক নয়।

তিনি বলেন, পৌরসভা নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে দেখা যাচ্ছে, জনগণ বিএনপিকে ভোট দিতে চায় না। এ কারণে বিএনপি এখন উন্মাদের মতো আচরণ করছে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান, সরকারি দলের সাংসদ দবিরুল ইসলাম, শাহীদুজ্জামান, সংরক্ষিত আসনের আদিবা আনজুম ও মমতা হেনা প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশে সংসদে বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : পরীক্ষা না নিয়ে ফল প্রকাশের জন্য সংসদে বিল পাস হয়েছে। এতে গত বছরের এইচএসসির ফল প্রকাশের বাধা দূর হলো, যার অপেক্ষায় আছে দেশের পৌনে ১৪ লাখ শিক্ষার্থী।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি রোববার (২৪ জানুয়ারি) সংসদে ‘ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১’ পাসের প্রস্তাব করেন।

পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনি প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

‘বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১’ এবং ‘বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১’ সংসদে পাস হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি গত ১৯ জানুয়ারি সংসদে বিল ৩টি তোলার সময় বলেছিলেন, শিক্ষার্থীদের ফলাফল ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে, বিল পাস হলেই তা দ্রুত প্রকাশ করা যাবে।

ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর এই শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায়ের বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে।

দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাসস : রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে দল-মতের পার্থক্য ভুলে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতীয় সংসদে বছরের প্রথম অধিবেশনে ভাষণে তিনি বলেন, দেশ ও জাতির অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও সুশাসন সুসংহতকরণ, গণতন্ত্র চর্চা ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারের নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।

‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে দেশ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের লক্ষ্যে আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আসুন, দল-মত-পথের পার্থক্য ভুলে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আমরা লাখো শহিদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি।’

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) একাদশ জাতীয় সংসদের একাদশ অধিবেশনের প্রথমদিনে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

জাতীয় সংসদকে দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু উল্লেখ করে ‘সাংবিধানিক নিয়ম রক্ষার’ ভাষণে আবদুল হামিদ বলেন, গণতন্ত্রায়ন, সুশাসন ও নিরবচ্ছিন্ন আর্থসামাজিক উন্নয়নে সকল রাজনৈতিক দল, শ্রেণি ও পেশা নির্বিশেষে ঐকমত্য গড়ে তোলার সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে তিনি সরকারি দল ও বিরোধি দল নির্বিশেষে মহান জাতীয় সংসদে যথাযথ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

সংবিধান অনুযায়ি প্রতি বছরের প্রথম অধিবেশনে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছ। আর এ অধিবেশন ২০২১ সালের প্রথম অধিবেশন এবং একাদশ জাতীয় সংসদের একাদশ অধিবেশন। সে হিসেবে রাষ্ট্রপতি আজ সংসদে ভাষণ দেন। নিয়ম অনুযায়ি এ ভাষণে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারের অধিবেশন মোটামুটি সংক্ষিপ্ত হবে। ফলে আলোচনাও সংক্ষিপ্ত আকারে হওয়ার কথা রয়েছে।

ভাষণে তিনি বলেন, শত বাধা বিঘ্ন আর প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে সরকার দেশের উন্নয়ন, সুসাশন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ভাষণদানকালে রাষ্ট্রপতি অর্থনীতি, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, খাদ্য-কৃষি, পরিবেশ-জলবায়ু, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের কার্যক্রম ও সাফল্য তুলে ধরেন।

এ ছাড়া দেশে আইনের শাসন সুসংহত ও সমুন্নত রাখা এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ২৪টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ২০২০ সালে উন্নয়ন খাতে প্রায় ১ হাজার ৫৩২ কিলোমিটার মহাসড়ক মজবুতিকরণসহ প্রায় ১ হাজার ৪১৬ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্তকরণ, ৮৫টি সেতু ও ৭৫২টি কালভার্ট নির্মাণ ও পুননির্মাণ করা হয়েছে।

‘‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে নিজস্ব অর্থায়নে ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু’র দুই প্রান্তের মাওয়া ও জাজিরা সংযোগকারী সর্বশেষ ৪১তম স্প্যান স্থাপন করার মাধ্যমে সেতুর ছয় দশমিক এক-পাঁচ কিলোমিটার মূল অবকাঠামো দৃশ্যমান হয়েছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ জুলাই ২০২২ সাল নাগাদ সমাপ্ত হবে। এর ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের সমম্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।’’

‘কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ৩ দশমিক তিন-দুই কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বহু লেন বিশিষ্ট টানেলের নির্মাণকাজ ডিসেম্বর ২০২২ সাল নাগাদ সম্পন্ন হবে। ইতোমধ্যে টানেলের ১ম টিউবের নির্মাণ শেষে গত ১২ ডিসেম্বর ২০২০ থেকে ২য় টিউবের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।’

‘ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে ১১টি রুটের ২৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবওয়ে নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ২০২১ সালের জুন নাগাদ সমাপ্ত হবে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বালিয়াপুর হতে নিমতলী-কেরানীগঞ্জ-ফতুল্লা-বন্দর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত ৩৯ দশমিক দুই-চার কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া করোনা মহামারি পরিস্থিতিতেও রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।’

‘সরকার সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে সব ক্ষেত্রেই অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে। সম্প্রতি সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো সাফল্যের সাথে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ।’

বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাবে গোটা বিশ্বের ন্যায় আমাদের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পসহ অর্থনীতির সকল সেক্টরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১ দফা নির্দেশনাসহ ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে নানামুখী দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

শেখ হাসিনার দৃঢ়, প্রাজ্ঞ, দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সাহসী সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ করোনা পরিস্থিতি সাফল্যের সাথে মোকাবিলা করে এসব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোভিড-১৯ সংকট মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

আবদুল হামিদ বলেন, এর ধারাবাহিকতায় প্রথিতযশা সাময়িকী ‘ফোর্বস’ কর্তৃক প্রকাশিত বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সফল রাষ্ট্রনায়ক ও নারী নেতৃত্বের তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

‘কোভিড-১৯ জনিত প্যানডেমিকের সফল মোকাবিলা, অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন ও জীবনমান সচল রাখার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গ প্রণীত ‘কোভিড-১৯ সহনশীল র‌্যাংকিং’-এ বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ এবং বিশ্বে ২০তম স্থান অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে।’

এজন্য তিনি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

আবদুল হামিদ বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিকেলস লিমিটেড এবং ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট অব লাইফ সাইনসেস প্রাইভেট লিমিটেডের সাথে ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সরাসরি ক্রয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সিএমএসডি’র মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন ক্রয় বাবদ ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদান করা হয়।’

‘সরকার খুব শিগগিরই দেশের জনগণকে কোভিড-১৯-এর টিকা প্রদান করতে পারবে।’

আর্থিক খাত ব্যবস্থাপনায় সরকারের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপ্রধান হামিদ বলেন, ‘সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও উৎকর্ষ সাধন এবং প্রাজ্ঞ রাজস্ব নীতি ও সহায়ক মুদ্রানীতি অনুসরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।’

‘দেশের আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা রক্ষা, জনগণের আমানতকৃত অর্থের সুরক্ষা, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং আর্থিক লেনদেন সহজীকরণের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে বেকার যুবদের আত্মকর্মসংস্থান এবং বিদেশ থেকে প্রত্যাবর্তনকারীদের ঋণ সুবিধা প্রদানের জন্য সরকার কর্মসংস্থান ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনকে দুই হাজার কোটি টাকার তহবিল প্রদান করেছে।’

‘‘মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে দুই লক্ষ প্রশিক্ষিত বেকার যুবদের জন্য ‘বঙ্গবন্ধু যুব ঋণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাংক ঋণের সুদ হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।’’

গত এক দশকে গড়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ ও পর পর তিনবছর ৭ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমিক এক-পাঁচ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে তিনি ভাষণে উল্লেখ করেন।

‘বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির এ ধারাবাহিক অর্জন বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।’

‘‘আমরা আজ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দারপ্রান্তে। শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির যে পথে আমরা হাঁটছি, সে পথেই আমাদেরকে আরও এগিয়ে যেতে হবে। এ বছর মধ্য-আয়ের দেশ হিসাবে আমরা ‘স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তী’ পালন করবো।’’

রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় করোনাকালের স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারি ও বিরোধি দলের সংসদ সদস্যগণ অধিবেশনে অংশ নেন।

এর আগে আজ ৪টা ৫৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি অধিবেশনে প্রবেশ করেন। এ সময় নিয়ম অনুযায়ি জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। বিকেল ৫টা ৫৯ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করেন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের সাক্ষাৎ : রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবনে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এবং স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সোমবার (১৮ জানুয়ারি) ওই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ক : বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ, বাণি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

বিল পাস : ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে মাদক মামলার বিচার শেষ করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বিচারক স্বল্পতার কারণে মাদক মামলার বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান বাদ দিয়ে সংসদে পাস হয়েছে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল-২০২০’।

১৯ নভেম্বর তা জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশকৃত আকারে বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বিলটি পাসের আগে বিরোধি দলের কয়েকজন সদস্য জনমত যাছাইয়ের প্রস্তাব ও কিছু সংশোধনী আনার কথা বললেও সেগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

পাসকৃত বিলে বলা হয়েছে- এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতকে মামলা প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে।

‘কেউ আপিল করতে চাইলে রায় দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তা করতে হবে।’

বিলটিতে সংশোধনী আনার উদ্দেশ ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী বলেন- বিচারক স্বল্পতার কারণে ট্রাইব্যুনালে মাদক মামলার বিচার করা সম্ভব হয় নি। সেজন্য আদালত কর্তৃক বিশেষ আদালত গঠন প্রয়োজন। জজের স্থলে ম্যাজিস্ট্রেটরাই আদালত নির্দিষ্ট করতে পারবেন।

এর আগে গত ৮ নভেম্বর সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

ওইদিন তিনি এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা তুলে ধরে বলেছিলেন- প্রস্তাবিত আইনের অধীন অপরাধগুলো গুরুত্ব অনুযায়ী ‘এখতিয়ারসম্পন্ন’ আদালতে বিচার্য হবে।

সংশ্লিষ্ট দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর এখতিয়ারাধীন এলাকায় মাদক সংক্রান্ত অপরাধের বিচারের জন্য প্রয়োজনে এক বা একাধিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত নির্দিষ্ট করবেন। ফলে মাদক আইনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করা যাবে।

বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বলা হয়েছে- সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করবে এবং প্রত্যেক ট্রাইব্যুনালে অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে বিচারক নিয়োগ করা হবে।

কোনও জেলায় অতিরিক্ত জেলা জজ না থাকলে ওই জেলায় দায়রা জজ নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালন করবেন।

আর ট্রাইব্যুনাল স্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তি করবেন।

তবে প্রশাসনিক কারণে এখনও মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন বা জেলা বা দায়রা জজকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এই ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব দেওয়া হয় নি। ফলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অসংখ্য মামলা হলেও তা বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে, মামলার সংখ্যাও বাড়ছে।

এ বিষয়ক : সংসদে মাদরাসা বিল পাস

এক ব্যক্তির কোম্পানি সুনামগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও বছরে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিল পরিবর্তনে বিল পাস করলো সংসদ

এক ব্যক্তির কোম্পানি, সুনামগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও বছরে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিল পরিবর্তনে বিল পাস করলো সংসদ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বুধবার (১৮ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে এক ব্যক্তির কোম্পানি খোলার সুযোগ রেখে সংশোধিত বিল, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে বিল ও বছরে একাধিকবার বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্য পরিবর্তনের সুযোগ রেখে বিল পাস হয়েছে।

এক ব্যক্তির কোম্পানি : এক ব্যক্তির কোম্পানি খোলার সুযোগ রেখে সংসদে ‘কোম্পানি (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল- ২০২০’ পাস হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সংসদে বিলটি পাশের পাসের প্রস্তাব করলে সর্বসম্মতভাবে তা কণ্ঠ-ভোটে পাস হয়।

গত ৭ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে তোলার পর সেটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল।

কোম্পানি আইন অনুযায়ী এখন প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি পরিচালিত হয় পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে। এই পর্ষদ বা বোর্ডের পরিচালক ও চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।

নতুন বিলে আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ‘এক ব্যক্তির কোম্পানি’ হলো সেই কোম্পানি, যার বোর্ডে সদস্য থাকবেন কেবল একজন।

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল : বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে স্পিকার কর্তৃক দু’জন সাংসদ মনোনয়নের বিধান রেখে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল ২০২০ পাস করেছে জাতীয় সংসদ।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এই বিধানটি আইন সংযুক্ত করার প্রস্তাব করলে তা গৃহীত হয়। এর ফলে হাওর অঞ্চলের বহুল কাঙ্খিত সুনামগঞ্জে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণ হলো।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে বিলটি সংসদে স্থিরকৃত আকারে কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি পাস করার প্রস্তাব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

এর আগে বিলটির ওপর আনিত দশটি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়। তবে অন্য সংশোধনী বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়। গত ৭ সেপ্টেম্বর ‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২০’ সংসদে উত্থাপিত হয়।

গেলো ২ মার্চ বিলটি মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

বছরে একাধিকবার বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্য পরিবর্তনে বিল : বছরে একাধিকবার বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম পরিবর্তনের সুযোগ রেখে জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) বিল-২০২০ পাস হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতভাবে কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে, বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

এ বিষয়ক : শিক্ষামন্ত্রী : সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় রাজি

ইউজিসির মত : ক্লাস-পরীক্ষা নিতে পারবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

বাসে আগুন : এক ফোনালাপ সংসদে শোনালেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : উত্তরায় উপনির্বাচনের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে একটি ফোনালাপের রেকর্ড সংসদে শোনালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (১৬ নভেম্বর) সংসদে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদের বক্তব্যের পাল্টায় সরকার প্রধান ফোনালাপের রেকর্ডটি শুনিয়ে বলেন, বিএনপিই এই কাজ করে এখন আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) ঢাকা-১৮ আসনে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মোট ১০টি বাসে আগুন দেওয়া হয়।

বাস পোড়ানোর জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। অন্যদিকে বিএনপি নেতারা দাবি করেন, তাদের ফাঁদে ফেলতে ক্ষমতাসীনরাই বাস পুড়িয়েছে।

সোমবার (১৬ নভেম্বর) সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় বিএনপির হারুন এই প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলায় জাড়ানো হচ্ছে।

তিনি এই নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজতে সংসদীয় কমিটি গঠনের দাবি জানান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে। হারুন বলেন, ওই কমিটি গঠন হলে সাতদিনের মধ্যে জড়িতদের খুঁজে বের করা যাবে।

এরপর সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দাঁড়িয়ে তার মোবাইল ফোন থেকে এক ফোনালাপের রেকর্ড সবাইকে শোনান।

তাতে বাস পোড়ানোর ঘটনা নিয়ে এক ব্যক্তি ও এক নারীকে আলাপ করতে শোনা যায়। নারী কণ্ঠ বলছিলেন, ‘যুবদলের ছেলেরা’ বাসে আগুন দিয়েছে।

রেকর্ডটি শেষ হলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয়, উনি বিএনপির সংসদ সদস্য, আমার সামনের সিটেই উনাকে বসিয়েছি। বিভিন্ন সময় এমন এমন কথা উনি তোলেন। সবসময় আমরা উত্তরও দিই না।’

‘আজকে উনি যেভাবে কথাটা বললেন, উনার মনে হয় নিজেদের পার্টি সম্পর্কে তথ্যগুলো জেনে নিয়ে কথাগুলো বলা উচিত ছিল।’

আগুন দেওয়ায় জড়িতদের ছবিও পেয়েছেন বলে সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী।

‘এখন প্রযুক্তির কারণে সব জায়গায় সিসি ক্যামেরা আছে। হাতেনাতে ধরা পড়ে যাচ্ছে। কারা আগুন দিচ্ছে, ছবিও আছে আমার কাছে। সুযোগ থাকলে এখানে দেখাতে পারি। একটা মিছিল চলে যাওয়ার সাথে সাথে কটা লোক গিয়ে বাসে দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালিয়ে আগুন দিয়ে দিল। আমার কাছে ছবি আছে। রাস্তায় সিসি ক্যামেরা থেকে সেটা নেওয়া। নিজেরা আগুন-টাগুন দিয়ে পার্লামন্টে এসে সরকারের ওপর দোষারোপ চাপান। উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানো এটা তাদের অভ্যাস।’

নির্বাচনে কারচুপি নিয়ে বিএনপির অভিযোগের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আদৌ তারা নির্বাচন করে কি না? নির্বাচনে অংশ নেন। নমিনেশন নিচ্ছেন, যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের না কাজ, না প্রচার কিংবা নির্বাচনের দিনে কোথাও একটা এজেন্টও ঠিকমত দেবে না। কোনো কিছু করবে না।’

‘মাননীয় স্পিকার আপনি যদি প্রতিটি উপ-নির্বাচন দেখেন, একটা সময়ের পর তারা নির্বাচন থেকে প্রত্যাহার করেই অমনি বলে, ‘নির্বাচন ঠিক হচ্ছে না’। আসলে জনগণের সমর্থন তারা হারিয়েছে অনেক আগেই। ২০০১ সালে চক্রান্ত করে ক্ষমতায় আসার পর।’

‘তারপর থেকে যে সমস্ত ঘটনাগুলি ঘটিয়েছে, বিশেষ করে তাদের সন্ত্রাস, মানুষ খুন করা, নারী নির্যাতন থেকে শুরু করে এমন কোনো অপরাধ নাই ২০০১ সালে বিএনপি করে নাই। ১ অক্টোবর থেকে শুরু। হাজার হাজার মেয়েদের ওপর পাশবিক অত্যাচার, তারপর আসে অগ্নিসন্ত্রাস। জীবন্ত মানুষগুলোকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এটাই তাদের আন্দোলন। মানুষ খুন করা। আবার ঢাকার দুটো সিটে নির্বাচন। একটা সিটে যখন নির্বাচন হচ্ছে, তখন কয়েকটা বাসে আগুন দেওয়া। তারা নিজেরা আগুন দিয়ে দোষ দিচ্ছে এটা নাকি সরকারি এজেন্ট!’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আমরা ক্ষমতায় আছি। আমরা আগুন দিয়ে আমাদের সরকারের বদনামের ভাগীদার করব কেন? মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়াটা আমাদের দায়িত্ব।’

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গোড়ায় গলদ। ক্ষমতায় এসেছে জিয়াউর রহমান হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্র করে। প্রত্যেক ঘটনা যদি দেখেন। তার ক্ষমতা দখলটাই হচ্ছে খুনের মধ্য দিয়ে। যে দলটির সৃষ্টি করে গেছে তারা খুন-খারাবি, অস্ত্রের রাজনীতি এটাই ভালো বোঝে। সন্ত্রাসের রাজনীতিভালো বোঝে।’

‘বাংলাভাই সৃষ্টি করা থেকে শুরু করে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা, দুর্নীতি করা, অর্থ পাচার করা, নানা ধরনের অপকর্ম করে গেছে। কোনো কারণ নেই এভাবে বাসে আগুন দিয়ে পোড়ানোর। তারা করল কেন? নির্বাচনটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘হবে না কেন? দলের নেতা বানিয়েছে কাকে? খুনের মামলার আসামি, দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবার মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি, যে দেশ থেকে পলাতক, তাকে বানানো হলো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বাংলাদেশে বিএনপির এমন কোনো যোগ্য নেতা নেই যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হতে পারে। ফেরারি খুনের মামলার আসামি, অন্য দেশে থাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান… তাদের নেত্রী তিনিও এতিমের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। তারপরেও তাকে বাসায় থাকতে দেওয়া হয়েছে।’

সংসদ নেতা বলেন- মাননীয় স্পিকার, সংসদ একটা পবিত্র জায়গা। আপনার মাধ্যমে বিএনপির সংসদ সদস্য কে বলব এভাবে এখানে অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত না করাই ভালো। মানুষ এটা গ্রহণ করবে না, বিশ্বাস করবে না।

‘আর এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডটা যেন বিএনপি বন্ধ করে, এটাই আমার আবেদন থাকবে।’

‘করোনাভাইরাসে মানুষ এমনিতে কষ্টে আছে। সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে, মানুষকে সাহায্য করতে। সেখানে এই সুযোগেও তারা চাচ্ছে দুঃসময় কাজে লাগিয়ে সরকারকে বদনাম করা আর নিজেদের ফায়দা লুটতে চাচ্ছে। কী ফায়দা তারা লুটতে পারছে, আমি জানি না। মানু্ষ অন্ধ না। তারা জানে বোঝে। বিএনপির নেতাদের বোঝা উচিত। প্রযুক্তির কারণে অনেক কিছু তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে যায়।’

এ বিষয়ক : রাজধানীর ১০ বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ১০ মামলা, গ্রেপ্তার ২০

‘ধর্ষিতার’ বদলে ‘ধর্ষণের শিকার’ শব্দবন্ধ বসছে আইনে

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনের সময় ‘ধর্ষিতা’ শব্দটি বদলে ‘ধর্ষণের শিকার’ শব্দবন্ধ বসানোর সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করে সংসদে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল’ গত ৮ নভেম্বর উত্থাপনের পর তা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিলো।

সোমবার (১৬ নভেম্বর) সেই প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপন করেন সংসদীয় স্থায়ী কমিটিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি।

ধর্ষিতা শব্দটি লিঙ্গ বৈষম্যের পরিচায়ক বলে বিভিন্ন সময় মত আসার প্রেক্ষাপটে বিলে ‘ধর্ষণের শিকার’ শব্দবন্ধ দিয়ে ‘ধর্ষিতা’ শব্দটি প্রতিস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

মূল আইনের ৯ (২) ধারাসহ কয়েক জায়গায় ‘ধর্ষিতা’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘ধর্ষণের শিকার’ শব্দটি বসাতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।

সংসদীয় কমিটি কোনও বিলের সংশোধনী আনলে সংসদ তা গ্রহণ করে থাকে। খসড়া আইন নিয়ে নিকট অতীতে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ গ্রহণ না করার নজির নেই।

দেশজুড়ে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী আন্দোলন এবং ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবির মধ্যে সরকার আইনটি সংশোধনের পদক্ষেপ নেয়।

সংসদ অধিবেশন না থাকায় সংশোধিত আইন কার্যকর করতে গত ১৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০০০’ জারি করেন।

পরে ৮ নভেম্বর নিয়ম অনুযায়ী অধ্যাদেশটি সংসদে তোলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। একই দিন সেটি বিল আকারে সংসদে তোলা হয়।

২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) উপধারায় বলা হয়, যদি কোনও পুরুষ কোনও নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন।

সংশোধিত আইনের খসড়ায় ৯(১) উপধারায় ‘যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড’ শব্দগুলো ‘মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড’ শব্দগুলো দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

আইনের ৯(৪) (ক) উপধারায় ছিল- ‘যদি কোনও ব্যক্তি কোনও নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করিয়া মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।’

এই উপধারা সংশোধন করে খসড়ায় ‘যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড’ এর পরিবর্তে ‘মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড’ শব্দগুলো যোগ করা হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ধর্ষণ ছাড়া সাধারণ জখমের ক্ষেত্রে অপরাধ আপসযোগ্য হবে। এছাড়া আগের আইনে ১৯৭৪ সালের শিশু আইনের রেফারেন্স ছিল। এখন সেখানে হবে ‘শিশু আইন- ২০১৩’।

২০০০ সালের আইনের ৩২ ধারায় বলা ছিল, ‘এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের শিকার ব্যক্তির সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করিয় মেডিক্যাল পরীক্ষা সরকারি হাসপাতালে কিংবা সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে স্বীকৃত কোনও বেসরকারি হাসপাতালে সম্পন্ন করা যাইবে।’

বিলে অপরাধের শিকার ব্যক্তির পাশাপাশি ‘অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির’ মেডিক্যাল পরীক্ষা করার বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৩২ ধারার সঙ্গে ৩২(ক) শিরোনামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে বিলে।

সেখানে বলা হয়, ‘এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির ধারা ৩২ এর অধীন মেডিকেল পরীক্ষা ছাড়াও, উক্ত ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, ২০১৪ সালের ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইনের বিধান অনুযায়ী তার ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে।’

এ বিষয়ক : ৯৯৯ এ ফোন করে ধর্ষণ থেকে রক্ষা তরুণীর